বিষয়বস্তুতে চলুন

আব্বাস আলী খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আব্বাস আলী খান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর(ভারপ্রাপ্ত)
কাজের মেয়াদ
১৯৭৯  ১৯৯৪
পূর্বসূরীপ্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীগোলাম আযম
পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১  ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১
গভর্নরআব্দুল মোতালেব মালিক
প্রশাসকআমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
পূর্বসূরীঅজানা
উত্তরসূরীবিলুপ্ত
এনই-৮ দিনাজপুর-কাম-বগুড়া আসনের
পাকিস্তান সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১৯৬২  ১৯৬৫
রাষ্ট্রপতিআইয়ুব খান
উত্তরসূরীমোহাম্মদ ইউসুফ আলী
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৯১৪
বগুড়া জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩ অক্টোবর ১৯৯৯(1999-10-03) (বয়স ৮৪–৮৫)
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলজামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (১৯৫৫–১৯৭১)
শিক্ষাবিএ
প্রাক্তন শিক্ষার্থীহুগলী মাদ্রাসা
কারমাইকেল কলেজ
পেশাসরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ

আব্বাস আলী খান (১৯১৪–১৯৯৯) ছিলেন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি শাসকদের উদ্যোগে গঠিত প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

আব্বাস আলী খান ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বগুড়া জেলার জয়পুরহাট থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে তিনি হুগলী মাদ্রাসা থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় পাস করেন।[][] পরীক্ষার দশ বছর পর তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।[] এরপর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন এবং ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারত সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি এ কে ফজলুল হকের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যিনি বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।[] ১৯৫৫ সালে, পাকিস্তানের স্বাধীনতার আট বছর পর তিনি জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানে যোগ দেন এবং পরে রাজশাহী বিভাগের আমির নিযুক্ত হন।[] ১৯৬২ সালে তিনি ৩য় জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং দিনাজপুর-বগুড়া এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন।[][] ১৯৭১ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার ডেপুটি আমির নিযুক্ত হন।[] বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মালেক মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ মন্ত্রিসভা।[][] বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়।[] ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে তিনি মুক্তি পান।[] ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ গঠিত হলে তিনি দলের সিনিয়র নায়েবে আমির হন।[] তিনি তখন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[] ১৯৯১ সালে গোলাম আযম আমির নির্বাচিত হলে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে তার দায়িত্ব শেষ হয়। কিন্তু ১৯৯২ সালে সরকার আজমকে গ্রেফতার করে এবং তিনি পরবর্তী ১৬ মাস তিনি আবার ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে ছিলেন।[][১০][১১] আব্বাস আলী খান লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে ৩ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।[]

রচনাবলী

[সম্পাদনা]
রচিত গ্রন্থাবলী[১২]
  1. জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস
  2. জামায়াতে ইসলামীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
  3. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস
  4. মাওলানা মওদূদী:একটি জীবন, একটি ইতিহাস
  5. আলেমে দ্বীন মাওলানা মওদূদী
  6. মাওলানা মওদূদীর বহুমুখী অবদান
  7. মৃত্যু যবনিকার ওপারে
  8. ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙিক্ষত মান
  9. ঈমানের দাবী
  10. ইসলাম ও জাহেলিয়াতের চিরন্তন দ্বন্দ্ব
  11. একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ তার থেকে বাঁচার উপায়
  12. ইসলামী বিপ্লব একটি পরিপূর্ণ নৈতিক বিপ্লব
  13. সমাজতন্ত্র ও শ্রমিক
  14. MUSLIM UMMAH
  15. স্মৃতি সাগরের ঢেউ
  16. বিদেশে পঞ্চাশ দিন
  17. যুক্তরাজ্যে একুশ দিন
  18. বিশ্বের মনীষীদের দৃষ্টিতে মাওলানা মওদূদী
  19. ইসলামী আন্দোলন ও তার দাবী
  20. দেশের বাইরে কিছুদিন
অনূদিত গ্রন্থাবলী[১২]
  1. পর্দা ও ইসলাম
  2. সীরাতে সরওয়ারে আলম (২-৫খন্ড)
  3. সুদ ও আধুনিক ব্যাংকিং (সহ-অনুবাদ)
  4. বিকালের আসর
  5. আদর্শ মানব
  6. ইসলাম ও সামাজি সুবিচার
  7. জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের ভিত্তি
  8. ইসলামী অর্থনীতি (সহ-অনুবাদ)
  9. ইসরা ও মিরাজের মর্মকথা
  10. মুসলমানদের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসূচী
  11. একটি ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকার
  12. পর্দার বিধান
  13. ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ
  14. আসান ফিকাহ (১-২ খন্ড)
  15. তাসাউফ ও মাওলানা মওদূদী

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 "সংক্ষিপ্ত পরিচিতি"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১। পৃ. ৬।
  2. 1 2 3 4 5 "জামায়াত নেতা আব্বাস আলী খানের ইন্তেকাল"। জনকণ্ঠ। ৪ অক্টোবর ১৯৯৯। পৃ. ২, ৮।
  3. "LIST OF MEMBERS OF THE 3RD NATIONAL ASSEMBLY OF PAKISTAN FROM 1962-1964" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২১
  4. Assembly, East Pakistan (Pakistan) (১৯৬৩)। Alphabetical List of Members (ইংরেজি ভাষায়)। পৃ. ৩৮।
  5. হাসান হাফিজুর রহমান, সম্পাদক (২০০৯) [১৯৮২]। "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র"। খণ্ড ৭। হাক্কানি পাবলিশার্স। পৃ. ৫৪০।
  6. "মন্ত্রীদের দফতরের চূড়ান্ত তালিকা"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১২ অক্টোবর ১৯৭১। পৃ. ৬।
  7. ইশতিয়াক, আহমাদ (২৪ ডিসেম্বর ২০২১)। "২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১: সাবেক গভর্নর ডা. এ এম মালিকসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা আটক"দ্য ডেইলি স্টার
  8. একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়। মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র। ১৯৯২ [১৯৮৭]। পৃ. ২১, ১৮৬।
  9. "The origin of Jamaat-e-Islami as a political party"বার্তা ২৪ (ইংরেজি ভাষায়)। ১ আগস্ট ২০২৪। ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৪
  10. মানিক, জুলফিকার আলী (১২ মে ২০০৯)। "Focus back on, 8yrs after"দ্য ডেইলি স্টার
  11. "ফিরে দেখা গোলাম আযমের 'প্রতীকী বিচার', গণ-আদালত বসেছিল যেদিন"প্রথম আলো। ২৬ মার্চ ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  12. 1 2 "মরহুম জনাব আব্বাস আলী খান"বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২১