আব্দুর রহিম (সংসদ সদস্য)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

আব্দুর রহিম (জন্ম: ১৯৩৩ - মৃত্যু: ১৯ মার্চ, ১৯৯০) ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমপি,এডভোকেট এবং এম.এন.এ বাংলাদেশ[১]। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুপ্রেরণায় সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর । তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদের বৈদেশিক সাহায্য ও সমর্থন বিষয়ক পরামর্শদাতা হিসেবে। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ড. কামাল হোসেনের সাথে এডভোকেট আব্দুর রহিম কাজ করেছেন । এডভোকেট আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন সিলেট বারের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু (১৯৭৬-১৯৯০) এ পদে বহাল ছিলেন। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার কালিদাসপাড়া গ্রামে ১৯৩৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন আব্দুর রহিম। তাঁর পিতার নাম মাসিম আলী ।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা এস ই স্কুলে কিছুদিন লেখাপড়া করে সিলেট দি এইডেড হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও করাচি ইসলামী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে সিলেট ল কলেজ থেকে এম এ এল এলবি ডিগ্রী লাভ করে সিএসপি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। সেখানে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করতে চাইলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুরোধে সরকারী চাকুরীতে যোগদান না করে রাজনীতিতে অংশ গ্রহন করেন। ল কলেজে অধ্যয়নকালে এডভোকেট আব্দুর রহিম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হোন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে রাজনীতি ও আইন পেশায় নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬০ সালে পিতার মৃত্যুর পর সিলেটে ফিরে আসেন এবং পেশাজীবী আইনজীবি হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। । এডভোকেট আব্দুর রহিম ১৯৬২ সালে ন্যাপে যোগদান করেন। এসময় ১৯৬৭-৬৯ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা ন্যাপের ( মুজাফ্ফর) আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ন্যাপ বিভক্তির পর তিনি আওয়ামীলীগের যোগদান করেন। এডভোকেট আব্দুর রহিম ১৯৬০ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্থান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নির্বাচিত না হলেও ১৯৭০ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে আসন ১২৬, সিলেট-৭ (বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) নির্বাচনী এলাকা থেকে পাকিস্থানের স্থানীয় গণ পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন।এডভোকেট আব্দুর রহিম ১৯৭৩ সালে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ড. কামাল হোসেনের সাথে এডভোকেট আব্দুর রহিম কাজ করেছেন। এডভোকেট আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন সিলেট বারের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ এর সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আমৃত্যু এ পদে বহাল ছিলেন। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালে সংঘটিত মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তাঁর উপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব প্রদান করে। এসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদের বৈদেশিক সাহায্য ও সমর্থন বিষয়ক পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৯০ সালের ১৯ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুর রহিম স্মৃতি পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রকাশিত বই[সম্পাদনা]

  • আনোয়ার শাহজাহান রচিত "গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য"(১৯৯৬ ); বইপত্র প্রকাশন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rahman, Engineers IT, Abedur। "আজ মরহুম জননেতা এডভোকেট আব্দুর রহিম এমপির মৃত্যু বার্ষিকি"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-২৭