আন্তর্জাতিক সুখ দিবস
| আন্তর্জাতিক সুখ দিবস | |
|---|---|
| অন্য নাম | বিশ্ব সুখী দিবস |
| পালনকারী | জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সকল দেশ |
| ধরন | জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে পালিত দিবস |
| উদযাপন | বিশ্বের একাধিক দেশে |
| তারিখ | ২০ মার্চ |
| সংঘটন | বার্ষিক |
প্রতি বছর ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক সুখ দিবস বা বিশ্ব সুখী দিবস পালন করা হয়। [১] ২০১২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে এ দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিশ্বের একাধিক দেশ দিবসটি নানা আয়োজনে পালন করে। [২][৩]
পটভূমি
[সম্পাদনা]জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১২ সালের ১২ জুলাই তার ৬৬/২৮১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০ মার্চকে আন্তর্জাতিক সুখ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনে সুখ ও কল্যাণকে সার্বজনীন লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা হিসেবে এবং জননীতির উদ্দেশ্য পূরণে এগুলোর স্বীকৃতির গুরুত্বকে স্বীকার করা হয়। এছাড়াও, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত এবং ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়, যা টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য নির্মূল, সুখ এবং সকল মানুষের কল্যাণকে উৎসাহিত করে।
এই প্রস্তাবটি ভুটানের উদ্যোগে উত্থাপিত হয়েছিল; দেশটি ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকেই জাতীয় আয়ের চেয়ে জাতীয় সুখের মূল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিএনপি) পরিবর্তে মোট জাতীয় সুখের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করে খ্যাতি লাভ করেছে। এছাড়াও, দেশটি সাধারণ পরিষদের ছেষট্টিতম অধিবেশনে "সুখ ও কল্যাণ: একটি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টান্তের সংজ্ঞা" শীর্ষক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার আয়োজন করেছিল।[৪]
এই তারিখে (এবং ২৩ সেপ্টেম্বরও), সূর্যের কেন্দ্র পৃথিবীর নিরক্ষরেখার ঠিক উপরে অবস্থান করে, যাকে বিষুব বলা হয়। বিষুবের দিনে, সারা পৃথিবীতে দিন ও রাত প্রায় সমান সময় ধরে স্থায়ী হয়। পৃথিবীর সকল মানুষ এই বিষুব অনুভব করে, যা ‘সুখ দিবস’-এর পেছনের ধারণার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রেই ‘সুখ দিবস’ উদযাপিত হয়ে আসছে।[৫]
উদ্দেশ্য
[সম্পাদনা]দিনটি পালন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রস্তাবে বলা হয় মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য সুখে থাকা। ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য দিবসটি পালন করা হবে।
প্রতিষ্ঠাতা
[সম্পাদনা]২০১১ সালে, জেমি ইলিয়েন নামের একজন জাতিসংঘ উপদেষ্টা সুখ বৃদ্ধির জন্য একটি আন্তর্জাতিক দিবসের ধারণা দেন। ২০১২ সালে মহাসচিব বান কি-মুন তাঁর এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। জেমি ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই তিনি অনাথ হয়ে যান। অ্যানা বেল ইলিয়েন নামের একজন আমেরিকান নার্স তাঁকে দত্তক নেন। তিনি অনাথদের সাহায্য করার জন্য বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করতেন এবং জেমিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতেন। জেমি তাঁর মতো শিশুদের দেখতেন, কিন্তু তারা তাঁর মতো ভাগ্যবান ছিল না, কারণ তারা প্রায়শই যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসত অথবা তারা ছিল অত্যন্ত দরিদ্র। তিনি এ বিষয়ে কিছু করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি শিশু ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন। [৬][৭]
প্রতিপাদ্য বিষয়
[সম্পাদনা]আন্তর্জাতিক সুখ দিবস ২০২৫-এর মূলভাব ছিল “ যত্ন ও ভাগাভাগি ”। এ বছরের মূলভাবটি সহানুভূতি ও একতার গুরুত্ব তুলে ধরে। প্রকৃত ও স্থায়ী সুখ তখনই আসে যখন আমরা পরস্পরকে সমর্থন করি, অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তুলি এবং কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে অবদান রাখি।[৮]
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সুখ দিবসের (২০ মার্চ) মূলভাব হলো "যত্ন ও ভাগাভাগি", যা সহানুভূতি, সমবেদনা এবং সমাজ-সমর্থিত মানসিক সুস্থতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। এই মূলভাবটি তুলে ধরে যে, ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের পরিবর্তে সংযোগ স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক বন্ধন লালনের মাধ্যমেই স্থায়ী সুখ পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যের মূল দিকগুলো:
"যত্ন ও ভাগাভাগি": এই মূল ভাবনার লক্ষ্য হলো সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কলঙ্ক হ্রাস করা এবং সুস্থতাকে একটি সার্বজনীন লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
ডিজিটাল যুগের সুস্থ জীবন: ২০২৬ সালে, সুস্থ জীবনযাপনে প্রযুক্তির ভূমিকার উপর জোরালো গুরুত্ব দেওয়া হবে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং একটি স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল-অফলাইন ভারসাম্য তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে।
মানসিক স্বাস্থ্যের উপর আলোকপাত: এই দিনটি মানসিক শান্তি ও সামাজিক সংযোগকে উৎসাহিত করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে সামগ্রিক সুস্থতার দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানায়।
বৈশ্বিক লক্ষ্য: জাতিসংঘ-সংযুক্ত এই প্রচারাভিযানটি ব্যক্তিদের একটি বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অংশ হতে উৎসাহিত করে এবং সামাজিক বিশ্বাস ও সহানুভূতি বৃদ্ধি করে।[৯]
এই বছরের প্রতিপাদ্য, “যত্ন ও ভাগাভাগি,” এক অসাধারণ প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে এসেছে। এটি একাধারে একটি বার্তা এবং একটি দর্পণ, যা প্রতিফলিত করে বিশ্বে কিসের অভাব এবং কিসের তীব্র প্রয়োজন। এর মূলে রয়েছে সহানুভূতি, সমবেদনা এবং প্রকৃত মানবিক সংযোগের আহ্বান—এমন সব গুণ যা এই দ্রুতগতির, অতি-সংযুক্ত অথচ আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন বিশ্বে প্রায়শই হারিয়ে যায়। এর প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো, যেমন—মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, দয়ার কাজ, শক্তিশালী সম্প্রদায়, সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক এবং আবেগগত সংগ্রামের সাথে জড়িত কলঙ্ক হ্রাস করা, এগুলোকে আদর্শের চেয়ে বরং এক গভীরভাবে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক মানসিকতার প্রতিকার বলে মনে হয়।[১০]
কার্যক্রম
[সম্পাদনা]জাতিসংঘ তাদের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ওপর পূর্ণ এক বছর জরিপ পরিচালনা করে এ দিবসের সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করে।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- দাপ্তরিক ওয়েবসাইট
- জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ আগস্ট ২০১৮ তারিখে
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "আন্তর্জাতিক সুখ দিবস"। বিবিসি বাংলা। ১৯ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৯।
- ↑ "আজ বিশ্ব সুখী দিবস"। দৈনিক জনকণ্ঠ। ১৯ মার্চ ২০১৯। ৩১ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৯।
- ↑ "What is the International Day of Happiness?"। www.un.org (ইংরেজি ভাষায়)। United Nations। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "observances/happiness day"। un.org। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "international day of happiness"। learn english british council। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "Happiness Around the World"। Live Happy। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৯।
- ↑ "international day of happiness"। learning english british council। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "theme/ international day of happiness"। jagron josh। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "theme/positive living in mental wellbeing"। metropolis india। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।
- ↑ "international day of happiness"। times now news। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২৬।