আউদা আবু তায়ি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
আউদা আবু তায়ি
আউদা আবু তায়ি, তাবুক, হেজাজ, ১৯২১
জন্ম হেজাজ, সৌদি আরব
আনুগত্য আরব বিদ্রোহবেদুইন আরব
সার্ভিস/শাখা হাউইতাত
যুদ্ধ/সংগ্রাম

আউদা আবু তায়ি (আরবি ভাষায়: عودة أبو تايه‎ আনুমানিক ১৮৭৪ – ১৯২৪) ছিলেন আরব বিদ্রোহের সময় বেদুইন আরব গোত্র হাউইতাতের একজন শেখ বা নেতা। হাউইতাতদের বসতিস্থল বর্তমান সৌদি আরব/জর্ডান অঞ্চলে ছিল।

আরব বিদ্রোহে আউদা একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। ব্রিটিশ কর্নেল টি ই লরেন্সের লেখা সেভেন পিলার্স‌ অব উইজডোম বইয়ের মাধ্যমে তিনি আরবের বাইরে পরিচিতি পান। এছাড়াও ডেভিড লিনের চলচ্চিত্র লরেন্স অব আরাবিয়াতে আউদা আবু তায়ির চরিত্র রয়েছে।

হাউইতাত গোত্র[সম্পাদনা]

টি ই লরেন্সের বিবরণ অণুযায়ী হাউইতাতরা পূর্বে হাইলের আমির আল রশিদ পরিবারের অধীনস্থ ছিল। কিন্তু এসময় তারা বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং আউদা গোত্রের পূর্বাঞ্চলীয় অংশের নিয়ন্ত্রণ পান।[১] তিনি তার পিতার দাবিগুলো গ্রহণ করেছিলেন। আউদার পিতা হারব আবু তায়ি (? - ১৯০৪) পূর্বে আরার ইবনে জাজির সাথে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[২] আউদা ও তার ইবনে জাজি প্রতিপক্ষ আরারের সৎ ভাই আবতান হাউইতাতদের শক্তিকে পূর্বের কৃষি ও উট পালন থেকে অভিযানমূলক কাজের দিকে নিয়ে আসেন। ফলে গোত্রের সম্পদ বৃদ্ধি পায় তবে তারা মূলত যাযাবর জীবন অতীবাহিত করত।[৩] ১৯০৮ সালে একটি ঘটনার পর হাউইতাত ও উসমানীয় প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এসময় কর দাবি করার জন্য পাঠানো দুইজন সেনা নিহত হয়। আউদার দাবি ছিল যে কর ইতোমধ্যে পরিশোধ হয়ে গিয়েছে।[৪]

জীবন[সম্পাদনা]

আউদা আবু তায়িকে আরব বিদ্রোহের একজন বীর হিসেবে দেখা হয়[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। টি ই লরেন্স তার ব্যাপারে বলেছেন আউদা তার বেদুইন জীবন নিয়ে গর্বিত ছিলেন। লরেন্সের মতে আউদা ছিলেন উত্তর আরবের সবচেয়ে বড় যোদ্ধা। লরেন্স লিখেছেন যে:

“তিনি জীবনকে একটি বীরত্বগাথা হিসেবে দেখতেন, এর সবগুলো ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সাথে সম্পর্কিত সব ব্যক্তিত্ব ছিল বীরত্বপূর্ণ, তার মন ছিল পুরনো দিনের অভিযানের উপর কবিতা ও যুদ্ধের মহাকাব্যিক গল্পে পরিপূর্ণ।”[৫]

মরুভূমির ঐতিহ্য মোতাবেক আউদা তার আতিথেয়তা ও সৌজন্যতার জন্য পরিচিত ছিলেন। শতাধিক অভিযানে অর্জিত সম্পদ সত্ত্বেও তিনি দরিদ্র জীবন যাপন করতেন। কিংবদন্তি অণুযায়ী তিনি ৭৫ জন আরবকে লড়াইয়ে নিজ হাতে হত্যা করেছেন। উগ্র মেজাজের হলেও সর্বদা তার মুখে হাসি থাকত। ভয়াবহ হিসেবে পরিচিত হলেও তাকে ভদ্র, সোজাসাপ্টা, সৎ, উদার ও উষ্ণ হৃদয়ের বলে বর্ণনা করা হয়।

আউদা আবু তায়ি হেজাজ রেলওয়ের নিকটের মরুভূমিতে বসবাস করতেন। এই বিচ্ছিন্নতা তিনি প্রয়োজনীয় মনে করতেন কারণ কনস্টান্টিনোপলের দুইজন কর সংগ্রাহক নিহত হওয়ার পর তুর্কিরা তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল। তুর্কিদের মনোযোগ এড়ানোর জন্য ফয়সাললরেন্সের এধরনের এলাকা দরকার ছিল। লরেন্স লিখেছেন,

“শুধু আউদা আবু তায়ির মাধ্যমেই আমরা গোত্রগুলোকে আমাদের পক্ষে মাআন থেকে আকাবায় নিয়ে যেতে পেরেছিলেন যাতে তারা আকাবা এবং এর পাহাড়ের তুর্কি গ্যারিসন দখল করতে আমাদের সাহায্যে আসে।”

আরব বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

আউদার গোত্রের লোকেরা মরুভূমির সেরা যোদ্ধা হিসেবে খ্যাত ছিল[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। একারণে আরব বিদ্রোহে তার সমর্থন জরুরি ছিল। আউদা প্রথমে উসমানীয় সাম্রাজ্যের মিত্র ছিলেন। পরে তিনি ফয়সাল ও লরেন্সের পক্ষাবলম্বন করেন। তিনি আরব স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন কড়া সমর্থক হয়ে উঠেছিলেন। পক্ষ বদল করলে তাকে আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব তুর্কি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। আকাবা ও দামেস্কের পতনে তার গোত্রের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

যুদ্ধপরবর্তী সময়[সম্পাদনা]

দামেস্কের আরব সরকারের পতনের পর আউদা মরুভূমিতে অবস্থান করতে থাকেন। বন্দী তুর্কি দাস শ্রমিকদের মাধ্যমে তিনি মাআনের পূর্বে আল জাফরে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করান। তবে এটি সম্পন্ন হওয়ার আগে ১৯২৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চলচ্চিত্র ও মিডিয়ায় প্রকাশ[সম্পাদনা]

ডেভিড লিনের লরেন্স অব আরাবিয়া চলচ্চিত্রে এন্থনি কুইন আউদা আবু তায়ি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০৯ সালের কাতারি চলচ্চিত্র আউদা আবু তায়িহতেও তার চরিত্র রয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lawrence, T. E. The Howeitat and their Chiefs, Arab Bulletin report of 24 July 1917, from telawrence.net
  2. Peake, F. A History of Jordan and its Tribes, University of Miami Press, 1958, p.212
  3. Alon, Y. and Eilon, J. The Making of Jordan: Tribes, Colonialism and the Modern State, Tauris, 2007, ISBN 1-84511-138-9, p.34. Lawrence (in his report above) stated that the Howeitat were "altogether Bedu", but they had in fact only recently abandoned farming for nomadism.
  4. Fischbach, M. State, Society, and Land in Jordan, BRILL, 2000, ISBN 90-04-11912-4, p.48. Auda claimed that the troops were shot when they opened fire on him.
  5. 'The Seven Pillars of Wisdom' by T.E. Lawrence, ISBN 978-0-385-41895-9