আইখন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আইখন বা অয়ক্ষণ হল গ্রামীণ বাংলায় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে উদযাপিত একটি লৌকিক উৎসব। এদিন বিভিন্ন ঐতিহ্যগত আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলার পল্লীবাসীরা নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।[১][২]

আচার-অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

গ্রামীণ বাংলার পল্লীবাসীরা বাংলা পঞ্জিকার পয়লা বৈশাখের দিন ভোরবেলা বনে-বাগানে ঝরা-পাতা জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে পল্লীঅঞ্চল হরিধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে যাতে শস্যের অনিষ্টকারী কীটপতঙ্গ আগুনে নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর বাঁশের ঝাড়ে ও গাছের গোড়ায় নতুন মাটি দেওয়া হয়, ধানক্ষেতে গোবরসার দিয়ে হলকর্ষণ করা হয়। তারপর লম্বা-চওড়া-গভীরতায় বিঘৎখানেক একটি গর্ত করে তার মধ্যে ঘুটে জ্বালিয়ে একটি কাস্তের অগ্রভাগ ঐ আগুনে ফেলে দেওয়া হয়। কাস্তের ডগাটি অগ্নিতপ্ত হয়ে উঠলে সেটি উপস্থিত সকলের নাভির তলায় ছেঁকিয়ে দেওয়া হয় যাতে সমস্ত স্নায়ুকোষ উদ্দীপিত হয়ে ওঠে এবং পুরানো বছরের অসাড়তা দূর হয়ে যায় আর হঠাৎ করে কোনও কঠিন রোগ আক্রমণ করতে না পারে। এছাড়া, নাপিতের দেওয়া কাঁসার চকচকে দর্পনে বাড়ির লোকেরা নিজেদের মুখ দেখেন।

এরপর গৃহপালিত গরু-বাছুরকে স্নান করিয়ে নিজেরা স্নান সেরে বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদে (যেমন: বেল, বট, অশ্বত্থ, মনসা, তুলসী প্রভৃতি) একটি দু'সেরী জলপূর্ণ ভাঁড়ে ছিদ্র করে ঝরা দেয়। এইদিন যব বা মুড়ির ছাতু খাওয়া একটি পালনীয় আচার। কোনও কোনও জায়গায় এইদিন 'আইখন পট-যাত্রা' বা চৈত্রের গাজন উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।[১][২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলার লোকসংস্কৃতির বিশ্বকোষ, দুলাল চৌধুরী, আকাদেমি অব ফোকলোর, কলকাতা: ৭০০০৯৪, প্রথম প্রকাশ: ২০০৪, পৃষ্ঠা: ২৩৩
  2. চক্রবর্তী, ড. বরুণকুমার সম্পাদিত (১৯৯৫)। বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতিকোষ। কলকাতা: অপর্ণা বুক ডিস্ট্রিবিউটার্স। পৃষ্ঠা ১৩। আইএসবিএন 81-86036-13-X 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]