অর্থের বিনিময়ে ফতোয়া কেলেঙ্কারি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

অর্থের বিনিময়ে ফতোয়া কেলেঙ্কারি হল নগদ অর্থের বিনিময়ে ফতোয়া প্রদান। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের একটি বিশিষ্ট ইসলামিক বিদ্যালয়ে নগদ অর্থের বিনিময়ে ফতোয়া প্রদান করা হয়, যা একটি টিভি চ্যানেল স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করে, যেখানে দেখা যায় বেশ কয়েকজন আলেম ফতোয়া জারির বিনিময়ে ঘুষ নিচ্ছেন, এমনকি দাবিও করছেন।

এতে জড়িত আলেমদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সর্বাধিক বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যালয় দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া বিভাগের প্রধান মুফতি হাবিবুর রহমান।[১][২] স্টার টিভি চ্যানেল ছয় মাস ধরে কোবরাপোস্টের সহযোগিতায় গোপন ক্যামেরা পরিহিত আন্ডারকভার রিপোর্টারদের দ্বারা স্টিং অপারেশনটি পরিচালনা করে এবং স্টার টিভির ‘বেনাকাব’ প্রোগ্রামে সম্প্রচারিত হয়।[৩] এতে দেখা গেছে যে কিছু আলেম ৬০ ডলারের কম ঘুষ গ্রহণ করছে এবং সাংবাদিকদের অনুরোধ করা বিষয়ে উর্দুতে ফতোয়া হস্তান্তর করছে। ফতোয়াগুলি বিভিন্ন ধরণের ছিল যার মধ্যে রয়েছে: ক্রেডিট কার্ড, ডাবল বিছানা, ক্যামেরা সজ্জিত সেল ফোন ব্যবহার থেকে মুসলমানদের নিষেধ করা, এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করা, তাদের অঙ্গ দান করা, তাদের সন্তানদের ইংরেজি শেখানো, টিভি দেখার পাশাপাশি টিভি দেখার সমর্থনে আরেকটি ফতোয়া। ইত্যাদি।[২][১]

প্রতিক্রিয়া[সম্পাদনা]

ওলামা এবং মুফতিরা (প্রবীণ পণ্ডিত ও আলেম) ফতোয়ার জন্য ঘুষ নেওয়াকে "লজ্জাজনক" এবং "নিন্দনীয়" বলে বর্ণনা করেছেন। দারুল উলূম ওয়াকফ দেওবন্দের মুফতি আহসান কাসেমি সাহেব বলেন, ফতোয়া জারির জন্য অর্থ নেওয়া ‘বেআইনী’ এবং ইহা শরীয়তে অপরাধ। [৪]

এই কেলেঙ্কারির ফলে উলামায়ে কেরাম ও মুফতিদের পাশাপাশি মুসলিম জনগণের মধ্যে "কী কী ফতোয়া গঠন" এবং এর দ্বারা "ফতোয়া দেওয়ার বৈধ কর্তৃত্ব রয়েছে কিনা" ইত্যাদি প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।[৫] একটি মাদ্রাসার ছাত্ররা আলেমদের তীব্র নিন্দা জানায় এবং মুফতি যে মসজিদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল তাদের জামাতকে তীব্র নিন্দা জানায়, মুফতি তাদের সামনে না আসা পর্যন্ত নামাজ পড়তে অস্বীকৃতি জানায়, পরে তিনি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Islamic school hit by cash-for-fatwas scandal"www.iol.co.za (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-২২ 
  2. ADIGA, ARAVIND (২০০৬-০৯-২১)। "India's Cash-for-Fatwa Scandal"Time (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0040-781X। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-২২ 
  3. "Muftis Caught On Camera Taking Money to Issue Fatwas"Arab News (ইংরেজি ভাষায়)। ২০০৬-০৯-১৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৫-২২ 
  4. "Senior Mufti of Deoband suspended after shown receiving money"One India। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০০৬। 
  5. Adiga, Aravind (২১ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "India's Cash-for-Fatwa Scandal"Time