অনুপমা ভাগবৎ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অনুপমা ভাগবৎ
উদ্ভবভিলাই, ছত্তিসগড়, ভারত
ধরনভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত
পেশাসংগীতজ্ঞ, সেতার বাদক
বাদ্যযন্ত্রসমূহসেতার
ওয়েবসাইটanupamabhagwat.com

অনুপমা ভাগবৎ হলেন একজন ভারতীয় বিশেষজ্ঞ সেতার বাদক। তাঁর জন্ম হয় ১৯৭৪ সালে, বর্তমান ছত্তিসগড়ের ভিলাইতে। ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী সেতার বাদনের বিশেষ অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত, তাঁর সংবেদনশীলতা এবং অনুভূতি তাঁকে আধুনিক ধারার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে। ইমদাদখানি ঘরানার চূড়ামণি পণ্ডিত শ্রী বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান শিষ্য, অনুপমার শৈলীটি দ্রুত তান যুক্ত এবং সুরের উজ্জ্বল সাবলীল বৈশিষ্ট্যযুক্ত (রাগ-ভাব)। ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত না হয়ে ধ্যানমূলক আলাপের উপর দক্ষতা তাঁর বিশেষত্ব।[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

অনুপমা ভাগবৎ জন্মেছিলেন ছত্তিসগড়ের ভিলাইতে।[২] তিনি ভিলাইয়ের একটি তেলুগু পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, পড়াশোনায় ভাল ছিলেন এবং সাধারণভাবেই সংগীতের শিক্ষা নিয়েছিলেন। তাঁর সেতার বাদক কাকা, তাঁর পুরানো সেতারটি অনুপমাকে দিয়ে দেন। আর.এন. ভার্মার কাছ থেকে প্রাথমিক পাঠ নেওয়ার পর, তিনি ইমদাদখানি ঘরানার বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিলেন। বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায় ছিলেন ওস্তাদ এনায়েত খানের (ওস্তাদ বিলায়েত খানের পিতা) শিষ্য । [৩] মাত্র ৯ বছর বয়সে তাঁর সেতার বাদ্যের সাথে পরিচিত হয়েছিল, আর এন ভার্মার হাত ধরে।[৪] ১৯৯৪ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন এবং ভারতের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের কাছ থেকে একটি জাতীয় বৃত্তি লাভ করেছিলেন। অনুপমা ভারতের ইন্দিরা কলা সংগীত বিশ্ববিদ্যালয় (খাইরাগড়) থেকে সংগীতে স্নাতকোত্তর অর্জন করেছিলেন।[৫] তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অনেক দেশ সহ বেশ কয়েকটি স্থানে সেতারবাদ্য পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুতে থাকেন[৬] তিনি বিবাহিত এবং তাঁর একটি শিশুপুত্র আছে। স্বামীর চাকরিসূত্রে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করেছেন।[৩][৪]

অনুপমার গুরুজী[সম্পাদনা]

ইমদাদখানি ঘরানার চূড়ামণি, আচার্য বিমলেন্দু মুখোপাধ্যায় মূলত একজন সেতার বাদক ছিলেন। এছাড়াও তিনি রুদ্রবীণা, সরস্বতী বীণা, সুরবাহার, সুরশৃংগার, মন্দারবাহার, দিলরুবা, এসরাজ, তারযুক্ত শানাই, সরোদ এবং পাখাওয়াজের মতো প্রায় সমস্ত প্রথাগত ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রে দক্ষ ছিলেন। তিনি কণ্ঠসংগীতেও সমান পারদর্শী ছিলেন।

সেতার বাদন[সম্পাদনা]

সেতার বাদনের জন্য তিনি সমগ্র বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছেন, এর মধ্যে আছে সাউথ ব্যাংক সেন্টার (লন্ডন, যুক্তরাজ্য), আলী আকবর খান স্কুল অফ মিউজিক (বাসেল, সুইজারল্যান্ড), এমআইটি ফল কনসার্ট সিরিজ (বোস্টন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইউ পেন, বার্কলে, ওলে মিস (ইউএসএ), এশিয়ান আর্টস মিউজিয়াম (সান ফ্রান্সিসকো), ভিক্টোরিয়ার ইউ ও ক্যালগেরি, মুসি গাইমেট, প্যারিস, মুসি দেস বক্স আর্টস, অ্যাঞ্জার্স, ফ্রান্স।

অনুপমা গায়কি ভঙ্গিতে সেতার বাদন করেন। এটি একটি গীতিমূলক এবং সূক্ষ্মভাবে বাদন শৈলী, যা মানব কন্ঠস্বরের আদলে তৈরি। অনুপমার প্রযুক্তিগত গুণাবলীর প্রশংসা বিশ্বব্যাপী করা হয়েছে। অনুপমা ‘সুরমণি’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

ভারতের মর্যাদাপূর্ণ উৎসব এবং স্থানে তাঁর সৃজনশীল বাদ্য বহু রসজ্ঞ পণ্ডিতের মন জয় করেছে। তিনি বাজিয়েছেন ডোভার লেন সংগীত সম্মেলন (কলকাতা), ওস্তাদ আমির খান স্মৃতি সমরোহ (ইন্দোর), সপ্তক (আহমেদাবাদ), সংকট মোচন সমরোহ (বারাণসী), সংগীত গবেষণা একাডেমী (কলকাতা), বাবা হরবল্লভ সমরোহ- (জলন্ধর), কে এম কনজারভেটরি (চেন্নাই)য়ের মত জায়গায়।[১]

পুরস্কার এবং স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

  • ১- সর্বভারতীয় রেডিও সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম (১৯৯৪)
  • ২- মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক (ভারত সরকার) থেকে বৃত্তি প্রাপ্ত (১৯৯৩ - ১৯৯৬)
  • ৩- সুর শৃংগার সংসদের থেকে 'সুরমণি' উপাধি
  • ৪- গ্লোবাল রিদম এবং শান্তির মতো বৈশ্বিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ।
  • ৫- ওহাইও আর্টস কাউন্সিল (ইউএসএ) থেকে ২০০০, ২০০২, ২০০৪ এবং ২০০৮ সালে অনুদান পেয়েছিল।
  • ৬- ২০০৬ সালে ইতালীয় অপেশাদার জ্যোতির্বিদ ভিনসেঞ্জো সিলভানো ক্যাসুলি দ্বারা আবিষ্কৃত গ্রহাণু ১৮৫৩২৫ অনুপাভাগবৎ তাঁর সম্মানে তাঁর নামে নামাংকৃত করা হয়েছিল।[৭]

অ্যালবাম সমূহ[সম্পাদনা]

অনুপমা বিভিন্ন অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন, যেমন কনফ্লুয়েন্স, ইথার, এপিফ্যানি, কালার্স অফ সানসেট, সাঝঁ এবং আরও অনেক।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Anupama Bhagwat: An Evening of Music and Conversation"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ 
  2. "Anupama - Biography"। Anupama.org। ২০০৯-০৩-০৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-০৮ 
  3. "Strings of success"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ 
  4. Nambiar, Nisha (২০০৪-০২-১৯)। "Striking notes"। The Indian Express। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-০৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. "Anupama Bhagwat"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ মার্চ ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "A performance of purity"। The Tribune। ২০০২-০৪-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৫-০৮ 
  7. "185325 Anupabhagwat (2006 VE14)"Minor Planet Center। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]