হ্যালোইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(হ্যালোউইন থেকে ঘুরে এসেছে)
এই নিবন্ধটি রীতি বা প্রথা সম্পর্কিত। অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন হ্যালোইন (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
"অল হ্যালোজ' ইভ" এখানে পুননির্দেশ করা হয়েছে। অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন অল হ্যালোজ' ইভ (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
হ্যালোইন
হ্যালোইন
জ্যাক-ও'-ল্যান্টার্ন, মৃত আত্মার প্রতিনিধিত্বকারী হ্যালোইনের প্রতীক[১]
অপর নাম হ্যালো'ইন
অলহ্যালো'ইন
অল হ্যালোজ' ইভ
অল সেইন্টস' ইভ
পালনকারী পাশ্চাত্য খ্রিস্টান এবং অনেক বিশ্বের অ-খ্রিস্টান[২]
অর্থ অলহ্যালোটাইডের প্রথম দিন
তারিখ ৩১ অক্টোবর
উদযাপন ট্রিক-অর-ট্রিটিং, পরিচ্ছদ ভোজসভা, জ্যাক-ও'-ল্যান্টার্ন তৈরি, আগ্নুউৎসব প্রজ্বলন, ভবিষ্যৎ কথন, apple bobbing, অধ্যুষিত বাড়িতে ভ্রমণ
পালন গীর্জা সেবা,[৩] প্রার্থনা,[৪] উপবাস,[২] এবং নিশিপালন[৫]
সর্ম্পকিত Totensonntag, ব্লু ক্রিসমাস, মৃতের বৃহস্পতিবার, সামহেন, হপ-তু-না, Calan Gaeaf, Allantide, মৃত দিবস, সংস্কার দিবস, অল সেইন্টস' ডে, নষ্টামির রাত (cfনিশিপালন)

হ্যালোইন বা হ্যালোউইন (/ˌhæləˈwn, -ˈn, ˌhɑːl-/; "অল হ্যালোজ' ইভ"-এর সংক্ষিপ্ত রূপ),[৬] এছাড়াও অলহ্যালোইন[৭] অল হ্যালোজ' ইভ,[৮] বা অল সেইন্টস' ইভ হিসাবে পরিচিত,[৯] একটি বার্ষিক উদযাপন বা ছুটির দিন যা প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে পালিত হয় ৩১ অক্টোবর তারিখে, অল হ্যালোজ' ডে বা সমস্ত হ্যালোজ দিবসে পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় ভোজোৎসবের প্রাক্কালে। লিটার্জিকাল বছরের এই দিনটি নিবেদন করা হয় মৃত, সাধু (হ্যালোজ), শহীদ এবং সমস্ত বিশ্বস্ত বিদেহী বিশ্বাসীদের স্মরন করে।[১০] হ্যালোইন উৎসবের প্রাক্কালে যেই মূল ধারনা বা থিম অনুসরন কর হয় তা হলো "হাস্যরস ও উপহাসের সাহায্যে মৃত্যুর ক্ষমতার মুখমুখি হওয়া"।[১১]

অনেক পণ্ডিতদের মতে, "হ্যালোইন" বা "অল্ হ্যালোজ্ ইভ্" হলো খ্রিস্টধর্মের একটি বার্ষিক উৎসব যা প্রাথমিকভাবে কেলটিক ফসল কাটার উৎসব দ্বারা প্রভাবিত। অন্যান্য পণ্ডিতদের মতে, এই উৎসবটির স্বতন্ত্র উৎপত্তি সামহেন থেকে এবং এর মূলে সরাসরি খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বিদ্যমান।

হ্যালোইন উৎসবে পালিত কর্মকাণ্ডের মধ্যে আছে ট্রিক-অর-ট্রিট, ভূতের টুর, বনফায়ার বা অগ্ন্যুত্সব, আজব পোষাকের পার্টি, আধিভৌতিক স্থান ভ্রমণ, ভয়ের চলচ্চিত্র দেখা, ইত্যাদি। আইরিশস্কটিশ অভিবাসীরা ১৯শ শতকে এই ঐতিহ্য উত্তর আমেরিকাতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলিও হ্যালোইন উদযাপন করা শুরু করে। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের অনেকগুলি দেশে হ্যালোইন পালিত হয়, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, পুয়ের্তো রিকো, এবং যুক্তরাজ্য। এছাড়া এশিয়ার জাপানে এবং অস্ট্রেলিয়ানিউজিল্যান্ডেও হ্যালোইন পালিত হয়।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

"হ্যালোইন" বা "হ্যালোউইন" শব্দটির উৎপত্তি ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে[১২] মূলত খ্রিস্টীয় ধর্ম থেকে হয়েছে।[১৩] "হ্যালোইন" শব্দের অর্থ "শোধিত সন্ধ্যা" বা "পবিত্র সন্ধ্যা"।[১৪] এই শব্দটি স্কটিশ ভাষার শব্দ "অল হ্যালোজ' ইভ" থেকে এসেছ।[১৫][১৬] স্কটে ব্যাবহৃত "ইভ" শব্দটি সংকুচিত বা সংক্ষিপ্ত হয়ে "ইন" হয়ে যায়। এভাবে সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়ে "হ্যালোজ' ইভ" শব্দটি "হ্যালোইন"-এ রূপান্তরিত হয়। যদিও "অল হ্যালোজ" শব্দটি প্রাচীন ইংরেজিতে পাওয়া যায়, তবে শব্দটি ১৫৫৬ সালের পরে আর ব্যাবহৃত হয়নি।[১৬][১৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

গ্যেলিক এবং ওয়েলস প্রভাব[সম্পাদনা]

একটি ২০শ শতকের আইরিশ হ্যালো'উইন মুখোশ, মিউজিয়াম অফ কান্ট্রি লাইফ

এখনকার হ্যালোইন এর রীতিনীতি কেল্টিক ভাষী দেশগুলোর লোকজ রীতিনীতি ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত বলে ধারণা করা হয়; সেসব দেশের কয়েকটি প্যাগান বা পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বি আর অন্যান্যগুলো কেলটিক খ্রিস্টধর্ম অবলম্বন করে থাকে। [১৮][১৯]জ্যাক স্যানটিনো, একজন লোকাচারবাদি, লিখেছেন "উত্তর আয়ারল্যান্ডে পবিত্রতা ও ধর্ম হলো হ্যালোইনকে বোঝার মৌলিক প্রসঙ্গ, কিন্তু এই উৎসব উৎযাপন নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সর্বত্র একটি অস্বস্তিকর সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় খ্রিস্টধর্মের রীতিনীতি ও বিশ্বাস এবং পুর্বে আয়ারল্যান্ডে যেসব ধর্ম প্রতিষ্ঠিত ছিলো তাদের মধ্যে"। [২০]ইতিহাসবিদ নিকোলাস রজার্স "হ্যালোইন" এর মূল উৎসের অনুসন্ধান করার সময় লক্ষ্য করেন, "কিছু লোকাচারবাদি হ্যালোইন এর উৎস খুজে পেয়েছিলেন ফল ও বীজের দেবীকে উত্সর্গীকৃত পোমোনার রোমান ভোজোত্সবে, অথবা মৃতদের উৎসব প্যারেন্টালিয়াতে; এবং এই উৎসবগুলো সাধারনত কেল্টিকদের সামহেন উৎসবের সাথে সম্পৃক্ত"।

স্ন্যাপ-অ্যাপল নাইট, আয়ারল্যান্ডে হ্যালোইন উৎসব, ড্যানিয়েল ম্যাকলাইস কর্তৃক ১৮৩৩ সালে অংকিত

মৃত এবং আত্মাদের রাত্রি[সম্পাদনা]

আইরিশ, যুক্তরাজ্য, ওয়েলশ সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করতো যে প্রত্যেক নতুন বছরের আগের রাতে (৩১শে অক্টোবর) সাহেইন, মৃত্যুর দেবতা, আঁধারের রাজ পুত্র, সব মৃত আত্মা ডাক দেয়। এই দিন মহাশূন্য এবং সময়ের সমস্ত আইনকানুন মনে হয় স্থগিত করা হয় এবং জীবিতদের বিশ্ব যোগদান করতে মৃত আত্মাদের অনুমোদন করে। তারা আরও বিশ্বাস করতো যে মৃত্যুর কারণে তারা অমর যুবক হয়ে একটি জমিতে বসবাস করতো এবং আনন্দে ডাকা হতো "Tir nan Oge"। মাঝে মাঝে বিশ্বাস করতো যে স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড অঞ্চলের ছোট পাহাড়ে কখনো কখনো মৃতরা পরীদের সাথে থাকে। একটি লোককাহিনী থেকে বর্ণিত আছে যে সমস্ত মৃত ব্যক্তিরা ৩১শে অক্টোবর রাত্রিতে জীবিতদের বিশ্বে আসে আগামী বছরের নতুন দেহ নেওয়ার জন্য। এজন্য গ্রামবাসীরা এই খারাপ আত্মাদের থেকে বাচাঁর জন্য ব্যবস্থা নেয়। এই প্রথাটি ছিল পবিত্র বেদি আগুন বন্ধ করা এবং নতুন আগুন জ্বালানো হতো (যেটি নতুন বছরের আগমন প্রতীক হিসাবে ছিল) পরবর্তী প্রভাতে। আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পরোহিতরা তারা মিলিত হতো একটি অন্ধকার ওক (পবিত্র গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হতো) বনের ছোট পাহাড়ে নতুন আগুন জ্বালানোর জন্য এবং বীজ ও প্রাণী উৎসর্গ করতো। আগু্নের চারিদিকে নাচতো এবং গাইতো প্রভাত পর্যন্ত, পথ অনুমোদন করেতো সৌর বছর এবং আঁধার ঋতু্র মধ্যে। যখন প্রভাত হয়, আইরিশ, যুক্তরাজ্যবাসী কেল্টদিগের পরোহিতরা প্রতি পরিবার থেকে জ্বলানো অগ্নির কয়লা পরিধান করতো।[২১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Rogers, p.57
  2. ২.০ ২.১ "BBC – Religions – Christianity: All Hallows' Eve"British Broadcasting Corporation (BBC)। 2010। সংগৃহীত 1 November 2011। "All Hallows' Eve falls on 31st October each year, and is the day before All Hallows' Day, also known as All Saints' Day in the Christian calendar. The Church traditionally held a vigil on All Hallows' Eve when worshippers would prepare themselves with prayers and fasting prior to the feast day itself. The name derives from the Old English 'hallowed' meaning holy or sanctified and is now usually contracted to the more familiar word Hallowe'en." 
  3. The Book of Occasional Services 2003। Church Publishing, Inc.। 2004। সংগৃহীত 31 October 2011। "Service for All Hallows' Eve: This service may be used on the evening of October 31, known as All Hallows' Eve. Suitable festivities and entertainments may take place before or after this service, and a visit may be made to a cemetery or burial place." 
  4. Anne E. Kitch (2004)। The Anglican Family Prayer Book। Church Publishing, Inc.। সংগৃহীত 31 October 2011। "All Hallow's Eve, which later became known as Halloween, is celebrated on the night before All Saints' Day, November 1. Use this simple prayer service in conjunction with Halloween festivities to mark the Christian roots of this festival." 
  5. The Paulist Liturgy Planning GuidePaulist Press। 2006। সংগৃহীত 31 October 2011। "Rather than compete, liturgy planners would do well to consider ways of including children in the celebration of these vigil Masses. For example, children might be encouraged to wear Halloween costumes representing their patron saint or their favorite saint, clearly adding a new level of meaning to the Halloween celebrations and the celebration of All Saints' Day." 
  6. Thomas Thomson, Charles Annandale (1896)। A History of the Scottish People from the Earliest Times: From the Union of the kingdoms, 1706, to the present time। Blackie। সংগৃহীত 31 October 2011। "Of the stated rustic festivals peculiar to Scotland the most important was Hallowe'en, a contraction for All-hallow Evening, or the evening of All-Saints Day, the annual return of which was a season for joy and festivity." 
  7. Palmer, Abram Smythe (1882)। Folk-etymology। Johnson Reprint। পৃ: 6। 
  8. Merriam-Webster's Encyclopædia of World Religions। Merriam-Webster। 1999। সংগৃহীত 31 October 2011। "Halloween, also called All Hallows' Eve, holy or hallowed evening observed on October 31, the eve of All Saints' Day. The pre-Christian observances influenced the Christian festival of All Hallows' Eve, celebrated on the same date." 
  9. NEDCO Producers' Guide। 31-33। Northeast Dairy Cooperative Federation। 1973। "Originally celebrated as the night before All Saints' Day, Christians chose November first to honor their many saints. The night before was called All Saints' Eve or hallowed eve meaning holy evening." 
  10. Don't Know Much About Mythology: Everything You Need to Know About the Greatest Stories in Human History but Never Learned (Davis), HarperCollins, page 231
  11. Portaro, Sam (25 January 1998)। A Companion to the Lesser Feasts and FastsCowley Publications। পৃ: 199। আইএসবিএন 1461660513। "All Saints' Day is the centerpiece of an autumn triduum. In the carnival celebrations of All Hallows' Eve our ancestors used the most powerful weapon in the human arsenal, the power of humor and ridicule to confront the power of death. The following day, in the commemoration of All Saints, we gave witness to the victory of incarnate goodness embodied in remarkable deeds and doers triumphing over the misanthropy of darkness and devils. And in the commemoration of All Souls we proclaimed the hope of common mortality expressed in our aspirations and expectations of a shared eternity." 
  12. "Online Etymology Dictionary: Halloween"। Etymonline.com। সংগৃহীত 13 October 2013 
  13. The A to Z of Anglicanism (Colin Buchanan), Scarecrow Press, page 8
  14. The American Desk Encyclopedia (Steve Luck), Oxford University Press, page 365
  15. "SND: Hallow"। Dsl.ac.uk। সংগৃহীত 13 October 2013 
  16. ১৬.০ ১৬.১ The Oxford English Dictionary (2nd সংস্করণ)। Oxford: Oxford Univ. Press। 1989। আইএসবিএন 0-19-861186-2 
  17. "DOST: Hallow Evin"। Dsl.ac.uk। সংগৃহীত 13 October 2013 
  18. Rogers, Nicholas (2002). "Samhain and the Celtic Origins of Halloween". Halloween: From Pagan Ritual to Party Night, pp. 11–21. New York: Oxford Univ. Press. ISBN 0-19-516896-8.
  19. Anglo-Saxon Spirituality: Selected Writings (Robert Boenig), Paulist Press, page 7
  20. Santino, Jack. The Hallowed Eve: Dimensions of Culture in a Calendar Festival of Northern Ireland. University Press of Kentucky, p.95
  21. হ্যালোউইন,হ্যালোউইনের ইতিহাস

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]