ব্রিটিশ বাংলাদেশী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ব্রিটিশ বাংলাদেশী
British Bangladeshis.png
আনোয়ার চৌধুরী • বারনেস পলা উদ্দিন • মুহম্মদ আবদুল বারী • রুশনারা আলী • মামজি স্ট্রাঞ্জার • কনি হক • কিয়া আবদুল্লাহ • ওয়ালি উদ্দিন • সাঈদ আহমেদ • আনোয়ার উদ্দিন • আজমল মাসরুর • ইড হোসেন
মোট জনসংখ্যা
২৮৩,০৬৩ (ইংল্যান্ডের জরিপ ২০০১ সাল)[১]
০.৫% ইংল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার
৩৫৩,৯০০ (২০০৭ – শুধু ইংল্যান্ড)[২]
০.৬% ইংল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার
ধারণা করা হয় ৫০০,০০০ [৩]
০.৮% ইংল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার
উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ
বসবাসকারী জনসংখ্যার ধারণা
(জাতীয় পরিসংখ্যানের জন্য দপ্তর ২০০৭)
লন্ডন ১৭৪,৯০০ [৪]
বার্মিংহাম ২৩,৭০০ [৪]
ওল্ডহ্যাম ১১২০০ [৪]
লুটন ৮৭০০ [৪]
ব্রাডফোর্ড ৫৯০০ [৪]
ভাষাসমূহ

সিলেটি ভাষা/বাংলা • ইংলিশ

ধর্ম

ইসলাম • ধর্মহীন

সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী

বাঙ্গালী  • ব্রিটিশ এশিয়ান




ব্রিটিশ বাংলাদেশী হচ্ছে এমন ব্যাক্তিবর্গ যাদের উৎস হলো বাংলাদেশ এবং যারা অভিবাসনের পর ব্রিটেনে বসবাস করছেন ও নাগরিক অধিকার বলে নাগরিকত্ত্ব পেয়েছেন বা তাদের বাবা-মা এটা লাভ করেছেন ;তারাও ব্রিটিশ বাংলাদেশী।৭০-এর দশকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সিলেট থেকে এসেছেন ব্রিটেনে, যা বাংলাদেশের উত্ত্র-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোক বাস করছেন পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হেমলেটে যা ঐ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ৩৩ ভাগ।[৫] লন্ডনে বসবাস করা এই জনসংখ্যাকে অবশ্য ব্রিটিশ বলার চেয়ে লন্ডনী নামেই বেশি ডাকা হয়। ওল্ডহ্যাম, বার্মিংহাম, লুটন ও ব্র্যাডফোর্ডতেও উল্লেখযোগ্যক সংখ্যক বাংলাদেশী বাস করেন। ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসেল, কার্ডিফ ও সান্ডারল্যান্ডেও কিছু সংখ্যক বাংলাদেশী বাস করেন।[৬] বাংলাদেশীরা অভিবাসী জনসংখ্যার ভেতরে অন্যতম বড় দল এবং তারা অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ও তরুণতম দল।২০০১ সালের আদমসুমারী ও পরিসংখ্যান অফিস থেকে ২০০৬ সালের পাওয়া চিত্র থেকে দেখা যায় যে ব্রিটেনে প্রায় ৩০০০০০ বাংলাদেশী বসবাস করে।[২][৭] বর্তমানে অনুমান করা হয় যে প্রায় ৫০০০০০ বাংলাদেশী এখানে বসবাস করছে।বাংলাদেশীরা একটি বড় সমসত্ত্ব সম্প্রদায় তৈরি করেছে। এখানে বেকার সমস্যা বাড়ছে ও জনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ও স্বাস্থ্যগত সমস্যাও রয়েছে।.[১] বর্তমানের বাংলাদেশী প্রজন্ম একটি উন্নতিলাভ করা প্রজন্ম যারা মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাজনীতিতে তাদের জায়গা করে নিচ্ছে।[৬] দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য সম্প্রদায়রা এখানে সাম্প্রতিককালে আসা শুরু করলেও বাংলাদেশীরা এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত।[৮][৯]



ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাঙ্গালীরা ১৯ শতকে ব্রিটেনে আসা শুরু করে। ১৮৭৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে সিলেটি বাংলাদেশীরা রাঁধুনি হিসেবে এখানে আসে রেঁস্তরাতে কাজ করার জন্য। [১০][১১] লেখক ক্যারোলাইন অ্যাডামস নথিভুক্ত করেন যে ১৯২৫ সালে একজন হারিয়ে যাওয়া বাঙ্গালী তার অন্য সঙ্গীদের খোঁজ করছিল।[১২]

প্রথম দিকের আসা বাংলাদেশীদের আগমনটা ছিল "শিকল অভিবাসন" প্রক্রিয়ায়, যেখানে সিলেটের গ্রামীণ অঞ্চল থেকে আসা বাঙ্গালীরা তাদের আত্নীর-স্বজনদেরকেও নিয়ে আসতে থাকেন।সংঘর্ষ থেকে পালাতে, ভালো কাজের খোজে ও ভালো থাকা-খাওয়ার জন্য তারা এভাবে আসতে থাকেন।[১৩] ৫০ ও ৬০-এর দশকে চাকুরীর খোঁজে বাঙ্গালী মানুষজন ইংল্যান্ডে আসতে থাকেন।[১২][১৪][১৫] বেশির ভাগ বাঙ্গালী টাওয়ার হেমলেট বিশেষ করে ব্রিকলেন ও স্পিটালফিল্ডের চারিদিকে তারা স্থায়ী হন।[৬] ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় ও অনেক সিলেটি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। [১৬] অনেকে আবার সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসেন এখানে।

সত্তরের দশকে ব্রিটেনের পরিবর্তিত অভিবাসন আইন আরও বেশি বাংলাদেশির পক্ষে ব্রিটেনে আসার সুযোগ সৃষ্টি করে, যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিরা নবোদ্যমে ব্রিটেন গমন ও সেখানে বসতি স্থাপন শুরু করেন। এই নতুন অভিবাসীরা প্রাথমিক ভাবে নিম্ন আয়ের খাতগুলোতে নিযুক্ত হয়েছিলেন- কর্মস্থল প্রধানত ছিল মাঝারি দক্ষতাবিশিষ্ট শ্রম প্রয়োজন হয় এমন কারখানা ও বস্ত্রশিল্প[৬]

ব্রিটেনে দক্ষিণ এশীয় খাবার, যা যুক্তরাজ্যে মূলত ভারতীয় খাবার হিসেবে প্রসিদ্ধ, এর প্রসার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পর বাংলাদেশিদের অনেকেই ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন। এখান থেকেই লন্ডনের ব্রিক লেন ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও ছোট দোকানের প্রসার শুরু হয়। একই সাথে পূর্ব লন্ডনে ধীরে ধীরে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রভাব ও অবস্থান দৃঢ় হতে থাকে।

বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ লন্ডনের ব্রিক লেন অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন।

শুরুর দিকের বাংলাদেশিরা মূলত টাওয়ার হ্যামলেটস ও আশপাশের অঞ্চলের ছোট কামরাবিশিষ্ট বাসস্থানে বসবাস করতেন। এদের মাঝে পুরুষরা অধিকাংশই ছিলেন স্বল্পশিক্ষিত এবং ইংরেজি ভাষায় অদক্ষ। এর ফলে স্থানীয় ইংরেজিভাষীদের সাথে সহজে মনের ভাব প্রকাশে এরা অক্ষম ছিলেন। অপর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার ফলে এরা ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষাও গ্রহণ করতে পারছিলেন না। এদের অনেকেই স্থানীয় কিছু ব্রিটিশের ব্যবসায়িক লক্ষ্যে পরিণত হন। দূর্বল মালিকানার অনেক বাড়ি এ সময়ে ব্রিটিশ মালিকরা সিলেটি অভিবাসীদের কাছে বিক্রি করা শুরু করেন।[১৪][১৪][১৭][১৮]

সত্তরের দশকের শেষভাগে ব্রিক লেন একটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত হয়। ঐ সময়ই অঞ্চলটির ভূতপূর্ব ইহুদি সমাজের আধিপত্যের পতন ঘটছিল। এক্ষেত্রে ব্রিক লেনে বাংলাদেশিরা মূলত ইহুদি অভিবাসীদেরকে প্রতিস্থাপন করছিলেন। পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের ফলে ইহুদিরা লন্ডনের অন্যান্য অঞ্চলে সরে যেতে থাকেন। অবশ্য দীর্ঘদিন যাবত বসবাসকারী ইহুদিদের অনেকেই ব্রিটেনের মূলধারার সাথে মিশে যেতে শুরু করেছিলেন।

ব্রিক লেন ও আশপাশের অঞ্চলে ইহুদিদের মূল ব্যবসা যেমন বেকারিগয়নার দোকান, এগুলো যথাক্রমে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ও শাড়ীর দোকানে পরিণত হয়। প্রশস্ত সিনেগাগগুলোর (ইহুদি উপাসনালয়) অনেকগুলোই পরিণত হয় বাংলাদেশিদের কাপড়ের কারখানায়। ফোরনিয়ার স্ট্রিটব্রিক লেনের সংযোগস্থলে অবস্থিত অধুনা গ্রেট লন্ডন মস্ক, যেটি ঐ অঞ্চলে জামে মসজিদ হিসেবে বেশি খ্যাত, এই ভবনটিই আগে স্পাইটালফিল্ড সিনেগাগ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল।[১৪][১৮][১৯] উল্লেখ্য যে এই ভবনটি লন্ডনের পরিবর্তনশীল অভিবাসী সমাজের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। ভবনটি ১৭৪৩ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ফরাসি প্রটেস্ট্যান্ট গির্জা হিসেবে। ১৮১৯ সালে এই গির্জাকে মেথডিস্ট চ্যাপেলে পরিণত করা হয়। উনিশ শতাব্দীতে লন্ডনে ইহুদি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এই ভবনেই ১৮৯৮ সালে স্পাইটালফিল্ড সিনেগাগ স্থাপন করা হয়। পরে জামে মসজিদ স্থাপনের আগে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভবনটি কিনে নেন।[২০]

ব্রিক লেন অঞ্চলে আগে থেকেই বর্ণবাদী সন্ত্রাসের নজির ছিল, পরে বাংলাদেশি অভিবাসীরাও যার শিকার হয়েছেন। মূলত ১৯৩০ সালে ফ্যাসিস্ট রাজনীতিক অসওয়াল্ড মোসলের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসের সূত্রপাত হয়। তিনি ব্ল্যাক শার্ট নামক একটি দল পরিচালনা করতেন, যেটি ঐ সময়ে অঞ্চলে ইহুদিদের অভিবাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল। বাংলাদেশিদের উত্থান ঘটার পরও কাছাকাছি বেথনাল গ্রিন অঞ্চলে ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামক সংগঠন অভিবাসন-বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করছিল। এছাড়া কিছু শ্বেতাঙ্গ তরুণ স্কিনহেড পরিচয়ে সংগঠিত হয়ে ঐ অঞ্চলের বাংলাদেশি অভিবাসীদে উপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলা চালাতো। এই হামলাগুলোর মধ্যে ছিল বাংলাদেশি শিশুদেরকে উত্যক্ত করা, তাদের দেখলে গায়ে থুতু ছিটানো, পথেঘাটে কর্মজীবি নারীদের উপর আক্রমণ করা, বাংলাদেশি মালিকানাধীন ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আক্রমণ ও ভাংচুর ইত্যাদি। এ সময়ে বাংলাদেশি শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও স্কুলগমন ব্যহত হতে থাকে। মা-বাবারা বর্ণবাদী আক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতে শিশুদেরকে বাড়িতে অবস্থান করতে বাধ্য করতেন। বর্ণবাদী হামলার আশংকায় কর্মজীবি ও বহির্গামী বাংলাদেশি নারীরা একা চলাফেরা থেকে বিরত থাকতেন এবং যেখানেই যেতে কয়েকজন একসাথে যেতেন। বর্ণবাদীদের দ্বারা অগ্নিসংযোগের আশংকায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট নির্বিশেষে বাংলাদেশি মালিকানাধীন যেকোন ভবনে বিশেষ অগ্নিনির্বাপক সতর্কতা অবলম্বন করা হত। এই সময় বাংলাদেশি অভিবাসীদের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে লন্ডনে অগ্নিসহ চিঠির বাক্সের প্রচলন ঘটে।[১৪]

৪ মে, ১৯৭৮ তারিখে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি বস্ত্র শ্রমিক আলতাব আলী তিন ব্রিটিশ কিশোরের আক্রমণে নিহত হন। বর্ণবাদী এই হামলাটি অ্যাডলার স্ট্রিটওয়াইটচ্যাপেল রোডের সংযোগস্থলে ঘটে, যখন আলতাব কাজ থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। [১৪][১৮][২১] এই হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশি অভিবাসীরা ঘুরে দাঁড়ান। তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে পুরো ব্রিক লেন অঞ্চল বন্ধ করে দেন। তাদের মূল দাবী ছিল ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামক বর্ণবাদী যুব সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।[২২] বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি তরুণরা বাংলাদেশ ইয়ুথ মুভমেন্ট গঠন করেন। ১৪ মে তারিখে সাত হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি আলতাব আলীর কফিন নিয়ে হাইড পার্কের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন। এরই মাঝে কিছু বাংলাদেশি তরুণ ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় ছোট ছোট দল গড়ে তুলেন এবং বর্ণবাদী ব্রিটিশ তরুণদের চিহ্নিত করে তাদের উপর একাধিক হামলা চালান।[২৩][২৪][২৫]

সেই থেকে আলতাব আলীর নামটি বর্ণবাদবিরোধী ও মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশিদের ঐ বিক্ষোভ ছিল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশীয় কোন জনসমষ্টির প্রথম সংগঠিত আন্দোলন। এই আন্দোলন অধুনা ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজের ঐক্য ও স্বকীয়তাবোধেরও শিকড়ের গভীরে অবস্থান করছে। ঐ ঘটনার পর হত্যাকান্ডের স্থান অর্থাৎ অ্যাডলার স্ট্রিট সংলগ্ন একটি উদ্যানের নাম দেওয়া হয় আলতাব আলী পার্ক১৯৯৩ সালে এককালের বর্ণবাদী, বর্তমানে অতিডান রাজনৈতিক দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির আক্রমণে কিছু বাংলাদেশি ছাত্র প্রচন্ড আহত হলে বাংলাদেশিরা অনুরূপ আন্দোলন গড়ে তুলে তার জবাব দেন।[১৪][২৬]

১৯৮৮ সালে হার্টফোর্ডশায়ারের সেইন্ট অ্যালবানস শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সিলেট শহরের সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে। সিলেট হতে আগত বাংলাদেশিরা সেইন্ট অ্যালবানস শহরের বৃহত্তম অভিবাসী সমাজ হওয়াতে শহর কর্তৃপক্ষ তাদের সন্মানে এই আনুষ্ঠানিকতার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।[২৭][২৮]

২০০১ সালের এপ্রিলে লন্ডন বোরো অফ টাওয়ার হ্যামলেটস নগর পরিষদ স্পাইটালফিল্ডের সংসদীয় আসনের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিবর্তন করে 'স্পাইটাল ফিল্ড ও বাংলাটাউন' নাম প্রদান করে। এই নাম প্রদানের দিনটি ঐ অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ল্যাম্পপোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল ও সবুজ রং ব্যবহার করে উদযাপন করা হয়। উল্লেখ্য ইতমধ্যেই ঐ অঞ্চলের প্রতি পাঁচজন অধিবাসীর তিনজন ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুদ।[১৭]

অবদান[সম্পাদনা]

রুশনারা আলী প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী এমপি


অনেক বাংলাদেশী মনে করে যে তাদের ব্রিটিশ সমাজের সাথে মিলে চলা উচিত।তারা স্থানীয়ভাবে রাজনীতিতে অনেক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকে আবার জাতীয়ভাবেও বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন।২০১০ সালে লেবার পার্টি থেকে রুশনারা আলী প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ১০০০০ ভোটের ব্যবধানে।[২৯] হাউজ অব লর্ডসে প্রবেশকারী প্রথম বাংলাদেশী ও মুসলিম হলেন বারোনেস পলা উদ্দিনআনোয়ার চৌধুরী প্রথম বাংলাদেশী ব্রিটিশ হাই কমিশনার ছিলেন ২০০৪ সালে বাংলাদেশে।[৩০] ডক্টর মুহম্মদ আব্দুল বারী বর্তমানে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের চেয়ারম্যান যা সবচেয়ে বড় মুসলিম সংগঠন ঐ দেশের।[৩১] মুরাদ কোরেশী একজন শ্রমিক রাজনীতিবিদ ও গ্রেট লন্ডন অ্যাসেম্বলীর সদস্য।[৩২] বিবিসির শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান ব্লু পিটারে কনি হক দীর্ঘদিন উপস্থাপনা করেছেন। লিসা আজিজ স্কাই নিউজে , তাসমিন লুসিয়া খান বিবিসি নিউজ ও নিনা হোসেন আইটিভি ও বিবিসি লন্ডনে উপস্থাপনা করেছেন। শেফালী চৌধুরী [৩৩]আফসান আজাদ [৩৪] দুইজনই হ্যারি পটার সিনেমাতে অভিনয় করেছেন।মামজি একজন হিপহপআর এন বি শিল্পী ও প্রথম বাংলাদেশী যিনি তার সিঙ্গেল ওয়ান মোর ড্যান্স প্রকাশ করেছেন।[৩৫][৩৬] একজন তারকা শেফ হলেন টমি মিয়া[৩৭] আকরাম খান একজন নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার। রুনা ইসলাম একজন সিনেমা শিল্পী ও চিত্রশিল্পী।[৩৮]

তরুণ দল[সম্পাদনা]

একটি দল গ্লোব টাউন ম্যাসিভ

তরুণ বাংলাদেশীরা ইংল্যান্ডে নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা এলাকার দখল নিয়ে একে অপরের সাথে মারামারি করে।তারা ফ্যাশনেবল জামা, জুতা ও ব্র্যান্ডের পোষাক পরিধান করে এবং দামী মোবাইল সেট ব্যবহার করে। [৩৯] ২৬ থেকে ২৭ টার মতো দল আছে সেখানে [৪০] এবং প্রায় ২৫০০ মতো তরুণ ছেলে মেয়ে এসবের সাথে জটিত।এসব দুষ্ট দলেরা তাদের নামের শেষে পসি বা ম্যাসিভ ব্যবহার করে।এরকম দু’টি দল হলো স্টিফানি গ্রীন পসি ও ব্রিক লেন ম্যাসিভ।[৪১] আরো ছোট দল হলো বেঙ্গল টাইগারস , বেথনাল গ্রীন বয়েজ , ক্যানন স্ট্রীট পসি ও শ্যাডওয়েল ক্রু।[৪২][৪৩] অতীতে এসব দল ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি ও নিচু শ্রেণীর ড্রাগ ব্যবহার করত।যাই হোক তাদের আগ্রহ পরিবর্তিত হয়ে এখন জায়গা দখলের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।তারা এসব মারামারিতে সামুরাই তলোয়ার, কিচেন ছুরি ও মাংস কাটার ছুরি ব্যবহার করে যদিও তারা আগ্নেয়াস্ত্র খুব কমই ব্যবহার করে।এসন ক্রমবর্ধমান বাঙ্গালীরা আরো খারাপ কুকর্মে জড়িয়ে পড়ছে যেমন হেরোইন গ্রহণ করছে।[৪৪] ইসলামিক মৌলবাদীরা এসব কর্মে তাদের উসাহ যোগাচ্ছে। তারা একবার উৎসাহিত হয়ে তাদের ব্রিকলেন থেকে সব সাদা চামড়ার যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করে দিতে চেয়েছিল। তারা আবার ডায়েট নিয়ন্ত্রণ করে পর্ক খেতে চায় না ও অ্যালকোহলও নেয় না। কিন্তু বিনোদনের জন্য ড্রাগ নেয়[৪৫] যেমন হেরোইন[৪৬]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

আদমসুমারী জনসংখ্যা
Year Pop.  %±টেমপ্লেট:Historical populations/Rowটেমপ্লেট:Historical populations/Rowটেমপ্লেট:Historical populations/Rowটেমপ্লেট:Historical populations/Rowটেমপ্লেট:Historical populations/Row
১৯৬১/৭১/৮১/৯১/০১: আদমসুমারী তথ্য[৪৭]


১৫৩৮৯৩ জন বাংলাদেশী লন্ডনে থাকে যা মোট ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশীদের ৫৪.৩৭%।টাওয়ার হেমলেটে সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী থাকে যা ঐ এলাকার মোট লোকের ৩৩.৫%। ২৩২০০ বাঙ্গালী থাকে বামিংহামে, ১১০০০ বাংলাদেশী থাকে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওল্ডহ্যামে , ৭৬৪১ জন থাকে লুটনে [৪৮] ।৫৩% ব্রিটিশ বাংলাদেশীর জন্ম বাংলাদেশে। ৩৮ ভাগের বয়স ১৬ বছরের নিচে , ৫৯ ভাগ ১৬ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে ও মাত্র ৩% লোকের বয়স ৬৪ বছরের ওপরে । ব্রিটিশ বাংলাদেশীর ৬৪% হলো পুরুষ মানুষ। [৪৯][৫০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ Dr David Garbin (17 June, 2005)। "Bangladeshi Diaspora in the UK : Some observations on socio-culturaldynamics, religious trends and transnational politics" (PDF)। University of Surry। সংগৃহীত 2008-06-03 
  2. ২.০ ২.১ "Resident Population Estimates by Ethnic Group"। Office for National Statistics। সংগৃহীত 2008-07-28 
  3. "Channel S, working for the community"। Channel S। সংগৃহীত 2008-10-06 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ ৪.৩ ৪.৪ "Neighborhood Statistics"। Office for National Statistics। সংগৃহীত 2008-07-06 
  5. "Discover Tower Hamlets — Borough Profile"। Tower Hamlets। সংগৃহীত 2008-07-28 
  6. ৬.০ ৬.১ ৬.২ ৬.৩ "BBC London: Faith — Bangladeshi London"। BBC। সংগৃহীত 2005-05-27 
  7. "Born Abroad — Bangladesh"। BBC। 2005-09-07। সংগৃহীত 2008-07-29 
  8. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Ofsted নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  9. Patricia, Jeffery; Amrita Basu (1998)। Appropriating Gender: Women's Activism and Politicized Religion in South Asia। Routledge। পৃ: 204–205। আইএসবিএন 9780415918664  |coauthor= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  10. "Islam in the UK (1500s-present): Before the 20th century"BBC। সংগৃহীত 2009-02-17 
  11. "Bengali-speaking community in the Port of London"। PortCities UK। সংগৃহীত 2009-02-17 
  12. ১২.০ ১২.১ "A glimpse of the UK Bangladeshi community"। New Age। সংগৃহীত 2008-08-02 
  13. Meenakshi Thapan (2005). Transnational migration and the politics of identity. SAGE. pp. 102. ISBN 978-0-7619-3425-7
  14. ১৪.০ ১৪.১ ১৪.২ ১৪.৩ ১৪.৪ ১৪.৫ ১৪.৬ "শুকদেব সাঁধ: Come hungry, leave edgy, Brick Lane by মণিকা আলি"। লন্ডন রিভিউ অফ বুকস। সংগৃহীত 2003-09-10 
  15. "Curry house founder is honoured"BBC News। 29 September 2005। সংগৃহীত 2008-10-09 
  16. "Mukti Bahini"। Banglapedia। আসল থেকে February 22, 2008-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2008-08-16 
  17. ১৭.০ ১৭.১ "Immigration and Emigration — London — Banglatown"। বিবিসি: লেগেসিজ - ইউকে হিস্ট্রিজ লোকাল টু ইউ। সংগৃহীত 2008-08-03 
  18. ১৮.০ ১৮.১ ১৮.২ "Bangladeshi London"। এক্সপ্লোরিং টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি লন্ডন। সংগৃহীত 2008-08-02 
  19. "London Jamme Masjid, London"। স্যেক্রেড ডেস্টিনেশানস। সংগৃহীত 2008-07-30 
  20. টেমস, রিচার্ড (2006)। London: A Cultural History। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস ইউএস। পৃ: 267। আইএসবিএন 1904955215 
  21. ট্রয়না, ব্যারি; ব্রুস ক্যারিংটন (1990)। Education, Racism, and Reform। টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস। পৃ: 30। আইএসবিএন 9780415038263  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  22. কীথ, মাইকেল (2005)। After the Cosmopolitan?। রুটলেজ। পৃ: 144। আইএসবিএন 9780415341691 
  23. পানেয়ি, প্যানিকস (1996)। Racial violence in Britain in the nineteenth and twentieth centuries। ল্যিস্টার ইউনিভার্সিটি প্রেস। পৃ: 200। আইএসবিএন 9780718513979 
  24. লীচ, কেনেথ (1988)। Struggle in Babylon। শেলডন। পৃ: 86। আইএসবিএন 9780859695770 
  25. বাওলিং, বেনজামিন (1998)। Violent Racism: Victimization, Policing, and Social Context। ক্ল্যারেনডন প্রেস। পৃ: 48। আইএসবিএন 9780198262527 
  26. "Stopping the BNP in Tower Hamlets"। ইয়ুথ এগেনস্ট রেসিজম ইন ইওরোপ। সংগৃহীত 2008-08-22 
  27. "Sylhet, Bangladesh"। সেন্ট অ্যালবান্স জেলা পরিষদ। সংগৃহীত 2008-02-26 
  28. লীবম্যান, রবার্ট (1999-05-15)। "Property: Hot Spot - St Albans: Near the madding crowd"। লন্ডন: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। সংগৃহীত 2009-02-26 
  29. [১]
  30. [২]
  31. http://news.bbc.co.uk/1/hi/uk/5046970.stm
  32. http://web.archive.org/web/20071221172634/http://www.london.gov.uk/assembly/members/qureshim.jsp
  33. [৩]
  34. [৪]
  35. [৫]
  36. [৬]
  37. http://www.britbangla.net/successprofiles.html#sanchita
  38. http://www.telegraph.co.uk/culture/art/3648626/A-cable-car-named-desire.html
  39. [৭]
  40. [৮]
  41. [৯]
  42. [১০]
  43. Paul, Lashmar (21 September 2003). Focus: Gun Culture: Gun gangs of the capital. The Independent.
  44. http://www.thisislondon.co.uk/news/article-3318628-details/Surviving+Brick+Lane/article.do
  45. [১১]
  46. [১২]
  47. The Emigrant Bangladeshis in UK and USA Ministry of Expatriates’ Welfare and Overseas Employment. February 2004. Retrieved on 2009-04-19.
  48. http://www.statistics.gov.uk/census2001/profiles/00ka.asp
  49. http://www.statistics.gov.uk/downloads/theme_compendia/foer2006/FoER_Main.pdf
  50. http://web.archive.org/web/20080626062752/http://www.london.gov.uk/gla/publications/factsandfigures/dmag-update-20-2007-ons-ethnic-group-estimates.pdf

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Ali, M. (2003). Brick Lane. London: Black Swan. ISBN 978-0-552-77115-3.
  • Swadhinta Trust & CRONEM (2006). Tales of Three Generations of Bengalis in Britain: Bengali Oral History Project University of Surrey. ISBN 978-0-9528824-1-1.
  • Clarke, C; Peach, C. and Vertovec, S (1990). South Asians overseas : migration and ethnicity Cambridge; New York : Cambridge University Press. ISBN 978-0-521-37543-6
  • Eade J; Momen R (1995). Bangladeshis in Britain : a national database. Centre for Bangladeshi Studies. ISBN 978-0-946665-16-7
  • Hussain, Y (2005). Writing Diaspora: South Asian Women, Culture, and Ethnicity Ashgate Publishing, Ltd. ISBN 978-0-7546-4113-1
  • Abbas, T. (2005). Muslim Britain: Communities Under Pressure Zed Books. ISBN 978-1-84277-449-6
  • Phillipson C., Ahmed N., Ahmed N. R., Latimer J. (2003). Women in Transition: A Study of the Experiences of Bangladeshi Women Living in Tower Hamlets The Policy Press. ISBN 978-1-86134-510-3
  • Dorling D., Thomas B. (2004). People and Places: A 2001 Census Atlas of the UK The Policy Press. ISBN 978-1-86134-555-4
  • Kershen, A J. (2002). Food in the Migrant Experience Ashgate. ISBN 978-0-7546-1874-4
  • Marks L., Worboys M. (1997). Migrants, Minorities, and Health Routledge. ISBN 978-0-415-11213-0
  • Gregory E., Williams A. (2000). City Literacies Routledge. ISBN 978-0-415-19115-9
  • Simpson A. A., Simpson A. (2007). Language and National Identity in Asia Oxford University Press. ISBN 9780199267484
  • Loury G. C., Modood T., Teles S. T. (2005). Ethnicity, Social Mobility, and Public Policy: Comparing the USA and UK Cambridge University Press. ISBN 978-0-521-82309-8
  • Gilbert P. K. (2002). Imagined Londons SUNY Press. ISBN 978-0-7914-5501-2
  • Shakur T, D'Souza K. (2003). Picturing South Asian Culture in English: Textual and Visual Representations Open House Press. ISBN 978-0-9544463-0-7
  • Iredale R. R., Guo F., Rozario S. (2003). Return Migration in the Asia Pacific Edward Elgar Publishing. ISBN 978-1-84376-303-1

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]