বৌদ্ধ ধর্ম সংশ্লিষ্ট টীকাসমূহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বৌদ্ধ ধর্ম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ টীকাসমূহ তুলে ধরা হল।

পরিচ্ছেদসমূহ

ত্রিপিটক[সম্পাদনা]

ত্রিপিটক হচ্ছে বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ।এটি পালি ভাষায় রচিত ।গৌতম বুদ্ধের সময়ে তখনকার জম্বুদীপ এখনকার ভারতবর্ষ নামে পরিচিত।সে সময়ে পালি ভাষা প্রচলিত ছিল এবং লোকজন যাতে তার কথাগুলো সহজে বুঝতে পারে সেজন্য গৌতম বুদ্ধ পালি ভাষায় সবকিছু প্রকাশ করেছিলেন । ত্রিপিটককে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যথা- ১.সূত্র পিটক ২.বিনয় পিটক ও ৩ত্‍অভিধর্ম পিটক। এ ৩টি পিটকে সংরক্ষিত রয়েছে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের মুখনিঃসৃত বাণী।

ভদ্রকল্প[সম্পাদনা]

সময় বা কালের আদিও নাই,অন্তও নাই।এই অনাদি অনন্তকালের আবর্তে মহাজাগতিক প্রক্রিয়া চক্রাকারে পুনঃ পুনঃ চলেই যাচ্ছে।মহাজাগতিক প্রক্রিয়ায় চক্রাকারে জগতের সততই আবর্তন বিবর্তন হচ্ছে।বৌদ্ধ সাহিত্য মতে জগত্‍ অনিত্য।এই অনিত্য জগতের সৃষ্টি ও বিলয় কালের পরিমাপে কল্প এককরূপে গৃহীত হয়েছে ।ইংরেজীতে আমরা কল্পকে Cyclic Unit on a Cosmic Scale বলে অভিহিত করতে পারি। মহাবংশ গ্রন্থে লিখিত আছে-অনন্ত কল্প,অসংখ্যেয় কল্প ও মহাকল্প এই তিন প্রকার কল্প।সত্ত্ব রোগ ও দুর্ভিক্ষের কারণে জগত বিনষ্ট এবং পুনঃ সৃষ্টি হতে যে সময় অতিবাহিত হয় তাকে আমরা অন্তর কল্প নামে অভিহিত করতে পারি।জগত বিবর্তনের প্রথম পর্যায়ে সত্ত্বদের বয়স অসংখ্য বত্‍সর থাকে।লোভ দ্বেষ ও মোহের বশবর্তী হয় বলে সত্ত্বের বয়স ক্রমে দশ বত্‍সরে পৌঁছে।এইরূপ সময়ের সীমাকে সত্ত্ব অন্তর কল্প বলা হয়।রোগ ও দুর্ভিক্ষের জন্য কল্প ধ্বংস হলে রোগ অন্তর ও দুর্ভিক্ষ অন্তর কল্প বলা হয়।বিশ অন্তর কল্পে এক অসংখ্যেয় কল্প।চার অসংখ্যেয় কল্পে এক মহাকল্প।সাধারণত আমরা কল্প বলতে এক মহাকল্পকে বুঝি।বিসুদ্ধি মগগ,অগগঞঞসুত্ত অর্থ কথা,সারত্ত সংগ্রহ,সারথু দীপনী,অভিধর্মথু বিভাবনী টীকা,লোকপ্পত্তি ও লোক দীপক সার প্রভৃতি গ্রন্থে এক মহাকল্পে চার অসংখ্যেয় আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।যথা- (১)সংবর্ত কল্প (২)সংবর্ত স্থায়ী কল্প (৩)বিবর্ত কল্প ও (৪)বিবর্ত স্থায়ী কল্প। অঙ্গুত্তর নিকায়েও এইরূপ উল্লেখ আছে।অগ্নি জল ও বায়ু দ্বারা জগত বিনষ্ট হয়।সাতবার অগ্নি দ্বারা পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার পর অষ্টমবারে জলের দ্বারা ধ্বংস হয়।(অগ্নিদ্বারা ৮ বার X জলের দ্বারা ৮ বার)= এই প্রকার ৬৪ বার ধ্বংস হওয়ার পর একবার বায়ুর দ্বারা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে থাকে।অগ্নির দ্বারা আভাস্বর ব্রক্ষলোকের নিম্নভাগ,জলের দ্বারা শুভাকীর্ণ ব্রক্ষলোকের নিম্নভাগ এবং বায়ুর দ্বারা বেহপফল ব্রক্ষলোকের নিম্নভাগ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে থাকে।

স্রোতাপত্তি[সম্পাদনা]

নির্বাণের স্রোতে পতিত হওয়া।সৎ্কায়দৃষ্টি,বিচিকিৎসা এবং শীলব্রত পরামর্শ এই তিন বন্ধন ছিন্ন করতে পারলে নির্বাণের স্রোতে পতিত হওয়া যায়।এই স্রোতে পতিত হলে এই জন্মে অর্হৎ হতে না পারলে সাত জন্মের মধ্যে অর্হৎ হয়ে নির্বাণ সাক্ষাৎ করবেন।

সকৃদাগামী[সম্পাদনা]

একবার মাত্র পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেন।প্রতিঘ সংযোজন আংশিক জয় করতে পারলে সকৃ্তাগামী স্তরে উপনীত হওয়া যায়।যদি তিনি এই জন্মে অর্হৎ হতে না পারেন,তা’হলে অনধিক মাত্র একবার জন্ম গ্রহণ করলেই অর্হৎ হবেন।

অনাগামী[সম্পাদনা]

(অন্+আগমিন্)অনাগামী অর্থ যিনি আর (সংসারে) আগমন করবেন না।কামরাগ ও প্রতিঘ সংযোজন সম্পূর্ণভাবে জয় করতে পারলে অনাগামী স্তরে উপনীত হওয়া যায়।অনাগামীকে আর মনুষ্যলোকে বা দেবলোকে কোথাও পুনর্বার জন্মগ্রহণ করতে হয় না।দেহ ত্যাগের পর তিনি শুদ্ধাবাস দেবলোকে অবস্থান করেন এবং সেখানেই নির্বাণ লাভ করেন।

অর্হত্‍[সম্পাদনা]

অরহতি অর্থ যোগ্য হওয়া,উপযুক্ত হওয়া নির্বাণ সাক্ষাৎ যোগ্য।নির্বাণ সাক্ষাৎ করার উপযুক্ত ব্যক্তি।অগ্র দক্ষিণার্হ বলে অর্হৎ অর্থাৎ চীবর,পিন্ডপাত শয্যাসনাদি ভৈষজ প্রত্যয় দানের ও গ্রহণের অরহতি উপযুক্ত বলে অর্হৎ।ভগবান বুদ্ধকে নিম্নলিখিত কারণে অর্হৎ বলা হয়। (১)বুদ্ধ ক্লেশ অরি হতে দূরে স্থিত। (২)মার্গ জ্ঞান দ্বারা সমস্ত অরিকে হনন করেছেন।(৩)সংসার চক্রের আর সমূহ ছেদন করেছেন ও প্রত্যয়র্হ বা গোপনে কোন পাপ করেন না বলে অর্হৎ।অর্হৎগণ ‘খীনা জাতি বাসিতং ব্রক্ষচরিয়ং কতং করণীয়ং নাপরং ইথুত্তায়’ অর্থাৎ জন্ম ক্ষীণ করেছেন,বিশুদ্ধ জীবন চর্য্যা করেন,করণীয় কর্ম সম্পাদন করেন এবং এই জন্মের পর আর পুনর্জন্ম নাই।

নির্বাণ[সম্পাদনা]

নি উপসর্গের সাথে বাণ পদের সমন্বয়ে নির্বাণ শব্দটি গঠিত হয়েছে।নি শব্দের অর্থ না এবং বাণ শব্দের অর্থ তৃষ্ণা।অথাত্‍ নিবার্ণ শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় যে তৃষ্ণা না বা তৃষ্ণা ক্ষয় ।গৌতম বুদ্ধের দিয়ে যাওয়া আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ এবং চতুরার্য সত্য সঠিকভাবে মেনে চললে নিবার্ণ লাভ বা তৃষ্ণা ক্ষয় করা সম্ভব।

দশ পারমী[সম্পাদনা]

বুদ্ধত্ব লাভের জন্য বোধিসত্ত্বগণকে জন্মজন্মান্তরে দশ পারমী পূর্ণ করতে হয়।দশ পারমী হল-দান,শীল,নৈষ্কম্য,ক্ষান্তি,বীর্য,সত্য,অধিস্থান,মৈত্রী, উপেক্ষা ও প্রজ্ঞা।

পচ্চেক বুদ্ধ[সম্পাদনা]

সম্যক সম্বুদ্ধের অনুপস্থিতিতে একমাত্র বুদ্ধ নিজের প্রচেষ্টায় চতুরার্য সত্য জ্ঞাত হয়ে তৃষ্ণা ক্ষয় সাধন করতে পারেন।পচ্চেক বুদ্ধ হওয়ার জন্য দুই অসংখ্যেয় কালসহ লক্ষাধিক পারমীপূর্ণ করতে হয়।তাঁরা চতুরার্য সত্য নিজে বুঝতে সক্ষম।কিন্তু অপরের নিকট দেশনা করতে সমর্থ নহেন।পচ্চেক বুদ্ধগণ গন্ধমাদন পর্বতে ‘মঞ্জু সক’ বৃক্ষমূলে ‘অজ্জোপোসথো’ বলে উপসোথ কর্ম করে থাকেন।

চতুরার্য সত্য[সম্পাদনা]

আর্য সত্য চার প্রকার।যথা- (১)দুঃখ আর্য সত্য,(২)দুঃখ সমুদয় আর্য সত্য, (৩)দুঃখ নিরোধ আর্য সত্য এবং (৪)দুঃখ গামিনী প্রতিপদা আর্য সত্য। জন্ম দুঃখ,জরা দুঃখ,ব্যাধি দুঃখ,মরণ দুঃখ,অপ্রিয় সংযোগ দুঃখ,প্রিয় বিয়োগ দুঃখ,ইচ্ছিত বিষয়ের অলাভ দুঃখ ও সংক্ষেপে পঞ্চোপাদান স্কন্ধই দুঃখ।ইহাকে দুঃখ আর্য সত্য বলে।কামতৃষ্ণা,ভবতৃষ্ণা,বিভবতৃষ্ণা প্রভৃতি তৃষ্ণাত্রয় পুনৎপাদনশীলা,নন্দিরাগ সংযুক্তা এবং উক্ত বিষয়ে অভিনন্দিনী।তাই ইহাকে দুঃখ সমুদয় সত্য বলা হয়।তৃষ্ণার অশেষ রুপে বিরাগ,নিরোধ,ত্যাগ,নিক্ষেপ,মুক্তি,অনালয়ই দুঃখ নিরোধ আর্য সত্য।দুঃখ নিরোধ গামিনী প্রতিপদা আর্য সত্য হল আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ।যথা-সম্যক দৃষ্টি,সম্যক সংকল্প,সম্যক বাক্য,সম্যক কর্মান্ত,সম্যক আজীব,সম্যক ব্যায়াম,সম্যক স্মৃতি ও সম্যক সমাধি।পূর্বে অনশ্রুত ধর্ম তথাগত অভিসম্বোধি জ্ঞানে জ্ঞাত হয়েছেন,যাহা চক্ষু করণীয়,জ্ঞান করণীয় এবং যাহা উপ্শম অভিজ্ঞা,সম্বোধি ও নির্বাণের অভিমুখে সংবর্তিত করে।তাই বুদ্ধ বলেছেন-“চতুসচ্চ বিনিমুত্তো ধম্মো নাম নখি”।চতুরার্য সত্য ব্যতীত কোন ধর্ম হতে পারে না।

চারিনিমিত্ত[সম্পাদনা]

কুমার সিদ্ধার্থ একদিন নগর ভ্রমণে বের হয়ে চারিনিমিত্ত দেখেছিলেন এবং সেই রাতেই তিনি গৃহত্যাগ করেছিলেন।চারিনিমিত্ত হল-বৃদ্ধ,রোগী,মৃতদেহ ও সন্ন্যাসী।

পঞ্চশীল[সম্পাদনা]

গৌতম বুদ্ধ গৃহীদের জন্য পঞ্চশীল দিয়ে গেছেন।এগুলো হল- ১. প্রাণীহত্যা না করা। ২.অপরের জিনিস চুরি না করা। ৩.ব্যভিচার না করা। ৪.মিথ্যা কথা না বলা এবং ৫.সুরা বা মদ্যপান না করা। পঞ্চশীল ঠিকমত পালন করতে পারলে এ জন্মে মার্গফল লাভ করতে না পারলেও পরবর্তী যে কোন এক জন্মে নিবার্ণলাভ করা সম্ভব।

অষ্টপরিষ্কার দান[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নিত্য ব্যবহার্য বস্তু।বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সংসার ত্যাগ পর আট প্রকার ব্যবহার্য বস্তু রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে।এই প্রকার বস্তু (১) সংঘাটি (২) জলছাঁকুনী (৩)অর্ন্তবাস (৪) ভিক্ষাপাত্র (৫) ক্ষুর (৬) সুচ-সুতা (৭) উত্তরাসঙ্গ ও (৮) কটিবন্ধনী।এই অষ্টপরিষ্কার দানের ফলে বুদ্ধের সময় ভিক্ষু হলে ‘এস ভিক্ষু’ বলার সাথে সাথে ভিক্ষু অষ্টপরিষ্কার প্রাপ্ত হন।

অনাগত দশ বুদ্ধ[সম্পাদনা]

“মেত্তেয়্যো উত্তমো রামো পসেনো কোসলো ভিভু, দীঘসোনি চ চঙ্কী চ সুল ভো তো দেয়্য ব্রাক্ষণো। নালগিরি পারিলেয়্য বোধিসত্ত্বা ইমে দসা, অনুক্কমেন সম্বোধিং পাপুনিস্সতি অনাগতে”। বাংলাঃ মৈত্রেয়,উত্তম রাম,কোশলরাজ প্রসেনজিত,অভিভূ,দীর্ঘশোনি,চঙ্কী,শুভ,ব্রাক্ষণ তোদেয়্য,না্লগিরি এবং পারিলেয়্য এই দশ বোধিসত্ত্ব অনাগতে অনুক্রমে সম্বোধি প্রাপ্ত হবেন।বৃটিশ যাদুঘরে একটা সম্পূর্ণ পত্রে পান্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। উহা নিম্নরুপ- ইমাস্মিং ভদ্দকপ্পে মেত্তেয়্যো বোধিসত্তো সব্বঞ্ঞূতং পাপুনিসসতি। দুতিয়কপ্পো সূঞঞো হোতি।ততিয়কপ্পে রামো বোধিসত্তো সব্বঞঞূতং পাপুনিসসতি,সেসানি পঞঞাসকপ্পানি।এতস্মিং অন্তরে যথারুপং অঞঞূতরো বোধিসত্তো সব্বঞঞূতং পাপুনিসসতি।ইদানি পন মেত্তেয়্যো চ রামো প সেনো চ বিভূতি চ চত্তারো বোধিসত্তা তুসিত ভবনে বসন্তি।সূভূতো চ নালগিরি চ পারিলেয়্য চ তয়ো বোধিসত্তা তাবতিংস ভবনে বসন্তি।উত্তরো চ দীঘো চ চঙ্কী চ তয়ো বোধিসত্তা ইদানিং পঠরিয়া পব্বজিতা হোন্তি ভিকখু।দসবোধিসত্তাবিধি। বাংলাঃ এই ভদ্রকল্পে মৈত্রেয় বোধিসত্ত্ব সর্বজ্ঞতা প্রাপ্ত হবেন।দ্বিতীয় কল্প শূণ্য কল্প হবে।তৃতীয় কল্পে বোধিসত্ত্ব রাম সর্বজ্ঞতা জ্ঞান প্রাপ্ত হবেন।পরে পঞ্চাশ কল্প বাকী থাকবে।এই সময়ে যথাসময়ে অন্যান্য বোধিসত্ত্বগণ সর্বজ্ঞতা জ্ঞান প্রাপ্ত হবেন। বর্তমানে মৈত্রেয়,রাম,প্রসেনজিত এবং বিভূতি প্রভৃতি বোধিসত্ত্বগণ তুষিত দেবলোকে অবস্থান করতেছেন।সুভূতি,নালগিরি এবং পারিলেয়্য প্রভৃতি তিন বোধিসত্ত্ব তাবতিংস দেবলোকে অবস্থান করতেছেন।উত্তর,দীর্ঘ এবং চঙ্কী প্রভৃতি তিন জন বোধিসত্ত্ব বর্তমানে জগতে ভিক্ষু হিসেবে আছেন।ইহা দশবোধিসত্ত্বের ইতিহাস। সোতথুকী নামক গ্রন্থে দশ বোধিসত্ত্ব উৎপত্তির সহিত আর দুই লাইন গাথা পাওয়া গেছে।তা হল- দসুত্তরা পঞ্চসতা বোধিসত্তা সমূহতা, দসা অনুক্কমা চেব অবসেসা নানুক্কমা। বাংলাঃ মোট পাঁচশত দশজন বোধিসত্ত্ব নির্ধারিত হয়েছেন।তাঁদের মধ্যে দশজন অনুক্রমে বুদ্ধ হবেন।অন্য পাঁচশত বোধিসত্ত্বের ক্রম এখন ও নির্ধারিত হয় নাই।

চুলামনি চৈত্য[সম্পাদনা]

চুলামনি চৈত্য গৌতম বুদ্ধের কেশধাতু দিয়ে তৈরি এবং তাবতিংস স্বর্গে প্রতিনিয়ত দেব ব্রক্ষা দ্বারা পূজিত হচ্ছে।গৃহত্যাগের পর যখন সিদ্ধার্থ তার লম্বা চুল কেটে আকাশের দিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ঠিক তখনি তাবতিংস স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র সে চুল নিয়ে যান এবং তৈরি করেন চুলামনি চৈত্য ।

বত্রিশপ্রকার মহাপুরুষের লক্ষণসমূহ[সম্পাদনা]

১।সুপ্রতিষ্ঠিত পাদ,(সুপ্পতিটঠিত পাদো) ২।পাদতলের নিম্নদেশে সর্বাকার পরিপূর্ণ নেমি ও নাভিসহ সহস্র অরযুক্ত চক্র বিদ্যমান(হেটঠা পাদতলেসু চক্কানি জাতানি সহস্রারানি সনেমিকানিস সর্ব্বাবাকার পরিপূরানি) ৩।আয়ত পাঞ্চি বা পরিপূর্ণ পায়ের মুড়ি(আয়রতপনিহ) ৪।দীর্ঘ অঙ্গুলি(দীর্ঘঙ্গুলি) ৫।ব্রক্ষ ঋজু শরীর(ব্রক্ষজ্জুগতো) ৬।সপ্ত উন্নত স্থান-দুই হস্ত,দুই পাদ,দুই অংস,স্কন্ধ ও এক গ্রীবা অংস কুট মাংস পূর্ণ উন্নত স্থান(সস্তুসসদো) ৭।মৃদু কোমল হস্ত ও পাদতলে,(মৃদুতলুনহথু পাদো) ৮।জালহস্ত পাদ(জাল হথু পাদো) ৯।পায়ের মধ্যবর্তী গুলফ(উসসঙ্খ পাদো) ১০।উর্দ্ধমুখী লোমের অগ্রভাগ(উদ্ধ গগলোমো) ১১।এণিমৃগঘসদৃশ জঙ্খা(এণিজংঘো) ১২।অতিশয় মসৃণ স্নিগ্ধ মুখাবয়ব(সুখমচ্ছাবি) ১৩।সুবর্ণ বর্ণ কাঞ্চন সদৃশ ত্বক(সুবন্নবন্নো) ১৪।গুহ্যেন্দ্রিয় কোবরক্ষিত(কোসোহিত বথু গুয়েহা) ১৫।নিগ্রোধ পরিমন্ডল অর্থাৎ বয়ঃ প্রমাণ ব্যাম,ব্যাম প্রমাণবয়ঃ(নিগ্রোধমন্ডলো) ১৬।দন্ডায়মান অবস্থায় উভয় হস্ত দ্বারা জানুদ্বয় স্পর্শ ও পরিমর্দন করতে সক্ষম(অননোমন্তো) ১৭।সিংহ পূর্বার্ধ কায়,(সীহ পূববদ্ধ কায়ো) ১৮।স্কন্ধ গহবর পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত,(চিতন্তরংসো) ১৯।সমবর্ত স্কন্ধ,(সমবত্তখন্দো) ২০।সুক্ষরস গ্রাহী জিহবা(রসগগসগগি্) ২১।গাঢ় নীল নেত্র(অভিনীলনেত্তো) ২২।গো-চক্ষু বিশিষ্ট(গোপখুমো) ২৩।উষ্ণীষ শীর্ষ(উনহীসসীসো) ২৪।প্রত্যেক লোমকূপে একলোম(একেকলোমো) ২৫।ভ্রুণযুগলের মধ্যে উণা(চক্রাকারে উর্দ্ধমূখী স্বর্ণবর্ণ একটা লোক)(উণ্না) ২৬।চল্লিশ দন্ড।(চত্তলীসদন্তো) ২৭।অবিবর দন্ত।(অবিরল দন্তো) ২৮।দীর্ঘ জিহবা।(পহূত জিহবা) ২৯।ব্রক্ষস্বর।(ব্রক্ষসস্রো) ৩০।সিংহহনু।(সীহ হনু) ৩১।সমদন্ত।(সমদন্তো) ৩২।শুভ্রদন্ত।(সুসুক্কদঠো)

অনুব্যঞ্জন[সম্পাদনা]

বোধিসত্ত্বদের দশ পারমী,দশ উপপারমী ও দশ পরমার্থ পারমী পরিপূর্ণ করার কারণে তাঁরা ৩২ প্রকার মহাপুরুষ লক্ষণ এবং অশীতি প্রকার অনুব্যঞ্জন লক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে থাকে।অশীতি প্রকার অনুব্যঞ্জন লক্ষণগুলি নিম্ন রুপঃ ১।উন্নত নখ(তুঙ্গ নখা) ২।তাম্রবর্ণ নখ(তম্ব নখা) ৩।স্নিগ্ধ নখ(সিনিগ্ধ নখা) ৪।সুগঠিত আঙ্গুল (বটঠঙ্গুলি) ৫।চিত্রাঙ্গুল(চিত্তাঙ্গলি) ৬।অনুপূর্ব আঙ্গুল (অনুপূব্বাঙ্গলি) ৭।নির্গ্রন্থ শিরা (নিগগন্ত সিরা) ৮।গুপ্ত শিরা (গূঢ় সিরা) ৯।নিগুঢ় গুলফ (গূঢ় গুলফা) ১০।সবল গ্রন্থি (ঘণ সন্ধি) ১১।সম ও সমান পদ (অবিসম সমপাদা) ১২।পরিপূর্ণ পুরুষ লক্ষণ (পরিপূন্না ব্যঞ্জনহ) ১৩।সমরশ্মি সম্প্রসারণ (সমন্ত পভা) ১৪।মৃদুগাত্র (মদু গত্তো) ১৫।সুন্দর গাত্র (বিসদ গত্তো) ১৬।অলীন গাত্র (অদীন গত্তো) ১৭।অনুসন্ধি গাত্র (অনুসন্ধি গত্তো) ১৮।সুসংহত গাত্র (সুসমহ গত্তো) ১৯।সুবিভক্ত,অঙ্গ প্রত্যঙ্গ (সুবিভত্তাঙ্গ প্রত্তোঙ্গো) ২০।নিখিল অবিকৃত শরীর (নিখিলা দুসট সরীরা) ২১।অতি সৌম্য গাত্র (ব্যপগততি্লকালক গত্তো) ২২।তুলাসদৃশ পদতল(তুল মদু পণয়হ) ২৩।গভীর হস্তরেখা (গম্ভীর পাণি লেখা) ২৪।অভঙ্গ হস্তরেখা (অভগণ পাণি লেখা) ২৫।অচ্ছিন্ন হস্তরেখা (অচ্ছিন্ন পাণি লেখা) ২৬।অনুপূর্ব হস্তরেখা (অনুপূব্বা পাণি লেখা) ২৭।বিম্বোষ্ঠ (বিম্বোটঠা) ২৮।সুবাসিত উচ্চারণ (নাভায়তননবচনা) ২৯। মৃদু,সরু লোহিত জিহবা (মদু তনু করত্ত জিবহা) ৩০।গজেন্দ্রয় সহিত অনুকরণীয় স্বর (গজগরজিতস্তনিত সসরা) ৩১।সু-উচ্চারিত স্বর (সুসসরবর গিরা) ৩২।মঞ্জুঘোষ (মঞ্জুঘোসা) ৩৩।গজেন্দ্র গতি (নাগবিক্কান্ত গামী) ৩৪।বৃষভ গতি (রসভবিক্কান্ত গামী) ৩৫।হংসরাজ গতি (হংস রিক্কান্তগামী) ৩৬।সিংহরাজগতি (সীহবিক্কান্তগামী) ৩৭।দক্ষিণাবর্ত গতি (অভিদকখিন গামী) ৩৮।সমস্ফীতউদসদ (উদসদসমা) ৩৯।সমস্ত প্রাসাদক (সমস্ত পাসদিকা) ৪০।পবিত্র আচার ব্যবহার (সুচি সমাচারা) ৪১।পরম পবিত্র বিশুদ্ধ লোম (পরম সুচি বিসুদ্ধ লোমা) ৪২।পরিমন্ডলাকার সমোজ্জল রশ্মি (বিতি মিরসমন্তপপভা) ৪৩।ঋজুগাত্র (উজুগত্তো) ৪৪।মৃদু গাত্র (মদুগত্তো) ৪৫।অনুপূর্ব গাত্র (অনুপূব্ব গত্তো) ৪৬।ধনু উদর(চাপোদরা) ৪৭।সুচারু রুপে বৃহতাকার গোল ভূঁড়ি (চারুকখাভগদনোদরা) ৪৮।গম্ভীর নাভী (গম্ভীর নাভী) ৪৯।অভঙ্গ নাভী (অভগণ নাভী) ৫০।অচ্ছিন্ন নাভী (অচ্ছিন্ননাভী) ৫১।দক্ষিণাবর্ত নাভী (অভিদ কখিনাবত্ত নাভী) ৫২।পরিণত জানুমন্ডল (পরিণত জানু মন্ডলা) ৫৩।সুগঠিত দন্ত (বট্টি দাঠা) ৫৪।তীক্ষ্ম দন্ত (তীণহ দাঠা) ৫৫।অভগ দন্ত (অভগণ দাঠা) ৫৬।অচ্ছিন্ন দন্ত (অচ্ছিন্ন দাঠা) ৫৭।সমদন্ত (অবিংস মদাঠা) ৫৮।উন্নত নাক (তুঙ্গ নাসা) ৫৯।অনতি-আয়তন নাক (নাত্তায়তন নাসা) ৬০।ভ্রমরকানো নয়ন (অসিত নয়না) ৬১।নীলশ্বেতকমল সদৃশ নয়নদ্বয় (অসিত সিত কমল দসস-নয়না) ৬২।কালভ্রু (অসিত ভ্রম) ৬৩।স্নিগ্ধভ্রু (সিনিগ্ধলোক ভম) ৬৪।আয়্তরুচির কর্ণ (অপরীত্ত কন্না) ৬৫।সমরুপ কর্ণ (অবিসম কন্না) ৬৬।ত্রুটিমুক্ত কর্ণ (ব্যপগতকন্না দোসা) ৬৭।অবিচলিত অবিকৃত সংযত ইন্দ্রিয় (অনুপহতা অনুপক্লিটঠ সন্তিন্দ্রিয়া) ৬৮।উত্তম সমানুপাতিক ললাট (উত্তমসেটঠ সংমিতমূখললাটা) ৬৯।কালকেশরাশি (অসিত কেসা) ৭০।সমকেশ (সহিত কেসা) ৭১।উজ্জ্বল কেশ (চিত্তকেসা) ৭২।জটাবিহীন কেশ (বিব্বত্ত কেসা) ৭৩।অভঙ্গ কেশ (অভগন কেসা) ৭৪।অচ্ছিন্ন কেশ (অচ্ছিন্ন কেসা) ৭৫।কোমল কেশ (অপরুস কেসা) ৭৬।স্নিগ্ধ কেশ (সিনিগ্ধ কেসা) ৭৭।সুরভিত কেশ (সুরভি কেসা) ৭৮।অগ্রকুঞ্চিত কেশ (বল্লিতাগগকেসা) ৭৯।সুগঠিত মস্তক (সুসিরসো) ৮০।স্বতিক,নন্দ্যাবর্ত মুক্তিক,লক্ষণযুক্ত কেশ (স্বস্তিক নন্দ্যাবত্ত-মুক্তিক সেসটঠ সন্নিকাসাকেসা)

প্রতিসম্ভিদা[সম্পাদনা]

(প্রতি-সম-ভিদ্ ধাতু নিষ্পন্ন) প্রতিসম্ভিদা অর্থ লোকোত্তর মার্গাদি বিষয়ে বিশেষ বুৎপত্তি।বহু-শাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও পৃথক জনের প্রতিসম্ভিদা প্রাপ্তি ঘটে না। যাঁরা আর্যশ্রাবক তাঁদের প্রতিসম্ভিদা লাভ অবশ্যাম্ভাবী।প্রতিসম্ভিদা জ্ঞান চার প্রকার।যথা-(১)অর্থ প্রতিসম্ভিদা (২) ধর্ম প্রতিসম্ভিদা (৩) বিরুক্তি প্রতিসম্ভিদা ও (৪) প্রতিভাণ প্রতিসম্ভিদা এই চার প্রকার প্রতিসম্ভিদা দুই কারণে ভিন্ন এবং পাঁচটি কারণে সুস্পষ্ট হয়ে থাকে।প্রতিসম্ভিদা শৈক্ষ্য এবং অশৈক্ষ্য ভূমি এই কারণে দুই ভাগে বিভক্ত।সারীপুত্র,মোগগল্লায়ণদি অশীতি মহাস্থবিরের অশৈক্ষ্যবশে প্রতিপন্ন আর আনন্দ স্থবির,চিত্ত গৃহপতি,ধার্মিক উপাসক,উপাল গৃহপতি,খূজ্জত্তরা উপাসিকাদের প্রতিসম্ভিদা শৈক্ষ্য ভূমি বশে প্রভিন্ন। অধিগম,পর্যপ্তি,শ্রবণ,জিজ্ঞাসা ও পূর্বযোগ-এই পাঁচটি কারণে প্রতিসম্ভিদা সুস্পষ্ট হয়ে থাকে।পাঁচ প্রকার অর্থ সম্বন্ধে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার জ্ঞাত হওয়াকে অর্থ প্রতিসম্ভিদা বলে।চার প্রকার ধর্ম বিবিধ জানবার যে জ্ঞান,তাহা ধর্ম প্রতিসম্ভিদা।নিরুক্তি বা ব্যাকরণ হিসাবে ধর্ম জানবার যেই জ্ঞান,তাহা নিরুক্তি প্রতিসম্ভিদা।অর্থ,ধর্ম,নিরুক্তি এই তিনটা জ্ঞানের বিভিন্নতা জানবার একটা বিশিষ্ট জ্ঞানকে প্রতিভাণ প্রতিসম্ভিদা বলে।প্রতিভাণ প্রতিসম্ভিদা পূর্বোত্তম জ্ঞাত্রয় জানে বটে,কিন্তু তাদের কার্য সম্পাদন করতে পারে না।

প্রতিবেধ[সম্পাদনা]

প্রতি+বেধ অর্থ ধর্মসমূহে লোকোত্তর জ্ঞান।চার আর্য মার্গ,চার আর্য মার্গফল ও নির্বাণ ধর্মকে প্রতিবেধ ধর্ম বলা হয়।

পরিয়ত্তি[সম্পাদনা]

ত্রিপিটকের নবাঙ্গ ধর্ম শিক্ষাকে পরিয়ত্তি বলা হয়।তের প্রকার ধূতাঙ্গ,চৌদ্দ প্রকার খন্ধকব্রত,অশীতি প্রকার মহাব্রত,শী্ল,সমাধি ও বিদর্শন প্রভৃতি আচ্রণের বিধানবলীকে প্রতিপত্তি ধর্ম বলে।

যমক প্রাতিহার্য[সম্পাদনা]

যমক অর্থ দুই,প্রাতিহার্য ঋদ্ধি।যমক প্রাতিহার্য অর্থাৎ একই সঙ্গে দুই প্রতিচ্ছবি প্রর্বতন করা।কথিত আছে,বুদ্ধ অন্য তীর্থিয়দের সন্দেহ দূরীকরণের জন্য শ্রাবস্তীতে যমক প্রাতিহার্য প্রদর্শন করেছেন।দুই বিপরীত দৃশ্যকে এক সঙ্গে প্রদর্শন করা।যেমন-একই স্রোতে অগ্নি ও জল বাহির হওয়া।

তুষিত স্বর্গ[সম্পাদনা]

দেবলোকের ৪র্থ ভূমি।এখানকার সত্ত্বগণের আয়ু ৫৭ কোটি ৬০ লক্ষ বৎসর।সন্ত্তষিত নামক দেবপুত্র এই দেবলোকের অধিপতি।বোধিসত্ত্বগণ এবং তাঁদের মাতাপিতা প্রভৃতি এই মহাপূণ্যবানগণ এই দেবভূমিতে উৎপন্ন হয়ে থাকেন।এখানে দ্বিহেতুক,ত্রিহেতুক পৃথগজন ও কোন কোন স্রোতাপত্তি ও সকৃদাগামী ব্যক্তিগণ উৎপন্ন হয়ে থাকেন।

পঞ্চাঙ্গ[সম্পাদনা]

আমাদের শরীরের দুই বাহু ও দুই জানু এবং মস্তক অবনত করে যে প্রণাম বা বন্দনা করা হয়।উহা পঞ্চাঙ্গ বন্দনা বলা হয়।

কোলাহল[সম্পাদনা]

দেবগণের হর্ষাবিষাদ ধ্বনি।দশ সহস্র চক্রবালের মধ্যে কোন পরম হর্ষের বা বিষাদের সময় উপস্থিত হওয়ার কারণ দেবগণ জানতে পারেন।তারা এই সময়ে আগে উক্ত ঘটনা দশ সহস্র চক্রবালে ঘোষণা করে থাকে।এই ঘোষণাকে কোলাহল বলে।কোলাহল ৫ প্রকার।যথা-(১)কল্প কোলাহল শত সহস্র বৎসর পরে এই জগতের প্রলয় হবে বলে যে কোলাহল,তাহাকে কল্প কোলাহল বলে;(২)চক্রবর্তী রাজা কোলাহল-শত বৎস র পর জগতে চক্রবর্তী রাজার আবির্ভাব হলে যে কোলাহল,তাকে চক্রবর্তী কোলাহল বলে;(৩)বুদ্ধ কোলাহল-সহস্র বৎসর পর জগতে সম্যক সম্বুদ্ধের আর্বিভাব হবে কোলাহল;(৪)মঙ্গল কোলাহল-বার বৎসর পর সম্যক সম্বু্দ্ধ মঙ্গল ব্যাখ্যা করবেন বলে কোলাহল;(৫)মৌনব্রত কোলাহল-সাত বৎসর পর জনৈক ভিক্ষু ভগবান বুদ্ধের নিকট সাক্ষাত করে মৌনব্রত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করবেন বলে কোলাহল।

শ্রামণের[সম্পাদনা]

মুন্ডিত মস্তক কাষায় বস্ত্রধারী দশ শিক্ষা পদ অনুশীনকারী প্রবজিতকে শ্রামণের ব্লা হয়।অন্যূন সাত বৎসর বয়স্ক ছেলেকে প্রবজ্যা বা দশ শীলে দীক্ষা দেয়া যেতে পারে।যতদিন পর্যন্ত তাঁকে উপসম্পদা দেওয়া না হয়,ততদিন তিনি শ্রামণের নামেই অভিহিত থাকবেন।

তাবতিংস স্বর্গ[সম্পাদনা]

ছয়টি দেবলোকের ২য়টি হচ্ছে তাবতিংস স্বর্গ,দেবরাজ ইন্দ্র এই স্বর্গের অধিপতি।মনুষ্যগণনায় এখানকার দেবতাদের আয়ু ৩ কোটি ৬০ লক্ষ বৎসর।দ্বিহেতুক,ত্রিহেতুক পৃথকজন ও কোন কোন স্রোতাপন্ন ও সকৃতাগামী এই দেবলোকে উপনীত হয়ে থাকেন।

আনন্তরিক কর্ম[সম্পাদনা]

ইহা ৫ প্রকার।যথা-মাতৃ হত্যা,পিতৃ হত্যা,অর্হৎ হত্যা,বুদ্ধের শরীর হতে রক্তপাত ঘটানো এবং সঙ্ঘভেদ।এই সব কর্মের যে কোন কেহ যদি করে থাকে,সে এই জন্মে ক্ষীণাস্রব হয়ে মুক্ত হতে পারবে না।

লোকন্তরিক নরক[সম্পাদনা]

তিন চক্রবাল পর্বতের মধ্যস্থলে ত্রিকোণাকৃতি ৬৮ হাজার যোজন বিস্তৃত নরককে লোকন্তরিক নরক বলে।এই নরক ঘন অন্ধকারে আবৃত।নিম্নদেশ তীব্র ক্ষার জলে পূর্ণ।এই নরকে উপর আচ্ছাদনহীন এবং তলদেশ বর্জিত।সুতরাং ইহার উপরে এর নিম্নে পৃথিবীর সন্ধারক শীতলতর তীব্র ক্ষারজল।এই নরকে সূর্যালোক না থাকাতে নারকীয় প্রাণীদের চক্ষু নাই।তাদের হাতে পায়ে সুতীক্ষ নখ আছে।নখ দিয়ে প্রাণী সকল চক্রবাল পৃষ্ঠে বাদুরের ন্যায় অবস্থান করে।নখ দিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে।যারা আনন্তরিক কর্ম করে,তারা এই নরক ভোগী হয়ে থাকেন।

অসংজ্ঞভূমি[সম্পাদনা]

১৬টি রুপ ব্রক্ষলোকের অসংজ্ঞ ১১তম ভূমি।বেহপ্ফল এবং অসংজ্ঞ এই দুই ব্রক্ষলোক ৪র্থ ধ্যান ভূমি নামে অভিহিত।যারা ৪র্থ ধ্যানে সংজ্ঞা বিরাগ ভাবনা করেন,তারা অসংজ্ঞ ব্রক্ষলোকে উৎপন্ন হবেন।এই ভূমি ব্রক্ষলোকবাসীদের আয়ু ৫০০ কল্প।

অরূপ ব্রক্ষলোক[সম্পাদনা]

অরুপ ব্রক্ষলোক ৪টি।যথা -(১)আকাশানন্তায়তন,(২)বিজ্ঞানান্তায়ন,(৩)আকিষ্ণনায়তন,(৪)নৈবসংজ্ঞা-না-সংজ্ঞায়তন অরুপ ব্রক্ষলোক।অরুপ ধ্যানীগণ এইসব ভূমিতে উৎপন্ন হয়ে থাকেন।তাদের কর্ম ও পূণ্য ক্ষয়ে আবার পূর্নজন্ম গ্রহণ করতে হয়।

চক্রবাল[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ সাহিত্যে উল্লিখিত সুমেরু পর্বতকে কেন্দ্র সপ্ত পর্বত ও সপ্ত সমুদ্র বেষ্টিত ১২ শত হাজার যোজন দৈর্ঘ্য এবং ৩৪ শত ৫০ যোজন প্রস্থ এলাকাকে এক চক্রবাল বলে।সুমেরু পর্বতের শিখরে যাম স্বর্গ অবস্থিত।সুমেরু পর্বত হতে পৃথিবী পর্যন্ত তাবতিংস ও চতুর্মহারাজিক স্বর্গ,অসুরভূমি সুমেরু পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত।এইরুপ অসংখ্য চক্রবাল আছে।বুদ্ধের আক্রা ভূমি দশ সহস্র চক্রবাল,বুদ্ধের আদেশ ভূমি লক্ষ কোটি চক্রবাল এবং বুদ্ধের বিষয় ভূমি অপরিমিত চক্রবাল(বিশ্ব ব্রক্ষাণ্ড)।

কল্পতরু[সম্পাদনা]

জগত সৃষ্টির প্রারম্ভে কল্পস্থায়ী স্বয়ং জাত সত্ত্বদের প্রার্থিত বিষয় প্রদানকারী কতগুলি বৃক্ষ উৎপন্ন হন।জম্বুদ্বীপে জম্বুতরু,অসুরদের চিত্ত পাটলী,গরুড়দের সিম্বলী বৃক্ষ,পূর্বাবিদেহে শিরীষ,অপর গোপনে কদম্ব এবং তাবতিংস লোকে পারিজাত বৃক্ষ।এই উত্তর কুরুর বৃক্ষের নাম কল্পতরু।

পঞ্চবিলোকন[সম্পাদনা]

তুষিত পুরীতে বোধিসত্ত্বের জগতে আবির্ভাব হওয়ার সময় হলে তিনি পঞ্চবিলোকন করেন।যথা-(১)সময় (২) মহাদেশ (৩)জনপদ (৪)পরিবার বা গোত্র (৫) মাতার আয়ুষ্কাল।

ত্রিবিদ্যা[সম্পাদনা]

পূর্বনিবাস অনুস্মৃতি,পরচিত্ত বিভাজন ও আস্রবক্ষয় জ্ঞান এই তিন বিষয়কে ত্রিবিদ্যা বলা হয়।অর্থাৎ প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ ত্রিবিদ্যায় পারদর্শী হন।

বুদ্ধকৃত্য[সম্পাদনা]

বুদ্ধগণ মহাকরুণাবশে জগতে অবস্থান করে দিনের কর্তব্য শেষ করেন।ভোরে কোন স্বত্ত্বের প্রতি ধর্মদানে ধর্মচক্ষু উৎপাদন দেখা,প্রাতঃকালীন কৃত্য,পিন্ডাচরণ,দিবা ধ্যান সমাধি ও ধর্মালোচনা,রাত্রির প্রথম যামে ধ্যান,দ্বিতীয় যামে শয্যা গ্রহণ এবং শেষ যামে দেবতাদের সাথে কথোপকথন।

সংবর্ত কল্প[সম্পাদনা]

মহাকল্পের এক চতুর্থাংশ।সৃষ্টির আরম্ভ হতে সম্পূর্ণ সৃষ্টি হওয়ার সময়কে সংবর্ত বলে।সংবর্তের বিপরীতে বিবর্ত।সৃষ্টির ধ্বংসের সময়।

ষড়রশ্মি[সম্পাদনা]

বুদ্ধের শরীর হতে নির্গত ছয় রশ্মি।যথা-নীল,পীত,লোহিত,শ্বেত,হলুদ ও মিশ্রিত রশ্মি।বিভিন্ন বুদ্ধের ষড়রশ্মির বিস্তার বিভিন্ন প্রকার।গৌতম বুদ্ধের ষড়রশ্মি ব্যাম প্রমাণ।

জম্বুদ্বীপ[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ সাহিত্যে পৃথিবীকে চার মহাদ্বীপে ভাগ করা হয়েছে।যথা-(১)উত্তরে উত্তর কুরু (২)পূর্বে পূর্ব কুরু (৩)দক্ষিণে জম্বুদ্বীপ ও (৪) পশ্চিমে অপর গোয়ান।জম্বুদ্বীপ দৈর্ঘ্য প্রস্থে ১০২ হাজার যোজন বিস্তৃত এবং আকৃতি গোশটকের মত।এই মহাদ্বীপে জম্বু বৃক্ষ আছে বলে জম্বুদ্বীপ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

কুরুরাজ্য[সম্পাদনা]

পৃথিবীর উত্তরে অবস্থিত মহাদ্বীপের নাম উত্তর কুরু।ইহা ৮ হাজার যোজন বিস্তৃত এবং ইহা পীঠাকৃতি।এখানে কল্পবৃক্ষ হতে ইচ্ছানুযায়ী পোষাক পরিচ্ছেদ ও অলংকারাদি পাওয়া যায়।

ত্রিচীবর[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ব্যবহার্য কাপড়।যথা-(১)সঙ্ঘাটি (২) উত্তরাসঙ্ঘ ও (৩)অন্তর্বাস।

অভিসময়[সম্পাদনা]

বুদ্ধগণ প্রথম ধর্মচক্র প্রবর্তন করেন।সেই সময়ে অসংখ্য সত্ত্বগণ ধর্মচক্ষু উৎপাদন করতে পারেন।এই সময় অভিসময় নামে অভিহিত।

সন্নিপাদ[সম্পাদনা]

সন্নিপাদ অর্থ ধর্ম সম্মেলন।প্রত্যেক বুদ্ধের সময় সন্নিপাদ হয়ে থাকে।বিনা আমন্ত্রণে বুদ্ধ ধর্মালোচনায় সমবেত অর্হৎ নিয়ে যে ধর্ম সম্মেলন হয়ে থাকে তাকে সন্নিপাদ বলে।

প্রাতিমোক্ষ[সম্পাদনা]

প্রাতিমোক্ষ অর্থ কুশল কর্মের আদি মুখ অর্থাৎ কুশল সম্পাদনের প্রাথমিক বিনয় বিধান।বৌদ্ধ ধর্মে ভিক্ষুদের জন্য বুদ্ধ নির্দেশিত শীল সমূহকে প্রাতিমোক্ষ শীল বলে।ভিক্ষুদের জন্য ২২৭ টা এবং ভিক্ষুণীদের জন্য ৩৩৪ টা প্রাতিমোক্ষ সংবরণশীল আছে।

ষড়াভিজ্ঞ[সম্পাদনা]

যে ভিক্ষু ছয় প্রকার উর্ধ ভাগীয় আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী তাকে ষড়াভিজ্ঞ বলা হয়।ষড়াভিজ্ঞ হচ্ছে-ঋদ্ধিবিধা,দিব্যশ্রোত্র,দিব্যচক্ষু,পরচিত্তবিভাজনন,পূর্বানিবাসানুস্মৃতি ও আসবক্ষয় জ্ঞান।

প্রবারণা[সম্পাদনা]

প্রবারণা অর্থ বরণকরা,অভীষ্ট দান,কাম্য দান,নিবারণ,মানা,নিষেধ।বিনয় বিধানে প্রবারণা অর্থ ত্রুটি নৈতিক স্খলন নির্দেশ করবার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ।বুদ্ধ ভিক্ষুদের নির্দেশ দিয়েছেন যে বর্ষাবাসী ভিক্ষুগণ দৃষ্ট,শ্রুত অথবা ত্রুটি বিষয়ে প্রবারণা করতে হবে।ভিক্ষুদের মধ্যে পরষ্পরের অপরাধ হতে নিষ্কৃতির উপায় হচ্ছে প্রবারণা।

বুদ্ধ ও কল্প[সম্পাদনা]

বুদ্ধোৎপত্তি অনুসারে কল্প দুই প্রকার।যথা- (১)শূণ্য এবং (২)অশূণ্য কল্প। শূন্য কল্পে সম্যক সম্বুদ্ধ,পচ্চেক বুদ্ধ এবং চক্রবর্তী রাজার আবির্ভাব হয় না বলেই শূণ্য কল্প। অশূণ্য কল্প ৫ প্রকার।যথা- (১)সার কল্প, (২)মন্ড কল্প, (৩)বর কল্প, (৪)সারমন্ডকল্প, (৫)ভদ্রকল্প। জগৎ বিবর্তনের প্রারম্ভে অশূণ্য কল্পে যতজন সম্যক সম্বুদ্ধ জগতে উৎপন্ন হবেন বুদ্ধগণের সম্বোধি লাভের স্থানে ততটি পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়।শুদ্ধাবাস ব্রক্ষলোকবাসী ব্রক্ষাগণ উক্ত পদ্ম আহরণ করে ব্রক্ষপুরে রেখে দেন।জগতে সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হলে তারা বুদ্ধকে এই পদ্ম দিয়ে পূজা করে থাকেন।

বুদ্ধগণের জীবনকথা[সম্পাদনা]

সম্যক সম্বুদ্ধ হতে বর প্রাপ্তির পর বোধিসত্ত্বগণ নিজের অন্তর্দৃষ্টিতে দশ পারমী,দশ উপপারমী এবং দশ পরমার্থ পারমীর স্বরুপ উদঘাটন করে পারমী পরিপূর্ণ করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকেন।এই সময়ে বোধিসত্ত্বগণ আঠার প্রকার অভব্য বা অশুভ অবস্থা (অটঠারস অবব টঠানানি) হতে নিষ্কৃতি পেয়ে থাকেন।যথাঃ-(১)তিনি জন্মান্ধ,বধির,উন্মাদ,জড়(এল মুগ) অথবা বর্বররুপে জন্মগ্রহণ করেন না।(২)তিনি কখনও ক্রীতদাস-ক্রীতদাসীর পুত্ররুপে জন্মগ্রহণ করেন না।(৩)তিনি কখনও মিথ্যাদৃষ্টিসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন না।(৪)তিনি কখনও লিঙ্গ পরিবর্তন করেন না অর্থাৎ সব সময় পুরুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন।(৫)তিনি পাঁচ প্রকার আনন্তরিক কর্মের (১৯) কোনটা কখনও করেন না।(৬)তিনি কখনও কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হন না।(৭-৮)যদি তিনি প্রাণী হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন,তার শরীর তিতির পক্ষী হতে ক্ষুদ্র হয় না এবং হস্তী হতে বৃহৎশরীরধারী হন না।(৯)তিনি ক্ষুৎপিপাসিক প্রেতলোকে কখনও জন্মগ্রহণ করেন না।(১০)তিনি নিধমামতৃষ্ণিক (নিজের আগুনে নিজে প্রজ্জলিত) প্রেতলোকে কখনও জন্মগ্রহণ করেন না।(১১)তিনি কখনও কালগঞ্জ নামক অসুরলোকে জন্মগ্রহণ করেন না।(১২)তিনি কখনও অবীচি নরকে জন্মগ্রহণ করেন না।(১৩)তিনি কখনও লোকান্তরিক (২০) নরকে জন্মগ্রহণ করেন না।(১৪)তিনি কামাবচরে মারলোকে জন্মগ্রহণ করেন না।(১৫)তিনি রুপাবচরে অসংজ্ঞ (২১) ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন না।(১৬)তিনি শুদ্ধাবাস ব্রক্ষলোকে জন্মগ্রহণ করেন না।(১৭)তিনি অরুপ ব্রক্ষলোকে (২২) জন্মগ্রহণ করেন না।(১৮)তিনি এক চক্রবাল (২৩) হতে অন্য চক্রবালে জন্মগ্রহণ করেন না।বোধিসত্ত্বরুপে সম্যক সম্বুদ্ধ হতে বর প্রাপ্তির পর যে সকল বুদ্ধ জগতে উৎপত্তি হন,সেই সকল বুদ্ধ হতে তিনি ভবিষ্যৎ বুদ্ধ হওয়ার ঘোষণা পেয়ে থাকেন।এই ঘোষণাকে ব্যাকরণ বলে।ত্রিশটি পারমী পূর্ণ করার পর বোধিসত্ত্বগণ মহৎ পাঁচ ত্যাগ (মহাপরিচ্চাগা-স্ত্রীদান,পুত্রদান,রাজ্যদান,আপন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান এবং আপন জীবন দান) তিন চরিত্র (তয়া চরিয়া-ঞাতথুচরিয়া,লোকথু চরিয়া ও বুদ্ধিযা চরিয়া) এবং সপ্ত মহাদান (বেসসান্তর রাজার মত দান) করে মহাপৃথিবীকে সপ্তবার কম্পিত করে থাকেন।উপরিউক্ত সকল প্রকার বুদ্ধ করণীয় ধর্ম পরিপূর্ণভাবে সম্পাদন করে বোধিসত্ত্ব তুষিত স্বর্গে অবস্থান করেন।এখানে দেবগণের আয়ুষ্কাল ৫৭ কোটি ৬০ লক্ষ বছর।কিন্তু বোধিসত্ত্বগণ তার পূর্বে তাঁদের আয়ুষ্কাল পরিসমাপ্তি করেন।

বুদ্ধগণের ত্রিশটা ধর্মতা[সম্পাদনা]

(১)অন্তিম জন্মে বোধিসত্ত্বগণ স্মৃতিমান হয়ে মাতৃগর্ভে প্রবেশ করেন।(২)মাতৃগর্ভে বুদ্ধাসনে উপবেশন করে বহির্মূখী হয়ে অবলোকন করে থাকেন।(৩)বোধিসত্ত্বের মাতার দন্ডায়মান অবস্থায় সন্তান প্রসব হয়ে থাকে।(৪)বোধিসত্ত্বগণের জন্ম অরণ্যে হয়ে থাকে।(৫)সদ্যোজাত বোধিসত্ত্ব সমপাদোপারি স্থিত হন এবং উত্তরাভিমূখী হয়ে সপ্ত পদ গমন করেন।তারপর সর্ব দিকে দৃষ্টিপাত পূর্বক এই মহত্ব ব্যঞ্জন বাক্য উচ্চারণ করেন-“এই পৃথিবীতে আমি অগ্র,আমি জ্যেষ্ঠ,আমি শ্রেষ্ঠ,ইহাই আমার শেষ জন্ম,আর আমার পুনঃজন্ম নাই”।(৬)তিনি বৃদ্ধ,রোগী,মৃতদেহ এবং প্রবজ্জিত প্র্রভৃতি চার নিমিত্ত (২৬) দর্শনে উৎকন্ঠিত হয়ে পুত্র লাভের পর মহাভিনিষ্ক্রমণ বা গৃহত্যাগ করেন।(৭)তিনি প্রবজ্যার কমপক্ষে সপ্তাহ ধরে তপশ্চর্যা করেন।(৮)বোধিসত্ত্বগণ বুদ্ধত্ব লাভের দিনে পায়সান্ন ভোজন করে থাকেন।(৯)তিনি কুশাসনে বসে সর্বজ্ঞতা জ্ঞান লাভ করেন।(১০)বোধিসত্ত্বগণ বুদ্ধত্ব লাভের জন্য আনাপন স্মৃতি ভাবনা করেন।(১১)বোধিসত্ত্বগণ বজ্রাসনে মার সৈন্যদের পরাজয় করে থাকেন।(১২)তিনি বোধিমন্ডপে ত্রিবিদ্যাদি (২৭) অসাধারণ জ্ঞান অর্জন করে থাকেন।(১৩)সম্বোধি লাভ করে তিনি বোধিবৃক্ষের অদূরে সাত সপ্তাহ যাপন করেন।(১৪)ধর্ম প্রচারের প্রতি অনীহা দেখে মহাব্রক্ষা কর্তৃক ধর্ম প্রচারের জন্য প্রার্থনা।(১৫)তিনি ঋষিপত্তন মৃগদায়ে ধর্মচক্র প্রবর্তন করে থাকেন।(১৬)বুদ্ধ মাঘী পূর্ণিমায় বিপুল ভিক্ষু সংঘসহ প্রাতিমোক্ষ আবৃতি করেন।(১৭)বুদ্ধ জেতবনে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেন।(১৮)শ্রাবস্তীর নগরদ্বারে বুদ্ধ যমক প্রাতিহার্য প্রদর্শন করেন।(১৯)বুদ্ধ তার মাতাকে সম্মুখে রেখে তাবতিংস স্বর্গে দেবতার নিকট অভিধর্ম দেশনা করেন।(২০)বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে অভিধর্ম দেশনা করে সাংকাশ্য নগরদ্বারে অবতরণ করেন।(২১)বুদ্ধগণ সতত ফল সমাপত্তি লাভ করে থাকেন।(২২)বুদ্ধগণ সমাপত্তিতে স্থিত থেকে বিনয়ন যোগ্য ব্যক্তিকে অবলোকন করেন।(২৩)বুদ্ধগণ কারণ দর্শন করে ধর্মদেশনা করেন।(২৪)তারা প্রয়োজনবোধে জাতকের কথা উত্থাপন করেন।(২৫)বুদ্ধগণ জ্ঞাতিদের সমাগনে বুদ্ধবংশ দেশনা করেন।(২৬)বুদ্ধগণ আগন্তুক ভিক্ষুগণের সহিত কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন।(২৭)বুদ্ধগণ বর্ষাবাসের পর যাদের দ্বারা নিমন্ত্রিত তাদের সহিত কথা বলে অন্যত্র গমন করেন।(২৮)প্রত্যহ দিবসের পূর্বাহ্নে ও অপরাহ্নে এবং রাত্রির প্রথম যাম,মধ্যম যাম ও শেষ যামের বুদ্ধকৃত্য (২৮)সম্পাদন ক রেন।(২৯)বুদ্ধগণ পরিনির্বাণের পূর্বে মাংস রস গ্রহণ করেন।(৩০)বুদ্ধগণ চব্বিশ কোটি লক্ষ সমাপত্তি সমাপ্ন করে নির্বাণ লাভ করেন।

বুদ্ধগণের চারটি অন্তরায়হীন ধর্ম[সম্পাদনা]

(১)বুদ্ধের উদ্দেশ্য আনীত অথবা সঞ্চিত চতুর্প্রত্যয়ের কেহ অন্তরায় করতে পারে না।(২)বুদ্ধের পরমায়ুর অন্তরায় করতে পারে না।(৩)বুদ্ধের বত্রিশ মহাপুরুষ লক্ষণ ও অশীতি অনুব্যঞ্জণের (২৯) কেহ অন্তরায় করতে পারে না।(৪)বুদ্ধের রশ্মি বিস্তারের কেহ অন্তরায় করতে পারে না।