বড় বসন্ত বৌরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বড় বসন্ত বৌরি
বড় বসন্ত বৌরি, কলকাতা, ভারত
সংরক্ষণ অবস্থা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ/রাজ্য: Animalia
পর্ব: Chordata
শ্রেণী: Aves
বর্গ: Piciformes
পরিবার: Megalaimidae
গণ: Megalaima
প্রজাতি: M. asiatica
দ্বিপদী নাম
Megalaima asiatica
(Latham, 1790)
প্রতিশব্দ

Cyanops davisoni

বড় বসন্ত বৌরি (Megalaima asiatica) (ইংরেজি ভাষায়:Blue-throated Barbet), বড় বসন্ত বাউরি, বড় বসন্ত বাওড়ী বা ধনিয়া পাখি মেগালাইমিডি (Megalaimidae) পরিবার বা গোত্রের অন্তর্গত দক্ষিণদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক প্রজাতির ফলাহারী পাখি[১] গত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা কমে গেলেও আশংকাজনক পর্যায়ে যেয়ে পৌঁছায় নি। সেকারণে আই. ইউ. সি . এন. বড় বসন্ত বৌরিকে Least Concern বা আশংকাহীন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।[২]

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম এবং চীনের দক্ষিণাঞ্চল বড় বসন্ত বৌরির প্রধান বিচরণস্থল।[২]

বিবরণ[সম্পাদনা]

বড় বসন্ত বৌরির মুখাবয়ব, গলা ও বুকের উপরের দিক দৃষ্টি-আকর্ষী গাঢ় আসমানী নীল- যার জন্য প্রজাতিটির ইংরেজী নাম Blue-throated Barbet। বাকি সারা দেহ কলাপাতা-সবুজ। লাল মাথার উপরে চূড়া বরাবর হলুদ ও কালো পরপর দুটি পট্টি। বুকের দুইপাশে একটি করে সিঁদুরে লাল ছোপ। ভ্রু নীলাভ যার উপরে কালো ডোরা, যেটি মাথার কালো পট্টির সাথে যুক্ত হয়েছে। ভারি ঠোঁট; ঠোঁটের সামনের অর্ধেক কালো, বাকি অংশ হয় নীলাভ নাহয় নীলের উপরে হলুদের আভাযুক্ত। পা ধূসর বা পাটকিলে বর্ণের। চোখের তারা লালচে। চোখের চারিদিকে লাল পট্টিবিশিষ্ট চামড়া দেখা যায়। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম, কেবল কমবয়েসীগুলোর চেহারায় বয়স্কদের লাল-নীলের চাকচিক্য থাকে না। দৈর্ঘ্যে কমবেশি ২৫ সেন্টিমিটার।[১]

আচরণ[সম্পাদনা]

বড় বসন্ত বৌরি সাধারণত ছোট ছোট দলে একসাথে থাকে। অনেকসময় ৩০-৪০ জনের বড়বড় দলেও থাকতে দেখা যায়। সাধারণত শীতকালে এবং বড় কোন খাদ্যের উৎসকে কেন্দ্র করে এরা বড় দল গঠন করে, যেমন বটগাছ।[৩] বড় দলগুলোতে খাদ্যকে কেন্দ্র করে এদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা দেখা যায়। চিৎকার করে ‘কুটুরু-কুটুরু-কুটুরু’ শব্দে প্রায় সারাদিন ধরেই ডাকে। শীতকালে কম ডাকে। যেখানে এরা বাস করে সেখানকার লোকজনের কানে তালা লাগিয়ে দেয়, মিনিটে তিরিশবার পর্যন্ত ডাকতে পারে।[৩] পাতার রঙে নিজেদের রঙকে ঢেকে রাখলেও এদের উপস্থিতি সহজেই টের পাওয়া যায় কেবল এই ডাক থেকেই।[১] একটা বড় বসন্ত বৌরির ডাকের প্রত্যুত্তরে আরেকটার ডাক শোনা যায়। সাধারণত বনাঞ্চল কিংবা যেখানে বেশী গাছ-পালা থাকে সেখানে ঘুরে বেড়ায়। গাছের মগডাল এবং চাঁদোয়া বেশি পছন্দ।

খাদ্যাভ্যাস[সম্পাদনা]

বড় বসন্ত বৌরি, খাদ্য গ্রহণে ব্যস্ত, কলকাতা, ভারত

নরম ফল বিশেষ করে বটের ফল, কদম, দেবদারু, ডেউয়া, আম, কলা, তেলাকুচা, কিছু পোকামাকড় ও শুঁয়োপোকা খেতে পছন্দ করে।[১]

প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি[সম্পাদনা]

M. a. davisoni (সর্বপ্রথম), জোসেফ স্মিট কর্তৃক অঙ্কিত, ১৮৯১

সাধারনত একটা নির্ধারিত স্থানে একই পাখি অথবা তার বংশধরেরা বংশবৃদ্ধি করে। প্রজনন কাল মার্চ থেকে জুলাই। শক্ত ঠোঁট দিয়ে ঠোকর দিয়ে গাছের নরম বা পচা কান্ডে গর্ত করে বাসা বানায়। কাঠঠোকরার পরিত্যাক্ত বাসাও এরা বাসা হিসেবে ব্যবহার করে। বাসার উচ্চতা মাটি থেকে কমপক্ষে ৮ ফুট উঁচুতে হয়। একবারে ৩-৪টি ছোট সাদা রঙ এর ডিম দেয়। পুরুষ এবং স্ত্রী বসন্ত বৌরি পর্যায় ক্রমে ছানার লালন-পালন করে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ বাংলাদেশের পাখি, রেজা খান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা (২০০৮), পৃ. ১২৫।
  2. ২.০ ২.১ [১], আই. ইউ. সি . এন. এ বড় বসন্ত বৌরি বিষয়ক পাতা।
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ [২], হনুলুলু চিড়িয়াখানা, Blue-throated Barbet।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]