নারী খৎনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নারী খৎনা যা নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ, নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ, এবং নারী যৌনাঙ্গ ছাঁটাই নামেও পরিচিত; বলতে বোঝানো হয় সে সকল কার্যপ্রণালী যেগুলোতে স্ত্রী যৌনাঙ্গের আংশিক বা পুরোপুরি অপসারণ করা হয় অথবা সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা অন্য কোনো চিকিৎসা বহির্ভূত কারণে নারীর যৌন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করা হয় বা ক্ষত সৃষ্টি করা হয়। এটি সেই ধরনের কার্যপ্রণালীগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় যেগুলো আন্তলৈঙ্গিকদের জন্যে লিঙ্গ প্রতিস্থাপন সার্জারি বা যৌনাঙ্গ পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়। এর চর্চা সারা পৃথিবীতেই আছে, কিন্তু প্রধানত আফ্রিকাইন্দোনেশিয়াতেই এর চর্চা বেশি দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রক্রিয়াটিকে চার ভাগে ভাগ করেছে: টাইপ ১, ২, ৩ এবং ৪। তিন নম্বর কার্যপ্রণালীটিকে ঘিরে অনেক বিতর্ক রয়েছে, কারণ এই প্রক্রিয়াটির নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও প্রক্রিয়াটির ফলাফল। গত কয়েক দশক ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও বহু স্বাস্থ্য সংস্থা এর চর্চা বন্ধ করতে তাদের চাপপ্রয়োগমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। যদিও ঐতিহ্যধর্মীয় জীবনের প্রয়োজনে এটির চর্চা এখনো অনেক সমাজে রয়ে গেছে।

জাতিসঙ্ঘ বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) ৬ ফেব্রুয়ারিকে আর্ন্তজাতিক নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পারিভাষিক ইতিহাস[সম্পাদনা]

নারী যৌনাঙ্গের অস্ত্রোপচার বা এ ধরনের অন্যান্য কার্যপ্রণালীগুলোকে বর্ণনা করতে বিভিন্ন রকম পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াগুলো সাধারণত নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা নামে উল্লেখ করা হতো, কিন্তু নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ এবং নারী যৌনাঙ্গ ছাঁটাই পরিভাষা দু’টি এখন আর্ন্তজাতিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাধান্য বিস্তার করছে। এই চর্চাটির বিপক্ষে যাঁরা আছেন তাঁরা প্রায়ই "নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ" পরিভাষাটি ব্যবহার করেন। কিছু গোষ্ঠী বিকৃতকরণ শব্দটি ব্যবহারের বিরোধী, কারণ তারা মনে করেন এটি নারীর জন্যে অবমাননাকর, তাই তারা নারী যৌনাঙ্গ ছাঁটাই পরিভাষাটি ব্যবহার করাকেই শ্রেয় মনে করেন। কিছু সংস্থা ইতোমধ্যেই দু’টি পরিভাষাকে একত্রিত করে সম্মিলিত পরিভাষা ব্যবহার করা শুরু করেছে, আর তা হলো নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ/ছাঁটাই (FGM/C)।

নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা[সম্পাদনা]

চিকিৎসা অভিধানসহ বিভিন্ন অভিধান লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে যে, শব্দটির প্রযোজ্য হবে তখনই যখন এই প্রক্রিয়াটি নারীর উপর সম্পাদিত হবে। মরিসন এট অল. বলেন, “নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা হলো এই প্রক্রিয়াটির জন্য সচারচর ভাবে ব্যবহৃত পরিভাষা।” কুক বলেন যে, “ঐতিহাসিকভাবে নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু এই কার্যপ্রক্রিয়াটি বা যে প্রক্রিয়াতেই এটির চর্চা করা হয়ে থাকুক না কেন তা পুরুষ খৎনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।” শেল-ডানকান বলেন, “নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা পরিভাষাটি হলো একটি সুভাষণ, যা নারী যৌনাঙ্গের পরিবর্তনের অনেক গুলো কার্যপ্রক্রিয়ার মধ্যে একটি।” টোউবিয়া ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, “নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা পরিভাষাটি অবিকৃত পুরুষ খৎনার সাথে প্রতারণামূলক সাদৃশ্যতার ইঙ্গিত বহন করে।”

নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ[সম্পাদনা]

"নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ" পরিভাষাটি ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে সমর্থন পেতে শুরম্ন করে। "বিকৃতকরণ" শব্দটি শুধুমাত্র যে পুরুষ খৎনার থেকে একটি ভাষাতাত্বিক স্বাতন্ত্রতা সৃষ্টি করে তাই নয়, বরং এ কাজটির গুরুত্বকেও জোরের সাথে তুলে ধরে। ১৯৯০ সালে আদ্দিস আবাবাতে আন্ত-আফ্রিকান কমিটির তৃতীয় কনফারেন্সে যেসকল ঐতিহ্যগত চর্চা নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে সেগুলো সম্মন্ধে আলোচনা করা হয়। সেখানেই প্রথম এ পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়। ১৯৯১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (যা জাতিসঙ্ঘের একটি বিশেষ সহায়ক সংস্থা) সুপারিশক্রমে জাতিসঙঘ এই পরিভাষাটি গ্রহণ করে। তারপর থেকে এটি জাতিসঙেঘর দাপ্তরিক কাগজপত্রে ব্যপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এ প্রসঙ্গে বলতে হয় যে, "নারী লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ/খৎনা" পরিভাষাটি প্রধানত "নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ" পরিভাষাটির স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল।

নারী যৌনাঙ্গ ছাঁটাই[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালে উগান্ডা ভিত্তিক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রক্রিয়াকরণ[সম্পাদনা]

কাটা-ছেড়ার সীমার উপর নির্ভর করে বিশ্বে বিভিন্ন রকম নারী খৎনার চর্চা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, অর্থাৎ যৌনাঙ্গের টিশ্যু কতো বেশি কেটে ফেলা হবে তার ওপর। প্রধানত চার ধরনের প্রক্রিয়া দ্বারা নারী খৎনাকে ভাগ করা হয়েছে। যদিও নারী খৎনার সকল প্রচলিত প্রক্রিয়াগুলো এই চারটি প্রক্রিয়াতে সন্নিবেশিত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে, সেই সাথে এই বিষয়গুলোর উপর দাখিল করা প্রতিবেদনের উপত্তের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও।

টাইপ ১[সম্পাদনা]

পুরো ভগাঙ্কুর বা ভগাঙ্কুরের অগ্রভাগ সম্পূর্ণ বা লম্বালম্বিভাবে কেটে অপসারণ করাকে টাইপ ১ নারী খৎনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে; যা হুডেক্‌টোমি বা ক্লিটোরোডটোমি নামেও পরিচিত। ভগাঙ্কুরের অগ্রভাগ ও পুরুষাঙ্গের অগ্রত্বককে পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ ধরা হয়, যা খৎনার সময় কেটে ফেলা হয়। এখানে যে নারীরা লেবিয়াপ্লাসটি করাতে ইচ্ছুক তারা ভগাঙ্কুরের অগ্রভাগ অপসারণের তীব্র বিরোধী কারণ এর ফলে ক্ষত সৃষ্টি ও স্নায়ুর ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে।

টাইপ ২[সম্পাদনা]

টাইপ ২ নারী খৎনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে- ক্লাইটোরিসের সম্পূর্ণ অপসারণের সাথে লেবিয়া মাইনরার আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ। এই ধরণের নারী খৎনাকে "খাফ্‌দ"-ও বলে, আরবিতে যার অর্থ "হ্রাস"।

টাইপ ৩ : অপসারণের সাথে ইনফিবুলেশন[সম্পাদনা]

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা টাইপ ৩ নারী খৎনাকে কে সংজ্ঞায়িত করেছে যে, বর্হিযৌনাঙ্গের অংশ বিশেষ বা পুরো বর্হিযৌনাঙ্গের অপসারণ এবং যোনিদ্বারকে সেলাই বা চিকন করে ফেলা (ইনফিবুলেশন)। এটি নারী খৎনার সবচেয়ে মারাত্নক রূপ এবং জরিপে দেখা যায় এটি সকল নারী খৎনার প্রায় ১৫%। ইনফিবুলেশনকে ফারাওনিক খৎনা বা নামেও পরিচিত।

হর্ন অফ আফ্রিকাতে ইনফিবুলেশনের উপর এক পর্যবেক্ষণে, পিয়েটারস লক্ষ করেন এই প্রক্রিয়ায় বর্হিযৌনাঙ্গের বেশ অনেকখানি টিশ্যু কেটে ফেলা হয়, লেবিয়া মেজরার ভেতরের অংশসহ পুরো লেবিয়া মাইনরা। এরপর লেবিয়া মেজরা কাঁটা বুনে বা সেলাই করে রাখা হয়। নড়াচড়া যেন না করতে পারে সেজন্য কিছু ক্ষেত্রে মেয়েটির দুই পা দুই থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য বেধে রাখা হয়, যাতে তার ভালভার দুই পাশ সেরে ওঠে। পিউবিস থেকে মলদ্বার পর্যন্ত মাংস প্রাচীর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, সাথে শুধু ভালভার নিচের অংশে ছোট একটি জায়গা খোলা থাকে যাতে প্রস্রাব ও রজঃস্রাবের রক্ত বেরিয়ে যেতে পারে। সাধারণত এই কাজটি যিনি করেন তিনি এই প্রক্রিয়াটি করার ব্যাপারে অভিজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পন্ন, এবং এজন্য স্থানীয় চেতনানাশক ব্যবহৃত হয়। প্রত্নন্ত অঞ্চলে যখন এই কাজটি করা হয়, তখন এটি সাধারণত করেন বয়স্ক মাতৃকা বা ধাত্রীরা এবং তখন কোন চেতনানাশক ব্যবহৃত হয় না।

যৌনমিলনের সময় বা কোন কাজের জন্য একটি উল্টো ইনফিবুলেশন সম্পাদিত হতে পারে। এই কাজটি করেন মহিলা আত্নীয়রা যাদের দায়িত্ব হলো ক্ষতটি কয়েক সপ্তাহ পর পর পরীক্ষা করা এবং যদি প্রয়োজন হয় তবে খোলা স্থানটি আরো একটু সম্প্রসারণ করা। শিশু প্রসবের সময় ঐ স্থানটি সাধারণ স্বাভাবিক প্রসব বা যোনিজ প্রসবের জন্য খুব ছোট হওয়ায় ইনফিবুলেশন সম্পূর্ণ খুলে ফেলা হয় এবং প্রসবের পর আবার লাগিয়ে ফেলা হয়। এবং আবার পা দুটো কিছু দিনের জন্য বেধে রাখা হয় যেন ৰতটি সেরে ওঠে। যখন শিশু প্রসবের প্রক্রিয়াটি হাসপাতালে হয় তখন ডাক্তার শিশু প্রসবের জন্য ইনফিবুলেশটিকে ঠিক রেখে গভীর এপিসিয়োটোমাইস-এর মাধ্যমে যোনিকে বড় করেন। পরবর্তীতে রোগিনী তার ভালভা আবার বন্ধ করে দেবার জন্য জোর করতে পারেন।

পর্যাপ্ত আধুনিক ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকায় এই চর্চাটির কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা বেড়েই চলেছে।

সুদানে ৩০০ জন নারী ও ১০০ জন পুরম্নষের মধ্যে পাঁচ বছর ব্যপী এক পর্যবেৰণে দেখা গিয়েছে যে নারীরা এই মারাত্নক যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের শিকার হয়েছিলেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ যৌনাকাঙক্ষা, সুখ এবং অর্গাজম বা শীর্ষসুখের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, এদতসত্ত্বেও তারা তাদের এই অনুভূতিগুলো তাদের সংস্কৃতিতে তারা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য। এই প্রক্রিয়াটির সমর্থকেরা এটি চালিয়ে যাবার পৰপাতি কারণ তারা এটিকে আদর্শ সুন্দরের অনুগামীতা বলে মনে করে এবং এটি পশ্চিম থেকে অনেক আলাদা। অনেক ইনফিবুলেটেড নারী মত দেয়, এই প্রক্রিয়াটির কারণে তাদের সঙ্গীরা যে সুখ লাভ করবে তা সুনির্দিষ্টভাবে একটি সফল বিবাহিত জীবন ও আনন্দপূর্ণ যৌন জীবনের অংশ।

টাইপ ৪ : অন্যান্য প্রক্রিয়া[সম্পাদনা]

অন্যান্য রূপগুলো যৌথভাবে টাইপ ৪ হিসেবে উলেস্নখ্য এবং এটার সাথে কোন রকমের টিশ্যু অপসারন জড়িত নয়। এটির সাথে বিভিন্ন সীমা চর্চার জড়িত, যেমন: ভগাঙ্কুরে সূচ ফোটানো, যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে ফেলা বা ৰত সৃষ্টি করা সেই সাথে যোনি চিরে বা ছিড়ে ফেলা অথবা যোনির ভিতরে তৃণলতা প্রবেশ করানো যাতে রক্তপাত হয় এবং যোনিদ্বার চিকন হয়। টাইপ ৪-এর চর্চা প্রাথমিকভাবে কিছু বিচ্ছিন্ন নৃ-তাত্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেখা যায়, সেই সাথে অন্যান্য টাইপের সাথে একত্রেও দেখা যায়।

ব্যপকতা[সম্পাদনা]

অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ধারণায় প্রতি বছর প্রায় ১৩০ মিলিয়ন (১৩ কোটি) নারী এই নারী খৎনার কোন না কোনো একটি প্রক্রিয়া দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে ।

বর্তমানে নারী যৌনাঙ্গ ছাটাই-এর চর্চা প্রধানত আফ্রিকান দেশগুলোতেই হয়। এটা একটি সাধারণ বলয় যার বিস্তৃতি পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল থেকে পূর্ব উপকূলের ইথিওপিয়া, সেই সাথে উত্তরে মিশর থেকে দৰিণে তানজানিয়া পর্যন্ত। এছাড়াও আরব উপদ্বীপের কিছু গোষ্ঠীর মধ্যেও এটির চর্চা দেখা যায়। যে সমস্ত দেশে নারী খৎনার ব্যপকতা সবচেয়ে বেশি সেগুলো হলো মিশর, সেই সাথে সুদান, ইথিওপিয়ামালি-তে। সাম্প্রতিক কালের সংখ্যায় ধারণা করা হয় ৯০% মিশরীয় নারী খৎনার শিকার হয়েছে। সম্প্রতি মিশর নারী খৎনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি আইন পাস করেছে।

নারী খৎনার চর্চা যখন আফ্রিকানদের মাঝে বিশ্বাসের জোরে প্রকাশ্যে ও ব্যপকভাবে হচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে এটির চর্চা হচ্ছে গোপনীয়তার সাথে। বিশেষ করে আরবদের মধ্যে (আফ্রিকান শিষ্টাচারসম্মত নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীগুলো যারা ইনফিবুলেশনকে অধিকতর শ্রেয় মনে করে) সাধারণত সুন্না লিঙ্গাগ্রচ্ছেদ বা খৎনা সম্পাদিত হয়। চর্চাটি সাধারণত ঘটে থাকে বিশেষত উত্তর সউদি আরব, দৰিণ জর্ডান ও ইরাকে। সাম্প্রতিক কালে ইরাকের হাসিরা গ্রামের একটি পর্যবেৰণে দেখা যায় যে, ৬০% নারী ও বালিকা বলেছেন যে তারা এই প্রক্রিয়াটির শিকার হয়েছিলেন। পর্যবেৰণের আগে সেখানে এই প্রক্রিয়াটির কোন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় নি। সেখানে আরো কিছু আনুষঙ্গিক প্রমাণ আছে যা বলে, নারী খৎনার চর্চা সিরিয়া, পশ্চিম ইরান এবং দৰিণ তুরস্কেও আছে। ওমানে কিছু সমাজে এখনো নারী খৎনার চর্চা আছে; বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বিশ্বাস করেন এসব ৰেত্রে এগুলোর সংখ্যা কম এবং তা বাৎসরিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সউদি আরবে এটির চর্চা মূলত সেসকল বিদেশী শ্রমিকদের মাঝে যারা পূর্ব আফ্রিকা ও নীল উপত্যকা থেকে এসেছে।

এটির চর্চা আরো আছে দৰিণ আমেরিকার কিছু নৃ-তাত্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এবং খুব কম সংখ্যায় ভারতে (দাঊদি বহ্‌রা গোষ্ঠীতে)। ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম নারীদের মধ্যে মোটামুটি ভাবে এটির চর্চা খুব সাধারণ। অবশ্য আফ্রিকার সাথে তুলনা করলে প্রায় সবই টাইপ ১ ও ৪। ৪ নম্বর টাইপটি সাধারণত নির্দেশ করে প্রতিকীভাবে সূচ ফোটানোকে যা রক্ত বের করার জন্য করা হয়।

অভিবাসনের মাধ্যমে এটির চর্চা ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ঐতিহ্যমনা পরিবার তাদের মেয়েদের খৎনার ভেতর দিয়ে যেতে হয় যখন তারা তাদের মাতৃভূমিতে ছুটিতে যায়। যেহেতু পশ্চিমা সরকার নারী খৎনার ব্যপারে খুব সচেতন, তাই তাদের আইনগুলো বহুদেশে নারী খৎনাকে আইনের লঙঘন হিসেবে সাব্যাস্ত করতে সাহায্য করেছে। খালিদ আদেম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ব্যক্তি যাকে ২০০৬ সালে তার কন্যাকে খৎনা করানোর জন্য শাস্তি প্রদান করা হয়।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় রূপ[সম্পাদনা]

ইসলাম ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মই ঐতিহ্যগত সাংস্কৃতিক নারী খৎনার চর্চার শিকার। খ্রিস্টপূর্ব ১৬৩ অব্দের একটি গ্রিক প্যাপিরাসে উলেস্নখ আছে যে, মিশরীয় মেয়েদের খৎনার ভিতর দিয়ে যেতে হতো এবং এটা ব্যপকভাবে স্বীকৃত যে এটির জন্ম হয়েছিল ফারাওদের আমলে মিশর ও নীল উপত্যকায়। মমি থেকে প্রাপ্ত প্রমাণেও টাইপ ১ ও ৩ নারী খৎনা থাকার প্রমাণ মেলে। এখনো নারী খৎনার চর্চার বিস্তৃতি সম্মন্ধে কিছু জানা যায় না, তবে এই প্রক্রিয়াটির চর্চা এখন মুসলিম, খ্রিস্টান ও সর্বপ্রাণবাদীদের মধ্যে আছে।

যদিও নারী খৎনার চর্চা কিছু বিশেষ ধর্মীয় উপ-সংস্কৃতিতে হয়, তারপরও প্রাথমিকভাবে নারী খৎনা ধর্মকে ছাপিয়ে একটি সাংস্কৃতিক চর্চা। ইউনিসেফ বলে যখন আমরা স্বাধীনভাবে ধর্মের দিকে তাকাই, তখন নারী খৎনার সাথে সাধারণত কোন সংশিস্নষ্টতা খুজে পাওয়া যায় না।” নারী খৎনার সপৰে যেসব যুক্তি ব্যবহৃত হয় তাদের মধ্যে হেরফের হয়, যুক্তিগুলো স্বাস্থ্য থেকে সামাজিক সুবিধা সম্পর্কিত বেশি।

  • পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
  • সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা
  • কুমারীত্ব অক্ষূণ্ন রাখা
  • উর্বরতাশক্তি বাড়ানো
  • ঊচ্ছৃঙ্খলতা প্রতিরোধ করা
  • বৈবাহিক সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়া
  • নান্দনিকতার অনুসরণ
  • পুরুষের যৌনক্ষমতা ও সুখ বৃদ্ধি করা
  • সামাজিক ও রাজনৈতিক আসঞ্জনতার প্রবতন করা