আলাপ:অর্থনীতি
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
[সম্পাদনা] অর্থনীতি এবং অর্থশাস্ত্র
ইংরেজিতে Economy এবং Economics নামের দুটো আলাদা ধারণা আছে। Economy হচ্ছে অর্থনীতি, তথা কোন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। আর Economics হচ্ছে সামাজিক বিজ্ঞানের যে শাখায় Economy নিয়ে আলোচনা করা হয়। Economics-এর বাংলাও কেউ কেউ অর্থনীতি করে থাকেন, যেমন এই নিবন্ধের শিরোনামে করা হয়েছে। কিন্তু এটা দুটো ব্যাপারকে গুলিয়ে ফেলে। অনেক লেখক Economics-এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে অর্থনীতির পরিবর্তে অর্থশাস্ত্র ব্যবহার করেন। আমার মতেও অর্থশাস্ত্র ব্যবহার করাটাই বেশি সমীচীন। ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে en:Economy ও en:Economics --- এই দুইটি আলাদা নিবন্ধে আলোচিত হয়েছে। একই ভাবে বাংলা উইকিপিডিয়াতেও এই দুইটি যথাক্রমে অর্থনীতি এবং অর্থশাস্ত্র এই দুইটি শিরোনামের নিবন্ধে আলোচিত হওয়া উচিত। --অর্ণব (আলাপ | অবদান) ০৮:৪৫, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ (UTC)
আভিধানিক ভাবে যাই হোক, ব্যবহারিক প্রয়োগে Economics = অর্থনীতি -- এটাই ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ স্বরূপ বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের "অর্থনীতি বিভাগ" এর উদাহরণ দিচ্ছি। কোনো কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কি "অর্থশাস্ত্র" বিভাগ রয়েছে? --রাগিব (আলাপ | অবদান) ০৯:১৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ (UTC)
- ব্যবহারিক প্রয়োগ আর academic বিশ্বকোষীয় প্রয়োগের মধ্যে পার্থক্য আছে। কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে "অর্থনীতি" বিভাগ আছে এটা ঠিক; এটা হয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় নামকরণের একটি রীতি। কিন্তু বিজ্ঞানটির নাম হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে "অর্থশাস্ত্র" ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের আনিসুর রহমানের লেখা অত্যন্ত জনপ্রিয় পাঠ্যপুস্তকের নাম "অর্থশাস্ত্র পরিচয়"। বইটা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের গবেষক অনিন্দ্য ভুক্ত রচিত অভিধানটির নাম "অর্থশাস্ত্র অভিধান"। আবার বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতি বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ অভিধান ২০০৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ("অর্থনীতি অভিধান"), যেখানে লেখক তাহমিলুর রহমান Economics-এর বাংলা পরিভাষা দিয়েছেন অর্থশাস্ত্র, সাথে এই যুক্তি দিয়েছেন যে (পৃ ২৮৭ থেকে): 'Economics' এবং 'Economy' শব্দ দুটি যেহেতু সম-অর্থ বহন করে না, সেহেতু শব্দ দুটির জন্য পৃথক পরিভাষা ব্যবহার করা হল।" --অর্ণব (আলাপ | অবদান) ১১:০৮, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ (UTC)
শব্দ দুটির systematic প্রয়োগ নিচের উদাহরণ থেকে আরও স্পষ্ট হবে। Economy of Bangladesh = বাংলাদেশের অর্থনীতি Economy of X = X-এর অর্থনীতি কিন্তু Economics = অর্থশাস্ত্র
অর্থাৎ অর্থশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু হল অর্থনীতি। কেউ যদি বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে বলে তিনি অর্থনীতি পড়ছেন, তিনি কোন ভুল করবেন না। সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র সমাজ নিয়ে পড়াশোনা করেন, তেমনি অর্থশাস্ত্রের ছাত্র অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু একটা রেফারেন্স বিশ্বকোষে এই জ্ঞানের ক্ষেত্র এবং তাতে অন্তর্গত বিষয়বস্তুর মধ্যে দ্ব্যর্থতা-দূরকারী সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। অর্থনীতির অনেক বইতেই এই অর্থশাস্ত্র/অর্থনীতি সীমারেখা টানা হয়েছে, যার কয়েকটা উদাহরণ উপরে দিয়েছি। --অর্ণব (আলাপ | অবদান) ১১:১৬, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ (UTC)

