হ্যাভারসীয় নালী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হ্যাভারসীয় নালী
Transverse section of bone en.svg
কমপ্যাক্ট অস্থির প্রস্থচ্ছেদ
শনাক্তকারী
এফএমএFMA:224787
শারীরস্থান পরিভাষা

হ্যাভারসীয় নালী (ইংরেজি: Haversian canal) হলো অস্থিতে অবস্থিত আণুবীক্ষণিক নালিকার সমাহার, যা একযোগে হ্যাভারসীয় তন্ত্র গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে স্নায়ু, রক্তবাহ প্রবাহিত হয়, যা অস্থিকোষ (অস্টিওসাইট)-এর পুষ্টির জন্য ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। মূলত এগুলি কর্টিক্যাল অস্থি বা কমপ্যাক্ট অস্থিতে দেখা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

হ্যাভারসীয় নালী প্রথম আবিষ্কার ও বর্ণনা করেন ব্রিটিশ চিকিৎসক ক্লপটন হ্যাভার, তার নামেই এটির নামকরণ।[১]

১৯৬১-তে তিনি এটিকে অস্টিওলজিকা নোভা গ্রন্থে উল্লেখ করেন।[২]

গঠন[সম্পাদনা]

একটি হ্যাভারসীয় নালী এক বা দুটি রক্তবাহ ও বহু সংখ্যক স্নায়ু ধারণ করে। সমকেন্দ্রীয় আকারে সজ্জিত স্তরগুলিকে ল্যামেলা/ল্যামেলি বলে, যার কেন্দ্রে হ্যাভারসীয় নালী থাকে। এতে আবার ল্যাকুনা নামক অংশের মধ্যে অস্থিকোশ বা অস্টিওসাইট থাকে, যারা ক্যানালিকুলি দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত থাকে। এখানে ক্যালসিয়াম, ফসফেট প্রভৃতি খনিজ লবণের সঞ্চয় ঘটে যা অস্থিকে ভিতর থেকে সবল করে তোলে, এটাই অস্থি কলার ধাত্র বা ম্যাট্রিক্স। অস্টিওসাইট ও রক্তবাহের মধ্যে সক্রিয় পরিবহণ দেখা যায়।[৩]

অনেকগুলি হ্যাভারসীয় নালী ও ধাত্রের বিস্তীর্ণ অংশ একসাথে গঠন করে হ্যাভারসীয় তন্ত্র বা অস্টিয়ন। এটি অস্থির কার্যগত একক।

চিকিৎসা ক্ষেত্র[সম্পাদনা]

অস্থিভঙ্গ[সম্পাদনা]

হাড় ভেঙে গেলে হ্যাভারসীয় তন্ত্র ও নালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[৪] এর ফলে হেমাটোমা হতে পারে। অর্থাৎ, হাড়ের মধ্যে রক্তপাত হতে পারে।

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস[সম্পাদনা]

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগীদের হ্যাভারসীয় নালীগুলি আকারে চওড়া হয়।[৫] এতে তখন অস্টিওক্লাস্ট কোশের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ও অস্থি ছিদ্রাল হয়ে দুর্বল হয়ে পরে।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sparks, David S.; Saleh, Daniel B.; Rozen, Warren M.; Hutmacher, Dietmar W.; Schuetz, Michael A.; Wagels, Michael (২০১৭-০১-০১)। "Vascularised bone transfer: History, blood supply and contemporary problems"Journal of Plastic, Reconstructive & Aesthetic Surgery (ইংরেজি ভাষায়)। 70 (1): 1–11। আইএসএসএন 1748-6815ডিওআই:10.1016/j.bjps.2016.07.012পিএমআইডি 27843061 
  2. Havers, Clopton (১৭২৯)। Osteologia Nova: Or, Some New Observations of the Bones, and the Parts Belonging to Them; with the Manner of Their Accretion and Nutrition: Communicated to the Royal Society in Several Discourses ... To which is Added, a Fifth Discourse, of the Cartilages. The Second Edition. By Clopton Havers .. (ইংরেজি ভাষায়)। W. Innys। 
  3. Dahl, A. C. E.; Thompson, M. S. (২০১১-০১-০১), Moo-Young, Murray, সম্পাদক, "5.18 - Mechanobiology of Bone", Comprehensive Biotechnology (Second Edition) (ইংরেজি ভাষায়), Burlington: Academic Press, পৃষ্ঠা 217–236, আইএসবিএন 978-0-08-088504-9, সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১৫ 
  4. White, Tim D.; Folkens, Pieter A. (২০০৫-০১-০১), White, Tim D.; Folkens, Pieter A., সম্পাদকগণ, "Chapter 4 - BONE BIOLOGY & VARIATION", The Human Bone Manual (ইংরেজি ভাষায়), San Diego: Academic Press, পৃষ্ঠা 31–48, আইএসবিএন 978-0-12-088467-4, সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১৫ 
  5. Aeberli, D. (২০১৪-০১-০১), "Skeleton, Inflammatory Diseases of", Reference Module in Biomedical Sciences (ইংরেজি ভাষায়), Elsevier, আইএসবিএন 978-0-12-801238-3, সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০১-১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]