হেযবুত তওহীদ

এই পাতাটি অর্ধ-সুরক্ষিত। শুধুমাত্র নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরাই সম্পাদনা করতে পারবেন।
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হেযবুত তওহীদ
গঠিত১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫; দাউদ মহল, গ্রাম- করটিয়া, থানা ও জেলা- টাঙ্গাইল
প্রতিষ্ঠাতামোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী
সদরদপ্তরবাসা - ৩, রোড ২০/এ, সেক্টর ১৪, উত্তরা, ঢাকা, বাংলাদেশ
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
নেতাহোসাইন মোহাম্মদ সেলিম
ওয়েবসাইটওয়েবসাইট

হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন যারা জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কালো তালিকাভুক্ত।[১][২]

গঠন ও নেতৃত্ব

১৯৯৫ সালে মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী এটি প্রতিষ্ঠা করেন। হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতাকে ‘এমাম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২০১২ সালে মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর মৃত্যুর পর নোয়াখালী জেলার হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিতর্ক

যদিও হেযবুত তওহীদ জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা এবং অপ-রাজনীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে বলে নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিবৃত দিয়েছে[৩] কিন্তু বিভিন্ন সময় এই দলের কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।[৪] ২০০৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কালো তালিকাভুক্ত হয় সংগঠনটি।[৫] ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংগঠনটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে চিঠি জারি করা হয়।[২]

বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ক সতর্কতা জারি করে সংগঠন ও এর অঙ্গ সংগঠনের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলে।[২][৬] ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল নিশ্চিত করেন হেযবুত তওহীদসহ আরো কয়েকটি দল কালো তালিকাভুক্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জমা হয়েছে।[১] বিভিন্ন সময় সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার কথাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা যায়।[৭][৮]

বিশ্বাস

তাদের কিছু বিশ্বাস বিভিন্ন সময় সমালোচিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে:[৯]

  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থ আল্লাহ ছাড়া কোন বিধানদাতা নেই। আল্লাহ ছাড়া যে উপাস্য নেই করা হয় সেটা হলো ইহুদি-খ্রিস্টানদের করা অর্থ। যেটা সম্পর্কে কুরআনে কোন ইঙ্গিত নেই।
  • ইসলামে পর্দা বলতে কিছু নেই। কুরআনে পর্দা সম্পর্কিত একটি আয়াতই কেবল আছে। যেটা উম্মুল মুমিনীনদের জন্য খাস। এমনকি বর্তমান পদ্ধতিকে উপহাস করে তারা এটিকে বাক্সবন্দী বলে উল্লেখ করে। তাদের দাবি হলো আলেমগণ এই পর্দাপ্রথা চালু করে নারীদের অধিকার খর্ব করেছে এবং তাদের মেরে ফেলেছে।
  • রাসূলে করীম (সা.) আল্লাহর দেওয়া রিসালাতের দায়িত্ব পুরো করতে পারেননি। তাই তাকে রাহমাতুল লিল আলামীন বলা যাবে না।
  • হিন্দুদের সনাতন ধর্ম হলো আল্লাহর বর্ণিত ‘দীনুল কাইয়িমা’ তথা শ্বাশত দীন ও চিরন্তন ধর্ম। আর এটাই হলো তাওহীদ।
  • বায়াজীদ খান পন্নী সরাসরি আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি।
  • শ্রী কৃষ্ণ, রামচন্দ্র, গৌতম বুদ্ধ এরাও নবী রাসূল ছিল। তাদের নামের শেষে (আ.) বলা যাবে।
  • হেযবুত তাওহীদের সদস্যদের সম্মান নবী-রাসূলদের থেকেও বেশি। জান্নাতে এদের মার্যাদা দেখে নবীগণও হিংসা করবে।
  • বায়াজীদ খান পন্নীর ভাষণ কুরআনের আয়াতের সমমর্যাদার।
  • যারা হেযবুত তাওহীদ করবে তারা সন্দেহাতীতভাবে জান্নাতী। অন্যরা সবাই জাহান্নামী।
  • কিয়ামাতের দিন কবিরা গোনাহ তথা ব্যভিচার, চুরি ইত্যাদির কোন হিসেব দেওয়া লাগবে না।
  • রোযা না রাখলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে জাহান্নামে দেবেন না এবং কোন শাস্তিও দেবেন না।
  • দাড়ির সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
  • চলচ্চিত্র নির্মাণ, গান, বাদ্য, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, ভাষ্কর্য নির্মাণের কোনটাই হারাম নয়, সবই হালাল।
  • বর্তমানের মুসলিম যারা আছে তারা সবাই কাফির মুশরিক ও বিকৃত ইসলামের অধিকারী। যে বিকৃতির ধারা শুরু হয়েছিল রাসূল (সা.)-এর ইনতেকালের ৬০/৭০ বছর পর।

এইসব বিশ্বাস নিয়ে আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার একটি ফতোয়ায় বলা হয়,

তথ্যসূত্র

  1. "কালো তালিকাভুক্ত আট জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ হয়নি"ইত্তেফাক। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০১৯ 
  2. Kantho, Kaler। "হিজবুত তাওহীদের ছদ্মবেশ - কালের কণ্ঠ" 
  3. "Hezbut Tawheed | হেযবুত তওহীদ"হেযবুত তওহীদ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৩ 
  4. "হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ করা হতে পারে || প্রথম পাতা || জনকন্ঠ"জনকন্ঠ। ১৬ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জুন ২০১৮ 
  5. "হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের চিন্তা করছে সরকার"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৬-১৩ 
  6. "'হিজবুত তাওহীদ' নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা" 
  7. "হিযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের চিন্তা করছে সরকার" 
  8. Pratidin, Bangladesh। "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎপর নিষিদ্ধ হিজবুত তাওহীদ - বাংলাদেশ প্রতিদিন" 
  9. মানজুর সিদ্দীক, মুফতি। "হেযবুত তওহীদের কুফরি আকীদা: একটি পর্যালোচনা"মাসিক আত তাওহীদআল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া