হার্বার্ট সাইমন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হার্বার্ট আলেকজান্ডার সাইমন
জন্ম (১৯১৬-০৬-১৫)জুন ১৫, ১৯১৬
Milwaukee, উইসকনসিন, যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ৯, ২০০১(২০০১-০২-০৯) (৮৪ বছর)
পিটস্‌বার্গ, পেনসিলভ্যানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র
জাতীয়তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
কর্মক্ষেত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
Cognitive psychology
কম্পিউটার বিজ্ঞান
অর্থনীতি
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটি
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে
ইলিনয় ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি
প্রাক্তন ছাত্র শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়
পিএইচডি উপদেষ্টা হেনরি শ্যূলজ
পরিচিতির কারণ লজিক থিয়োরী মেশিন
জেনারেল প্রবলেম সলভার
বাউন্ডেড র‌্যাশানালিটি
উল্লেখযোগ্য পুরস্কার টুরিং পুরস্কার ১৯৭৫
অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ১৯৭৮
ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স ১৯৮৬
von Neumann Theory Prize ১৯৮৮

হার্বার্ট আলেকজান্ডার সাইমন (ইংরেজি: Herbert Alexander Simon) (১৫ই জুন, ১৯১৬ - ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০০১) যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিজ্ঞানীমনোবিজ্ঞানী। তিনি সচরাচর হার্বার্ট সাইমন নামে অভিহিত। তাঁকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমাজবিজ্ঞানী গণ্য করা হয়। বই ও অন্যান্য গবেষণা মিলে তাঁর রচনা সহস্রাধিক যেগুলোর অধিকাংশ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল বিস্তৃত। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর প্রচুর রচনা 'রেফারেন্স' হিসেবে উল্লিখিত হয়। অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞানের পাশাপাশি তাঁর গবেষণা ছিল কম্পিউটার বিজ্ঞান, জনপ্রশাসন, ব্যবস্থাপনা বিদ্যা, বিজ্ঞানের দর্শনসহ আরও অনেক কিছুতে। তিনিই প্রথম বর্তমানে বহুল ব্যবহূত ইন্টারনেট ডোমেইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সিদ্ধান্তগ্রহণ বিজ্ঞান, সাংগঠনিক তত্ত্ব, জটিল ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেন । দীর্ঘকাল তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ ও মৌলিক গবেষণার সূত্রে তিনি জীবনের বিভিন্ন সময়ে পড়িয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে। কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটির যেসব বিভাগে পড়িয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স, টেপার স্কুল অব বিজনেস, ডিপার্টমেন্ট অব ফিলোসফি, সোস্যাল অ্যান্ড ডিসিশন সায়েন্সেস এবং সাইকোলজি।[১] ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অর্থনৈতিক তত্ত্ব আরো বাস্তববোচিৎ করার উদ্দেশ্যে তিনি 'পরিসীমিত যোক্তিকতা' (bounded rationality) ও 'তুষ্টিকর' (satisfying)-এর পরিবর্তে উপতুষ্টিকর'(satisficing) শব্দদ্বয় চয়ন করেছিলেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

হার্বার্ট সাইমন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আর্থার সাইমন ছিলেন একজন তড়িৎ প্রকৌশলী। মিলওয়াউকিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ নেন। তবে বাল্যকাল থেকে পড়ার প্রতি তীব্র নেশা তৈরি হয় সাইমনের। তার মা পিয়ানো বাজানো আর বই পড়াতে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। মায়ের উত্সাহে বাইরের খেলা ফেলে বইয়ে ডুব দিতেন সাইমন। সাইমন তার আত্মজীবনীতে লেখেন, তার বন্ধুরা যখন ফুটবল, বেসবল, ভলিবল নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তখন তিনি বাড়ির বিশাল লাইব্রেরিতে বসে বসে বই পড়তেন। তিনি আরও বলেন, স্কুলের হোমওয়ার্ক তার কাছে সব সময় সহজ মনে হতো। তাই তার বন্ধুরা যখন হোমওয়ার্ক নিয়ে ব্যস্ত থাকত তখনও তিনি লাইব্রেরিতে পড়ে থাকতেন। এই পড়াশোনাই তাকে একসময় বিশ্বের সেরা সমাজবিজ্ঞানীদের একজন করে তোলে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন সাইমন। একই ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৪৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। পিএইচডিতে দুই বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী হ্যারল্ড ল্যাসওয়েলচার্লস এডওয়ার্ড মেরিয়ামের অধীনে গবেষণা করেন সাইমন।[১]

অর্থনীতিতে অবদান[সম্পাদনা]

নোবেল কমিটি সাইমনকে পুরস্কার প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলে, অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য হার্বার্ট এ সাইমনকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে।[১]

কম্পিউটার বিজ্ঞানে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৫০ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ডেভিড হকিন্সের সঙ্গে গাণিতিক অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন সাইমন। সেখানে ভেক্টর ও মেট্রিক্স কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তারা। এর ফলে কম্পিউটারের প্রবলেম সলভিং বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]