হাজা আল মানসুরি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাজা আল মানসুরি
هَزَّاع ٱلْمَنْصُوْرِي
Hazza Al Mansouri (1).jpg
সংযুক্ত আরব আমিরাত নভোচারী (২০১৮)
ডাক নামহাজা আলি আবদান খালফান আল মানসুরি
هَزَّاع عَلِي عَبْدان خَلْفَان ٱلْمَنْصُوْرِي
জাতীয়তাআমিরাতি
জন্ম (1983-12-13) ১৩ ডিসেম্বর ১৯৮৩ (বয়স ৩৬)
আল ওয়াথবা, আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত[১][২]
বর্তমান পেশানভোচারী
পূর্বতন পেশাফাইটার পাইলট
শিক্ষায়তনখলিফা বিন জায়েদ এয়ার কলেজ
মনোনয়কএমবিআরএসসি সিলেকশন ১[৩]
অভিযানের প্রতীকSoyuz-MS-15-Mission-Patch.png Soyuz-MS-12-Mission-Patch.pngZayed's Ambition Mission Insignia.png

হাজা আল মানসুরি[১][২] (আরবি: هَزَّاع ٱلْمَنْصُوْرِي‎, প্রতিবর্ণী. Hazzāʿ Al-Manṣūrī‎, উচ্চারণ "Al Mansoori", পূর্ণনাম হাজা আলি আবদান খালফান আল মানসুরি (هَزَّاع عَلِي عَبْدان خَلْفَان ٱلْمَنْصُوْرِي)) হলেন একজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নভোচারী। যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম নভোচারী হিসেবে মহাকাশে যান। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে সয়ূজ এমএস-১৫ মহাকাশযানে করে তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। প্রায় ৮ দিন মহাকাশে থাকার পর ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর তারিখে তিনি কাজাখস্তান-এ নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন।[৪]

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

আল মানসুরি ১৯৮৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবুধাবির আল ওয়াথবায় জন্মগ্রহণ করেন।[১][২] শৈশবের বেশিরভাগ সময়কাটানো লিওয়ার মরুভূমিতে রাতে আকাশের তারা ও উল্কার পতন দেখতে পছন্দ করতেন। তার স্বপ্ন ছিলো পাইলট হওয়া এবং এয়ারপ্লেম ও মহাকাশ ভ্রমণ সম্পর্কিত পড়াশোনা করা। আবুধাবির লিওয়া (পূবে ওয়েস্টার্ন রিজিয়ন নামে পরিচিত) এর আল সিদ্দিক হাই স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে ২০০৪ সালে মানসুরি খলিফা বিন জায়েদ এয়ার কলেজ থেকে বিমানচালনাবিদ্যায় ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি আরব আমিরাতের আর্মড ফোর্সে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে থাকাবস্থায় মিলিটারি পাইলট হন। সংযুক্ত আরব আমিরাত তাকে এফ-১৬ যোদ্ধা বিমানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য আমেরিকার অ্যারিজোনাতে পাঠান। তিনি ওয়াটার সার্ভাভাইল, জিওয়াইআরও ল্যাপ কোর্স ও রেড ফ্ল্যাগ এক্সারসাইজ এর মতো উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি এফ-১৬ বিমানের বৈমানিক হিসেবে কাজ করেন।

২০১৬ সালে ওয়ার-শো পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। ২০১৭ সাল তিনি দুবাই এয়ারশো এ অংশ নেন। এছাড়াও ২ ডিসেম্বর ২০১৭ আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস হিসেবে আমিরাতের বিভিন্ন শহরে তিনি এয়ারশো-তে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গমন[সম্পাদনা]

২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শায়খ মুহাম্মদ বিন রশীদ আল মাখতুম তার টুইটার একাউন্টে লেখেন," মুহাম্মদ বিন রশিদ স্পেস সেন্টারের নভোচারী প্রোগ্রামের জন্য আমিরাতের যুবকদের নিবন্ধন করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি"।[৫] এই প্রোগ্রামে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অধীনে বিভিন্ন পরীক্ষা অংশ নেওয়া ৪০২২ জন থেকে নির্বাচিত হওয়া দুজনের একজন ছিলেন আল মানসুরি।[৬] তার মিলিটারি জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাকে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে সহায়তা করে। ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শায়খ মোহাম্মদ টুইট করে বলেন যে, "আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রেরণের জন্য আমরা আমাদের প্রথম নভোচারীর নাম ঘোষণা করছি: হাজা আল মানসুরি ও সুলতান আল নায়েদি। হাজা ও সুলতান আরব আমিরাতের সকল যুবকদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ইউএই এর আশা আকাঙ্ক্ষাও।"[৭]

মুহাম্মদ বিন রশীদ স্পেস সেন্টার ও রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থার চুক্তি অনুযায়ী, আল মানসুরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন নভোচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য যান। ১২ এপ্রিল ২০১৯ মোহাম্মদ বিন রশীদ স্পেস সেন্টার ঘোষণা করেন যে, আইএসএস-এর ৮ দিনের মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য আল মানসুরি প্রধান নভোচারী হিসেবে পুরোপুরি নির্বাচিত।[৮] এটিই তাকে প্রথম আরব ও আমিরাতি নভোচারী হিসেবে আইএসএস এ যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে কাজাখস্তানের বাইকনুর কসমোড্রোম থেকে সয়ূজ এমএস-১৫ এ করে আইএসএস-এর উদ্দেশ্যে গমন করেন এবং পৃথিবীতে ফিরে আসতে সয়ূজ এমএস-১২ মহাকাশযান বিমানে করে নিয়ে যান। এই মিশনটি প্রথমে ২০১৯ এর এপ্রিলে হওয়ার থাকলেও সয়াজ এমএস-১০ এর কারিগরি ত্রুটির কারণে উড্ডয়ন পেছানো হয়। অক্টোবর এর ৩ তারিখ কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই পৃথিবীতে ফিরে আসতে সমর্থ হয়।[৯]

দীর্ঘ একবছর বা ১৪০০ ঘণ্টার অধিক প্রশিক্ষণ ও ৯০ টি কোর্স এবং মেডিকেল চেকআপ রিপোর্ট এর মাধ্যমে আল মানসুরি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়।[১০] ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ঘোষণা হয় যে, আল মানসুরি তার সাথে ১০ কেজি ওজনের পণ্য নিয়ে যেতে পারবেন। তিনি তার মহাকাশ সফরে নিয়ে যান একখন্ড পবিত্র কোরআনের পান্ডুলিপি, পারিবারিক ছবি, খাঁটি সিল্কে বোনা আরব আমিরাতের পতাকা, কিসাতি (আমার গল্প) নামক একটি বই, শায়খ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের ছবি ও আল গাফ গাছের ৩০টি বীজ।[১১][১২] ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মানসুরি আরও দুজন নভোচারী জেসিকা মেয়ার ও ওলেগ স্ক্রিপোচকার সাথে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে গমন করেন। প্রায় ৮ দিনের সফর শেষে মানসুরি ৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আল মানসুরি ২০০৭ সালের জুলাইয়ে বিয়ে করেন এবং তার মরিয়ম, আলি, আব্দুল্লাহ ও মানসুর নামে চার সন্তান রয়েছে।[১][২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nasir, Sarwat (ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯)। "How UAE astronauts reacted to call-up: One went jogging, the other thought it was a dream"Khaleej TimesDubai। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯ 
  2. "Hazza Al-Mansouri"Gulf News। ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯ 
  3. "Astronaut Biography: Hazza Al Mansouri"www.spacefacts.de 
  4. "Hazzaa AlMansoori Returns to Earth After a Historic Trip to The ISS"Dubailad। অক্টোবর ৪, ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৪, ২০১৯ 
  5. "Sheikh Mohammed bin Rashid inviting young Emiratis to register to be astronauts" 
  6. "More than 4,000 Emiratis apply to become UAE's first astronaut" 
  7. "Sheikh Mohammed announcing Hazza as one of the first two Emirati astronauts" 
  8. "Hazza Al Mansouri chosen to become first Emirati in space" 
  9. [১] US, Russian, UAE Crew Returns from Space AWST, October 4, 2019
  10. "UAE astronaut Al Mansoori's spaceflight medical completed"। Bahrain News Agency। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৭, ২০১৯ 
  11. "UAE in space: What did Hazzaa AlMansoori carry with him to space?"gulfnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৩, ২০১৯ 
  12. "First Emirati a to fly UAE flag and tree seeds to space station"Collect Space। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৯