বিষয়বস্তুতে চলুন

হস্তক্ষেপবাদ (রাজনীতি)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে 'হস্তক্ষেপবাদ' হলো একটি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের গোষ্ঠীর অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যাতে সেই রাষ্ট্র কিছু করতে বা না করতে বাধ্য হয় । [] এই হস্তক্ষেপ সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে। অন্য একটি পরিভাষা, অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপবাদ, নিজ দেশের বাজারে সরকারী হস্তক্ষেপকে বোঝায়। []

মার্থা ফিনেমোরের মতে সামরিক হস্তক্ষেপ, যা হস্তক্ষেপবাদের একটি সাধারণ উপাদান, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তার সংজ্ঞা হলো "টার্গেট রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কাঠামো নির্ধারণের উদ্দেশ্যে স্বীকৃত সীমানা জুড়ে সামরিক কর্মীদের মোতায়েন"। হস্তক্ষেপগুলি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কাঠামো পরিবর্তনের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হতে পারে, বা মানবিক উদ্দেশ্যে বা এমনকি ঋণ আদায়ের জন্যও পরিচালিত হতে পারে। []

হস্তক্ষেপবাদ পশ্চিমা শক্তিগুলির বিদেশনীতিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে, বিশেষ করে ভিক্টোরীয় যুগের সময়ে এবং তার পরে। নতুন সাম্রাজ্যবাদের যুগে কলা যুদ্ধ(ব্যানানা ওয়ার) সহ দক্ষিণ গোলার্ধে পশ্চিমা দেশগুলির অসংখ্য হস্তক্ষেপ দেখা যায়। আধুনিক হস্তক্ষেপবাদ ঠাণ্ডা যুদ্ধের নীতি থেকে বেড়ে উঠেছে , যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ করেছিল অন্যপক্ষের সেখানে থাকা কোনো প্রভাব মোকাবিলায়। [] ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন যে হস্তক্ষেপবাদ সর্বদাই বিতর্কিত রাজনৈতিক ইস্যু হয়েছে হস্তক্ষেপকারী দেশগুলির জনমতে । []

আলেকজান্ডার ডাউনেসের একটি তথ্যতালিকা অনুসারে, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিদেশী-আরোপিত শাসন পরিবর্তনের মাধ্যমে ১২০ জন শাসককে অপসারণ করা হয়েছিল [] ২০১৬ সালে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ডভ হাইম লেভিন (যিনি এখন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন) এর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৬ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ৮১টি বিদেশী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল, যার বেশিরভাগই গোপনে হয়েছিল। [] [] বহুপাক্ষিক হস্তক্ষেপ হলো বিদেশী সংস্থাগুলির দ্বারা আঞ্চলিক শাসন যা পূর্ব তিমুর এবং কসোভোর মতো মামলাগুলিও অন্তর্ভুক্ত করে এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্যও প্রস্তাবিত (যদিও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল)৷ [] বিদ্যমান সাহিত্যের ২০২১ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিদেশী হস্তক্ষেপগুলির তাদের কাঙ্খিত উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার প্রবণতা বেশি। [১০]

বিদেশী হস্তক্ষেপের ফলে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন

[সম্পাদনা]

আলেকজান্ডার ডাউনস, লিন্ডসে ও'রোর্ক এবং জোনাথন মন্টেনের অধ্যয়নগুলি মনে করে যে বিদেশী-আরোপিত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন কদাচিৎ গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা ; সদ্য আরোপিত নেতার সহিংস অপসারণ[] এর সম্ভাবনা ; হস্তক্ষেপকারী রাষ্ট্র এবং তাদের বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের [১১] সম্ভাবনা হ্রাস করে। বিদেশী হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রীকরণের সম্ভাবনাও বাড়ায় না যদি না শাসনের পরিবর্তন গণতন্ত্রের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি সহ দেশগুলিতে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সংগে আসে। [১২] ডাউনস যুক্তি দিয়েছেন: []

The strategic impulse to forcibly oust antagonistic or non-compliant regimes overlooks two key facts. First, the act of overthrowing a foreign government sometimes causes its military to disintegrate, sending thousands of armed men into the countryside where they often wage an insurgency against the intervener. Second, externally-imposed leaders face a domestic audience in addition to an external one, and the two typically want different things. These divergent preferences place imposed leaders in a quandary: taking actions that please one invariably alienates the other. Regime change thus drives a wedge between external patrons and their domestic protégés or between protégés and their people.

নাইজেল লো, ব্যারি হাশিমোটো এবং ড্যান রিটারের গবেষণায় বিপরীত ফলাফল দেখা গেছে। তারা মনে করেন যে দেশের মধ্যে"যুদ্ধের পর শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় যখন যুদ্ধে বিদেশী-চাপিয়ে-দেওয়া শাসন জয়ী হয়"। [১৩] আবার , রিটার এবং গোরান পিকের গবেষণায় দেখা গেছে যে বিদেশী-আরোপিত শাসনের পরিবর্তন গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। [১৪]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Lingelbach, W. E. (১৯০০)। "The Doctrine and Practice of Intervention in Europe": ১–৩২। আইএসএসএন 0002-7162 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  2. "Interventionism"Merriam-Webster। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  3. Finnemore, Martha (২০০৪)। The Purpose of Intervention: Changing Beliefs about the Use of ForceCornell University Press। পৃ. ৯–১০। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭০৪৯-২০৫-৪
  4. Rabe, Stephen G. (২০০৫)। U.S. Intervention in British Guiana: A Cold War StoryUniversity of North Carolina Pressআইএসবিএন ৯৭৮-০৮০৭৮৫৬৩৯০
  5. Kinzer, Stephen (২০১৭)। The True Flag: Theodore Roosevelt, Mark Twain, and the Birth of American EmpireHenry Holt and Companyআইএসবিএন ৯৭৮-১৬২৭৭৯২১৬৫
  6. 1 2 3 Downes, Alexander B. (২০২১)। Catastrophic Success: Why Foreign-Imposed Regime Change Goes Wrong (ইংরেজি ভাষায়)। Cornell University Press। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৫০১৭-৬১১৫-৭
  7. Levin, Dov H. (জুন ২০১৬)। "When the Great Power Gets a Vote: The Effects of Great Power Electoral Interventions on Election Results": ১৮৯–২০২। ডিওআই:10.1093/isq/sqv016 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  8. Agrawal, Nina (২১ ডিসেম্বর ২০১৬)। "The U.S. is no stranger to interfering in the elections of other countries"Los Angeles Times। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২২
  9. Pugh, Jeffrey D. (১ নভেম্বর ২০১২)। "Whose Brother's Keeper? International Trusteeship and the Search for Peace in the Palestinian Territories": ৩২১–৩৪৩। ডিওআই:10.1111/j.1528-3585.2012.00483.xআইএসএসএন 1528-3577 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  10. Malis, Matt; Querubin, Pablo (২০২১)। "Persistent failure? International interventions since World War II" (ইংরেজি ভাষায়): ৬৪১–৬৭৩। ডিওআই:10.1016/B978-0-12-815874-6.00038-1আইএসবিএন ৯৭৮০১২৮১৫৮৭৪৬ {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  11. Downes, Alexander B.; O'Rourke, Lindsey A. (২০১৬)। "You Can't Always Get What You Want: Why Foreign-Imposed Regime Change Seldom Improves Interstate Relations" (ইংরেজি ভাষায়): ৪৩–৮৯। ডিওআই:10.1162/ISEC_a_00256আইএসএসএন 0162-2889 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  12. Downes, Alexander B.; Monten, Jonathan (২০১৩)। "Forced to Be Free? Why Foreign-Imposed Regime Change Rarely Leads to Democratization": ৯০–১৩১। ডিওআই:10.1162/ISEC_a_00117আইএসএসএন 0162-2889জেস্টোর 24480621 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  13. Lo, Nigel; Hashimoto, Barry (২০০৮)। "Ensuring Peace: Foreign-Imposed Regime Change and Postwar Peace Duration, 1914–2001" (ইংরেজি ভাষায়): ৭১৭–৭৩৬। ডিওআই:10.1017/S0020818308080259আইএসএসএন 1531-5088 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  14. Peic, Goran; Reiter, Dan (২০১১)। "Foreign-Imposed Regime Change, State Power and Civil War Onset, 1920–2004" (ইংরেজি ভাষায়): ৪৫৩–৪৭৫। ডিওআই:10.1017/S0007123410000426আইএসএসএন 1469-2112 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)