হলাহল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হলাহল (সংস্কৃত ভাষার দেবনাগরী লিপিতে - हलाहल) অথবা কালকূট (সংস্কৃত ভাষার দেবনাগরী লিপিতে - कालकूटं), যার আক্ষরিক অর্থ "কালো বর্ণের বস্তু" বা "সময়ের ধাঁধা৷[১] হিন্দু পুরাণ অনুসারে পারষ্পরিক আলোচনার পরে দেবতাঅসুররা মন্দর পর্বতকে অক্ষ করে নাগরাজ বাসুকীর সহায়তায় সঞ্জীবনী অমৃতলাভের আশায় সমুদ্রমন্থন শুরু করে৷ অমৃৃতপ্রাপ্তির পূর্বেই উভয়ের বিষ বা এই কালকূট হলাহলের প্রাপ্তি ঘটে৷

ঘটনাবলী[সম্পাদনা]

মন্থনের ফলে চৌদ্দ প্রকার রত্ন সমুদ্রের থেকে উঠে আসে, যার মধ্যে অধিকাংশ রত্নই দেবতারা তাদের নিজেদের হস্তোগত করে৷ এর বিপক্ষে মন্থন চলাকালীন অসুররা দেবতাদের সাথে যথেষ্ট প্রতারণাও করেছিলেন৷ এ প্রক্রিয়ায় অমৃত উঠে আসার আগেই হলাহল তৈরী হয়, যা উভয়পক্ষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে৷ বিষের মারণাত্মকতার সাথে টিকে থাকতে না পেরে দেব ও অসুর উভয় পক্ষেরই অনেকে শ্বাসকষ্টে মূর্চ্ছিত হন৷[২]

আবার অন্যান্য একাধিক সংস্করণে বর্ণিত রয়েছে যে হলাহল সমুদ্রমন্থনে নয় বরং মন্থন রজ্জু হিসাবে ব্যবহৃৎ নাগরাজ বাসুকীনাগই অত্যধিক ঘুর্ণন ও দেবাসুরে অবিরত টানাটানির কারণে ঐ বিষোদ্গার করে৷ ফলে দেবতা এবং অসুররা বেশ আতঙ্কিত হয়েছিলেন কারণ অমৃত প্রাপ্তির পূর্বেই এরকম মারণ বিষ সমস্ত সৃৃষ্টিকে বিনাশ করার ক্ষমতা রাখে৷[৩]

শিবের বিষপান ও পরবর্তী ঘটনা[সম্পাদনা]

উদ্গীরীত বিষের তেজে দেবতাগণ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মার কাছে গেলে তিনি তাদের বিষ্ণুর কাছে যেতে বলেন৷ বিষ্ণু তাদের আবেদন অস্বীকার করেন এবং তাদের শিবের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন৷ তাই দেব ও অসুর একত্রে কৈলাস পর্বতের উদ্দেশ্যে রওনা হন শিবকে সন্তুষ্ট করতে৷ শিব ঐ মারণ বিষ পান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং উক্ত স্থানে গিয়ে তা পান করেন৷ শিব ঐ হলাহল পান করলে তার সমস্ত শরীরজুড়ে অসহ্য যন্ত্রনা করা শুরু হয়৷ স্বামী শিবের এরূপ দশা তার স্ত্রী পার্বতীর পক্ষে দেখা সম্ভব ছিলো না৷ ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ শিবের কণ্ঠে আঙ্গুল রাখেন এবং পান করা বিষ শিবের কণ্ঠ থেকে গ্রাসনালীতে নামতে বাধা সৃৃষ্টি করলে তিনি "বিষকণ্ঠ" নাম পান৷ পরে দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয় বিদ্যারূপ দেবী তারা নিজ মায়াবলে তা ঐ স্থলেই শাশ্বতভাবে আটক করেন৷ ফলস্বরূপ তার কণ্ঠ নীল হয়ে ওঠে এবং এজন্য তিনি "নীলকণ্ঠ" নাম পান৷[৩][৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Presence of Siva By Stella Kramrisch
  2. https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%A8#জনশ্রুতি
  3. https://mdaily.bhaskar.com/news/JM-why-lord-shiva-is-called-neelkantha-1703387.html
  4. TQ Team C0118142। "The Orient: Shiva's Blue Throat"। Library.thinkquest.org। ২০১৩-১১-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৫-১৩