সেলাঙ্গর
| সেলাঙ্গর | |
|---|---|
| মালয়েশিয়ার প্রদেশ | |
| سلاڠور دار الإحسان
সেলাঙ্গর দারুল এহসান | |
| অন্যান্য প্রতিলিপি | |
| • জাওয়ি | سلاڠور |
| • চাইনিজ | 雪兰莪 (সরলীকৃত) 雪蘭莪 (Traditional) |
| • তামিল | சிலாங்கூர் |
| নীতিবাক্য: Dipelihara Allah [১] (আল্লাহর নিরাপত্তায়) | |
| সঙ্গীত: Duli Yang Maha Mulia Your Royal Highness | |
| স্থানাঙ্ক: ৩°২০′ উত্তর ১০১°৩০′ পূর্ব / ৩.৩৩৩° উত্তর ১০১.৫০০° পূর্ব | |
| রাজধানী | শাহ আলম |
| Royal capital | ক্লাং |
| সরকার | |
| • ধরন | সংসদীয় সাংবিধানিক রাজত্ব |
| • সুলতান | শারাফুদ্দিন |
| • মূখ্যমন্ত্রী | আমিরুদিন শারি (পিএইচ-পিকেআর) |
| আয়তন[২] | |
| • মোট | ৮,১০৪ বর্গকিমি (৩,১২৯ বর্গমাইল) |
| সর্বোচ্চ উচ্চতা (মাউন্ট সেমাঙ্কক) | ১,৮৩০ মিটার (৬,০০৪ ফুট) |
| জনসংখ্যা (২০১৮)[৩] | |
| • মোট | ৬৫,১৮,৫০০ (১ম) |
| • Demonym | Selangorean / Selangorian |
| Human Development Index | |
| • এইচডিআই (২০১৯) | ০.৮৬৩ (very high) (২য়) |
| সময় অঞ্চল | এমএসটি (ইউটিসি+৮) |
| • গ্রীষ্মকালীন (দিসস) | not observed (ইউটিসি+৮) |
| পোস্টাল কোড | 40xxx to 48xxx, 63xxx, 640xx, 68xxx |
| কলিং কোড | ০৩ |
| আইএসও ৩১৬৬ কোড | MY-10 |
| যানবাহন নিবন্ধন | বি |
| Federated into এফএমএস | 1895 |
| জাপানের দখল | ১৯৪২ |
| Accession into the ফেডারেশন অব মালয়া | ১৯৪৮ |
| ফেডারশন অব মালয়ার অংশ হিসেবে স্বাধীনতা | ৩১ আগস্ট ১৯৫৭ |
| ওয়েবসাইট | www www |
সেলাঙ্গর মালয়েশিয়ার ১৩টি রাজ্যের একটি । এটি মালয়েশিয়ার উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত। রাজধানী কুয়ালালামপুর, প্রশাসনিক শহর পুত্রজায়া এই সেলাঙ্গরেরই অংশ ছিলো। পরবর্তীতে এদেরকে আলাদা কেন্দ্র শাষিত হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়। সেলাঙ্গরের উত্তর-পূর্বে অঞ্চলে একটা সময় প্রচুর রাবার বাগান এবং হিংস্র জন্তুর অভয়ারন্যে ঘেরা পাহাড়ী বাগান ছিলো বলে জানা যায়। বাগান এবং খনি শ্রমিকরাই বাস করতো। ১৯৫০ এর পরে ব্রিটিশ সরকারের আমলে মালয়েশিয়ান চাইনিজরা ব্যাপকভাবে এখানে বসবাস শুরু করে। । ১৯৯৮ সালে কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে কিছু অবকাঠামো তৈরী হয় ফলে জনসমাগমও বাড়ে।
নামকরণ
[সম্পাদনা]সেলাঙ্গর নামকরণের প্রকৃত ইতিহাস অজানা। তবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রচলিত আছে যে মালয় শব্দ লাঙ্গু ( langau) এক ধরনের মাছিকে বোঝায় যেগুলো রাজ্যের উত্তর পূর্ব পাশে বয়ে যাওয়া নদীর পার্শবর্তী ঝোপে পাওয়া যেতো।স্থানীয় এক যোদ্ধা এখানে বিশ্রাম নিতে এসে মাছির উপদ্রপ খেয়াল করেন কিন্তু তবুও তিনি নদীর তীরবর্তী পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং এলাকাটা তার খুব পছন্দ হয়। সেই প্রেক্ষাপটে এলাকার নাম দেন satu (সে) langau(লাঙ্গ) যার অর্থ বড় মাছি।[৪] অপরদিকে সেলাঙ্গ Salang তামিল শব্দের অর্থ শহর। সেখান থেকে এর নামকরণ হতে পারে।[৫] কারো কারো মতে মেনটাঙ্গ (mentangau.) নামের এক ধরনের গাছের থেকে এই নামের উৎপত্তি।[৬]
ভূগোল
[সম্পাদনা]প্রায় ৮,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেলাঙ্গর রাজ্যটি উপদ্বীপীয় মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত। এই রাজ্যের উত্তরে পেরাক থেকে পৃথক করেছে বেরনাম নদী, দক্ষিণে নেগেরি সেম্বিলান থেকে পৃথক করেছে সেপাং নদী, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে পাহাং ও নেগেরি সেম্বিলান থেকে পৃথক করেছে তিতিওয়াংসা পর্বতমালা এবং পশ্চিমে রয়েছে মালাক্কা প্রণালী। এছাড়া এই রাজ্যটি কুয়ালালামপুর এবং পুত্রজায়ার মতো ফেডারেল টেরিটরি বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে।
ভূ-প্রকৃতিগতভাবে, সেলাঙ্গর উপকূলের কাছাকাছি এলাকাগুলো সমতল এবং পূর্ব দিকে এটি ধীরে ধীরে পাহাড়ি ও পার্বত্য হয়ে উঠেছে। রাজ্যের পূর্ব ও মধ্য অংশকে ঘিরে থাকা এই পাহাড় এবং পর্বতগুলো কার্যকরভাবে একটি উপত্যকা এবং ক্ল্যাং নদীর অববাহিকা তৈরি করেছে, যা 'ক্ল্যাং ভ্যালি' নামে পরিচিত; যেখানে রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে। ক্ল্যাং ভ্যালিকে প্রায়ই 'গ্রেটার কুয়ালালামপুর' এর সমার্থক মনে করা হয়, যদিও এই দুটি সংজ্ঞার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। মালয়েশিয়া তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম নগরায়িত এই অঞ্চলের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের রাজধানী শাহ আলম, রাজকীয় শহর ক্ল্যাং এবং দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুর, যা কৌশলগতভাবে এই রাজ্যের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত। কুয়ালালামপুর একসময় সেলাঙ্গরের অংশ ছিল, যা ১৯৭৪ সালে ফেডারেল টেরিটরি বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। এরপর ১৯৯৫ সালে সেপাং জেলার প্রাং বেসার এলাকাটিও ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা বর্তমানে দেশটির প্রশাসনিক ও বিচারিক রাজধানী পুত্রজায়া হিসেবে পরিচিত।
সেলাঙ্গর রাজ্যটি নয়টি জেলায় বিভক্ত, যথা— সাবাক বেরনাম, কুয়ালা সেলাঙ্গর, হুলু সেলাঙ্গর, গোম্বাক, পেতালিং, ক্ল্যাং, কুয়ালা লাঙ্গাত, হুলু লাঙ্গাত এবং সেপাং।
উদ্ভিদ ও প্রাণিকুল
[সম্পাদনা]মালয়েশিয়ার বনভূমিকে ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বা ক্রান্তীয় বৃষ্টিবন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে। সেলাঙ্গরে বর্তমানে ২,৫০,১২৯ হেক্টর স্থায়ী সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে, যার মধ্যে ৮২,৮৯০ হেক্টর হলো পিট জলাভূমি বন এবং উপকূলজুড়ে ১৮,৯৯৮ হেক্টর এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে ম্যানগ্রোভ বন। এই স্থায়ী সংরক্ষিত বনভূমি রাজ্যের মোট ভূমির প্রায় ৩২ শতাংশ।[৭][৮] সেলাঙ্গরে অবস্থিত বন উদ্যানগুলোর মধ্যে রয়েছে গাবাই জলপ্রপাত, তামান রিম্বা টেম্পলার, তামান রিম্বা আম্পাং, তামান রিম্বা কমনওয়েলথ, সুঙ্গাই চংকা, সুঙ্গাই তুয়া, সুঙ্গাই সেনদাত, সুঙ্গাই তেকলা, কাঞ্চিং, গুনুং নুয়াং এবং বুকিত তাবুর।[৯][১০] সেলাঙ্গরের সংরক্ষিত বনভূমিগুলো সেই রাজ্যের বন বিভাগ দ্বারা পরিচালিত এবং সংরক্ষিত হয়। কারণ, মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী বন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর এখতিয়ার বা বিচারব্যবস্থার অধীনে পড়ে।[১১] সেলাঙ্গরের বন বিভাগের প্রধান কার্যালয় শাহ আলমের সুলতান সালাহউদ্দিন আব্দুল আজিজ শাহ ভবনে অবস্থিত।[১২]
সেলাঙ্গর মালয়েশিয়া সরকারের একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা— ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট মালয়েশিয়া (FRIM)-এরও প্রধান কেন্দ্র। কেপং (Kepong)-এ অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রান্তীয় বনবিদ্যার ওপর গবেষণা, উন্নয়ন এবং এর প্রয়োগের মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তি তৈরি করে। এর লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ার বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।[১৩][১৪]
জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সেলাঙ্গরে বেশ কিছু এলাকাকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো হলো সুঙ্গাই দুসুন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার , যা বর্তমানে বিলুপ্ত সুমাত্রান গন্ডার রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল,[১৫] কুতু হিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার,[১৬] এবং বুকিত সুঙ্গাই পুতেহ হিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার, যা কুয়ালালামপুর এবং সেলাঙ্গরের সীমান্তে অবস্থিত।[১৭] এই রাজ্যে একটি পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে যার নাম 'পায়া ইন্দাহ ওয়েটল্যান্ডস'; এটি ডেঙ্গকিলের কাছে কুয়ালা লাঙ্গাত জেলায় অবস্থিত। এটি পরিযায়ী ও স্থানীয় পাখির অভয়ারণ্য এবং এখানে নীল নদের জলহস্তী ও কুমির আনা হয়েছে।[১৮][১৯]
বহি সংযোগ
[সম্পাদনা]- দাপ্তরিক ওয়েবসাইট
- Rail map of Selangor[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- Geographical maps of Selangor
- History of Selangor
- Official Website of Online Shopping & Great Deals in Selangor, Malaysia - Everydayonsales
- Tourism Selangor Official Website ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ মার্চ ২০২১ তারিখে
- Invest Selangor Berhad Official Website
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "LAMBANG NEGERI SELANGOR"। Selangor State Government (মালয় ভাষায়)।
- ↑ "Laporan Kiraan Permulaan 2010"। Jabatan Perangkaan Malaysia। পৃ. ২৭। ২৭ ডিসেম্বর ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১১।
- ↑ Department of Statistics Malaysia [@StatsMalaysia] (১৫ মে ২০১৮)। "Malaysia population in Q1 2018 has increased by 1.3% compared to Q1 2017 to a total of 32.4 million population. #fanSTATStic" (টুইট)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ – টুইটার এর মাধ্যমে।
- ↑ "Kuala Selangor Info: Page 3 of 4: Oral History". Kuala Selangor District Council. Archived from the original on 3 August 2018.
- ↑ Kuala Selangor Info: Page 3 of 4: Oral History". Kuala Selangor District Council. Archived from the original on 3 August 2018
- ↑ "Info Kuala Selangor: Halaman 3 dari 4 - Cerita-Cerita Lisan". Majlis Daerah Kuala Selangor. Archived from the original on 8 December 2016.
- ↑ "Kawasan Hutan Simpanan kekal di Semenanjung Malaysia"। data.gov.my। Forestry Department Peninsular Malaysia। ১৭ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "JPSM Annual Report 2016 - page 99"। www.forestry.gov.my। Jabatan Perhutanan Semenanjung Malaysia। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Hutan Lipur & Hutan Taman Negeri"। www.forestry.gov.my। Jabatan Perhutanan Semenanjung Malaysia। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Senarai Hutan Lipur"। forestry.selangor.gov.my। Jabatan Perhutanan Negeri Selangor। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Akta Perhutanan Negara 1984"। www.forestry.gov.my। Jabatan Perhutanan Semenanjung Malaysia। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Jabatan Perhutanan Negeri"। www.forestry.gov.my। Jabatan Perhutanan Semenanjung Malaysia। ৬ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Forest Research Institute Malaysia | Official Portal"। frim.gov.my। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১৪।
- ↑ "Forest Research Institute of Malaysia (FRIM), Kepong"। tourismselangor.my। ১৪ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১৪।
- ↑ "Sungai Dusun Wildlife Reserve, Selangor"। www.wildlife.gov.my। Department of Wildlife and Natural Parks (PERHILITAN) Peninsular Malaysia। ৩ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Kutu Hill Wildlife Reserve"। www.wildlife.gov.my। Department of Wildlife and Natural Parks (PERHILITAN) Peninsular Malaysia। ১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Sungai Puteh Hill Wildlife Reserve, Kuala Lumpur/Selangor"। www.wildlife.gov.my। Department of Wildlife and Natural Parks (PERHILITAN) Peninsular Malaysia। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Paya Indah Wetlands"। www.tourismselangor.my। Tourism Selangor। ১৭ জুলাই ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।
- ↑ "Paya Indah Wetlands"। www.nre.gov.my। Ministry of Land, Water and Natural Resources। ২ আগস্ট ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৮।