বিষয়বস্তুতে চলুন

সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায়
জন্ম(১৯০৯-০২-০৩)৩ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯
মৃত্যু২৩ মার্চ ১৯৬৫(1965-03-23) (বয়স ৫৬)
অন্যান্য নামপুটুদি
আন্দোলনভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

সুহাসিনী গঙ্গোপাধ্যায় বা সুহাসিনী গাঙ্গুলী (৩ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ - ২৩ মার্চ ১৯৬৫) ছিলেন একজন ভারতীয় মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামী যিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[][][][][][][]

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

[সম্পাদনা]

সুহাসিনী গাঙ্গুলি ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ফেব্রুয়ারি  ব্রিটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের খুলনায় পিতার কর্মক্ষেত্রে   জন্মগ্রহণ করেন। পিতা অবিনাশচন্দ্র গাঙ্গুলী এবং মাতা সরলা সুন্দরা দেবীর আদি নিবাস ছিল ঢাকার বাঘিয়ায়। তিনি ঢাকার ইডেন স্কুল থেকে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিক পাশ করেন । কলা শাখায় ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় , তিনি একটি  মূকবধির  বিদ্যালয়ে শিক্ষয়িত্রীর চাকরি পেয়ে কলকাতায় আসেন। [][][]

বিপ্লবী কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

সূচনা -

[সম্পাদনা]

কলকাতায় অবস্থানকালে প্রাণচঞ্চল  তরুণী সুহাসিনী  বিপ্লবী দলের মহিলা নেত্রী কল্যাণী দাস কমলা দাশগুপ্তের সংস্পর্শে আসেন। তারাই তাকে যুগান্তর পার্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। কল্যাণী দাস এবং কমলা দাশগুপ্ত পরিচালিত ছাত্রী সংঘের সদস্য হন এবং রাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দীর বাগানে সাঁতার শেখাতেন। সেখানে তিনি ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবী রসিক দাসের সাথে পরিচিত হন । [] ব্রিটিশ সরকার তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারায় তিনি ফরাসি শাসনের চন্দননগরে আশ্রয় নেন। [] স্থানীয় কাশীশ্বরী পাঠশালার প্রধান শিক্ষিকা হয়েছিলেন। সকলেই তাকে সমীহ করে চলতেন। []

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগারে অভিযান

[সম্পাদনা]

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের পর, বিপ্লবী সংঘের নেতাদের নির্দেশে, শশধর আচার্য এবং সুহাসিনী স্বামী-স্ত্রী সেজে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে অনন্ত সিং, লোকনাথ বল, আনন্দ গুপ্ত, জীবন ঘোষাল তথা মাখনলালকে তাদের চনন্দনগরে আশ্রয় দেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ কোনরকমে জানতে পেরে বাড়ি ঘুরে ফেললে এক সংঘর্ষে জীবন ঘোষাল বন্দুকযুদ্ধে মারা যান এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সুহাসিনী গ্রেফতার হন। কিন্তু পরে তারা সকলেই মুক্তি পান। [][][]

অন্যান্য কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

সুহাসিনী কল্যাণী দাসের ভগিনী  বীণা দাসের সঙ্গে  যুক্ত ছিলেন। বীণা দাস ১৯৩২ খ্রিস্দাব্দে  বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। [১০] তারই সূত্র ধরে বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট ( BCLA) অ্যাক্টের অধীনে, সুহাসিনী ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ  থেকে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ  পর্যন্ত হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকবন্দী ছিলেন। [][] মুক্তির পর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট দলের সমর্থক হন।[] তিনি ভারতের কমিউনিস্ট অংশের মহিলা শাখার সাথে যুক্ত ছিলেন।যেহেতু কমিউনিস্ট পার্টি ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে নি, তবুও সুহাসিনী  তার কংগ্রেস সহকর্মীদের সাহায্য করেছিলেন। [২]ভারত ছাড়ো আন্দোলনের  কর্মী হেমন্ত তরফদারকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে তিনি ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পুনরায় জেলে আটক ছিলেন । ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ নিরাপত্তা আইনে কমিউনিস্ট পার্টি বেআইনি ঘোষিত হওয়ায় এবং  তার কমিউনিস্টদের সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে  ১৯৪৮  এবং ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের বেশ কয়েকমাস তাকে কারারুদ্ধ থাকতে হয়েছিল। []

পরবর্তী জীবন ও মৃত্যু

[সম্পাদনা]

সুহাসিনী গাঙ্গুলী সারা জীবন বিদ্যালয় ও সংগ্রামের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে এক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিনি চিকিৎসা বিভ্রাটে টিটেনাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[]

কলকাতা মহানগরীর ভবানীপুরের পটুয়াপাড়ায় হরিশ মুখার্জি রোড এবং আশুতোষ মুখার্জি রোড সংযোগকারী একট রাস্তা কলকাতা পৌরসংস্থা কর্তৃক  সুহাসিনী গাঙ্গুলী সরণি নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 সুবোধ সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, আগস্ট  ২০১৬, পৃষ্ঠা ৮২৭, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. Ghosh, Durba (২০ জুলাই ২০১৭)। Gentlemanly Terrorists: Political Violence and the Colonial State in India, 1919–1947 (ইংরাজী ভাষায়)। Cambridge University Press। আইএসবিএন ৯৭৮১১০৭১৮৬৬৬৮{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  3. 1 2 Bhattacharya, Brigadier Samir (১২ নভেম্বর ২০১৩)। NOTHING BUT! (ইংরেজি ভাষায়)। Partridge Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৮২৮১৪৭৬৭
  4. 1 2 "Mysterious girls"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৭
  5. Vohra, Asharani (১৯৮৬)। Krantikari Mahilae [Revolutionary Women] (হিন্দি ভাষায়)। New Delhi: Department of Publications, Ministry of Information and Broadcasting, Government of India। পৃ. ৩৭–৩৯।
  6. "Book Review Swatantrata Sangram Ki Krantikari Mahilayen by Rachana Bh…"। archive.is। ২৮ জুন ২০১৩। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-url= এর জন্য |url= প্রয়োজন (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য); |ইউআরএল =-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |ইউআরএল = উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  7. 1 2 3 4 দে, অমলেন্দু (২০১১)। "সুহাসিনী গাঙ্গুলী : ভারতের বিপ্লবী আন্দোলনের এক উল্লেখযোগ্য চরিত্র"। গণশক্তি
  8. 1 2 Chandrababu, B. S.; Thilagavathi, L. (২০০৯)। Woman, Her History and Her Struggle for Emancipation (ইংরাজী ভাষায়)। Bharathi Puthakalayam। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৯৯০৯৯৭০{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
  9. https://bartamanpatrika.com/detailNews.php?cID=29&nID=147562&nPID=20190222 "সবলা বিপ্লবী সুহাসিনী গাঙ্গুলির কথা"]। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২২ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |ইউআরএল= এর 1 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য); |ইউআরএল= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. Chatterjee, India (১৯৮৮)। "The Bengali Bhadramahila —Forms of Organisation in the Early Twentieth Century" (পিডিএফ): ৩৩–৩৪। ১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২২ {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)