সুনীল দাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সুনীল দাস
জন্ম(১৯৩৯-০৮-০৪)৪ আগস্ট ১৯৩৯
কলকাতা, ভারত
মৃত্যু১০ আগস্ট ২০১৫(২০১৫-০৮-১০) (৭৬ বছর)
কলকাতা
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষাগভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট, কলকাতা
একোল দে বোজার, প্যারিস
যে জন্য পরিচিতঅঙ্কন
আন্দোলনঅভিব্যক্তবাদ

সুনীল দাস (৪ আগস্ট, ১৯৩৯ – ১০ আগস্ট, ২০১৫) একজন ভারতীয় অভিব্যক্তবাদী চিত্রশিল্পী ছিলেন।তিনি তাঁর বুল সিরিজ এবং "নারী" চিত্রাংকনের জন্য বিখ্যাত।[১] ২০১৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী দ্বারা ভূষিত করে।[২]

প্রাথমিক জীবন এবং পটভূমি[সম্পাদনা]

সুনীল দাস জন্মগ্রহণ করেন ভারতের কলকাতায় রজনী ভট্টাচার্য লেনে। বাবার নাম প্রভাসচন্দ্র দাস, মা নন্দরানি দাস। তাঁর ছবি আকার প্রথম প্রেরণা দেওয়ালে সিনেমার পোস্টার। শিল্পীদের দুচারটি তুলির টানে অদ্ভুত গতিতে অবয়ব ফুটিয়ে তোলা মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। পরে কালীঘাটে পটুয়াদের কাছে ছবির অনুপ্রেরণা পাবার জন্য যাতায়াত করেন, কিন্তু সেটি তাঁকে তেমনভাবে আকর্ষিত করে না। তিনি ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত প্রকৃতির ছিলেন, সেই গতিময়তা তিনি আঁকার মধ্যেও চাইতেন। [৩]

সুনীল ১৯৫৪ সালে কলকাতায় গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেন তাঁর কৃতিত্বে কতৃপক্ষ দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি নেন তাঁকে। [৩] তিনি ১৯৫৫ সালে  গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে ভর্তি হন। [৩] তারপর প্যারিসে একোল দে বোজারে ফরাসি সরকারের একটি  বৃত্তি পেয়ে পড়াশোনা করতে যান। ঘোড়াদের চালচলন লক্ষ্য করার জন্য দিনের পর দিন তিনি আস্তাবলে কাটিয়েছেন। ঘোড়ার তেজীস্বভাব ও উদ্ধত চাহনিতে তিনি নিজের স্বভাবের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। সেইসময় কয়েকবছরে তিনি হাজারেরও বেশী ঘোড়ার ছবি আঁকেন।[৩] ঘোড়ার ছবি আঁকার জন্য তাঁকে "ঘোড়া দাস" বলেও লোকে চিনত।[৪] ১৯৫৭ সাল আসামের গৌহাটিতে প্রথম প্রদর্শনী হয়। প্রথম প্রদর্শনীতেই প্রচুর সুনাম পান। [৩] প্যারিসে সরকারী বৃত্তি নিয়ে পড়াশুনা করাকালীন ১৯৬২ সালে সুনীল স্পেনে যান[৫] ও সেখানে প্রসিদ্ধ ষাঁড়ের লড়াই, তাঁকে ষাঁড়ের ছবি আঁকতে অনুপ্রাণিত করে।[৪] ১৯৯ সালে আর্ট কলেজে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন ঘোড়ার ছবি এঁকে ললিত কলা একাদেমির জাতীয় পুরস্কার পান।[৬] আর্ট কলেজের প্রথাগত শিক্ষার পর তিনি চর্চা করেছেন চিত্রণ-শিল্পকর্ম বা গ্রাফিক আর্ট, ফ্রেস্কো, মোজ়েইক ও চিত্রকলার নানা ধারা। [৭] কয়েক বছর কাটিয়েছেন শিল্পের পীঠস্থান প্যারিসে। তিনি ২০১৫ সালে মারা যান।[৪][৮]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

সুনীল ভারত সরকারের  বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের তাঁত বিভাগে যোগদান  করেন।

তিনি ছুটন্ত ঘোড়ার  বল এবং শক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন ,  তার কাজগুলিতে নারী-পুরুষ সম্পর্ক, নারী তার যৌন ক্ষমতায়ন এবং তার নিঃসঙ্গতা ঘুরেফিরে এসেছে।[৯]  বিশ্ব জুড়ে প্যারিস বিয়েনাল সহ তিনি প্রায় ৮৮টি একক প্রদর্শনী করেন। ১৯৫০-৬০ সালের মধ্যে তিনি ৭০০০টি ঘোড়ার ছবি আঁকেন। [৫]

তিনি সমাজের সমকালীন শিল্পীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

মাধ্যম এবং চিত্রকলার প্রয়োগকৌশল[সম্পাদনা]

সুনীল বেশিরভাগ মাধ্যমেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন, যদিও তাঁর প্রধান কাজগুলির মাধ্যম ছিল সিল্কের কাপড়ে স্ক্রীনপ্রিন্ট, কাঠকয়লা ও তেল ক্যানভাস। তাঁর শৈলীতে ক্ষমতাশালী একটি গতিশীল প্রতিক্রিয়া পেতে তুলি ও কলমের দ্রুত ব্যবহার রয়েছে। তাঁর শৈলী খুবই মৌলিক, অন্য কোনও শিল্পীর প্রভাব দেখায় না।[১] তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক অনুভূতি প্রকাশ করার জন্য, তাঁর সৃষ্টিতে এটি বোঝাতে চাইতেন যে বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে তাঁর একটি সঠিক ধারণা আছে। [৫]

প্রধান বিষয়বস্তু[সম্পাদনা]

  • ষাঁড়ের ক্রম[১]
  • একটি নারী তার দোষত্রুটি (তেল, ক্যানভাস)[১]
  • ছুটন্ত ঘোড়া  (কাঠকয়লা) [১০]

প্রদর্শনী[সম্পাদনা]

পুরস্কার ও সম্মান[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.artofbengal.com/sunildas.htm  |শিরোনাম= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  2. "Padma Awards Announced"। Press Information Bureau, Ministry of Home Affairs। ২৫ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০১-২৬ 
  3. "আমি ঘোড়া সুনীল"শিল্প ও শিল্পী। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৮ 
  4. "Artist Sunil Das, one of the greats, dies"। ১১ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮ 
  5. "Sunil Das"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮ 
  6. "প্রতীক হয়ে ওঠে সময়ের গোপন অন্তঃসার"। ২ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮ 
  7. "প্রয়াত সুনীল দাস"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৮ 
  8. "Postmodern artist Sunil Das passes away at 76 : FYI, News - India Today"indiatoday.intoday.in। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৮-১০ 
  9. "Sunil Das: Contemporary Indian Artist"। Artofbengal.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০২-০৭ 
  10. "Personality : Of horses, bulls and life itself"। The Hindu। ২০০৬-০১-১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০২-০৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]