শ্রীশচন্দ্র নন্দী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শ্রীশচন্দ্র নন্দী C
চিত্র:Srish Chandra Nandy.png
জন্ম
শ্রীশচন্দ্র নন্দী

১০ অক্টোবর ১৮৯৭
মৃত্যু২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
জাতীয়তাভারতীয়
মাতৃশিক্ষায়তনকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উপাধিমহারাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দী

মহারাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দী (১০ অক্টোবর  ১৮৯৭ – ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২)[১] ছিলেন কাশিমবাজার রাজের শেষ মহারাজা প্রখ্যাত লেখক ও তৎকালীন  বাংলার এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

মহারাজা মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী ও মহারাণী কাশীশ্বরীর তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁদের প্রথম সন্তান মহিমচন্দ্র নন্দী অল্প বয়সেই মারা যান। [২] শ্রীশচন্দ্র ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাসে এম.এ.পাশ করেন।

১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের বাংলার নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন।[৩] এবং বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির তথা তৎকালীন এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন অবিভক্ত বাংলা সরকারের ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সেচ, যোগাযোগ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।[৪] তিনি ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ হতেই বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।[৩] প্রথমদিকে তাঁর হিন্দু মহাসভার সাথে যোগাযোগ ছিল। [৫][৬] কিন্তু পরে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন।[৫][৭][৮] শ্রীশচন্দ্র কলকাতার শেরিফ ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সহকারী সভাপতি ও ছিলেন। তিনিও পিতার ন্যায় বিভিন্ন জনহিতকর কার্যে বহু অর্থ দান করেছেন। সোমেন্দ্রচন্দ্র নন্দী হলেন তাঁর পুত্র। [১]

তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলি হল-

  • বেঙ্গল রিভার্স
  • আওয়ার ইকোনমিক ওয়েলফেয়ার, ফ্লাড অ্যান্ড ইটস্ রেমেডি
  • মনপ্যাথী ( মানসিক রোগসংক্রান্ত বিষয়ক)
  • দস্যুদূহিতা (পাঁচ অঙ্কের কমিক নাটক)

তিনি তাঁর পিতা মহারাজা স্যার মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর স্মৃতি রক্ষার্থে কলকাতায় মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ স্থাপন করেন। [৯] পরে তিনি আরো একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। সেটি এখন মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজ নামে পরিচিত।[১০]

তিনি পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ইথোরায় 'ইথোরা শ্রীশচন্দ্র ইনস্টিটিউশন' নামে এক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

মহারাজা শ্রীশচন্দ্র নন্দী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sengupta, Subodhchandra; Bose, Anjali (২০১৬)। Samsad Bangali Charitabhidhan(Biographical dictionary) (Bengali ভাষায়)। Calcutta: Sahitya Samsad। পৃষ্ঠা 737। 
  2. "The Indian and Pakistan Year Book and Who's Who 1951", published by Bennett, Coleman & Co., Ltd., Bombay.
  3. Aklam Hussain; Asiatic Society of Bangladesh (১৯৯৭)। History of Bangladesh, 1704-1971। Asiatic Society of Bangladesh। আইএসবিএন 978-984-512-337-2 
  4. Shila Sen (১৯৭৬)। Muslim politics in Bengal, 1937-1947। Impex India। পৃষ্ঠা 95, 120। 
  5. Bishan Kumar Gupta (১৯৯২)। Political Movements in Murshidabad: 1920-1947। Manisha Granthalaya। পৃষ্ঠা 139, 155, 164। 
  6. Najarula Isalāma (১ জানুয়ারি ২০০৫)। Son of the Soil। Viva Books। আইএসবিএন 978-81-309-3097-8 
  7. Quaid-i-Azam Mohammad Ali Jinnah Papers। Quaid-i-Azam Papers Project, National Archives of Pakistan। ১৯৯৩। পৃষ্ঠা 620। আইএসবিএন 978-969-8156-03-9 
  8. Nitish K. Sengupta (১ জানুয়ারি ২০১১)। Land of Two Rivers: A History of Bengal from the Mahabharata to Mujib। Penguin Books India। পৃষ্ঠা 400–। আইএসবিএন 978-0-14-341678-4 
  9. University of Calcutta (১৯৫৭)। Hundred years of the University of Calcutta: a history of the university issued in commemoration of the centenary celebrations। University of Calcutta। 
  10. "Srish Chandra College"। ২৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২১