শের আলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শের আলি
শের আলি আফ্রিদি.jpg
জন্ম
জামরুদ গ্রাম, খাইবারপাস
মৃত্যু১১ মার্চ, ১৮৭৩
আন্দোলনভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন

শের আলি আফ্রিদি বা শের আলি খান খাইবারপাসের জামরুদ গ্রামে জন্মগ্রহণকারী ওয়াহাবী পাঠান ও শহীদ। ব্রিটিশ ভারতের বড়লাটকে হত্যার দায়ে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। উপমহাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোন ব্রিটিশ বড়লাটকে হত্যা করতে সক্ষম হন।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

শের আলি আফ্রিদির আদি নিবাস খাইবার পাসের নিকট জামরুদ গ্রামে। পিতার নাম ঊলি আলি খান। তিনি ছিলেন ওয়াহাবী আন্দোলনের সাথে যুক্ত, যদিও এ নিয়ে নানা পরস্পরবিরোধী মত আছে।

আন্দামান দ্বীপান্তর[সম্পাদনা]

শীর্ষস্থানীয় ওয়াহাবী নেতা মৌলানা জাফর থানেশ্বরী সহ অন্যান্য বিপ্লবীকে ধরিয়ে দেওয়া ও পুলিশের গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে হায়দার আলি নামক এক যুবককে হত্যা করেন শের আলি। পেশোয়ার থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন ১৮৬৭ সালে। বিচারে তার মৃত্যুদন্ড হয়। কলকাতা হাইকোর্ট আপিলে তাকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরে দন্ডিত করে। আন্দামানে তখনো সেলুলার জেল তৈরি হয়নি। বন্দীদের বিভিন্ন দ্বীপে কঠোর পাহারায় রাখা হতো। পোর্ট ব্লেয়ারের হোপ টাউন অঞ্চলের পানিঘাটায় বন্দি ছিলেন শের আলি।[১]

বড়লাট হত্যা[সম্পাদনা]

সন ১৮৭২, ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লর্ড মেয়ো হ্যারিয়েট দ্বীপের সানসেট পয়েন্টে সূর্যাস্ত দেখতে যান। সেসময় দেহরক্ষী বেষ্টিত থাকলেও তাকে অতর্কিতে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন শের আলি। ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শের আলি খান এমন এক ব্যক্তি যিনিই একমাত্র ভারতের গভর্নর-জেনারেলকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।[২] শের আলী বিশ্বাস করতেন তার এই বড়লাটকে হত্যা  করাটা স্বয়ং ঈশ্বর দ্বারা নির্দেশিত। যদিও তিনি দুজন সাহেবকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, একজন সুপারিন্ডেন্টন্ট ও অন্যজন বড়লাট। এই হত্যার জন্য গোটা দিন অপেক্ষা করে থাকেন, সুযোগ আসে সন্ধ্যের দিকে। তার এই হত্যা, ব্রিটেন তথা ভারতের ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়।

ফাঁসি[সম্পাদনা]

বিচারে শের আলির ফাঁসি হয় ১৮৭৩ সালের ১১ মার্চ আন্দামানের ভাইপার দ্বীপে।[২][৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. নারায়ণ সান্যাল (২০০৩)। শের-ই-শহীদ দ্বীপ। কলকাতা: দেব সাহিত্য কুটীর পা: লি:। পৃষ্ঠা ১৫, ১৭। 
  2. মুক্তির সংগ্রামে ভারত। কলকাতা: পশ্চিমবংগ বাংলা আকাদেমী। ১৯৯৬। পৃষ্ঠা ৩৯। 
  3. "উনি 'বীর', আর বাকিরা?"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭