শহীদ সাবের

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সাবের
জন্ম১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩০
মৃত্যু৩১ মার্চ, ১৯৭১
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ব বাংলাদেশ
পরিচিতির কারণসাংবাদিক

শহীদ সাবের (জন্ম: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩০ - মৃত্যু: ৩১ মার্চ, ১৯৭১)একজন সাংবাদিক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নিহত বুদ্ধিজীবী।

জন্ম ও শৈশব[সম্পাদনা]

১৯৩০ সালের ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার ঈদগাওর সোনাপুকুর গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সাবের। ঈদগাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র থাকার সময় মাকে ছেড়ে পিতার কাছে সৎমায়ের সংসারে কলকাতায় চলে যান। কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হয়ে বরাবরই ক্লাসের সেকেন্ড বয় হিসেবে পরিচিত পান। ১৯৪৭ সালের দেশভাগে সপরিবারে তারা পূর্ব বাংলায় চলে আসেন।

শিক্ষা, কর্ম ও রাজনৈতিক তৎপরতা[সম্পাদনা]

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হয়ে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন সাবের। আইএ ক্লাসের ছাত্র শহীদ সাবের ১৯৫০ সালে ছাত্র ফেডারেশনের এক সমাবেশে বক্তৃতারত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না দিয়ে নিরাপত্তা-বন্দী শহীদ সাবেরকে চট্টগ্রাম কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পরে তাকে রাজশাহী জেলে পাঠানো হয়। বিনা বিচারে চার বছর আটক ছিলেন কারাগারে।

বন্দি অবস্থা থেকে আইএ পাস করেন; প্রস্তুতি নিয়েছেন প্রাইভেট প্রার্থী হিসেবে বিএ পরীক্ষা দেওয়ার। মুক্তি পেয়েছেন ১৯৫৪ সালে। এরপর তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে বিএ পাস করেন। কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছেন আজিমপুরের ওয়েস্ট অ্যান্ড হাই স্কুলে। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। বিএ পাস করে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক সংবাদ-এ।

কেন্দ্রীয় সরকারের সুপিরিয়র সার্ভিসের (সিএসএস) জন্য পরীক্ষা দিতে মনস্থির করলেও চোখের রোগের দরুন অযোগ্য বিবেচিত হবেন মনে করে পরীক্ষা দেননি।

কেন্দ্রীয় ইনফরমেশন সার্ভিসের জন্য পরীক্ষা দিয়ে সে বছরের কৃতকার্যদের ভেতর তার অবস্থান ছিল শীর্ষে; কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দরুন তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। [১]

মানসিক বিপর্যয়[সম্পাদনা]

১৯৫৮ সালের শেষের দিকে তার মানসিক বিপর্যয় শুরু হয়। তার সেই মানসিক বিপর্যয়কালে সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষে রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই উদ্যোগ নিয়ে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অভাবে সেই সুস্থতা বজায় থাকেনি। ক্রমশ আরো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। বংশালের সংবাদ অফিসই হয়ে উঠেছিল সাবেরের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সংবাদ অফিসে তিনি রাতে ঘুমাতেন। [২]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দৈনিক সংবাদ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়; শহীদ সাবের তখন ওই অফিসে ছিলেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

রচনা[সম্পাদনা]

শহীদ সাবেরের সর্বাধিক পরিচিত, ছোট কিন্তু চাঞ্চল্যকর 'আরেক দুনিয়া থেকে' নামের রচনাটি। এটি তিনি চট্টগ্রাম জেলে বন্দি অবস্থায়ই লিখেছেন এবং কারামুক্ত হওয়ার আগেই তা তখনকার দিনে কলকাতার সবচেয়ে প্রগতিশীল বলে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাসিক পত্রিকা নতুন সাহিত্যের চৈত্র ১৩৫৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। কারারক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে এটি বাইরে পাঠানো হয়েছিল, বাংলা ১৩৫৭ অর্থাৎ ইংরেজি ১৯৫১ সালে। লেখক হিসেবে নাম ছাপা হয়েছিল জনৈক জামিল হোসেনের। রচনাটি রাজবন্দির রোজনামচা ধরনের লেখা। উভয় বাংলার পাঠক, লেখকের পরিচয় জানতে কৌতূহলী হয়েছিলেন। সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাটির প্রশংসা করে এবং ওই নতুন লেখককে স্বাগত জানিয়ে পত্রিকার সম্পাদককে চিঠি লিখেছিলেন।

শহীদ সাবেরের রচনাসমূহের মধ্যে প্রকাশিত গ্রন্থ রোজনামচা আরেক দুনিয়া থেকে (১৯৫৭), ছোটগল্পগ্রন্থ এক টুকরো মেঘ (১৯৫৫), ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান (১৯৫৮), অনুবাদগ্রন্থ পুশকিনের ইস্কাপনের বিবি, গোগলের পাগলের ডায়েরী, ক্যাথারিন ওয়েন্স পিয়ারের কালো মেয়ের স্বপ্ন (১৯৫৮)।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমী তাকে ছোটগল্পের জন্য মরণোত্তর পুরস্কার প্রদান করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]