বিষয়বস্তুতে চলুন

লুডভিগ ফান বেটহোফেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
লুডভিগ ফান বেটহোফেন
লুডভিগ ফান বেটহোফেন
লুডভিগ ফান বেটহোফেন
প্রাথমিক তথ্য
উপনামবেটহোফেন, বেঠোফেন, বিটোফেন
জন্ম(১৭৭০-১২-১৭)১৭ ডিসেম্বর ১৭৭০
বন (বর্তমান জার্মানিতে)
মৃত্যু২৬ মার্চ ১৮২৭(1827-03-26) (বয়স ৫৬)
ভিয়েনা
ধরনধ্রুপদী/ক্লাসিক্যাল
পেশাসুরকার
বাদ্যযন্ত্রপিয়ানো, বেহালা

লুডভিগ ফান বেটহোফেন[টীকা ১](জার্মান: [ˈluːtvɪç fan ˈbeːt.hoːfən] (শুনুন); ১৭ই ডিসেম্বর, ১৭৭০ – ২৬শে মার্চ, ১৮২৭) একজন জার্মান সুরকার ও পিয়ানোবাদক। তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সুরকারদের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত। তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ইতিহাসে ধ্রুপদী যুগ ও কল্পনাবিলাসী (রোমান্টিক) যুগের অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ের এক কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পশ্চিমা ধ্রুপদী সঙ্গীতের প্রামাণ্য ভাণ্ডারের সর্বাধিক পরিবেশিত সৃষ্টিকর্মগুলির মধ্যে তাঁর রচনাগুলি অন্যতম। তাঁর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে নয়টি সিম্ফনি (ঐকতান-সঙ্গীত), পাঁচটি পিয়ানো কোনচের্তো (ঐকতান-সমেত একক পিয়ানো রচনা), একটি ভায়োলিন কোনচের্তো (ঐকতান-সমেত একক ভায়োলিন রচনা), ৩২টি পিয়ানো সোনাটা (বহুভাগ বাদ্যরচনা), ১৬টি "স্ট্রিং কোয়ার্টেট" (ততযন্ত্র-চতুষ্টক রচনা), "ফিডেলিও" নামক গীতিনাট্য, এবং একটি "মিসসা সোলেমনিস" (গুরুগম্ভীর খ্রিস্টীয় উপাসনাসঙ্গীত)।

পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের (বর্তমান জার্মানির) কোলন প্রদেশের বন শহরে রাজদরবারের এক সঙ্গীতশিল্পী পরিবারে বেটহোফেনের জন্ম হয়। অল্প বয়সেই তিনি সাঙ্গীতিক প্রতিভার পরিচয় দেন। তিনি প্রথমে তাঁর পিতা এবং পরে সুরকার ও অর্গানবাদক ক্রিস্টিয়ান গটলব নেফে-র কাছ থেকে সঙ্গীতশিক্ষা লাভ করেন। ১৭৮৭ সালে স্বল্পকাল ভিয়েনা পরিদর্শনের পর ১৭৯২ সালে তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন। সেখানে তিনি প্রথমে ইওজেফ হাইডেন এবং পরে আন্তোনিও সালিয়েরির কাছে সঙ্গীত অধ্যয়ন করেন। ভিয়েনায় তিনি একজন কুশলী ও প্রত্যুৎপন্নমতি পিয়ানোবাদক হিসেবে দ্রুত খ্যাতিলাভ করেন। ঐতিহ্যবাহী দরবার ও গির্জাভিত্তিক পৃষ্ঠপোষকতা যখন ক্রমে হ্রাস পাচ্ছিল, সে সময়ে তিনি অভিজাত পৃষ্ঠপোষকদের সমর্থনে একজন স্বতন্ত্র সুরকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বেটহোফেনের প্রারম্ভিক সৃষ্টিকর্মগুলির শেকড় হাইডেন ও ভল্ফগাং আমাডেউস মোৎসার্টের ধ্রুপদী ঐতিহ্যে প্রোথিত। কিন্তু তিনি ক্রমশ প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীতরূপগুলির (সিম্ফনি, সোনাটা, কোনচের্তো ও স্ট্রিং কোয়ার্টেট) পরিধি, মাপ ও অভিব্যক্তিমূলক উচ্চাভিলাষকে সম্প্রসারিত করেন। তিনি বাদ্যসঙ্গীতকে গভীর দার্শনিক ও আবেগিক অভিব্যক্তির বাহনে রূপান্তরিত করেন। পাঠ্যবস্তুর সহায়তা ছাড়াই কেবল বাদ্যসঙ্গীতের মাধ্যমেই মানব অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত রূপকল্প যে প্রকাশ করা সম্ভব, তিনি তা করে দেখান।

১৮০২ সালের কাছাকাছি তাঁর শিল্পীজীবনের মধ্যম বা বীরোদ্দীপ্ত পর্বের সূচনা হয়, যে সময় তিনি নাটকীয় তীব্রতা ও গাঠনিক অভিনবতাবিশিষ্ট বৃহৎ-মাপের সঙ্গীতকর্ম রচনা করেন। এগুলির মধ্যে তাঁর তৃতীয় ও পঞ্চম সিম্ফনিগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৮১২ সালের পর কর্মজীবনের অন্তিম পর্বে তাঁর কাজে আরও অন্তর্বীক্ষণিক ও পরীক্ষাধর্মী এক শৈলী বিকশিত হয়। তাঁর শেষ দিকের পিয়ানো সোনাটা, স্ট্রিং কোয়ার্টেট এবং নবম সিম্ফনি (১৮২৪) এই শৈলীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। শেষোক্তটি ছিল একক কণ্ঠশিল্পী ও সমবেত কণ্ঠশিল্পীদের সংযুক্ত করে রচিত প্রথম বৃহৎ-মাপের সিম্ফনি।

১৭৯৮ সাল থেকে বেটহোফেনের শ্রুতিশক্তি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে এবং ১৮১৫ সালের মধ্যে তিনি জনসমক্ষে পরিবেশনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। জীবনের শেষভাগে তিনি প্রায় সম্পূর্ণ বধির হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও জীবনের শেষ দশকে তিনি তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রচনাগুলির মধ্যে কয়েকটি সৃষ্টি করে যান। বেটহোফেনের সঙ্গীতকে প্রায়শই আলোকিত মানবতাবাদ ও ফরাসি বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হয়, কারণ তাঁর কাজে ব্যক্তির সম্মান, নৈতিক গুরুত্ব ও অভিব্যক্তির স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর শিল্পীজীবন স্বাধীন শিল্পীসত্তা হিসেবে সুরকারের সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে, ঊনবিংশ শতাব্দীর সঙ্গীতধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সুরকারদের উপর স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে।

বেটহোফেনের জন্ম জার্মানির বন শহরে। তরুণ বয়সে তিনি সেখান থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় চলে আসেন ও সেখানেই বাকি জীবন কাটান। এখানে তিনি ইওসেফ হাইডেনের অধীনে দীক্ষা নেন এবং শিঘ্রই অসামান্যকৌশলী পিয়ানোবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। বয়স ত্রিশ ছোঁয়ার আগেই তিনি ধীরে ধীরে তার শ্রবণশক্তি হারাতে থাকেন, কিন্তু এই ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মাঝেও তিনি বিশ্বকে বহুদিন ধরে অসাধারণ সব “মাস্টারপিস” উপহার দিয়ে যান। বেইটোভেন ছিলেন প্রথম “ফ্রি-ল্যান্স” সুরকারদের একজন — তিনি ভাড়ায় কনসার্ট পরিচালনা করতেন, তার সুর প্রকাশকদের[] কাছে বিক্রি করতেন ও কিছু সহৃদয় ধনীর কাছ থেকে ভাতা পেতেন — গির্জা বা কোন রাজকীয় সভায় স্থায়ী চাকরি করা তার স্বভাবে ছিল না।

  1. এই জার্মান ব্যক্তি বা স্থাননামটির বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে উইকিপিডিয়া:বাংলা ভাষায় জার্মান শব্দের প্রতিবর্ণীকরণ শীর্ষক রচনাশৈলী নিদের্শিকাতে ব্যাখ্যাকৃত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "কে ছিলেন বেটোফেন?"DW.COM। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]