লিমিকো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

লিমিকো বা লিমিথিরা (লাতিন - limici) ছিল ইবেরীয় উপদ্বীপে বসবাসকারী একটি প্রাকরোমীয় কেল্টিক উপজাতি। রোমান আমলেও হিসপানিয়া তারাকোনেনসে প্রদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন স্থানীয় উপজাতির তালিকায় এদের নাম পাওয়া যায়।[১] এরা লিমা নদীর উৎসের কাছাকাছি গালিথিয়া্র পানতানোসা অঞ্চলে বসবাস করতো। 'লিম' (Lim) শব্দটি একটি ইন্দো-ইউরোপীয় শব্দ, যার অর্থ হল 'জলাভূমি' বা 'কাদা'। অর্থাৎ, তাদের নামটিই ইঙ্গিত করে যে তারা নদী তীরবর্তী জলাভূমি সঙ্গলগ্ন অঞ্চলে বাস করতো।

রোমানরা প্রথম শতাব্দীতে এই অঞ্চলে এসে উপস্থিত হয় ও বর্তমান পঁতি দি লিমা অঞ্চলে লিমিকোদের ফোরাম প্রতিষ্ঠা করে।[২]

ইতিহাসে উল্লেখ[সম্পাদনা]

প্রখ্যাত রোমান দার্শনিক ও লেখক প্লিনি তার নাতুরালিস হিসতোরিয়া গ্রন্থে ইবেরীয় উপদ্বীপে বসবাসকারী সমসাময়িক বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলির উল্লেখ করতে গিয়ে একেসোকুয়াকেরনোদের মধ্যে লিমিকোদের নাম উল্লেখ করেন।[২][৩] অন্যদিকে টলেমি তার বিখ্যাত ভূগোল গ্রন্থ গেওগ্রাফিয়াতে গাইয়েথিয়া অঞ্চলে বসবাসকারী ব্রাকারোদের তলায় বিবালোগ্রোভিওদের মধ্যে তাদের উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে তার লেখা থেকে জানতে পারা যায় লিমিকোরো ফোরাম তাদের রাজধানী ছিল।[৪] তাছাড়া পর্তুগালের তামেগা নদীর উপর তৈরি রোমান আমলের ঐতিহাসিক সেতু আকুই ফ্লাভিয়েতে থাকা সাম্মানিক স্তম্ভতে যে দশটি উপজাতির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যেও লিমিকোদের নাম পাওয়া যায়।[৫][৬]

এছাড়াও লিমিকো জাতিভুক্ত ব্যক্তিদের নাম খোদাই করা একাধিক শিলালিপি পাওয়া গেছে। যেমন স্পেনের ওরেনসে শহরের আর্কিওলোজিকাল সংগ্রহশালায় খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের শুরুর দিকের দু'টি কবরফলক রক্ষিত আছে; সেখানে সিভিটাস লিমিকোরাম (Civitas Limicorum)'এর নামোল্লেখ পাওয়া যায়, যার থেকে বোঝা যায় তারা লিমিকো উপজাতির মানুষ ছিলেন।।[৭]

ভৌগোলিক অঞ্চল[সম্পাদনা]

লিমিকোদের বসবাসের নির্দিষ্ট অঞ্চল নির্ধারণের প্রশ্নে এখনও ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছু বিতর্ক আছে। যদিও তাদের উপজাতীয় নামই তাদের লিমা নদীর উৎস অঞ্চলে বসবাসের ইঙ্গিতবহন করে, ওরেনসে শহরের সংগ্রহশালায় রক্ষিত উপরিউক্ত কবরফলকদু'টিতে উল্লিখিত 'সিভিটাস লিমিকোরাম' জায়গাটি উনবিংশ শতাব্দীতে সিদা দুর্গ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই প্রাচীন প্রাকারবেষ্টিত অঞ্চলটি ওরেনসে প্রদেশের সারেয়াউস পৌরাঞ্চলের অন্তর্গত একটি টিলা, বিসো টিলার উপরে অবস্থিত।[৮] যাইহোক, ১৯৭২ সালে খিনথো দে লিমিয়া শহর থেকে আবিষ্কৃত দুটি মূর্তি আবার তাদের বসবাসের নির্দিষ্ট এলাকা সম্পর্কে আগের তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক করে।

বর্তমানে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই ঐক্যমত্য পোষণ করেন যে লিরিকোদের ফোরামের অবস্থান ছিল বর্তমান খিনথো দে লিমিয়া শহরের নীচের দিকে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রোমান-গালিথীয় আমলে লিমিয়ার ইতিহাস নামক যে এক্সটেনশন কোর্স চালু হয়েছে, তারও মূল উপজীব্য বিষয় তাই। এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বর্তমানে ঐ অঞ্চলের পূর্বতন অধিবাসীদের উপর একটি প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রোজেক্টও পরিচালনা করা হচ্ছে।[৯] সেক্ষেত্রে এটুকু অন্তত পরিষ্কার যে, লিমিকোদের ফোরাম'এর অবস্থান ছিল লিমা নদীর তীরে এমন একটি স্থানে যা ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি কেন্দ্র বিশেষ। কারণ, রোমান আমলের একাধিক রাস্তার মিলনস্থল ছিল এই বর্তমান খিনথো দে লিমিয়া[১০] আর তাদের বসবাসের এলাকা বিস্তৃত ছিল লিমা নদীর উচ্চগতি দিকে দুই পারে, বিশেষত শুকিয়ে আসা প্রাচীন হ্রদ আনতেলার চারিদিকে।[৮] এই অঞ্চলটিই সাধারণভাবে লিমিয়া নামে অভিহিত হত, যার থেকে লিমিকো নামটির উৎপত্তি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Cortés, Miguel y Lopéz. Diccionario geografico-historico de la España Antigua Tarraconense. Vol. 1. Madrid: Imprenta Real, 1835. P. 223. সংগৃহীত ১৯ জুলাই, ২০১৯।
  2. PLINII NATVRALIS HISTORIAE LIBER III Terra Antiqua. 2004. (ফরাসি ভাষা) সংগৃহীত ৮ জুলাই, ২০১৯।
  3. Call Plinii Secundi Historiae Naturalis. Libri XXXVII. Biblioteca Classica Latina sive Collectio Auctoraum Classicorua Latinorum. Paris, MDCCCXXVIII. P - 50. (মূল লাতিন)
  4. L'Hispanie Taraconaise par Ptolémee Géographie II, 6, 1-78. (ফরাসি ভাষা) সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৯।
  5. "Padrón dos pobos" eAnswers.net. সংগৃহীত ১০ জুলাই, ২০১৯।
  6. Rodríguez Colmenero, Antonio, Galicia meridional romana. Deusto. 1977. ISBN 978-8460008507. (স্পেনীয় ভাষা)
  7. Corpus Inscriptionum Latinarum. Vol. 2. P. 2516 - 7.
  8. Marcelo Macías, Civitas Limicorum. A. Otero. Orense, 1984.
  9. "ArqueoGenitio". 01 September, 2007. সংগৃহীত ১২ জুলাই, ২০১৯।
  10. Rivas Fernandez, J.C.(2000) "O foro dos límicos,Xinzo,epicentro de camiños en época romana". Lethes, II. Centro de Cultura popular da Limia. pp. 62–73.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]