রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়
ধরন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
স্থাপিত ১৯৬৮
সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামসুল আলম
অবস্থান বাংলাদেশ চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গন বেতাগী, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

অবস্থান[সম্পাদনা]

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠাকাল[সম্পাদনা]

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালের ১১ নভেম্বর বেতাগী ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক বিশিষ্ট ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বেতাগী ইউনিয়নের শিক্ষা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনা সভায় বাবু প্রিয়নাথ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে দেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষা সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে বক্তাগণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরিশেষে ৩৫(পঁয়ত্রিশ) সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়। উপরোল্লিখিত তারিখে ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ০৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে প্রায় সহস্রাধিক লোকের উপস্থিতিতে চম্পাতলী ঈদগাহ ময়দানে জনাব সৈয়দ আহমদুল হক এম.এ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় বক্তাগণ পুনরায় অত্র ইউনিয়নে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে বক্তব্য প্রদান করেন। পরিশেষে ১২৫(একশত পঁচিশ) সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে সাংগঠনিক সভায় বাবু বাদল বরণ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্থান নির্বাচন করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে হাত বাঁশের বেড়া ঘর তৈরীর জন্য স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট হতে অনুদান গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরীর জন্য কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পাদনের জন্য জনাব আবুল হায়াত চৌধুরীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সেখানকার আম গাছ তলায় বসে ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৮ সকাল বেলা ষষ্ট থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করেন। সেদিন চম্পাতলী মাঠের বিরাট জনসভায় স্থান নির্বাচনী কমিটির নির্ধারিত স্থানটি বিপুল সংখ্যক হস্ত উত্তোলনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। একই জনসভায় বিদ্যালয়ের নাম হিসেবে বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় নামটি অনুমোদিত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম সদর মহকুমার হাকিম জনাব কে.এম রহমানকে সভাপতি ও জনাব আমিনুর রহমান চৌধুরীকে সম্পাদক নিযুক্ত করে ১১ (এগার) সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। নির্বাহী কমিটি কর্তৃক আবুল হায়াত চৌধুরী প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য জনাব আবুল খায়ের মাষ্টারকে আহবায়ক নিযুক্ত করে একটি এড হক কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি ৫ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে অধ্যাপক বাদল বরণ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিয়োগ প্রদান করেন। বাঁশের বেড়া, তজ্জার ছাউনি ও পাহাড়ী গাছের খুঁটি দিয়ে বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথম বছর ষষ্ট, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণীতে যথাক্রমে ৬৬ জন, ৫০ জন, ৩৬ জন ও ৩৯ জন সর্বমোট ২২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের পদযাত্রা শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে দশম শ্রেণী শুরু করে ১৯৭০ সালে এ বিদ্যালয় হতে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে সরকার হতে তথা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা কর্তৃক মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যামে সে মিলনক্ষেত্রটি হল আরো সুদূরপ্রসারী।ইতোমধ্যে তজ্জার ছাউনি ও বাঁশের বেড়ায় নির্মিত আটটি শ্রেণীকক্ষ সমন্বিত প্রধান বিদ্যালয় গৃহের পাশেই চট্টগ্রামস্থ ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের তদানিন্তন শিল্পপতি জনাব এম এ হাসান ও জনাব মোহাম্মদ আলী মেঘানীর অর্থানুকূল্যে নির্মিত পাকা ইটের তৈরী চারটি শ্রেণীকক্ষ একটি বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ এবং শিক্ষকদের কক্ষ সমিন্বিত আর একটি একতলা ভবন খাড়া করা হয়। তবু তা ছিল একটি আধুনিক বিদ্যালয়ের তুলনায় একেবারে শ্রীহীন ও অপর্যাপ্ত, কোন রকমে কাজ চালানোর মতো অবস্থায়। এপর্যায়ে এ বিদ্যালয়টির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য যেন এক বৈপ্লাবিক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের কার্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন ইসকান্দার আহমদ চৌধুরী । তিনি বেতাগীর সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষানুরাগী বিদ্যোৎসাহী কৃতি সন্তান-জাপান বেতারে বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও নানাবিধ কার্যোপলক্ষে জাপানে অবস্থান করছিলেন ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকেই। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, তিনি কিন্তু স্বদেশের কথা, স্বগ্রামের পশ্চাৎপদতার কথা ভুলে গিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকেননি। বরং প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল হায়াত চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত পত্র যোগাযোগ রেখে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ১৯৭৯ থেকে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা সাগ্রহে ব্যক্ত করতে থাকেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ উদ্দেশ্যে জাপানকেই তিনি তাঁর আর্থিক শক্তি সঞ্চয়ের সর্বোত্তম উৎসরূপে বেছে নেন। শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতিতে সেদেশের উদার হৃদয় রোটারীয়ানদের ভূমিকা দেখে তিনি আশান্বিত হন এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক অজ পাড়াগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেন। সে ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। তবুও প্রয়োজনবোধে অত্যন্ত সংক্ষেপে এখানে কিছুটা লিপিবদ্ধ হল। ১৯৮৬ সালের জুন সংখ্যা মাসিক “রোটারী নো তোমো” পত্রিকায় “অন্ধকারে আলো দিন” শিরোনামে জাপানী ভাষায় তিনি বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া একটি গ্রামে একটি আধুনিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার ব্যাপারে জাপানী রোটারীয়ানদের উদ্দেশ্যে আকুল আবেদন জানাতে থাকেন। তিনি প্রথমে বেতাগীর অন্যতম কৃতি সন্তান প্রকৌশলী জনাব কামাল উদ্দীন আহমদ চৌধুরীর তৈরী নকশা ও প্রাক্কালনের ভিত্তিতে ১৯৮৬ সালের আগষ্ট মাসে “বেতাগী শুভেচ্ছা বিদ্যালয় প্রকল্প” নামে জাপানী ভাষায় একটি তথ্য পুস্তিকা প্রণয়ন করেন। এ পুস্তিকায় তিনি গ্রাম-প্রধান বাংলাদেশে একটি আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদ্যালয় প্রতিষ্টার বেসরকারি উদ্যেগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এক্ষেত্রে জাপানের ত্রিশজন বিশিষ্ট রোটারীয়ানের কাছে পুস্তিকাটি পাঠিয়ে তাদের আর্থিক সাহায্য কামনা করেন। এ ব্যাপারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জনাব এ কে এন আহমদের একটি সুপারিশপত্রও তিনি সংগ্রহ করে ঐ পুস্তিকার সঙ্গে বিলি করেন, যা উদ্দেশ্য সাধনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল। উল্লিখিত ত্রিশজন বিশিষ্ট জাপানী রোটারীয়ানদের অর্ন্তভুক্ত ছিলেন বর্ষীয়ান রোটারীয়ান ডাঃ হিরোমু আকিয়্যামা, রোটারীয়ান ওসমু কিনোশিতা, রোটারীয়ান য়্যশিযো কোয়্যামো প্রমুখ। তাদেরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল জিলা ২৭৭০ থেকে এক শক্তিশালী প্রতিনিধি দল ডাঃ হিরোমু আকিয়্যামার নেতৃত্বে সর্বপ্রথম বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় সফর করেন এবং বিদ্যালয়টির বিভিন্ন দিক সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সম্যকভাবে অবহিত হন। এ শক্তিশালী প্রতিনিধি দলের সম্মানিত সদস্যবর্গের এক বর্ণাঢ্য স্বাগত সম্বর্ধনায় আপ্যায়িত করা হয়। এ সম্বর্ধনা সভাতেই তারা প্রস্তাবিত বিদ্যালয় প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে প্রতি বৎসর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করার জন্য জাপানী রোটারীয়ানরা নিয়মিত বেতাগী শুভাগমন করেন। সে অব্যহত ধারার অনুসরণে ১৯৯৬ সালের ৩০ জানুয়ারি বেতাগী এসে তাদের সম্মানে অনুষ্টিত সম্বর্ধনা সভায় তাঁরা এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বৃত্তি ও ভাতাব্যবস্থা প্রদানের ঘোষণা দেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ এর ৩১ ডিসেম্বর সময়ের ভিতর জাপানী রোটারীয়ানদের কাছ থেকে প্রকল্প নির্মানের জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ পরিমাণ আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়। এই টাকা সুপরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে ১১০৩১ মাপের সাকুরাচম্পা নামের দুটি দ্বিতল পাকা ভবন এবং ১৫৬৬৬ মাপের নীহারিকা নামের একটি সুন্দর সুদৃশ্য মিলনায়তন (auditorium) নির্মিত হয়েছে।[১]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]