রায়সেনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

রায়সেনা
Hill Jezebel
Close wing position of Delias belladonna Fabricius, 1793 – Hill Jezebel Butterflies of Talle valley - 5.jpg
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Pieridae
গণ: Delias
প্রজাতি: D. belladonna
দ্বিপদী নাম
Delias belladonna
(Fabricius, 1793)

রায়সেনা (বৈজ্ঞানিক নাম: Delias belladonna(Fabricius)) এক প্রজাতির মাঝারি আকারের প্রজাপতি। এরা ‘পিয়েরিডি’ পরিবার এর সদস্য।

আকার[সম্পাদনা]

রায়সেনা এর প্রসারিত অবস্থায় ডানার আকার ৮০-১০০ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।[১]

উপপ্রজাতি[সম্পাদনা]

ভারতে প্রাপ্ত রায়সেনা এর উপপ্রজাতি হল-[২]

  • Delias belladonna horsfieldi Gray, 1831 – Himalayan Hill Jezebel
  • Delias belladonna ithiela Butler, 1869 – Sikkim Hill Jezebel
  • Delias belladonna lugens Jordan, 1925 – Lushai Hill Jezebel

বিস্তার[সম্পাদনা]

রায়সেনাদের সাধারণত ভারত এর হিমাচল প্রদেশ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত দেখা যায়। এদের সাধারণত হিমালয় এর পাদদেশ অঞ্চলের ৫০০ মিটার থেকে ৩০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত দেখা যায়। গ্রীষ্মকাল থেকে পরবর্তী বর্ষাকাল পর্যন্ত অর্থাৎ এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস অবধি এদের প্রাদুর্ভাব বেশী। তবে শীতকালে এরা হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চল এবং শিবালিক হিমালয়ের আশে পাশের অঞ্চলে পরিযায়ীতা করে।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

প্রজাপতির দেহাংশের পরিচয় বিষদ জানার জন্য প্রজাপতির দেহ এবং ডানার অংশের নির্দেশিকা দেখুন:-

পুরুষ[সম্পাদনা]

ডানার উপরিপৃষ্ঠের মূল রঙ ধূসর কালচে বাদামী অথবা কালো। সামনের ডানায় নিম্নলিখিত হালকা সাদা দাগ ছোপগুলি দেখা যায়-

সেল এর বহিঃপ্রান্তের শেষভাগে একটি তীর্যক সাব-এপিকাল বার অথবা দন্ডাকৃতি দাগ চোখে পড়ে। ডিসকাল অংশের উপরিভাগে ৩টি ছোপ এর একটি সারি কৌনিক ভাবে অবস্থিত; মধ্যবর্তী ছোপটি অপর দুটির সাথে বাইরের দিকে কৌনিক অবস্থান সৃষ্টি করেছে। ডিসকাল অংশের নিম্নভাগে ৩টি ছোপ এর সারি ভিতরের দিকে তীর্যকভাবে অবস্থিত। অধিকাংশ নমুনাতেই সেলে অবস্থিত তীর্যক দন্ডাকৃতি দাগটি এবং ডিসকাল ছোপ সারির নিচের দিকের দুটি ছোপ অস্পষ্টভাবে ভিতরের দিকে প্রসারিত হয়ে থাকে। বড় এবং প্রায় গোলাকৃতি সাবটার্মিনাল ছোপের সারিটি সম্পূর্ন এবং টার্মিনাল প্রান্তরেখার প্রায় সমান্তরাল ভাবে অবস্থিত। সাব-টার্মিনাল ছোপগুলি ভিতরের দিকে অপেক্ষাকৃত সুস্পষ্ট ও সাদা এবং বাইরার দিকে অস্পষ্ট ও কালচে আঁশ দ্বারা ছাওয়া।

পিছনের ডানায় ১ক, ১ এবং ২ নং ইন্টারস্পেস জুড়ে ডরসাল প্রান্তরেখা ও বেসাল অর্দ্ধ সাদাটে, এপিকাল অর্দ্ধ কমবেশী জোরালোভাবে উজ্জ্বল হলুদ রঙ্গে রঞ্জিত। ৭ ও ৮ নং ইন্টারস্পেসের বেস বা গোড়ার দিকে একটি বড় ডিম্বাকৃতি হলুদ ছোপ বিদ্যমান। সেল এর মধ্যে একটি চওড়া অস্পস্ট ফ্যাকাশে সাদা দাগ দেখা যায়। এই সারিটি ৫ নং ইন্টারস্পেসে বাইরের দিকে কৌনিক অবস্থান সৃষ্টি করেছে এবং এই সারির পশ্চাতভাগের ছোপগুলিতে কম বেশী হলুদের আভা লক্ষ্য করা যায়। সাবটার্মিনাল সাদাটে ছোপের সারিটি উপরের ডানা সাবটার্মিনাল ছোপ সারিরই অনুরূপ, তবে নিচের সারিটিতে ইষদ হলুদের ছোয়া চোখে পড়ে।

ডানার নিম্নপৃষ্ঠের মূল রঙ উপরিপৃষ্ঠেররই ন্যায়, তবে অধিকতর ঘন কালচে বাদামী অথবা ঘন কালো। ডানার দাগ-ছোপগুলি উপরিপৃষ্ঠের অনুরূপ, কিন্তু অধিকতর সুস্পষ্ট এবং পরিচ্ছন্ন গঠনযুক্ত। সামনের এবং পিছনের উভয় ডানাতেই সাবটার্মিনাল ছোপের সারি কম-বেশী খাঁজ কাটা এবং প্রতিটি ছোপের মধ্যভাগ দিয়ে একটি করে শিরা গেছে। সামনের ডানার সাবটার্মিনাল ছোপ এর সারির উপরের দিকের ৩টি ছোপ এবং পিছনের ডানার সাবটার্মিনাল ছোপগুলির সবকটিই হলুদ, পিছনের ডানার ডরসাল মার্জিন এবং সেল এর মধ্যকার লম্বাটে ছোপটি হলুদ, তবে ডিসকাল ছোপের সারিটি একই রঙ্গে অঞ্জিত নয়-সারির মধ্যভাগের ছোপগুলি হলুদের বদলে সাদা এবং সাদায়-হলুদে মেশানো।

শুংগ, মাথা, থোরাক্স এবং উদর কালো। শুংগ অস্পষ্ট সাদা বলয় যুক্ত, উদরদেশের নিম্নভাগে সাদা।

স্ত্রী[সম্পাদনা]

স্ত্রী নমুনা পুরুষ নমুনারই অনুরূপ, তবে স্ত্রী নমুনার ডানার মূল রঙ সর্বদাই অপেক্ষাকৃত ফ্যাকাসে ও অনুজ্জ্বল, স্ত্রী নমুনার ডানার উপরিপৃষের দাগ-ছোপগুলি তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট এবং সামনের ডানায় (উভয় পৃষ্ঠে) সাবটার্মিনাল ছোপের সারি পুরুষ নমুনা অপেক্ষা প্বার্শপ্রান্তরেখা থেকে অধিক দূরে অবস্থিত।[৩]

আচরণ[সম্পাদনা]

ঝর্নার ধারে ভেজা জমিতে এদের বেশীরভাগ সময় দেখা যায়। Aesculus indica এবং Prunus sp. এর অন্তর্ভুক্ত উদ্ভিদের ফুলের প্রতি এদের আসক্তি প্রবল।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Singh, Arun Pratap (২০১১)। Butterflies of India। Noida: Om Book International। পৃষ্ঠা 47। আইএসবিএন 978-93-80069-60-9 
  2. "Delias belladonna Fabricius, 1793 – Hill Jezebel"। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০১৭ 
  3. Bingham, C.T. (১৯০৭)। The Fauna of British India, Including Ceylon and BurmaII (1st সংস্করণ)। London: Taylor and Francis, Ltd.। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]