রওশন ইজদানী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
রওশন ইজদানী
জন্ম১৯১৭
মৃত্যু১৯৬৭
পরিচিতির কারণকবি, প্রাবন্ধিক, লোকসাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক
পিতা-মাতাশেখ আলী কবির,

রওশন ইজদানী (জন্ম: ১৯১৭) প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক, লোক. সাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক। [১] তিনি মোমেনশাহীর লোক সাহিত্যপূর্ব পাকিস্তানের লোক সাহিত্য - এই দুটি মৌলিক গবেষণা গ্রন্থের জন্য সবিশেষ খ্যাত। তাঁর একটি শিশুপাঠ্য পদ্যের বিখ্যাত দুটি চরণ হলো: "সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো বেলা গেল ঐ/কোথায় গেল হাঁসগুলো তৈ তৈ তৈ"।[২]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

প্রখ্যাত কবি ও প্রাবন্ধিক, লোকসাহিত্যের গবেষক ও সংগ্রাহক রওশন ইজদানী ১৯১৭ ইং সাল, বাংলা ১৩২৪ সালের ১৫ ফাল্গুন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বিদ্যাবল্লভ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম শেখ আলী কবির। পিতা শেখ আলী কবিরের পেশা ছিলো কবিরাজি চিকিৎসা। ১০ বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে স্থানীয় ওল্ড স্কিম মাদ্রাসায় রওশন ইজদানীর বিদ্যাশিক্ষার হাতে খড়ি। পরে আশুজিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন রওশন ইজদানী। এ স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে মাতৃ বিয়োগ হওয়ার কারণে তাঁর পড়া লেখাপড়ায় ছেদ পড়ে। মাতৃবিয়োগের পর উদাসীন হয়ে বাউলদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন ইজদানী এবং বাউল গান গেয়ে সময় কাটান। এর কিছুকাল পর জুবায়দা আখতার খাতুনকে বিবাহ করে সংসার ধর্মে প্রত্যবর্তন করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

প্রথম জীবনে ১৩৪৬ সালে গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন ইজদানী। এর কিছুকাল পরে ঋণ সালিসি বোর্ডের কেরানির চাকুরিতে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সালে 'দৈনিক আজাদের' রিডিং সেকশনে যোগ দেন তিনি। এর পর ১৯৫৮ সালে ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনের প্রুফ রিডার, গ্রেড-১ পদে যোগ দান করেন। ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য ১৯৫৯ সালে প্রুফ রিডারের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

রওশন ইজদানী মূলতঃ পল্লী কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি রসুল (সা.)-এর উপর একটি পুরো কাব্য খাতামুন নবীঈন রচনা করেন। তিনি লোকসাহিত্য নিয়ে তিনি অনেক লেখালেখি করেছিলেন। তার গবেষণা গ্রন্থ "মোমেনশাহীর লোক সাহিত্য ও পূর্ব পাকিস্তানের লোক সাহিত্য"।, কবি রওশন ইজদানীর প্রকাশিত গ্রন্থ ২৬টি এবং অপ্রকাশিত গ্রন্থ ১৮টি। পাঠ্য পুস্তক প্রকাশনার সংখ্যা ৬টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ হলো নীল দরিয়া, মরুর কাফেলা, হৃদয় বীণা, ভাঙ্গা বীণা, বজ্রবাণী, ইউসুফ জুলায়খা, মোমেনশাহীর প্রাচীন পল্লী ও সমাজ জীবন ইত্যাদি।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

কাব্যগ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • চিনু বিবি (১৯৫১)
  • খাতামুন নাবীঈন (১৯৬০)[৩]
  • বজ্রবাণী (১৯৪৭)
  • রঙ্গিলা বন্ধু (১৯৫১)
  • ইউসুফ জুলেখা।

অন্যান্য গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

  • ভাঙ্গাবীনা (১৯৪৪)
  • বজ্রবানী (১৯৪৭)
  • নীল দরিয়া (১৯৪৬)
  • রাহগীর (১৯৪৯)
  • ইসলাম জাহানের দুই সেতারা
  • খোলাফা-ই-রাশেদীন (১৯৭৯)
  • মোমেনশাহীর লোক সাহিত্য
  • পূর্ব পাকিস্তানের লোক সাহিত্য।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

রওশন ইজদানী ‘খাতামুন নাবীঈন’ লিখে ১৯৬০ খ্রীস্টাব্দে সাহিত্য কর্মের জন্য "আদমজী পুরস্কার" লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

গ্রন্থসূত্র[সম্পাদনা]

  • লেখক অভিধান, ২০০৭, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
  • জীবনবৃত্তে : ২০১৩ : হামিদুর রহমান : নান্দনিক : ঢাকা।
  • মোমেনশাহীর লোক সাহিত্য : ১৯৫৮ : রওশন ইজদানী : বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
  • রওশন ইজদানী : ১৯৮০ : ইমামুর রশীদ : বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
  • নেত্রকোনার প্রবাদ-প্রবচন ও লোকছড়া: ২০১৪: হাসান ইকবাল: রাঁচী গ্রন্হনিকেতন: ঢাকা।

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]