মুকেশ আম্বানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
মুকেশ আম্বানি
Mukesh Ambani.jpg
স্থানীয় নাম મુકેશ અંબાણી
জন্ম মুকেশ ধিরুভাই আম্বানি
(১৯৫৭-০৪-১৯) ১৯ এপ্রিল ১৯৫৭ (বয়স ৬১)
এডেন, এডেন উপনিবেশ (বর্তমান ইয়েমেন)[১][২]
বাসস্থান আন্তিলিয়া, মুম্বই, ভারত
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি
ফরেস্ট স্কুল (ওয়ালথামস্টো)
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (অনিয়মিত)[৩]
পেশা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
মোট সম্পত্তি $৪২ বিলিয়ন (নভেম্বর ২০১৭)[৪]
দাম্পত্য সঙ্গী নীতা আম্বানি (বি. ১৯৮৫)
সন্তান অনন্ত আম্বানি
আকাশ আম্বানি
ইশা আম্বানি
পিতা-মাতা ধীরুভাই অম্বানী
কোকিলাবেন আম্বানী
আত্মীয় অনিল আম্বানি (ভাই)
ওয়েবসাইট মুকেশ আম্বানি

মুকেশ আম্বানি (গুজরাতি: મુકેશ અંબાણી; জন্ম ১৯ এপ্রিল ১৯৫৭) হলেন একজন ভারতীয় ধনকুবের। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বৃহৎ শেয়ারের মালিক। রিলায়েন্স ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির একটি এবং বাজার মূল্যের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি।[৫][৬] তিনি এই কোম্পানির ৪৪.৭% শেয়ারের মালিক।[৭] রিলায়েন্স মূলত শোধন, পেট্রোকেমিক্যাল, এবং তেল ও গ্যাস নিয়ে কাজ করে। রিলায়েন্সের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স রিটেল লিমিটেড, ভারতের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা।[৮]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মুকেশ ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ধীরুভাই অম্বানী এবং মাতা কোকিলাবেন অম্বানী। চার ভাইবোনের মধ্যে মুকেশ সর্বজ্যেষ্ঠ। তার ছোট ভাই অনিল আম্বানি এবং দুই বোন দীপ্তি সাল্গাওকার ও নিনা কোঠারি। আম্বানি পরিবার ১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত মুম্বইয়ের ভুলেশ্বরে বসবাস করত।[৯] ধীরুভাই পরবর্তীতে কলাবাতে "সি উইন্ড" নামে একটি ১৪ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় করেন। মুকেশ ও অনিল সেখানে তাদের পরিবারের সাথে কিন্তু ভিন্ন দুটি তলায় বাস করতেন।[১০]

মুকেশ মুম্বইয়ের পেদার রোডের হিল গ্রাঞ্জ হাই স্কুলে পড়াশুনা করেছেন। সেখানে তার ভাই অনিল এবং তার সহযোগী আনন্দ জৈনও তার সহপাঠী ছিলেন।[১১] তিনি ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি (ইউডিসিটি) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিই ডিগ্রি লাভ করেন।[১২] মুকেশ পরবর্তীতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ সম্পন্ন করতে ভর্তি হন কিন্ত তার পিতার রিলায়েন্স প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করতে তিনি এই প্রোগ্রাম শেষ না করেই চলে আসেন। রিলায়েন্স তখন ছোট কিন্তু দ্রুত বর্ধমান প্রতিষ্ঠান ছিল।[১৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

মুকেশ ১৯৮৫ সালে নীতা আম্বানির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই পুত্র ও এক কন্যা। বড় পুত্র অনন্ত আম্বানি এবং ছোট পুত্র আকাশ আম্বানি রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের কৌশলগত বিভাগের প্রধান। কন্যা ইশা আম্বানি জিও ও রিলায়েন্স রিটেলের বোর্ড মেম্বার।[১৪] তারা মুম্বইয়ে ব্যক্তিগত ২৭ তলা দালান "আন্তিলিয়া"য় বসবাস করেন। বাড়িটির মূল্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বাড়িটিকে এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল কয়েকটি বাড়ির একটি বলে উল্লেখ করা হয়।[১৫][১৬]

২০১৭ সালের মার্চে রাজদীপ সারদেশাইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুকেশ বলেন তার প্রিয় খাদ্য ইদলি সামবার এবং তার প্রিয় রেস্তোরাঁ হল মুম্বইয়ের কিং সার্কেলের মহীশুর ক্যাফে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সালে ইউডিসিটির ছাত্র থাকাকালীন মুকেশ মহীশুর ক্যাফেতে নিয়মিত খেতে যেতেন।[১৭][১৮]

৩১ মার্চ ২০১২ আর্থিক বছর সমাপ্তিকালে মুকেশ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান হিসেবে তার বার্ষিক পারিশ্রমিক ২৪০ মিলিয়ন রুপী ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই আর্থিক বছরে রিলায়েন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোট পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পেলেও তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এর ফলে তার বেতন টানা চতুর্থ বছরের মত ১৫০ মিলিয়ন রুপীতে রয়ে যায়।[১৯]

বৈভব ও প্রতিপত্তি[সম্পাদনা]

তিনি ধীরুভাই অম্বানী ও কোকিলাবেন অম্বানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং অনিল আম্বানির বড় ভাই। রিলায়েন্সের মাধ্যমে তিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মালিক। ২০১২ সালে ফোর্বস তাকে সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াদলের মালিক করে উল্লেখ করে।[২০][২১] তিনি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত বাড়ি আন্তিলিয়ায় বাস করেন। এই বাড়িটির মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[১৫][১৬] চীনের হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুসারে, ২০১৫ সালে আম্বানি ভারতীয় মানবহিতৌষীদের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন।[২২]

২০১৬ সালে তিনি ফোর্বস সাময়িকীর করা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় ৩৮তম স্থান অধিকার করেন, এবং এই তালিকায় তিনিই একমাত্র ভারতীয়।[২৩][২৪][২৫]

২০১৮ সাল পর্যন্ত আম্বানি টানা ১২ বছর এই সাময়িকীর তালিকায় ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি স্থান ধরে রাখেন।[২৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nolan, Jeannette। "Mukesh Ambani"এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  2. "The Rediff Business Interview/ Mukesh Ambani"। রেডিফ। ১৭ জুন ১৯৯৮। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. "Always invest in businesses of the future and in talent" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ। ১৭ জানুয়ারি ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  4. "Mukesh Ambani becomes Asia's richest person, overtakes China's Hui Ka Yan"দ্য ইকোনমিক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  5. "Mukesh Ambani :: RIL :: Reliance Group of Industries" (ইংরেজি ভাষায়)। রিলায়েন্স। ১৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  6. "FORTUNE Global 500 2011: Countries" (ইংরেজি ভাষায়)। সিএনএন। ২৪ জুলাই ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  7. Chu, Patrick; Ismail, Netty (৫ মার্চ ২০১২)। "Mukesh Ambani Backed by India Power Holdings Proves Asia's Top Billionaire"ব্লুমবার্গ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭Year 2012. 
  8. "Ambani tops retailer list, too"বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  9. "Reliance didn't grow on permit raj: Anil Ambani" (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ। ১১ মে ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  10. Yardley, Jim (২৮ অক্টোবর ২০১০)। "Soaring Above India's Poverty, a 27-Story Home"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  11. "Anand Jain: A bone of contention between the Ambani brothers" (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্ডিয়া টুডে। ১৭ জানুয়ারি ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  12. "Mukesh Ambani on his childhood, youth"Mukesh Ambani on his childhood, youth (ইংরেজি ভাষায়)। রেডিফ। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  13. "Always invest in businesses of the future and in talent– Interview with Mukesh Ambani, 2007"রেডিফ (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  14. "India's young billionaire heirs and heiresses" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  15. Magnier, Mark (২৪ অক্টোবর ২০১০)। "Mumbai billionaire's home boasts 27 floors, ocean and slum views"লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  16. Kwek, Glenda (১৫ অক্টোবর ২০১০)। "India's richest man builds first $1-billion home, Antilia,"দি এজ (ইংরেজি ভাষায়)। Melbourne। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  17. DMello, Yollande (১৬ অক্টোবর ২০১১)। "Number munching at Cafe Mysore" (ইংরেজি ভাষায়)। মিড ডে। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  18. Sardesai, Rajdeep। "Interview - Mukesh Ambani"ইউটিউব। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  19. "Mukesh Ambani forgoes Rs 23.82 crore from his pay package"দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া (ইংরেজি ভাষায়)। ৯ মে ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  20. Van Riper, Tom। "Mukesh Ambani in photos"ফোর্বস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  21. "Mumbai Indians owner Mukesh Ambani among richest sport owners" (ইংরেজি ভাষায়)। Cricic.com। ২০ জানুয়ারি ২০১০। Archived from the original on ১১ জানুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  22. Balachandran, Manu (৫ জানুয়ারি ২০১৫)। "India's biggest philanthropist is seven times more generous than the next"Quartz India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  23. "The World's Most Powerful People" (ইংরেজি ভাষায়)। ফোর্বস। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  24. "Mukesh Ambani" (ইংরেজি ভাষায়)। ফোর্বস। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  25. "फोर्ब्स की ताकतवर हस्तियों की सूची में मुकेश अंबानी एकमात्र भारतीय बिजनसमैन" (হিন্দি ভাষায়)। Navbharat Times। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬। 
  26. "Mukesh Ambani Rechest Among Indians" 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]