মিসেস সিরিয়াল কিলার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মিসেস সিরিয়াল কিলার
Mrs. Serial Killer
মিসেস সিরিয়াল কিলার - পোস্টার.png
মুক্তিপ্রাপ্ত পোস্টার
পরিচালকশিরিশ কুন্দার
প্রযোজক
রচয়িতাশিরিশ কুন্দার
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারশিরিশ কুন্দার
চিত্রগ্রাহক
  • রবি কে. চন্দ্রন
  • কিরণ দেওহানস
সম্পাদকশিরিশ কুন্দার
প্রযোজনা
কোম্পানি
থ্রি'স কোম্পানি প্রোডাকশন্স প্রাইভেট লিমিটেড
পরিবেশকনেটফ্লিক্স
মুক্তি
  • ১ মে ২০২০ (2020-05-01)
দৈর্ঘ্য১০৬ মিনিট
দেশভারত
ভাষাহিন্দি

মিসেস সিরিয়াল কিলার (ইংরেজি: Mrs. Serial Killer), ২০২০ সালের ভারতীয় হিন্দি ভাষার একটি অপরাধ থ্রিলার চলচ্চিত্র, এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন শিরিশ কুন্দার এবং প্রযোজনা করেছেন তার স্ত্রী ফারাহ খান। চলচ্চিত্রটিতে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, মনোজ বাজপেয়ী এবং মোহিত রায়না মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এছাড়াও আমির খানের ভাগ্নী জায়ান মেরির অভিষেক চলচ্চিত্র এটি।[১]

চলচ্চিত্রটিতে শিরোনাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। মে দিবসের সাথে মিল রেখে চলচ্চিত্রটি নেটফ্লিক্সে ১লা মে প্রকাশিত হয়েছিল।[২][৩] চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ ১৪ এপ্রিল অভিনেত্রী নিজেই একটি ভিডিওতে ঘোষণা করেছিলেন।[৪][৫] ভিডিওটি নেটফ্লিক্স ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা হয়েছিল।[৬][৭]

পটভূমি[সম্পাদনা]

মিসেস সিরিয়াল কিলার-এর একটি দৃশ্যে জ্যাকুলিন

চলচ্চিত্রটির কাহিনী শুরু হয়েছিল সোনা মুখার্জি (জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ) এর সাথে তার স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মুখার্জি ওরফে জয় (মনোজ বাজপেয়ী) এর একটি ভিডিও কল দিয়ে, যেখানে সোনা তাকে জানাচ্ছিল যে তিনি মা হতে চলেছেন। ভিডিও কল করার ঠিক পরমূহুর্তে ইন্সপেক্টর ইমরান শহীদ (মোহিত রায়না), যিনি সোনার প্রাক্তন প্রেমিকও ছিলেন, তিনি সিরিয়াল হত্যা মামলায় জয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করতে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। তবে সোনা মনে করেন যে, শাহীদ সোনার থেকে পূর্বেকার প্রতিশোধ নিতেই জয়কে দোষারোপ করছেন।

চলচ্চিত্রটির কাহিনীতে ধারাবাহিক হত্যার ঘটনাটি ছিল, শহর থেকে ৬ জন মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং তাদের মরদেহ জয়ের মালিকানাধীন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে পাওয়া যায়। নিখোঁজ সমস্ত মেয়ে অবিবাহিতা ও গর্ভবতী ছিল এবং তাদের গর্ভপাত করানো হয়েছিল এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। জয়ও একজন চিকিৎসক, তাই তাকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোনা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতো যে জয় নিরপরাধ এবং শহীদ তাকে মিথ্যে দোষারোপ করছেন। জয়কে কারাগারে দেখতে যাওয়ার পর জয় সোনাকে একজন বিখ্যাত আইনজীবী মি. রাস্তোগিকে (দর্শন জরিওয়ালা) সাহায্যের জন্য ডাকতে বলেন, যাকে তিনিও পূর্বে সাহায্য করেছিলেন। রাস্তোগি জয়ের জামিনের জন্য আবেদন করেন। তবে সমস্ত প্রমাণ জয়ের বিরুদ্ধে হওয়ায় আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেয়। তারপর রাস্তোগি সোনাকে অবৈধ পন্থায় জয়ের নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ করার পরামর্শ দেন - আগের ৬ জনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে আরো একজন মেয়েকে হত্যা করতে হবে, খুনটি জয় করেনি তা প্রমাণ করার জন্য।

সোনা একজন নিরীহ নারী এবং বেআইনী কিছু করতে মোটেও রাজি নয় সে, তবে জয়ের নির্দোষত্ব প্রমাণের আর কোন উপায় নেই বলে অগত্যা তাকে এই পরিকল্পনাই মেনে নিতে হয়। সোনা তার প্রতিবেশী, অবিবাহিতা গর্ভবতী মেয়ে অনুষ্কা তিওয়ারিকে (জায়ান মেরি) হত্যার জন্য বেছে নেয়। অনুষ্কার মৃত্যুর সংবাদ পুলিশের কাছে পৌঁছালে আদালত বিশ্বাস করে যে, জয় হত্যাকারী নয় এবং তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

জয় বাড়িতে ফেরার পর সোনা তাকে জীবিত অনুষ্কাকে দেখায়, যাকে সোনা এখনো তার কাছে বন্দী করে রেখেছে। তখন এটি উদ্ঘাটিত হয় যে, সোনা আসলে তাকে হত্যা করেনি, তবে একটি বেওয়ারিশ লাশকে অনুষ্কার মতো পোশাক পড়িয়ে হত্যার একটি মিথ্যে ঘটনা সাজিয়েছিল। এদিকে অনুষ্কার প্রেমিক সিড তাদের অনুসরণ করতে এসে দেখে যে, নিখোঁজ অনুষ্কা আসলে জীবিত আছে এবং তাকে জয়ের ক্লিনিকের একটি ঘরে বেঁধে রাখা হয়েছে। সিড অনুষ্কাকে মুক্ত করতে এবং বাঁচাবার চেষ্টা করে, কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে সে নিজেও আটকে যায়।

রাতে হঠাৎ সোনা জেগে উঠলে তার পাশে জয়কে খুঁজে না পেলে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সায় দেয় যে জয় ক্লিনিকে রয়েছে এবং অনুষ্কার সাথে কিছু করার চেষ্টা করছে। তাই সোনা তৎক্ষণাৎ গাড়িতে করে সেখানে যায় এবং অনুষ্কাকে হত্যার চেষ্টা করা অবস্থায় জয়কে খুঁজে পায়। সোনা তখন বুঝতে পারে যে, তার স্বামীই প্রকৃতপক্ষে ৬ জন মেয়েকে খুন করেছে এবং সে অনুষ্কাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জয় ছুড়ি দিয়ে টেবিলে তার হাতে আঘাত করায় সে ব্যর্থ হয়। সিডকেও জয় আটকে এবং বেঁধে রাখে, তবে সেখানে কী ঘটছে তা জানাতে শহীদের সাথে যোগাযোগ করতে তিনি সক্ষম হন। শহীদ তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হয়, কিন্তু জয় তাকেও কাবু করে বেঁধে রাখে। জয় তখন অনুষ্কাকে ঠিক তাদের সামনে রেখে গর্ভপাত ও অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করতে অগ্রসর হয়। শহীদ নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করে সফল হয় এবং জয়কে ছুরিকাঘাত করে অন্যদেরও বাঁচায়।

সোনা হাসপাতালে জেগে উঠে এবং শহীদকে তার পাশে দেখতে পায়। শহীদ সোনাকে জানায় যে অনুষ্কা তার বিরুদ্ধে মামলা করবে না, কেননা সে অনুষ্কার জীবন বাঁচিয়েছিল। জয়ও চিকিৎসকের সেবায় সুস্থ হয়ে উঠে, কিন্তু কেউ সচেতন হওয়ার আগেই হাসপাতাল থেকে সে পালিয়ে যায়।

কুশীলব[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Jacqueline Fernandez and Manoj Bajpayee's Netflix film Mrs Serial Killer to premiere on May 1"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৪-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  2. MumbaiApril 15, Press Trust of India; April 15, 2020UPDATED:। "Jacqueline Fernandez-starrer Mrs Serial Killer to premiere on May 1"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  3. "Jacqueline Fernandez, Manoj Bajpayee's Mrs Serial Killer to debut on 1 May; Netflix thriller directed by Shrish Kunder- Entertainment News, Firstpost"Firstpost (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৪-১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  4. "Watch: Manoj Bajpayee, Jacqueline Fernandez reveal premiere date of their Netflix film ' Mrs Serial Killer'"WION (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  5. "Mrs Serial Killer: Jacqueline Fernandez and Manoj Bajpayee's film to premiere on THIS date"PINKVILLA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  6. "Jacqueline Fernandez's 'Mrs Serial Killer' arrives May 1 on Netflix"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। PTI। ২০২০-০৪-১৫। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 
  7. "Netflix Sets May Release Date for Mrs. Serial Killer"NDTV Gadgets 360 (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]