মার্থা ফেরেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মার্থা ফেরেল
মার্থা ফেরেল.jpeg
জন্ম৫ জুন ১৯৫৯
মৃত্যু১৩ মে ২০১৫ (৫৫ বছর)
জাতীয়তাভারতীয়

মার্থা ফেরেল নাগরিক সমাজের একজন অনুরাগী নেত্রী ছিলেন, তিনি নারী অধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর তাঁর কাজের জন্য ভারত এবং বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান এবং সম্মানিত। ২০১৫ সালের ১৩ই মে তারিখে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি অতিথি বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে তিনি ছিলেন। হামলার সময় তিনি কাবুলে আগা খান ফাউন্ডেশনের সাথে লিঙ্গ প্রশিক্ষণ কর্মশালার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।[১][২][৩][৪]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মার্থা ফেরেল ১৯৫৯ সালের ৫ই জুন তারিখে ভারতের দিল্লিতে আইওনা এবং নোল ফেরেলের ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অধ্যয়ন করেছিলেন এবং দিল্লি স্কুল অফ সোশ্যাল ওয়ার্কে স্নাতকোত্তর করেছেন।[৪] তিনি ২০১৩ সালে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে পিএইচডি শেষ করেছেন।

পেশা[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৮১ সালে দিল্লিতে মহিলাদের স্বাক্ষরতা ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করে এমন একটি এনজিও অঙ্কুরের সাক্ষরতা কর্মী হিসাবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার দিকে তাঁর মনোনিবেশকে আরও কেন্দ্রীভূত করেছিলেন, যেখানে তিনি অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পদ্ধতিতে তাঁর আজীবন অনুশীলন শুরু করেছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি ক্রিয়েটিভ লার্নিং ফর চেঞ্জ-এর সহ প্রতিষ্ঠা করেন, যেটি একটি বেসরকারী সংস্থা, যেখানে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষাকর্মীদের জন্য শিখন উপকরণের গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং ডকুমেন্টেশন করা হয় উন্নয়ন পেশাদারদের সমন্বয়ে।

মার্থা ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পিআরআইএ (সোসাইটি ফর পার্টিসিটিভ রিসার্চ এশিয়া)-তে যোগদান করেছিলেন, যেটি তাঁর স্বামী ডা. রাজেশ ট্যান্ডন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে তিনি মূলধারার লিঙ্গ সম্পর্কিত পিআরআইএ প্রোগ্রামের পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি স্থানীয় প্রশাসনে নাগরিকদের সংযুক্ত হওয়া, মূলধারার লিঙ্গ প্রবণতা এবং যৌন হয়রানির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার তৃণমূল স্তরের মহিলা নেতাকর্মী এবং পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে, তিনি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক শাখার পিআরআইএ ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও বিকাশ করে দূরবর্তী শিক্ষার বিষয়ে পিআরআইএর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং কানাডার রয়েল রোডস বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্শ্বসময়ের শিক্ষকতাও করেছিলেন। এই সংস্থাগুলোতে লিঙ্গকে মূলধারায় আনার জন্য ১৯৯৯ সালে মার্থার ধর্মযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, অতঃপর কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিশাখা নির্দেশিকা তৈরি করেছিল।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তাঁর পেশাগত অবদানের পাশাপাশি, মার্থা 'পিআরআইএ'কে সমস্ত কর্মী এবং দর্শনার্থীদের জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সান্ত্বনার জায়গা করে তুলেছিলেন, যাতে তারা যত্নশীল শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে।[৪]

মার্থার দুর্দান্ত ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে জীবনের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যেকের সাথে সমানভাবে মিশে যাবার দক্ষতা ছিল। মার্থা ছিলেন একজন চিন্তাশীল বন্ধু, অন্যকে দুর্দান্ত সমর্থন এবং উপহার, দারুণ খাবার ও উষ্ণ আতিথেয়তা দানকারী।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Kabul Park Palace Hotel attack kills 14"। BBC News Asia। ১৪ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুলাই ২০১৮ 
  2. "Martha Farrell Memorial Fellowship"। ACU। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-২৯ 
  3. "Kabul terror victim went where others feared to go"। Times of India। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-২৯ 
  4. "Martha's Life"। MFF। ১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-১১-২৯