মানি ধর্ম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

মানি ধর্ম (ইংরেজী: Manichaeism, ফার্সি ভাষায় آیین مانی অইনে মনি; চীনা: 摩尼教; pinyin: Móní Jiào) হচ্ছে পৃথিবীতে প্রচলিত অন্যতম একটি ধর্ম যা সাসানিয়ান শাসনামলে ইরানী ধর্মপ্রচারক মানি (২১৬-২৭৬ খ্রিস্টাব্দ) প্রচার করেন।[১][২] মানি ধর্মে একটি দ্বৈত মহাবিশ্বের শিক্ষা বর্ণিত হয়েছে যেখানে ভালো (আলোকময় বিশ্ব) এবং মন্দ (অন্ধকারময় পৃথিবী) এর মধ্যে সঙ্ঘাতের কথা। এখানে বলা হয়েছে পৃথিবী একসময় অন্ধকারাছন্ন হয়ে যাবে এবং পূণরায় আলোর পথে ফিরে আসবে।[৩]

আরামীয়-সিরীয় ভাষাভাষী অঞ্চলে মানি ধর্ম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।[৪] তৃতীয় থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে এটি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে টিকে ছিলো। পূর্বে চীন এবং পশ্চিমে রোমান সাম্রাজ্য পর্যন্ত মানি ধর্মের প্রার্থনাগৃহ এবং ধর্মগ্রন্থ ছড়িয়ে পড়ে।[৫] পাশ্চাত্যের তুলনায় প্রাচ্যে মানি ধর্ম দীর্ঘদিন টিকে ছিলো। মানি ধর্মের মূল গ্রন্থসমূহ বিলীন হয়ে গেছে। এখন কিছু অনুবাদ এবং খন্ডিত পুঁথি পাওয়া যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মানি সাধুগণ তাদের ডেস্কে বসে লিখছেন, তারিম বাসিন, চীন

মানির জীবনী[সম্পাদনা]

মানি জন্মসূত্রে পারস্যের নাগরিক ছিলেন।[৬] তিনি ২১৬ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাসনাধীন[৭] মেসোপটেমিয়া (বর্তমান ইরাক) তে জন্মগ্রহন করেন। মানি ৭ টি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে ছয়টি সিরীয় আরামীয় ভাষায় লিখিত। সপ্তম গ্রন্থ সবুরাগান মধ্য পারস্যীয় ভাষায় লেখা।[৮]

মানি ধর্ম যখন বিস্তৃতি লাভ করছে তখন প্রচলিত ধর্মসমূহের মধ্যে জরথুস্ত্র ধর্ম তখনও জনপ্রিয় এবং খ্রিস্টান ধর্ম সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করা শুরু করেছে। স্বল্পসংখ্যক অনুসারী থাকা সত্বেও সেই সময়ে মানি ধর্ম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সমর্থন লাভ করে। পারস্য সম্রাটের সহায়তায় মানি ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তী পারস্য সম্রাটের সমর্থন লাভে মানি ব্যর্থ হন। মানিকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়। ধারণা করা হয় ২৭৬-২৭৭ খ্রিস্টাব্দে মানি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[৭]

প্রেরণা[সম্পাদনা]

মানি বিশ্বাস করতেন বুদ্ধ, জরথুস্ত্র এবং যীশুর শিক্ষা অসম্পূর্ণ। তার মতবাদ সমগ্র পৃথিবীর জন্য, তিনি তার শিক্ষাকে আলোর ধর্ম নামে অভিহিত করতেন।[৭]

বিস্তৃতি[সম্পাদনা]

বর্তমান সময়ে[সম্পাদনা]

চীনের জিংজিয়াং এবং ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু স্থান সংরক্ষন করা হয়েছে।[৯][১০] ক্যাওয়ান মন্দির হচ্ছে একমাত্র পূর্ণ ম্যানিকাইয়ান ভবন, যদিও এটা পরবর্তীতে বৌদ্ধবাদের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।[১১]:256–257 কিছু কিছু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী এখনো এই ধর্মবিশ্বাসকে অনুসরণ করে চলেছে।[১২][১৩][১৪][১৫]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Manichaeism"। Encyclopedia Britannica। সংগৃহীত ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩ 
  2. "Manichaeism"। New Advent Encyclopedia। সংগৃহীত ৪ অক্টোবর ২০১৩ 
  3. Widengren, Geo Mesopotamian elements in Manichaeism (King and Saviour II): Studies in Manichaean, Mandaean, and Syrian-gnostic religion, Lundequistska bokhandeln, 1946.
  4. Jason BeDuhn; Paul Allan Mirecki (২০০৭)। Frontiers of Faith: The Christian Encounter With Manichaeism in the Acts of Archelaus। BRILL। পৃ: 6–। আইএসবিএন 978-90-04-16180-1। সংগৃহীত ২৭ আগস্ট ২০১২ 
  5. Andrew Welburn, Mani, the Angel and the Column of Glory: An Anthology of Manichaean Texts (Edinburgh: Floris Books, 1998), p. 68
  6. 1) Mary Boyce, "Zoroastrians: their religious beliefs and practices", Routledge, 2001. pg 111: "He was Iranian, of noble Parthian blood..." 2) Warwick Ball, "Rome in the East: the transformation of an empire ", Routledge, 2001. pg 437: "Manichaeism was a syncretic religion, proclaimed by the Iranian Prophet Mani.. 3) Sundermann, Werner, "Mani, the founder of the religion of Manicheism in the 3rd century AD", Encyclopaeia Iranica, 2009. Sundermann summarizes the available sources thus: "According to the Fehrest, Mani was of Arsacid stock on both his father’s and his mother’s sides, at least if the readings al-ḥaskāniya (Mani’s father) and al-asʿāniya (Mani’s mother) are corrected to al-aškāniya and al-ašḡāniya (ed. Flügel, 1862, p. 49, ll. 2 and 3) respectively. The forefathers of Mani’s father are said to have been from Hamadan and so perhaps of Iranian origin (ed. Flügel, 1862, p. 49, 5–6). The Chinese Compendium, which makes the father a local king, maintains that his mother was from the house Jinsajian, explained by Henning as the Armenian Arsacid family of Kamsarakan (Henning, 1943, p. 52, n. 4 = 1977, II, p. 115). Is that fact, or fiction, or both? The historicity of this tradition is assumed by most, but the possibility that Mani’s noble Arsacid background is legendary cannot be ruled out (cf. Scheftelowitz, 1933, pp. 403–4). In any case, it is characteristic that Mani took pride in his origin from time-honored Babel, but never claimed affiliation to the Iranian upper class."
  7. John Kevin Coyle (১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯)। Manichaeism and Its Legacy। BRILL। পৃ: 13–। আইএসবিএন 978-90-04-17574-7। সংগৃহীত ২৭ আগস্ট ২০১২ 
  8. Middle Persian Sources: D. N. MacKenzie, Mani’s Šābuhragān, pt. 1 (text and translation), BSOAS 42/3, 1979, pp. 500–34, pt. 2 (glossary and plates), BSOAS 43/2, 1980, pp. 288–310.
  9. 明教在温州的最后遗存 – 温州社会研究所[অকার্যকর সংযোগ]
  10. "崇寿宫记"। Cxsz.cixi.gov.cn। ২০১২-১০-০৮। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১৪ 
  11. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; SNC Lieu নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  12. "Central Manichaean Temple"। Manichaean.org। ২০১৪-০৬-২০। সংগৃহীত ২০১৪-০৮-২৭ 
  13. "Manichaeism, Esoteric Buddhism and Oriental Theosophy" (PDF)। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১৪ 
  14. (2011-06-14 21:01:40) (২০১১-০৬-১৪)। "天书降世 弥勒古佛说风轮真经全卷_龙华会聚原人_新浪博客"। Blog.sina.com.cn। সংগৃহীত ২০১৪-০২-১৪ 
  15. "Neo-Manichaeanism: Questions and Answers"। Oocities.org। সংগৃহীত ২০১৪-০৮-২৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

নিবন্ধ[সম্পাদনা]