মানকুমার বসু ঠাকুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মানকুমার বসু ঠাকুর
মানকুমার বসু ঠাকুর.jpg
মানকুমার বসু ঠাকুর
জন্ম২৮ আগস্ট, ১৯২০
মৃত্যু২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩
জাতীয়তাভারতীয়
পরিচিতির কারণনৌ-বিদ্রোহের নেতা
আন্দোলনব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন

মানকুমার বসু ঠাকুর (জন্ম: ২৮ আগস্ট, ১৯২০- মৃত্যু:২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও ভারতীয় নৌবিদ্রোহের শহীদ।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

তার পিতা ভূপতিমোহন এবং মাতা হেমপ্রভা। মানকুমার বসুঠাকুরের আদি নিবাস ঢাকা মালখানগার। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল থেকে ১৯৩৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ঢাকা জগন্নাথ কলেজে পড়ার সময় রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন। পরিবারের অমতে কলেজ ছেড়ে ব্রিটিশ নৌ-বাহিনীতে যোগ তিনি। ভারতীয় উপকূল রক্ষা বাহিনীর ১৩ টি বিভাগীয় পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকার করেছিলেন।[১]

বিদ্রোহে যোগ[সম্পাদনা]

১৯৪২ এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন ও নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'দিল্লী চলো' আহবানে সৈন্যশিবিরে দেশীয় সিপাইদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আজাদ হিন্দ বাহিনীর গোপন বিভাগের সাথে যোগাযোগ হলে দেশী সিপাইদের মধ্যে বিদ্রোহের চেতনা জাগিয়ে তোলেন মানকুমার। তারই নেতৃত্বে গোলন্দাজ বাহিনীর সৈন্যরা সঞ্চিত গোলাবারুদ গোপনে সমুদ্রে ফেলে দিতে থাকে। ইংরেজ ও দেশী সৈন্যদের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব ও আনুষঙ্গিক নানা অব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ ধ্বনিত হয়। চতুর্থ মাদ্রাজ উপকূল বাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহের বীজ আছে এই অভিযোগে ১৮ এপ্রিল ১৯৪৩ তারিখে সামরিক পুলিশ মানকুমার সহ বারো জনকে গ্রেপ্তার করে।[১]

বিচার[সম্পাদনা]

যুদ্ধে বাধাসৃষ্টি, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে প্ররোচনা ও বিদ্রোহের অপরাধে ৫ আগস্ট ১৯৪৩ মানকুমার বসুঠাকুর ও আরো ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়। বাকি তিনজনের মধ্যে আবদুল রহমান ও রবীন্দনাথ ঘোষের দ্বীপান্তর এবং অনিলকুমার দে'র সাত বছর কারাদন্ড হয়েছিল।

ফাঁসি[সম্পাদনা]

২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৩ মানকুমার ও বাকি সাথীরা 'বন্দে মাতরম' স্লোগান দিয়ে মাদ্রাজ দুর্গে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ৪১২। আইএসবিএন 81-85626-65-0 
  2. whos'e who of the Indian Martyrs Vol I, P. N. Chopra (২০১৬)। Basu Thakur, Man kumar। Publications Division Ministry of Information & Broadcasting.।