মহাকাশযান বহনকারী বিমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মহাকাশযান বহনকারী বিমান
নাসার মহাকাশযান বহনকারী বিমান ৯০৫ (সামনে) এবং ৯১১ (পেছনে)
ভূমিকা আউটসাইজ কার্গো ফ্রেইট এয়ারক্রাফট
নির্মাতা বোয়িং
প্রবর্তন ১৯৭৭
অবসর ২০১২
অবস্থা অবসরপ্রাপ্ত
মুখ্য ব্যবহারকারী নাসা
বোয়িং
নির্মিত সংখ্যা
উন্নয়নকৃত বোয়িং ৭৪৭-১০০

মহাকাশযান বহনকারী বিমান হল বোয়িং ৭৪৭ মডেলের ব্যাপকভাবে উন্নয়নকৃত দুইটি বিমান, যেগুলো মহাকাশযান বহনের কাজে ব্যবহৃত হত। এদের একটি ৭৪৭-১০০ মডেলের এবং আরেকটি হল ৭৪৭-১০০এসআর মডেলের।

মহাকাশযান বহনকারী বিমানগুলো মহাকাশযানগুলোকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের শাটল ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি থেকে বহন করে উৎক্ষেপণ স্থলে নিয়ে যেত। মহাকাশযানগুলো মহাকাশযান বহনকারী বিমানের ওপরে মেট-ডিমেট ডিভাইসের সাহায্যে বসানো হত। মেট ডিমেট ডিভাইস হল গ্যান্ট্রির মত একটি স্থাপনা যা মহাকাশযানগুলোকে ভূপৃষ্ঠের উপরে উঠিয়ে মহাকাশযান বহনকারী বিমানকে মহাকাশ পরিবহনে সহায়তা করত।

মহাকাশযান বহনকারী বিমান ১৯৭৭ সালে প্রথমবারের মত মহাকাশযান বহন করে। এর মাধ্যমে উৎক্ষেপণকারী প্রথম মহাকাশযানের নাম হল স্পেস শাটল এন্টারপ্রাইজ[১]

নকশা ও উন্নয়ন[সম্পাদনা]

লকহিড সি-৫ গ্যালাক্সিকে নাসা মহাকাশযান বহন করার কাজে ব্যবহার করার জন্য চিন্তাভাবনা করলেও তারা বোয়িং ৭৪৭ কে মহাকাশযান বহনের কাজে বিবেচনা করে। এর কারণ হল, বোয়িং ৭৪৭ এর পাখা সি-৫ এর পাখা থেকে নিচু এবং মার্কিন বিমানবাহিনী পুনরায় সি-৫ ব্যবহার করার সম্ভবনা ছিল আর অন্যদিকে নাসা খুব সহজেই বোয়িং ৭৪৭ ব্যবহার করতে পারত।

১৯৭৮ সালে মহাকাশযান বহনকারী বিমান এন৯০৫এনএ, ১৯৭৮ সালে মার্কিন এয়ারলাইন্সের আবরণে "এন্টারপ্রাইজ" এর সাথে।

প্রথম বিমান বোয়িং ৭৪৭-৯২৩ এন৯০৫এ নামে নিবন্ধিত হয়, যেটি তৈরি করা হয়েছিল মার্কিন এয়ারলাইন্সের জন্য। সত্তরের দশকে "এন্টারপ্রাইজ" নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময়ে এর গায়ে ছিল মার্কিন এয়ারলাইন্সের লেবাস। এটি ১৯৭৪ সালে অধিগত হয় এবং শুরুর দিকে ঘূর্ণি বাতাস নিয়ে গবেষণার কাজে নাসার ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্রে ব্যবহৃত হত। এছাড়া, এটি এফ-১০৪ এর একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নেও ব্যবহৃত হয়েছিল।

১৯৭৬ সালে বিমানটি নাসার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করে বোয়িং।[২] এর প্রথম শ্রেণীর আসনগুলো নাসার যাত্রীদের জন্য রাখা হলেও এর মূল ও ভিতরের আসনগুলো বসার জন্য রাখা হয়েছিল না।[৩] অধিরোহী ভাররক্ষাকারী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ও বিমানদেহ শক্তিশালী করা হয়েছিল। উল্লম্ব স্থিররক্ষাকারী লেজের দিকে দেওয়া হয়েছিল যা মহাকাশযান বহনে সহায়ক ভূমিকা পালন করত। এর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনের আধুনিকায়ন করা হয়েছিল এবং প্রথম দিককার বোয়িং ৭৪৭ এর মত জরুরি অবস্থার জন্য গোপন সুরঙ্গ যোগ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর এটি বাদ দেওয়া হয় কেননা, এটি পুরোপুরিভাবে নিরাপদ ছিল না বলে গণ্য হয়েছিল।

আটলান্টিসের সাথে মহাকাশযান বহনকারী বিমান, ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্র।

প্রতিবন্ধক নিয়ে উড্ডয়ন এবং মহাকাশযানের ভরের দরুন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার করা ছাড়াও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হত। এর যাত্রাকালীন পথ কমিয়ে ১,০০০ নটিক্যাল মাইল (১,২০০ মা; ১,৯০০ কিমি) আনা হয়, যার ৫,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৬,৩০০ মা; ১০,২০০ কিমি) পথ ছিল ভারমুক্ত যাত্রা এবং আন্তঃমহাদেশীয় যাত্রার সময় জ্বালানি নেবার জন্য মহাকাশযান বহনকারী বিমানকে কয়েকবার থামতে হত।[৪] মহাকাশযান ছাড়াও এর ভারকেন্দ্র ঠিক রাখার জন্য একে বোঝা বহম করতে হত।[৩] মহাকাশযান বহনকারী বিমানের ছাদের উচ্চতা ১৫,০০০ ফুট (৪,৬০০ মি) ও মহাকাশযান যোগ করা হলে শব্দের ৬০% বেগে যাত্রা করার সক্ষমতা অর্জন করত।[৪] ১৭০ জনের একদল ক্রু মহাকাশযান ও মহাকাশযান বহনকারী বিমানটিকে উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।[৫]

মার্কিন এয়ারলাইন্সের লেবাসহীন মহাকাশযান বহনকারী বিমান "কলম্বিয়া" মহাকাশযান বহন করে নিয়ে যাচ্ছে, ১৯৯০ সালে কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্রের যান সমাবেশ ভবনের পাশে।

উড্ডয়নকালীন সময়ে মহাকাশযান বহনকারী বিমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গবেষণা করা হয়। তখন, বোয়িং ই-৪ (বোয়িং ৭৪৭-২০০ এর উন্নত রূপ) ও ইরানি বিমানবাহিনীর জন্য তৈরি বোয়িং ৭৪৭ ট্যাংকার পরিবহন তৈরি করা হয়েছিল। ট্যাংকার এয়ারক্রাফট নিয়ে উড্ডয়নের পর জ্বালানি সরবরাহের সময় মহাকাশযান বহনকারী বিমানের পিছনের দিকে কিছু ফাটলের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা ঘটার পর গবেষকগণ অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। উড্ডয়নকালীন সময়ে জ্বালানি সরবরাজ নিয়ে তাড়া না থাকায় এই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

ড্রাইডেন উড্ডয়ন কেন্দ্রের ওপরে "চ্যালেঞ্জার" মহাকাশযান নিয়ে মহাকাশযান বহনকারী বিমান, ১৯৮২

১৯৮৩ সালের পর মহাকাশযান বহনকারী বিমান মার্কিন এয়ারলাইন্সের তিন রঙের লেবাস ধারণ করে নি। নাসা মহাকাশযান বহনকারী বিমানে নিজেদের লেবাস দেয় যার কাঠামো দেয় যাতে সাদা রঙের কাঠামোর সাথে নীল রঙের দাগ দেওয়া হয়।[৬] সে বছর মহাকাশযান বহনকারী বিমান "এন্টারপ্রাইজ" মহাকাশযান নিয়ে ইউরোপ গমন করে এবং কানাডার গুজ বে, আইসল্যান্ডের কেফ্লাভিক, যুক্তরাজ্যপশ্চিম জার্মানিতে জ্বালানি নেবার জন্য থামে। এটি তখন প্যারিস এয়ার শোতে অংশ নিয়েছিল।[৭]

১৯৮৮ সালে "চ্যালেঞ্জার দুর্ঘটনা"র পর নাসা জাপান এয়ারলাইন্সের নিকট থেকে একটি অতিরিক্ত ৭৪৭এসআর-৪৬ গ্রহণ করে। এটি এন৯১১এনএ নামে নিবন্ধিত হয় এবং এন৯০৫এনএর মত উন্নয়ন করার পর এটি ১৯৯০ সালে নাসায় প্রবেশ করে। এটি প্রথমবারের মত ব্যবহৃত হয় "এনডেভার নভোখেয়াযান পরিবহনের ক্ষেত্রে। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেল থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে নভোখেয়াযানটিকে বহন করে এনেছিল।

মহাকাশযানের উপরে থাকা রসাত্মক টীকা যা টেকনিশিয়ানদের মহাকাশযানটিকে কিভাবে মহাকাশযান বহনকারী যানের সাথে সংযুক্ত করতে হবে মনে করিয়ে দেয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির[৩] অধীন ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্রে উন্নয়ন ঘটলেও এই দুইটি বিমানকে আলাদা করা যায়। এন৯১১এনএতে দুপাশে পাটাতনের উপরে পাঁচটি করে জানালা থাকল্র এন৯০৫এনএতে দেখা যায় দুটি করে। দুইটি বিমানের পিছন দিকের উঁচু স্থানে হাস্যরসাত্মকভাবে "এখানে মহাকাশযান সংযুক্ত করতে" বা "এখানে মহাকাশ যান রাখতে" বলা হলেও "কালো অংশ নিচে রাখুন" নির্দেশিকা দেখে আলাদা করা যায়।[৮][৯]

যুক্তরাজ্য, স্পেনফ্রান্সের ক্ষেত্রে মহাকাশযান বহনের ক্ষেত্রে অন্য মহাকাশযান অবতরণ স্থলের ক্ষেত্র পরিচালনা করা যায়। মহাকাশযান বহনকারীর উড্ডয়ন সীমা কমে আসার দরুন ভর কমানোর জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি (যেমন মহাকাশযান থেকে অতিরিক্ত ভর কমানো) গ্রহণ করা হতে পারে।[১০]

মসীবর্ণ ছায়া পরিলেখের সাহায্যে বিভিন্ন মহাকাশযান নিয়ে মহাকাশযান বহনকারী বিমানের পরিবহন উড্ডয়ন, মহাকাশযানবিহীন খালি উড্ডয়ন ও ফ্যান্টম রে নিয়ে উড্ডয়ন নির্দেশ করা হয়েছে।

বোয়িং বিশেষ মহাকাশযান বহনকারী বিমানের সাহায্যে এর ফ্যান্টম রে বিমান (মনুষ্যবিহীন আকাশযান) মিসৌরির সেন্ট লুইস থেকে এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে বহন করে আনে ২০১০ সালের ১১ ডিসেম্বরে।[১১]

মহাকাশযান বহন করে উড্ডয়ন[সম্পাদনা]

মহাকাশযান বহন করে হওয়া উড্ডয়নগুলো সাধারণত এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি (মহাকাশযানের অতিরিক্ত অবতরণ স্থল) থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের আকাশযান অবতরণ স্থল পর্যন্ত সংঘটিত হত, যেখানে মহাকাশযান তৈরি হত। শুরুর দিকে মহাকাশযান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক ছিল যখন আকাশযান অবতরণ স্থলের আবহাওয়া উড্ডয়নের জন্য প্রতিকূল ছিল। কিছু যাত্রা ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলের রকওয়েল ইন্টারন্যাশনাল থেকে নাসায় মহাকাশযান পৌঁছানোর পর ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্র থেকে সংঘটিত হত।[১২]

মহাকাশযান উড্ডয়ন শেষ হবার পর মহাকাশযান বহনকারী বিমান অবসরপ্রাপ্ত মহাকাশযানগুলোকে কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে যাদুঘরে স্থানান্তর করত। ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলির স্মিথসোনিয়ান ইন্সটিটিউশনের জাতীয় আকাশ ও মহাকাশ যাদুঘরের উডভার-হ্যাজি কেন্দ্রে "ডিসকাভারি" স্থানান্তরিত হয়েছিল। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ডিসকাভারি নাসা টি-৪৮ ট্যালন অনুসারী বিমানের সাহায্যে মহাকাশযান বহনকারী বিমানের উপরে অবস্থাব করে উড্ডয়ন করেছিল। এটি ছিল ডিসকাভারির শেষ উড্ডয়ন। মহাকাশযান বহনকারী বিমান ও ডিসকাভারি ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সকাল দশটার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং সকাল এগারোটার দিকে ভার্জিনিয়ার ডালিসে পৌঁছেছিল। এই উড্ডয়ন ও অবতরণ গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করে।

এর শেষ উড্ডয়নে এনডেভার নভোখেয়াযানকে কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে যায়। এই উড্ডয়নে এলিংটন ক্ষেত্র ও এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এডওয়ার্ডস ত্যাগ করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার সাক্রামেন্টো থেকে সান ফ্রান্সিসকো বিমানপথ জুড়ে কম উচ্চতায় উড়ে শেষে পৌঁছেছিল লস অ্যাঞ্জেলেসে। "এনডেভার"কে লশ অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। এরপর এটি লস অ্যাঞ্জেলেস ও ইংলেউডের সড়কপথের মাধ্যমে এটিকে এর সর্বশেষ গন্তব্য ক্যালিফোর্নিয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রদর্শনী উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়।

অবসর গ্রহণ[সম্পাদনা]

ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলের জো ডেভিস হেরিটেজ এয়ারপার্কে এন৯১১এনএ, জুন ২০১৫

মহাকাশযান বহনকারী এন৯১১এনএ ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটির ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্রে সর্বেশেষ কাজ সম্পাদন করার পর অবসর গ্রহণ করে। এটি স্ট্রাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমির বিমানের যন্ত্রাংশের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, যেটি ছিল বোয়িং ৭৪৭ এর একটি উন্নত সংস্করণ।[১৩] নাসার সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে এন৯১১এনএ বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেলের জো ডেভিস হেরিটেজ এয়ারপার্কে সংরক্ষিত আছে এবং সেটি সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে।[১৪][১৫]

নকল মহাকাশযান "ইন্ডিপেন্ডেন্স" এর সাথে এন৯০৫এনএ, হাউস্টন মহাকাশ কেন্দ্রে।

মহাকাশযান বহনকারী এন৯০৫এনএ অবসর গ্রহণকারী মহাকাশযানগুলো যাদুঘরে স্থানান্তর করার কাজে ব্যবহৃত হত। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এনডেভার পরিবহন করে আনার পর এটি ড্রাইডেন উড্ডয়ন গবেষণা কেন্দ্রে ফিরে আসে। নাসা এটিকে এন৯০৫এনএর মত স্ট্রাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমির বিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য বিবেচনা করে।[১৩][১৬] কিন্তু, নাসার প্রকৌশলীরা সমীক্ষা চালানোর পর বুঝতে পারলেন যে এর অল্পকিছু যন্ত্রাংশ স্ট্রাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমির বিমানে ব্যবহৃত করা যেতে পারে। ২০১৩ সালে এন৯০৫এনএকে হাউস্টন মহাকাশ কেন্দ্রে সংরক্ষণ ও নকল মহাকাশযান "ইন্ডিপেন্ডেন্স" এর সাথে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।[১৭] এন৯০৫এনএ ইলিংটন ক্ষেত্র অভিমুখে উড্ডয়ন করে। এখানে এর ইতি ঘটে ও সাত খণ্ডে বিভক্ত হয় (এ প্রক্রিয়া দ্য বিগ মুভ নামে পরিচিত। এরপর, সাত টুকরা জড় করা হয় ও ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নকল মহাকাশযানের সাথে যুক্ত করা হয়।[১৮] এটি ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ তে জনসাধারণের সামনে প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং স্থানটির নাম দেওয়া হয় ইন্ডিপেন্ডেন্স প্লাজা।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

SCA 3-view schematic

বোয়িং ৭৪৭-১০০ এর বর্ণনা[১৯] জেনকিন্স ২০০০[৪] থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলো হল:

সাধারণ বৈশিষ্ট্য

  • বৈমানিক: ৪: বৈমানিক, সহবৈমানিক, ২ জন উড্ডয়ন প্রকৌশলী (মহাকাশযান বহন না করলে ১ জন প্রকৌশলী)
  • দৈর্ঘ্য: ২৩১ ফুট ৪ ইঞ্চি (৭০.৫ মিটার)
  • উইংস্প্যান: ১৯৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (৫৯.৭ মিটার)
  • উচ্চতা: ৬৩ ফুট ৫ ইঞ্চি (১৯.৩ মিটার)
  • ডানার আয়তন: ৫,৫০০ ফুট (৫১০ মিটার)
  • খালি অবস্থায় ওজন: ৩,১৮,০০০ পাউন্ড (১,৪৪,২০০ কেজি)
  • সর্বোচ্চ্য উড্ডয়নক্ষম ওজন: ৭,১০,০০০ পাউন্ড (৩,২২,০০০ কেজি)
  • শক্তির উৎস: ৪ × প্র‍্যাট অ্যান্ড হুইটনি জেটি৯ডি টার্বোফ্যান, ৫০,০০০ পাউন্ড (২২২ কিলোনিউটন) each

কর্মক্ষমতা

  • ক্রুজ গতি: শব্দের ০.৬ গুণ (মহাকাশযান সহ) (২৫০ নটস ইন্ডিকেটেড এয়ারস্পিড)
  • রেঞ্জ: ১,১৫০ মাইল (১০০০ নটিক্যাল মাইল, ১,৮৫০ কিলোমিটার) মহাকাশযান বহনের সময়
  • সার্ভিস সিলিং: ১৫,০০০ ফুট (৪,৫০০ মিটার) (মহাকাশযান সহ)

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. NASA - Dryden Flight Research Center (১৯৭৭)। "Shuttle Enterprise Free Flight"। NASA। মার্চ ৭, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২৮, ২০০৭ 
  2. Jenkins 2000, pp. 36-38.
  3. Brack, Jon (২০১২-০৯-১৭)। "Inside the Space Shuttle Carrier Aircraft"। National Geographic। সংগ্রহের তারিখ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১২ 
  4. Jenkins 2000, pp. 38-39.
  5. Felix Gilette (৯ আগস্ট ২০০৫)। "How Does the Space Shuttle Fly Home?"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-০১ 
  6. Comparison of photos taken in 1982 and 1983 at Airliners.net
  7. http://www.slate.com/id/2124238/
  8. 2003 Edwards Air Force Base Air Show, see Shuttle Carrier images.
  9. Shuttle Carrier Aircraft N911NA album on Photobucket
  10. "Space Shuttle Transoceanic Abort Landing (TAL) Sites" (PDF)। National Aeronautics and Space Administration। ডিসেম্বর ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৭-০১ 
  11. Boeing Phantom Ray to catch shuttle ride at Lambert
  12. "STS Chronology"। NASA। 
  13. NASA's Shuttle Carrier Aircraft 911's Final Flight
  14. Gibbs, Yvonne (সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৪)। "Final Journey: SCA 911 on Display at Davies Airpark"NASA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ জুন ১৫, ২০১৮ 
  15. Gibbs, Yvonne (সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৪)। "NASA Armstrong Fact Sheet: Shuttle Carrier Aircraft"NASA (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ জুন ১৫, ২০১৮ 
  16. [১] A graphic history of 35 years of space shuttle ferry flights now adorns the upper forward fuselage of NASA Shuttle Carrier Aircraft 905. (NASA / Tony Landis)
  17. Houston’s Shuttle Gets New Name, Familiar Ride
  18. SpaceDaily, "Shuttle replica lifted and put on top of 747 carrier", Brooks Hays (UPI), 2014-08-14
  19. Boeing 747-100 Technical Specifications, Boeing

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

  • জেনকিন্স, ডেনিস আর. বোয়িং ৭৪৭-১০০/২০০/৩০০/এসপি (এয়ারলাইনারটেক সিরিজ, ষষ্ঠ খণ্ড)। স্পেশালিটি প্রেস, ২০০০ আইএসবিএন ১-৫৮০০৭-০২৬-৪
  • জেনকিন্স, ডেনিস আর. স্পেস শাটল: দ্য হিস্ট্রি অব দ্য ন্যাশনাল স্পেস ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম - দ্য ফার্স্ট ১০০ মিশনস, তৃতীয় সংস্করণ। মিডল্যান্ড প্রকাশনী, ২০০১ আইএসবিএন ০-৯৬৩৩৯৭৪-৫-১

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]