মণিলাল নাগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মণিলাল নাগ
Pandit Manilal Nag.jpg
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম নামমণিলাল নাগ
জন্ম১৬ আগস্ট ১৯৩৯
উদ্ভববাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
ধরনহিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সংগীত
পেশাসেতার বাদক, কণ্ঠশিল্পী
বাদ্যযন্ত্রসমূহসেতার

মণিলাল নাগ (জন্ম: ১৬ আগস্ট ১৯৩৯[১]) তিনি হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সংগীতের বাংলার বিষ্ণুপুর ঘরানা বাদ্যযন্ত্র শিল্পী, তিনি সেতারবাদক ছাড়াও একজন সঙ্গীতজ্ঞ

প্রারম্ভিক জীবন ও সঙ্গীত জীবন[সম্পাদনা]

মণিলাল নাগ বাঁকুড়ায় এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[২] পরে তারা উত্তরপাড়ায় চলে আসেন। উত্তরপাড়া এক সময় সাংস্কৃতিক শহর বলা হত, অনেক বড় বড় মানুষেরে উত্তরপাড়ায় পায়ের ধুলো দিয়েছেন যেমন মধুসূদন দত্ত, রাজা রাম মোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ডাঃ বি.সি. রায়। তার পিতা গোকুল নাগ একজন সংগীত শিক্ষক হিসাবে জমিদার বাড়ীতে থাকতেন এবং তাদের শিশুদের সংগীত শিক্ষা প্রদান করতেন। তিনি সব ধরনের যন্ত্র বাজাতে পারতেন যেমন বীণা, সুরবাহার, এসরাজ, সেতার, সরোদ, তবলা, তবলা তরঙ্গ, হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গ, নাস্তরঙ্গ, কস্তুরতরঙ্গ (কাঠের তৈরি),ইত্যাদি। তার গুণগান শুনে বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর উত্তরপাড়া গিয়েছিলেন এবং তার বাজনা শুনে মোহিত হয়ে অনুরোধ করেছিলেন, "দয়া করে আমার দলে সঙ্গীত রচয়িতা হিসাবে যোগদান করুন।"[২]

ছোটবেলা থেকে মণিলাল নাগ তার পিতার কাছ থেকে সেতার বাজাতে শেখেন।[৩] ১৯৫৩ সালের সর্বভারতীয় সংগীত সম্মেলনে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে করেন, তাকে তবলায় সঙ্গ দিতে উপস্থিত ছিলেন সমতা প্রসাদ। তার ঠিক এক বছর পর থাকে অর্থাৎ ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় সংগীত ও আকাশবাণী সংগীত সম্মেলনে বহুবার সঙ্গীতানুষ্ঠান করছেন। পরবর্তীকালে, তিনি বহুবার দেশ তথা বিদেশে সঙ্গীতানুষ্ঠান করেন। ১৯৭৩ সালে, তিনি আইসিসিআর (ভারত সরকার) কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে আমন্ত্রণ সঙ্গীতানুষ্ঠান করেন। ১৯৭৯ সালে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের ১৫০ তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান, ভারত মহাসাগর আর্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে ভারত সরকার সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের অংশ হিসাবে অংশগ্রহণ করেন। একবার কলকাতায় একটি সাক্ষাত্কারে ওস্তাদ বিলায়েত খাঁ বলেছিলেন, "ভারতবর্ষের সেতার ঘরানার একমাত্র পরিবার হল নাগ পরিবার।"[৪] তিনি ২০০৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আইটিসি সংগীত গবেষণা একাডেমির ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক বিভাগের সাথে যুক্ত ছিলেন।[৫]

পুরস্কারসমূহ[সম্পাদনা]

  • ২০০১ সালে মণিলাল নাগ সংগীত নাটক একাডেমি পুরস্কার।
  • ২০০৫ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে সিনিয়র ফেলোশিপ পুরষ্কার।
  • ২০০৮ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি, কলকাতা থেকে সম্মানিত স্বর্ণপদক লাভ করেন।
  • ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক আলাউদ্দিন পুরস্কর প্রদান করেন।
  • ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বঙ্গ বিভূষণ এবং সংগীত মহাসম্মান পুরস্কার।

এ ছাড়া তিনি আইটিসি সংগীত সম্মান, ডোভারলেন সংগীত সম্মান, চণ্ডীগড়ের প্রচার কলা কেন্দ্রের কোসার পুরস্কার, মুম্বাইয়ের সংগীত রত্ন পুরষ্কার এবং নয়াদিল্লির ভিস্তাস পুরষ্কার পেয়েছেন।

গানের অ্যালবাম[সম্পাদনা]

মণিলাল নাগ গানের অনেকগুলি অ্যালবাম খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। অ্যালবামের কয়েকটি শিরোনাম নিচে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • রাগাস জোগ, ভৈরবী (রে স্পিগেল, তবলা): রাগ রেকর্ডস ২১৫
  • রাগ ললিত (আনন্দ গোপাল বন্দোপাধ্যায়, তবলা): রাগ রেকর্ডস ২১৩
  • উত্তর ভারতের ধ্রুপদী সংগীত - রাগ সুহা কানদা (মহাপুরুষ পুরুষ, তবলা): কোচ ওয়ার্ল্ড মিউজিক লাইব্রেরি কেআইসিসি ৫১১১; কিং রেকর্ডস (জাপান) K30Y ৫১০১
  • উত্তর ভারতের ধ্রুপদী সংগীত - রাগস পুরিয়া ধনাশ্রী, রাগশ্রী (মহাপুরুষ মিশ্র, তবলা): কোচ ওয়ার্ল্ড মিউজিক লাইব্রেরি কেআইসিসি ৫১১২; কিং রেকর্ডস K30Y ৫১১৯।
  • রাগস দরবারি কানাদা, মিশ্র কাফি (সংখা চ্যাটার্জী, তবলা): দুনিয়া রেকর্ডস ৮০২৫ (ইতালি)
  • যুগলবন্দী, শেনাই ও সেতার দ্বৈত সঙ্গীত। আলী আহমদ হুসেন খান শেনাই, সুবহান চ্যাটার্জী তবলা। রাগ দেশ: ছড়া রেকর্ডস আরসিডি ৯৮০৫
  • সেতার ও শেহনাই - মণিলাল নাগ ও আলী আহমেদ হুসেন শেনাই, সুবহান চ্যাটার্জী তবলা। মারওয়া, অভোগী, আনন্দ কল্যাণ, পূর্বভি ধুন বিশ্বাস বিএস ১১৫
  • স্ট্রিংস ভি জি জগ বেহালা, আনন্দ গোপাল ভান্ডোপাধ্যায় তবলা: রাগ শ্যাম কল্যাণ, রাগ বসন্ত, রাগ বিহারী ভিস্তা ইন্ডিয়া VIST ১১৪৭৭০
  • রাগ চারুকেশি (হোমনাথ উপাধ্যায়, তবলা): রবি শঙ্কর সংগীত সার্কেল আরএসএমসি -১৮১
  • রাগাস জোগকনস, সরস্বতী (সাবির খান, তবলা): ভারতের গ্রামোফোন কোং এসটিসিএস ০২ বি ৬১৮৯
  • জাপান কনসার্টস, ১৯৮৫ - রাগাস পুরিয়া কল্যাণ, মিশ্রা পিলু, খামাজ (মহাপুরুষ মিশ্র, তবলা): রাগ রেকর্ডস ১০৩ [৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]