ভিয়েতনাম-মেক্সিকো সম্পর্ক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভিয়েতনাম-মেক্সিকো সম্পর্ক
মানচিত্র Mexico এবং Vietnam অবস্থান নির্দেশ করছে

মেক্সিকো

ভিয়েতনাম

ভিয়েতনাম-মেক্সিকো সম্পর্ক, ভিয়েতনাম এবং মেক্সিকোর মাঝে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়তে মেক্সিকোর একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে।[১] অপরদিকে ভিয়েতনামের রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ভিয়েতনামের একটি স্থায়ী দূতাবাস রয়েছে।[২]

উভয় দেশই এশিয়া-প্যাসিফিক ইকনোমিক কো-অপারেশন, ফোরাম অব ইস্ট এশিয়া-লাতিন আমেরিকা কো-অপারেশন এবং জাতিসংঘ এর মত আন্তর্জাতিক এবং বহুমাত্রিক সংস্থার সদস্য।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভিয়েতনাম দূতাবাস, মেক্সিকো

মেক্সিকো এবং ভিয়েতনাম উভয় দেশেরই একটি সাধারণ ইতিহাস রয়েছে। পূর্বে উভয় দেশই দ্বিতীয় ফরাসি সাম্রাজ্য এর অধীনে ছিল। উপনিবেশ থাকাকালীন সময় ভিয়েতনাম ছিল ফরাসি কোচিনচীনা নামক কলোনি এবং মেক্সিকো ছিল দ্বিতীয় মেক্সিকান সাম্রাজ্য এর কলোনি।[৩]

১৯৪৫ সালে ভিয়েতনাম ফ্রান্স এর কাছ থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এর পরপরই ভিয়েতনাম প্রথম ইন্দোচীন যুদ্ধতে যোগদান করে। ইন্দোচীন যুদ্ধ ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত চলে। ইন্দোচীন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই ভিয়েতনাম যুদ্ধ শুরু হয়। এই ভিয়েতনাম যুদ্ধ ১৯৫৫ সাল থেক ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলে। এই দুই যুদ্ধের সময়ই মেক্সিকো নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে।[৪]

১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয়। এরপর ১৯৭৫ সালেই, ভিয়েতনাম এবং মেক্সিকো আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।[৫] ১৯৭৫ সালেই, মেক্সিকো সিটিতে ভিয়েতনাম তাদের দূতাবাস চালু করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে, ১৯৭৬ সালে, হ্যানয়তে মেক্সিকোও তাদের দূতাবাস স্থাপন করে। কিন্তু ১৯৮০ সালে অর্থনৈতিক সমস্যাকে কারণ দেখিয়ে, মেক্সিকো হ্যানয়তে অবস্থিত মেক্সিকো দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। তবে ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে, মেক্সিকো আবার এই দূতাবাস চালু করে।[৫]

বিভিন্ন খাতে এই দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাত, কৃষিখাত, স্বাস্থ্যখাত, সংস্কৃতি, শিক্ষা প্রভৃতি। এছাড়াও উভয়দেশের কূটনৈতিক এবং সরকারি পাসপোর্টধারী ব্যাক্তিদের ভিসামুক্ত প্রবেশের ব্যাপারেও এই দুই দেশ পারস্পরিকভাবে একটি চুক্তি করে।[৪][৫]

২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি, এন্রিকে পেইয়া নিয়েতো এক রাষ্ট্রীয় সফরে ভিয়েতনামে যান। সফরে তিনি, ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি, ত্রান দাই কুয়াং এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।[৬]

বাণিজ্য সম্পর্ক[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে ভিয়েতনাম এবং মেক্সিকোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার[৭]

ভিয়েতনামে মেক্সিকোর প্রধান রপ্তানি পণ্য হল; আটা, মাংশ, কালামারি এবং মদ্যপণ্য। অপরদিকে, মেক্সিকোতে ভিয়েতনামের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল; বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এবং টেক্সটাইল উপকরণ[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Embassy of Mexico in Hanoi (ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং ভিয়েতনামী ভাষায়)
  2. "Embassy of Vietnam in Mexico City (ইংরেজি, স্প্যানিশ এবং ভিয়েতনামী ভাষায়)"। ১ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  3. French Colonial Empires
  4. "Vietnam – Mexico Relations"। ১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  5. "History of bilateral relations between Mexico and Vietnam (স্প্যানিশ ভাষায়)" (PDF)। ১৬ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৭ 
  6. Peña Nieto llega a Vietnam para cumbre de APEC (স্প্যানিশ ভাষায়)
  7. Mexican Ministry of the Economy: Vietnam (স্প্যানিশ ভাষায়)