বেলুন মাছ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বেলুন মাছ ডায়োডোনটিডি পরিবারভুক্ত এক প্রজাতির মাছ, যা সাধারণত সামুদ্রিক মাছ। তবে এর কিছু প্রতিরূপ মিঠা পানিতেও বাস করে যা বাংলাদেশে স্থানীয় ভাবে পটকা মাছ ফোটকা মাছ এবং টেপা মাছ হিসেবে পরিচিত।[১] এরা দেহের মধ্যে পানি ঢুকিয়ে দেহকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলতে পারে বলেই এদের "বেলুন মাছ" নামে আখ্যায়িত করা হয়। হুমকির মুখে পড়লে অথবা ভয় পেলে বেলুন মাছ এদের দেহের ভেতরে পানি ঢুকিয়ে দেহকে বেলুনের মতো ফুলিয়ে ফেলে। এ সময় এদের তীক্ষ্ণ লম্বা কাঁটাগুলো সজারুর কাঁটার মতো খাড়া হয়ে যায়। এ অবস্খা দেখে তখন সম্ভাব্য শত্রু ভয়ে পালিয়ে যায়। পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু করে ফ্লোরিডা, বাহামা, ব্রাজিলের দক্ষিণাংশসহ পৃথিবীর প্রায় সব সাগরেই এদের পাওয়া যায়। সাধারণতঃ সমুদ্রের শিলাময় তলদেশে এদের বসবাস ও বিচরণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উপরিতল থেকে ৬ থেকে ৩৫ ফুট গভীরতায় এরা চলাফেরা করে। বেলুন মাছের দেহের দৈর্ঘ্য আট থেকে ১৮ ইঞ্চি। দেহে লম্বা তীক্ষ্ণ কাঁটা রয়েছে। এরা যখন দেহকে ফুলিয়ে রাখে তখন এ কাঁটাগুলো খাড়া হয়ে থাকে। এদের চোখের ওপরে ও নিচে বাদামি রেখা রয়েছে। পুচ্ছ, পৃষ্ঠ ও বক্ষ-পাখনার মাধ্যমে এরা প্রবালের মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে চলতে পারে। এ ছাড়া উত্তেজিত হলে এরা গায়ের রঙও পরিবর্তন করতে পারে। বেলুন মাছ নিশাচর শিকারি। দিনের বেলায় প্রবালের ফাঁকে-ফোকরে লুকিয়ে থাকে। এরা এদের দাঁতগুলোকে একত্র করে মুখকে ঠোঁটের মতো করে শামুক, সামুদ্রিক আর্চিন ও হার্মিট কাঁকড়ার খোলস ফাটিয়ে ফেলতে পারে। শামুক, সামুদ্রিক আর্চিন, কাঁকড়াই ইত্যাদি জলজ প্রাণীই এদের খাবার। অন্যদিকে ডলফিনহাঙ্গর এবং পেলাজিক অঞ্চলের বিভিন্ন শিকারি মাছ এদের প্রধান শত্রু।

তথ্য সূত্র[সম্পাদনা]

  1. এ কে আতাউর রহমান, ফ্রেশওয়াটার ফিশেয অব বাংলাদেশ, যুলযিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ, ২০০৫ (২য় সং), পৃঃ ৭০

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]