বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকার হল মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রাসঙ্গিক নথিপত্রে বর্ণীত অন্যতম অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার। এটি স্বীকৃতি দেয় যে সকলেরই সংস্কৃতিতে অবাধে অংশ নেয়ার, বিজ্ঞানপ্রযুক্তিতে অবাধে অংশ নেয়ার (অংশগ্রহণ এবং উপকার ভোগ করার) অধিকার রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে স্বীকৃতি[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকার মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার অনুচ্ছেদ ২৭-এ প্রকাশ করা হয়েছে:

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুচ্ছেদ ১৫-তেও বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে:

সম্পর্কিত ধারণা এবং বিশৃঙ্খলা[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকারকে প্রায়ই ভেঙে উপসেট অধিকার হিসাবে বিভক্ত করা হয়। যেমন— "সাংস্কৃতিক জীবনে অংশ নেওয়ার অধিকার" বা "সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের অধিকার" বা "সংস্কৃতির অধিকার", এবং "বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং তার থেকে উপকার পাওয়ার অধিকার" বা "বিজ্ঞান থেকে উপকৃত হওয়ার অধিকার" বা "বিজ্ঞানের অধিকার" বা "বিজ্ঞানে ছড়িয়ে দেয়ার অধিকার"।

"সাংস্কৃতিক অধিকার" পদটি কমপক্ষে তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে। এটি প্রায়শই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির অনুচ্ছেদ ১৫ দ্বারা সুরক্ষিত ধারণাটি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলিকে তাদের ভাষা, ধর্ম, শিল্প এবং জীবনযাত্রার চর্চা আর সংরক্ষণের অধিকার দেয়। বিকল্পভাবে, "সাংস্কৃতিক অধিকার" পদটি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকার উভয়ই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে অনুচ্ছেদ ২৭ এ সর্বজনীন ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে। আরও বিস্তারিতভাবে, "সাংস্কৃতিক অধিকার" একটি বৃহত্তর শ্রেণীর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারকে বোঝাতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতির অধিকারের পাশাপাশি শিক্ষার অধিকার এবং অন্যান্য অধিকার যেমন, লেখকের সৃষ্টিকর্মের সংরক্ষণ করা।

"বিজ্ঞানের অধিকার" বলতে বিজ্ঞানে অংশগ্রহণের (কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে) অধিকার এবং বিজ্ঞানের শাখায় প্রবেশের অধিকার ("উপকার" বা "অগ্রগতি" বা "অগ্রগতি") উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হবে।

বিদগ্ধ ব্যাখ্যা এবং আত্মপক্ষ-সমর্থন[সম্পাদনা]

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে প্রাপ্ত সমস্ত মানবাধিকারের বিস্তৃত নীতিগুলিকে নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতায় অনুবাদ করার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন। এটি জাতিসংঘের কার্যক্রমগুলির মাধ্যমে এবং জাতীয় আদালতসমূহে নির্ধারিত হয়। প্রক্রিয়াটিতে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীদের দৃঢ় প্রভাব রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ২৭এ প্রাপ্ত অধিকারসমূহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। অপরদিকে, অন্যান্য মানবাধিকার যেমন— স্বাস্থ্য অধিকার বা শিক্ষার অধিকার যা ইতিমধ্যে আরও বিস্তৃতভাবে বিস্তৃতকরণ ও মামলা মোকদ্দমার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।[১] লেখালেখির অধিকারটিয যেভাবেই হোক খুব জোরালো আইনি বিকাশ থেকে লাভবান হয়েছে।

বিজ্ঞানের অধিকার প্রয়োগের জন্য সাধারণ বৈশ্বিক মানদণ্ড, চার বছরব্যাপী বৈশ্বিক পরামর্শের পরে ১৩ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে প্যারিসে প্রায় ১৯৫টি সরকারের সম্মিলনে সর্বসম্মতিক্রমে বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষকগণের সুপারিশে একটি জাতিসংঘ চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছিল।[২]

এই ক্ষেত্রে বিশেষত সক্রিয় কিছু লেখকের মধ্যে রয়েছে: সামান্থা বেসন, অড্রে আর চ্যাপম্যান, ইয়োভন ডন্ডারস, লরেন্স হেলফার, লিয়া শেভার, উইলিয়াম স্কাবাস, জেসিকা উইন্ডহাম এবং পিটার ইউ।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স পেশাদার বিজ্ঞানীদের অধিকার এবং দায়িত্বের উপর বিশেষভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকার সম্পর্কিত ওকালতি করায় সক্রিয়। [৩]

দাপ্তরিক ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত কমিটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে (আইসিইএসসিআর) এ প্রদর্শিত বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকারের অংশের ব্যাখ্যা করে দুটি সাধারণ মন্তব্য জারি করেছে। সাধারণ মন্তব্য ১৭ এবং সাধারণ মন্তব্য ২১। সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রের বিশেষ প্রতিবেদক, ফরিদা শহীদ, ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির অধিকারের কথা প্রকাশ করেন।[৪]

২০১৭ সালে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে, বিজ্ঞানের অধিকার সম্পর্কিত সাধারণ বৈশ্বিক আদর্শ সম্পর্কে ১৯৫টি রাষ্ট্র সর্বসম্মতিতে একমত হয়েছিল বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষকদের একটি সুপারিশে, যা কিনা বিজ্ঞানের অধিকারকে ব্যাখ্যা করে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় যেভাবে ব্যাখ্যা দেয়া আছে তদানুসারে।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সাথে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

২০০০ সালে মানবাধিকার সম্পর্কিত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের উপ-কমিশন প্রস্তাব দিয়েছিল যে, বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার সম্পর্কিত বাণিজ্য-সংক্রান্ত দিকগুলি সম্পর্কিত চুক্তি বিজ্ঞানের অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে সুতরাং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। [৫]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Shaver, Lea Bishop (মার্চ ৬, ২০০৯)। "The Right to Science and Culture": 126–127। এসএসআরএন 1354788অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  2. "Recommendation on Science and Scientific Researchers"portal.unesco.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৯ 
  3. "AAAS Report Helps Define "Right to Science" for UN Treaty"American Association for the Advancement of Science (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৬-১৯ 
  4. http://allafrica.com/stories/201310111443.html?viewall=1
  5. Suoranta, Juha; Vadén, Tere (জুন ২০০৯)। Wikiworld। Pluto Press। পৃষ্ঠা 42। আইএসবিএন 9780745328928