বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল
গঠিত১৯৭৬
সদরদপ্তরঢাকা , বাংলাদেশ
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা ও ইংরেজি
ওয়েবসাইটবাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল

বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল (অথবা, সংক্ষেপেঃ পিসিবি) বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মেসী শিক্ষা ও পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে কর্মকান্ড পরিচালনার জন্যে গঠিত প্রতিষ্ঠান।[১] বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে ঔষধ বিক্রি করার অনুমতি পেতে হলে সর্বাগ্রে এখানে থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে হয় বাধ্যতামূলকভাবে এবং এরপর নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই কেবল ঔষধ বিক্রয় করার অনুমতি পাওয়া যায়।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পৃথক অংশ হিসাবে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরবর্তীতে ফার্মাসী আইন ২০১৩ নামে পুনর্গঠিত হয়।[১]

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য[সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হিসাবে বলা হয়েছে[৩] -

ফার্মেসি শিক্ষা পরিচালিত হয় এরূপ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনী গবেষণায় উৎকর্ষতা অর্জন, স্থায়ী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজিসমূহকে সার্বিক সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করা।

কার্যসূচী[সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠানটি নিম্নলিখিত বিষয়াবলীকে সামনে রেখে তার কর্মকান্য পরিচালনা করে থাকে [৪] -

  • ফার্মেসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে উচ্চস্তরের ফার্মেসি শিক্ষা সংক্রান্ত কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন।
  • স্থায়ী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ফার্মেসি শিক্ষা পরিচালিত হয় এরূপ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রাসংঙ্গিক বিষয়াদির গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদীয়মান ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ স্থাপনে উৎসাহিতকরণ।

  • বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ফার্মেসি পেশার বিস্তার ও গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করা।

জনস্বাস্থ্যে ভূমিকা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, দেশের যে কোনো প্রান্তে যেকোনো ধরনের ওষুধের দোকান স্থাপনের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে ড্রাগ লাইসেন্স এবং বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল থেকে ফার্মাসিস্ট কোর্স সম্পন্ন করার সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক।[৫]

কোর্স পরিচালনা ও সনদ[সম্পাদনা]

পিসিবি থেকে মোট তিন ধরনের কোর্স পরিচালিত হয়; স্নাতক পর্যায়ের জন্য প্রদান করা হয় ক্যাটাগরি এ, এক হতে তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কোর্সের জন্য প্রদান করা হয় ক্যাটাগরি বি এবং তিন মাস মেয়াদি কোর্সের জন্য প্রদান করা হয় ক্যাটাগরি সি।[৫] বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ফার্মেসীতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সমাপ্ত করার পরে সনদ প্রদাণ করে থাকে।[১] কয়েক বছর পূর্বেও এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে উত্তীর্ণ স্নাতকদেরকেও পরীক্ষায় উত্তীর্ণের ভিত্তিতে সনদ দিতো যা পরবর্তীতে আইনের বরখেলাপ হওয়ায় পরীক্ষা ছাড়াই দেয়ার বিধান চালু করা হয়েছে বর্তমানে।[৬]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Background"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৮ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  2. "ফার্মেসী দোকান দেওয়ার পূর্বে করনীয়"অপরাধ বিচিত্রা। ৮ জুলাই ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "Vision"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  4. "Mission"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  5. "আবারও চালু হচ্ছে 'সি' ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেট কোর্স"জাগো নিউজ। ২১ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  6. "ফার্মেসি কাউন্সিলের পরীক্ষা ছাড়া সনদ পাবেন ফার্মাসিস্টরা"দৈনিক প্রথমআলো। ২৭ এপ্রিল ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]