বাংলাদেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বাংলাদেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
পেশা
নামবাংলাদেশ সরকার
প্রায়োগিক ক্ষেত্রআইন, প্রশাসন
বিবরণ
যোগ্যতাবিশ্লেষণী চিন্তা, সংকটকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়া, ন্যায়পরায়ণতা, সাধারণ জ্ঞান
শিক্ষাগত যোগ্যতাসাধারণত নির্বাহী ও বিচারিক কাজে অভিজ্ঞ (ক্ষেত্রবিশেষে পরিবর্তন হতে পারে)

বাংলাদেশ এর নির্বাহী বিভাগের প্রধান অঙ্গ হল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এর প্রশাসন ক্যাডারগণই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হন। কর্মক্ষেত্রে তারা ব্যাপক নির্বাহী এবং সীমিত বিচারিক ক্ষমতা ভোগ করেন। কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডউর ১৮৯৮, পেনাল কোড ১৮৬০, পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ এবং অন্য আরও অপরাধ দমন আইনের বিভিন্ন ধারা কর্তৃক তাদেরকে নানা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইন রক্ষা, নির্দেশদান, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায়(যেমন খাদ্যে ভেজাল, ইভটিজিং, মাদকদ্রব্য চোরাচালান, সরকারি সম্পত্তি বেদখল) সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত(মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯, ধারা ৫) গঠনের ক্ষমতা রাখেন।

বিভিন্ন ধরনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট[সম্পাদনা]

কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডউর(CrPC) ১৮৯৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) এর সদস্যগণ, যারা সহকারী কমিশনার(AC), উপজেলা নির্বাহী অফিসার(UNO) ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার(ADC) এর তুল্য, তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হতে পারবেন এবং নিজ নিজ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পরিচালনা করবেন। এছাড়াও, (CrPC) ১৮৯৮ এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে যে কোন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস(প্রশাসন) এ নিযুক্ত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যাবতীয় ক্ষমতা তাকে অর্পণ করতে পারেন। প্রতিটি প্রাশাসনিক জেলায় নিম্নলিখিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ থাকবেন:

(ক) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট: প্রতিটি জেলা ও প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করবেন এবং তাদের একজনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করবেন।

(খ) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট: সরকার যে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত করতে পারবেন এবং এই কোড অনুসারে বা অন্য কোন আইন অনুযায়ী অথবা সরকারের নির্দেশমত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্ণ অথবা আংশিক ক্ষমতা থাকবে।

(গ) অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার: জেলার সকল অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

(ঘ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার: উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।

(ঙ)সহকারী কমিশনার: জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ও সহকারী কমিশনার।

ক্রিমিনাল পেনাল কোডে প্রদত্ত ক্ষমতাবলি[সম্পাদনা]

নির্বাহী ম্যাজিস্টে্রেটের সাধারণ ক্ষমতাসমূহ[১][সম্পাদনা]

কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (১৮৯৮) এর তৃতীয় অধ্যায় অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাসমূহ:

১। ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে অপরাধ করলে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা অথবা হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা। (ধারা ৬৪)

২। কারও উপস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তার অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা। (ধারা ৬৫)

৩। অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুমোদন বা বাতিল করা। (ধারা ৮৩,৮৪,৮৬)

৪। পোস্টাল ও টেলিগ্রাফ বিভাগের দলিলাদি তল্লাসি ও জব্দ করার ক্ষমতা। (ধারা ৯৫)

৫। কোন ব্যক্তির অবৈধ সম্পদ যাচাই করার জন্য তল্লাসি পরোয়ানা জারির ক্ষমতা। (ধারা ১০০)

৬। সরাসরি তল্লাসির ক্ষমতা, তার উপস্থিতিতে যে কোন স্থানে তল্লাসির পরোয়ানা জারির ক্ষমতা।(ধারা ১০৫)

৭। শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী দাবির ক্ষমতা।(ধারা ১০৭)

৮। ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সদাচরণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী দাবির ক্ষমতা।(ধারা ১০৯)

৯। নিয়মিত অপরাধীদের সদাচরণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী দাবির ক্ষমতা।(ধারা ১১০)

১০। জামিন খারিজ করার ক্ষমতা।(ধারা ১২৬)

১১। বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গ করার ক্ষমতা। (ধারা ১২৭)

১২। ভঙ্গ করতে নাগরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা।(ধারা ১২৮)

১৩। বেআইনি সমাবেশ ভঙ্গে সামরিক বাহিনী দাবি করার ক্ষমতা।(ধারা ১৩০)

১৪। স্থানীয় সমস্যারোধে নির্দেশদানের ক্ষমতা।(ধারা ১৩৩)

১৫। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিতাদেশ জারির ক্ষমতা। (ধারা ১৪২)

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাধারণ ক্ষমতাসমূহ[সম্পাদনা]

১। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপালনের সীমানা বা এলাকা নির্ধারণের ক্ষমতা।(ধারা ১০.৪)

২। চিঠি, টেলিগ্রাম প্রভৃতি বণ্টনের ক্ষমতা।(ধারা ৯৫.১)

৩। দলিলপত্র অন্বেষণে ডাকবিভাগ ও টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের অফিস তল্লাসির পরোয়ানা জারির ক্ষমতা।(ধারা ৯৬)

৪। রাষ্ট্রবিরোধী প্রচরণাকারী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করতে নিরাপত্তাবাহিনী দাবির ক্ষমতা।(ধারা ১০৮)

৫। সদাচরণ নিশ্চিতকরণ বা শান্তি বজায় রাখার জন্য কোন ব্যক্তিকে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা।(ধারা ১২৪)

৬। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কোন চুক্তি বাতিলের ক্ষমতা।(ধারা ১২৫)

৭। সাধারণের উপদ্রবকারী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা।(ধারা ১৪৩)

৮। জরুরি অবস্থায় বা সাংঘাতিক বিপদের ক্ষেত্রে আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা। (ধারা ১৪৪)

৯। দখলদারির বিরুদ্ধে আদেশদানের ক্ষমতা।(ধারা ১৪৭)

১০। অধীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে স্থানীয় অনুসন্ধান করতে পাঠানোর ক্ষমতা।(ধারা ১৪৮)

১১। অনুসন্ধান কার্যাবলি আয়ত্তে রাখার ক্ষমতা।(ধারা ১৭৪)

১২। বিশেষ ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা প্রাথমিক অনুসন্ধানের আদেশদানের ক্ষমতা।(ধারা ১৯৬)

১৩। পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা।(ধারা ১৯২.২)

১৪। সাক্ষী পরীক্ষার জন্য কমিশন গঠনের ক্ষমতা।(ধারা ৫০৩-৫০৬)

১৫। ৫১৪ ধারায় বর্ণিত আদেশ সংশোধনের ক্ষমতা।(ধারা ৫১৫)

১৬। কতিপয় সম্পত্তি হস্তান্তরজনিত ব্যপার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।(ধারা ৫১৮)

১৭। মামলা প্রত্যাহার ও পুনরায় বিবেচনার ক্ষমতা।(ধারা ৫২৮.২)

১৮। নিগৃহীত নারীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ক্ষমতা। (ধারা ৫৫২)

পেনাল কোডে প্রদত্ত ক্ষমতাসমূহ[সম্পাদনা]

  • বেআইনি সমাবেশে যোগ দেওয়ার শাস্তি।(ধারা ১৪৩)
  • বেআইনি সমাবেশে সশস্ত্র অবস্থায় যোগদানের শাস্তি।(ধারা ১৪৪)
  • বেআইনি সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পরেও সেখানে যোগ দেওয়া বা সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার শাস্তি।(ধারা ১৪৫)
  • দাঙ্গা বাধানোর শাস্তি।(ধারা ১৪৭)
  • প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির শাস্তি।(ধারা ১৪৮)
  • দাঙ্গা দমনে নিয়োজিত সরকারি কর্মজীবীদের বাধাদানের শাস্তি।(ধারা ১৫২)
  • দাঙ্গা হোক বা না হোক; দাঙ্গা সৃষ্টিতে উস্কানি দেওয়ার শাস্তি।(ধারা ১৫৩)
  • শান্তিভঙ্গ বা মারামারি ঘটানোর শাস্তি। (ধারা ১৬০)
  • ঘুষ নেওয়ার শাস্তি।(ধারা ১৭১-ই)
  • নির্বাচনে অযৌক্তিক প্রভাব খাটানো বা ছদ্মবেশ ধারণের শাস্তি।(ধারা ১৭১-এফ)
  • নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অসত্য প্রচারের শাস্তি।(ধারা ১৭১-জি)
  • নির্বাচনী কাজে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের শাস্তি।(ধারা ১৭১ -এইচ)
  • নির্বাচনী অ্যাকাউন্ট রক্ষায় ব্যর্থতার শাস্তি।(ধারা ১৭১-আই)
  • আইনত বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পদ গ্রহণে বাধাদানের শাস্তি। (ধারা ১৮৩)
  • সরকারি কর্মচারী দ্বারা সম্পদ বিক্রয়ে বাধাদানের শাস্তি।(ধারা ১৮৪)
  • সরকারি কর্মচারী দ্বারা বিক্রয়ের দ্রব্য অবৈধভাবে ক্রয় বা নিলামের শাস্তি। (ধারা ১৮৫)
  • সরকারি কাজে সরকারি কর্মচারীকে বাধা দেওয়ার শাস্তি।(ধারা ১৮৬)
  • আইনের নির্দেশ সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারীকে সহযোগিতা না করার শাস্তি।(ধারা ১৮৭)
  • সরকারি কর্মকর্তা দ্বারা ঘোষিত আদেশ অবজ্ঞা করার শাস্তি।(ধারা ১৮৮)
  • সরকারি কর্মচারীকে শারীরিক আঘাত দেওয়ার হুমকিপ্রদানের শাস্তি।(ধারা ১৮৯)
  • অন্য কোন ব্যক্তির উপলব্ধিকে বাধা দেওয়ার শাস্তি।(ধারা ২২৫)
  • ভর পরিমাপে ঠকানোর জন্য ত্রুটিপূর্ণ নিক্তি ব্যবহারের শাস্তি।(ধারা ২৬৪)
  • ত্রুটিপূর্ণ বাটখারা ব্যবহারের শাস্তি। (ধারা ২৬৫)
  • ত্রুটিপূর্ণ নিক্তি বা বাটখারা রাখার শাস্তি।(ধারা ২৬৬)
  • ত্রুটিপূর্ণ নিক্তি/বাটখারা নির্মাণ বা বিক্রয়ের শাস্তি।(ধারা ২৬৭)
  • জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ রোগব্যধি বিস্তাররোধে প্রণীত আইন অবজ্ঞার শাস্তি।(ধারা ২৬৯)
  • জীবনক্ষয়কারী রোগের বিস্তার ঘটতে পারে এমন অনিষ্টকারী কর্মের শাস্তি।(ধারা ২৭০)
  • সংক্রমণ রোধে পৃথককরণ নীতি ভঙ্গের শাস্তি।(ধারা ২৭১)
  • বিক্রয়োপযোগী খাদ্য ও পানীয়ে ভেজাল মেশানোর শাস্তি।(ধারা ২৭২)
  • অস্বাস্থ্যকর/ক্ষতিকর খাদ্য বা পানীয় বিক্রয়ের শাস্তি।(ধারা ২৭৩)
  • ঔষধে ভেজাল মিশানোর শাস্তি।(ধারা ২৭৪)
  • ভেজাল ঔষধ বিক্রয়ের শাস্তি।(ধারা ২৭৫)
  • এক ঔষধের নামে অন্য ঔষধ বিক্রি অথবা ভিন্ন পন্থায় তৈরিকৃত ঔষধ বিক্রির শাস্তি।(ধারা ২৭৬)
  • (অন্য কোথাও উল্লেখ না থাকলে) জনগণের বিঘ্ন উৎপাদনের শাস্তি।(ধারা ২৯০)
  • কোন কর্মকাণ্ড থামানোর নির্দেশ সত্ত্বেও তা চালিয়ে যাওয়ার শাস্তি।(ধারা ২৯১)
  • অশ্লীল বই বিক্রয়ের শাস্তি।(ধারা ২৯২)
  • যুবসমাজের নিকট অশ্লীল দ্রব্যাদি বিক্রয়ের শাস্তি।(ধারা ২৯৩)
  • অশ্লীল কার্যকলাপ ও অশ্লীল গান বাজানোর শাস্তি।(ধারা ২৯৪)
  • কোন সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত হানতে উপসনালয় ভাঙচুর বা কলুষিত করার শাস্তি।(ধারা ২৯৫)
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার শাস্তি।(ধারা ২৯৬)
  • সমাধিক্ষেত্রে অনধিকার প্রবেশের শাস্তি।(ধারা ২৯৭)
  • ধর্মানুভূতিতে আঘাত করতে উস্কানিমূলক কথা বলার শাস্তি।(ধারা ২৯৮)
  • সমাধিক্ষেত্রে অপরাধ ঘটানোর শাস্তি।(ধারা ৩৫২)
  • সরকারি কর্মচারীর দায়িত্বপালনে বলপূর্বক বাধাদানের শাস্তি।(ধারা ৩৫৩)
  • নারীর সম্ভ্রমহানির জন্য বলপ্রয়োগের শাস্তি।(ধারা ৩৫৪)
  • কোন ব্যক্তিকে বলপূর্বক লাঞ্ছিত করার শাস্তি।(ধারা ৩৫৫)
  • কারও বহনকৃত সম্পদ বলপূর্বক চুরির চেষ্টা করার শাস্তি।(ধারা ৩৫৬)
  • কাউকে বলপূর্বক বন্দী করার শাস্তি।(ধারা ৩৫৭)
  • অসৎ অপরাধ ঘটানোর শাস্তি।(ধারা ৩৫৮)
  • নারীর সম্মানহানির উদ্দেশ্যে আপত্তিকর শব্দ, ভঙ্গি বা ক্রিয়া করার শাস্তি।(ধারা ৫০৯)

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা[সম্পাদনা]

মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯, একটি পদ্ধতিগত আইন। এই আইনের আওতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় শখানেক আইন, অধ্যাদেশ ও আদেশের বিচারাধিকার প্রাপ্ত হন। এই আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক জরিমানার শাস্তি দিতে পারেন। মোবাইল কোর্ট আইনের পরিসরে নিম্নলিখিত আইনসমূহ অন্তর্ভুক্ত:

(১) পেনাল কোড, ১৮৬০ (Act No. XLV of 1860)

(২) পাবলিক গ্যাম্বলিং আইন, ১৮৬৭ (Act No. II of 1867);

(৩) সারাইস আইন, ১৮৬৭ (Act No. XXII of 1867);

(৪) টউটস আইন, ১৮৭৯ (Act No XVIII of 1879);

(৫) ফেরিস আইন, ১৮৮৫ (Act No.I of 1885);

(৬) রেলপথ আইন, ১৮৯০ (Act No. IX of 1890);

(৭) বন্দর আইন, ১৯০৮ (Act No. XV of 1908);

(৮) বিদ্যুৎ আইন, ১৯১0 (Act No. IX of 1910);

(৯) চলচ্চিত্র আইন, ১৯১৮ (Act No. II of 1918);

(১0) কিশোর ধূমপান আইন, ১৯১৯ (Act No. II of 1919);

(১১) দূষণ আইন, ১৯১৯ (Act No. XII of 1919);

(১২) বন্যপ্রাণীর প্রতি ক্রূরতা আইন, ১৯২০ (Act No. I of 1920);

(১৩) পাসপোর্ট আইন, ১৯২০ (Act No. XXXIV of 1920);

(১৪) ক্যান্টনমেন্ট আইন, ১৯২৪ (Act No. II of 1924);

(১৫) মহাসড়ক আইন, ১৯২৫ (Act No. III of 1925);

(১৬) বন আইন, ১৯২৭ (Act No. XVI of 1927);

(১৭) বাল্যবিবাহ রোধক আইন, ১৯২৯ (Act No. XVIII of 1929);

(১৮) [***]

(১৯) জনসাধারণের বিনোদন স্থান আইন, ১৯৩৩ (Bengal Act No. X of 1933);

(২0) পেট্রোলিয়াম আইন, ১৯৩৪ (Act No XXX of 1934);

(২১) অপরাধ আইন (বাণিজ্যিক এলাকা) সংশোধনী, ১৯৪২ (Act No. IV of 1942);

(২২) [***]

(২৩) বন্দর রক্ষা (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন, ১৯৪৮ (Act No. XVII of 1948);

(২৪) মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ (East Bengal Act No. XVIII of 1950);

(২৫) প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫২ (Act No. LV of 1952);

(২৬) ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২(West Bengal Act No. II of 1952);

(২৭) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬ (East Pakistan Act No. I of 1956);

(২৮) প্রাণিহত্যা এবং মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১১ ( Act No. 16 of 2011)

(২৯) বিশুদ্ধ খাদ্য আইন, ২০১৩ (Act No. 43 of 2013)

(৩0) সিভিল এভিয়েশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০(Ordinance No. XXXII of 1960);

(৩১) বন্দরের জমি ও স্থাপনা (দখলকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৬২ (Ordinance No. IX of 1962);

(৩২) চলচ্চিত্র ছাড়পত্র আইন, ১৯৬৩ (Act No. XVIII of 1963);

(৩৩) কৃষিজাত পণ্যের বাজার নজরদারি আইন, ১৯৬৪(East Pakistan Act No. IX of 1964);

(৩৪) জাহাজচালনা অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ (Ordinance No. V of 1969);

(৩৫) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি জমি ও ইমারত (মালিকানা পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০ (East Pakistan Ordinance No. XVIIII of 1970);

(৩৬) কীটনাশক অধ্যাদেশ, ১৯৭১ (Ordinance No. II of 1971);

(৩৭) [***]

(৩৮) জনতা আইন এর বর্ণনা, ১৯৭২ (P.O. No. 155 of 1972) ;

(৩৯) মুদ্রণযন্ত্র ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৩ (Act No. XXIII of 1973);

(৪0) বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) বিধি, ১৯৭৩ (President's Order No. 23 of 1973);

(৪১) আঞ্চলিক জলাশয় এবং জলসীমা আইন, ১৯৭৪ (Act No. XXVI of 1974);

(৪২) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (Ordinance No. LII of 1976);

(৪৩) মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (Ordinance No. LIII of 1976);

(৪৪) অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (Ordinance No.LXXII of 1976);

(৪৫)[***]

(৪৬) বীজ অধ্যাদেশ, ১৯৭৭ (Ordinance No. XXXIII of 1977);

(৪৭) নোটবই (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ১৯৮০(Act No. XII of 1980);

(৪৮) মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ১৯৮০ (Act No. XVI of 1980);

(৪৯) সরকারি পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০(Act No. XLII of 1980);

(৫0) চিকিৎসা চর্চা ও প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (বিধিমালা) অধ্যাদেশ,১৯৮২(Ordinance No.IV of 1982);

(৫১) [ড্রাগ আইন, ১৯৪০ (Act No.XXIII of 1940) Gi sections 29 I 37)];

(৫২) নিক্তি ও বাটখারার আদর্শ অধ্যাদেশ, ১৯৮২ (Ordinance No. XII of 1982);

(৫৩) [***]

(৫৪) [***]

(৫৫) মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য (পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮৩(Ordinance No. XX of 1983);

(৫৬) বাংলাদেশ বণিক নৌচলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (Ordinance No. XXVI of 1983);

(৫৭) বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চর্চা অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (Ordinance No. XXXII of 1983);

(৫৮) [***]

(৫৯) বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি চর্চা অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (Ordinance No. XLI of 1983);

(৬0) মোটরচালিত যানবাহন অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (Ordinance No. LV of 1983);

(৬১) বিকল্প মাতৃদুগ্ধ (বিধিমালা ও বিপণন) অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ (Ordinance No. XXXIII of 1984);

(৬২) [***]

(৬৩) বাংলাদেশ আদর্শ ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (Ordinance No. XXXVII of 1985);

(৬৪) [***]

(৬৫) স্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ আইন, ১৯৮৮

(৬৬) ইট তৈরি এবং চিমনি স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ)আইন, ২০১৩

(৬৭) আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯

(৬৮) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯0

(৬৯) খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২

(৭0) বাংলাদেশ পরিবেশ প্রতিরক্ষা আইন, ১৯৯৫

(৭১) পানি সরবারাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন আইন, ১৯৯৬

(৭২) বিমানচালনা নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯৭

(৭৩) শারীরিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন, ১৯৯৯

(৭৪) [***]

(৭৫) [***]

(৭৬) অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২00২

(৭৭) নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন আইন, ২00২

(৭৮) অগ্নিকাণ্ড নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ আইন, ২00৩

(৭৯) জন্মমৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২00৪

(৮0) ধূমপান ও তামাক ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২00৫

(৮১) সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২00৬

(৮২) বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন আইন, ২00৬

(৮৩) কেবল টিভি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা আইন, ২00৬

(৮৪) বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২00৬

(৮৫) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২00৯

(৮৬) উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮

(৮৭) স্থানীয় সরকার (মিউনিসিপ্যালিটি) আইন, ২00৯

(৮৮) স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২00৯

(৮৯) স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২00৯

(৯0)পাট অধ্যাদেশ,১৯৬২

(৯১) বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক বিধিমালা, ১৯৭২

(৯২) বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২0১0

(৯৩) পেনাল কোড, ১৮৬0;(ধারা ৫০৯)

(৯৪)

(৯৫) আবাসিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০

(৯৬) বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০

(৯৭) দেয়াললিখন ও প্রচারপত্র (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১২

(৯৮) বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২

(৯৯) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২

(১00) পণ্যের জন্য বাধ্যতামূলক পাটের আচ্ছাদন ব্যবহার আইন ২০১০

(১0১) বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩

পুলিশ রেগুলেশনে প্রদত্ত ক্ষমতা[সম্পাদনা]

প্রতিটি পুলিশ সদস্য পুলিশ রেগুলেশন কঠোরভাবে মেনে চলতে বাধ্য, এর যে কোন নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে পুলিশ আইন ১৮৬১ এর ২৯ ধারায় অভিযোগ দায়ের হবে। তবে আদালত ও ট্রাইব্যুনাল, বিশেষত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ এর অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। পুলিশ রেগুলেশন ১৯৪৩ তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রথম খণ্ডে ১২৯০ টি বিধি, দ্বিতীয় খণ্ডে পরিশিষ্ট ও ফর্মসমূহ এবং তৃতীয় খণ্ডে বর্ণানুক্রমে বিষয়ের নির্ঘণ্ট ও পরিশিষ্ট রয়েছে। এই রেগুলেশনের প্রতিটি নিয়ম ও পরিশিষ্ট পাঠ করা প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের কর্তব্য যেগুলো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

পুলিশ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সম্পর্ক[সম্পাদনা]

রেগুলেশন ১৩: কমিশনারের অবস্থান

(ক) স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান হিসেবে কমিশনার পুলিশের বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যাবলি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করবেন। (খ) কমিশনারের নিকট থেকে সরাসরি প্রাপ্ত বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা প্রেরিত নির্দেশ সুপারিনটেনডেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে পালন করবেন, অস্বাভাবিক ক্ষেত্রে তিনি ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মারফৎ ইন্সপেক্টর জেনারেলকে রিপোর্ট করবেন।

রেগুলেশন ১৪: রেঞ্জ ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সম্পর্ক [§.12,Act v, 1861]

(ক) এলাকার ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ও অপরাধ দমনের জন্য কমিশনার ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে সার্বক্ষণিক সম্পর্ক রাখবেন এবং পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গঠনে ভূমিকা রাখবেন। (খ) তিনি কমিশনারের সাথে অর্ধানুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করবেন, সুপারিনটেনডেন্ট এর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, নির্দিষ্ট বিরতিতে তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করবেন- উদাহরণস্বরূপ তাদের সদর দপ্তরে সাক্ষাৎ করা।

রেগুলেশন ১৫: সুপারিটেনডেন্ট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সম্পর্ক

(ক) সুপারিনটেনডেন্ট জেলার পুলিশ বাহিনীর প্রধান এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, জেলার অপরাধ দমন, অধীন কর্মকর্তাদের উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ও নির্বাহী কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করা প্রভৃতির জন্যও তিনি দায়ী।

(খ) পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ গঠন ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোন ক্ষমতা নেই, তবে কোন পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণ জেলার সাধারণ প্রশাসনে বিঘ্ন ঘটালে তা সুপারিনটেনডেন্টকে অবহিত করা তার দায়িত্ব।

(গ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সেই জেলার কোন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্র সম্পর্কিত দলিলাদি তলব করতে পারেন এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল ও কমিশনারকে জানানোর জন্য এলাকার ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলের কাছে প্রেরণ করতে পারেন। তিনি যে কোন পুলিশ কর্মকর্তার অসদাচরণের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এবং পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কা থাকলে সুপারিটেনডেন্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র সরবরাহ করবেন।

(ঘ) বিচারিক ক্ষমতার মধ্যে পুলিশ বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সকল আজ্ঞা সুপারিনটেনডেন্টকে প্রেরণ করা হবে, তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রধান হিসেবে সুপারিটেনডেন্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ পালনে বাধ্য থাকবে যদি না এতে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্থা, বাহিনীর নিয়মশৃঙ্খলা এবং সম্পূর্ণ বিভাগীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ থাকে।

(ঙ) সুপারিনটেনডেন্ট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে কোন বিষয়ে মতদ্বৈততা থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ পালন করাই সুপারিনটেনডেন্ট এর দায়িত্ব হবে। এরূপ ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি কমিশনারকে অবহিত করবেন এবং সুপারিনটেনডেন্ট ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলকে অবহিত করবেন। কমিশনার ও ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বিষয়টি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবেন। তারা দুজন একমত হতে না পারলে ইন্সপেক্টর জেনারেল বিষয়টি প্রাদেশিক সরকারের নিকট বিবেচনার জন্য পাঠাবেন।

(চ) নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমন কোন কাজ করবেন না যাতে করে সুপারিটেনডেন্ট এর দায়িত্ব ও বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণে সুপারিনটেনডেন্ট এর পরামর্শ ব্যতীত যে কোন নির্বাহী আদেশ জারি করা থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের বিরত থাকা উচিত।

(ছ) সুপারিনটেনডেন্ট সম্পূর্ণ বিভাগীয় বিষয় ব্যতীত আইন ও প্রক্রিয়া সংক্রান্ত কোন বিজ্ঞপ্তি বা সাধারণ নির্দেশ জারি করতে পারেন, যতক্ষণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি অনুমোদন না করেন।

রেগুলেশন ১৬: সুপারিনটেনডেন্ট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যক্তিগত যোগাযোগ

(ক) সুপারিটেনডেন্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যথাসম্ভব যোগাযোগ রক্ষা করবেন, এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি আলোচনা করবেন। জেলার অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সবরকম সাহায্য করা তার দায়িত্ব, এবং যতটা সম্ভব তার সাথে একমত প্রকাশ করা উচিত। যদি কোন বিষয়ে তারা একমত না হন, তাহলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুপারিনটেনডেন্টকে লিখিত আদেশ দেবেন ও সুপারিনটেনডেন্ট তা পালন করবেন; তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তা নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করবেন না। সুপারিনটেনডেন্ট প্রয়োজনবোধে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেলকে জানাবেন এবং রেগুলেশন ১৫(চ) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

(খ) জেলার শান্তিভঙ্গের যাবতীয় তথ্য সুপারিটেনডেন্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন, তিনি বাইরে থাকলে হেডকোয়ার্টারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সকল দরকারি তথ্য সরাসরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন, যা সুপারিনটেনডেন্ট দ্বারা দ্রুত পাঠানো সম্ভব নয়।

(গ) স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় সুপারিনটেনডেন্ট যত দ্রুত সম্ভব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাবেন তিনি কখন কোথায় থাকবেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেটের উপযুক্ত কারণ থাকলে সুপারিনটেনডেন্টকে হেডকোয়ার্টারে থাকতে হতে পারে।

রেগুলেশন ১৭: সুপারিনটেনডেন্ট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম

সুপারিনটেনডেন্ট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক চিঠি বা চিরকুটের মাধ্যমে যোগাযোগ হতে পারে। সম্ভব হলে কাজের জন্য মূল নথি প্রেরণ করতে হবে, আনুষ্ঠানিক পত্রের প্রয়োজন নেই। রেগুলেশন ১৮: সুপারিনটেনেডেন্টের কাছে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ প্রেরণ

বিচারিক আদেশ ছাড়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের অন্য সব আদেশ সাধারণত সুপারিনটেনেডেন্টের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। এসব আদেশের মধ্যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য কর্মকর্তার সফর ও পুলিশ সরবরাহ বিষয়ক আদেশ থাকতে পারে। সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশসমূহ সাবডিভিশনাল পুলিশ কর্মকর্তার কাছে প্রেরিত হবে, তিনি না থাকলে সার্কেল ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানো হবে।

রেগুলেশন ১৯: জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে অবিরতভাবে নজরদারি করবেন, যে কাজের জন্য তিনি দায়ী। এই দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নিজ জেলার পুলিশস্টেশনগুলো নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করা। ডিপার্টমেন্টের সব কাজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার দরকার নেই, তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে দেখা উচিত

১। জেনারেল ডায়েরি ও এটি লেখার ধরন।

২। গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান সংরক্ষণ

৩। অস্ত্র আইনের যথাযথ প্রয়োগ

৪। ফসল পরিসংখ্যান সংগ্রহের পদ্ধতি

৫। গ্রাম পুলিশের কর্মদক্ষতা

৬।পুলিশ স্টেশনে অপরাধের সাধারণ চিত্র এবং তা হ্রাসবৃদ্ধির কারণ

৭। সাব ইন্সপেক্টরের নিজদায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান আছে কি না, সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি না, এলাকা সম্পর্কে জানেন কি না এবং আগ্রহসহ কাজ করছেন কি না।

৮। পুলিশ স্টেশনের কর্মকর্তৃগণ ঠিকমতো কাজে আসেন কি না এবং তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন কি না।

৯। পুলিশ স্টেশন নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিদর্শন করা হয় কি না।

রেগুলেশন ২০: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তার বদলি

(ক) যদি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা ইন্সপেক্টরের নিম্নপদস্থ পুলিশের চরিত্রে অযোগ্যতা ও অনুপযুক্ততা লক্ষ্য করেন বা দায়িত্বপালনে অদক্ষতা দেখতে পান তাহলে তিনি সুপারিনটেনডেন্টকে এবিষয়ে অবহিত করতে পারেন এবং অন্যত্র বদলি বা অন্য কর্মে নিয়োগের জন্য অনুরোধ করতে পারেন। তাকে মনে রাখতে হবে যে বদলি কেবল পুলিশের কাজের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং যে কর্মকর্তার বদলি হবে সে অন্যত্র অনুরূপ বা এর চেয়েও খারাপ কাজ করতে পারে। অসন্তোষজনক কাজের জন্য শাস্তিপ্রদান করা যেতে পারে কিন্তু সার্বিকভাবে জেলার অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বদলির আদেশ দেওয়া ঠিক নয়।

(খ) যদি ম্যাজিস্ট্রেট ইন্সপেক্টরের ঊর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তার চরিত্রে অযোগ্যতা ও অনুপযুক্ততা লক্ষ্য করেন তাহলে ইন্সপেক্টর জেনারেলের সাথে যোগাযোগ করবেন, যিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যকে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করে করণীয় নির্ধারণ করবেন এবং এবিষয়ে তার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন।

রেগুলেশন ২৯: পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ম্যাজেস্টেরিয়াল তদন্ত রেগুলেশন ৩০: আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি পুলিশের সম্মানজনক আচরণ [§.12,Act v, 1861]

পুলিশ কর্মকর্তৃগণ সকল আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। জনসমক্ষে তাদের বিরুদ্ধে নিন্দা করা, বিভাগীয় তদন্তে বা অন্যান্য প্রকাশিত ও প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে তাদের কাজের অপমানজক সমালোচনা করা ঠিক নয়; তবে যদি সুপারিনটেনডেন্টের এমন বোধ হয় যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়নি বা কোন পুলিশ কর্মকর্তা অবিচারের শিকার হয়েছেন তাহলে তিনি বিষয়টি কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ৪৩৫ ধারায় বর্ণিত কোর্ট অফিসার দ্বারা উপস্থাপিত একটি আনুষ্ঠানিক পত্রের মাধ্যমে অথবা সংযমী ও সম্মানজনক ভাষায় লিখিত অনানুষ্ঠানিক পত্র বা প্রদিবেদনের মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

৩০ ক. রেগুলেশন ৩০ এ উল্লিখিত সুপারিনটেনডেন্ট এর পত্র বা প্রতিবেদনকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবেচনা করবেন এবং তদনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে এবিষয়ে কোন অনানুষ্ঠানিক পত্র বা প্রতিবেদন প্রেরণ করা উচিত নয়। Employment of armed parties. [§.12,Act v, 1861]

পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সম্পর্ক

  • রেগুলেশন ১৪৫: সশস্ত্র বাহিনীর নিয়োগ [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৪৬: বিশেষ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়োগ [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৪৭: অন্যান্য প্রয়োজনে সশস্ত্র পুলিশ নিয়োগ, অস্ত্রবিহীন পুলিশের সাথে ভালভাবে কাজ করার জন্য[§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৪৮: বাংলাদেশ রাইফেলস এর সহযোগিতা দাবি
  • রেগুলেশন ১৪৯: বেআইনি সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রাইফেলস এর ক্ষমতা
  • রেগুলেশন ১৫০: সশস্ত্রবাহিনীর গোলাবারুদ ও ব্যক্তিগত বন্দুক এর ব্যবহার[§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫১: সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব
  • রেগুলেশন ১৫২: পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক সশস্ত্র দল নিয়ন্ত্রণ [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫৩: আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫৪: আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সাধারণ নিয়মাবলি [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫৫: অগ্নি ও অগ্নিনিয়ন্ত্রণ বিধি [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫৬: পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পরবর্তী করণীয় [§.12,Act v, 1861]
  • রেগুলেশন ১৫৭: পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কে নির্বাহী তদন্ত
  • রেগুলেশন ১৫৮: সামরিক সহায়তা দাবি

জেল কোডে প্রদত্ত ক্ষমতা[সম্পাদনা]

বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এ প্রদত্ত ক্ষমতা[সম্পাদনা]

• জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কাউকে আটক বা অপসারণের ক্ষমতা(ধারা ৩) (২) যদি কোন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২ এর (iii), (iv), (v), (vi), (vii) অথবা (viii) অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে কোন আপত্তিকর কাজ থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজন বোধ করলে তাকে আটক করার নির্দেশ দিতে পারেন।

(৩) উপধারা (২) অনুসারে কোন নির্দেশ দেওয়া হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার প্ররিপ্রেক্ষিত সরকারের নিকট অবহিত করবেন, যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করবেন, কোন অবস্থাতেই এই নির্দেশ ৩০ দিনের বেশি থাকবে না যদি না ইতোমধ্যে তা সরকার অনুমোদন করে নেয়।

(৪) ১ এর (২) ধারা অনুসারে প্রদত্ত নির্দেশানুযায়ী কোন ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশের বাইরে নিতে ব্যর্থ হলে কোন দ্বিধা ব্যতিরেকে উপধারা (৫) অনুযায়ী কোন পুলিশ অফিসার অথবা তার পক্ষে সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে সরিয়ে দিতে পারেন।

(৫) কোন ব্যক্তি উপধারা ১(২) লঙ্ঘন করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্ফিউ (সান্ধ্য আইন) জারির ক্ষমতা (ধারা ২৪)

(১) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১০ বা পুলিশ কমিশনার ১১, কোন মেট্রোপলিটন অঞ্চলে সরাসরি এই আদেশ দিতে পারেন যে, কোন নির্দিষ্ট ঘোষিত অঞ্চলের অভ্যন্তরে নির্দেশিত সময়সীমার মধ্যে কোন ব্যক্তি দরজার বাইরে বের হতে পারবেন না যদি না তার কাছে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির নিকট হতে প্রাপ্ত লিখিত অনুমতি থাকে।

(২) যদি কোন ব্যক্তি এই ধারায় উল্লিখিত নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাহলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

কর্মক্ষেত্র[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. 11 February 2007, The Code of Criminal Procedure(Amendment)ordinance,2007, article 101,SCHEDULE III(V)