ফার্মাকগনসি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

"ফার্মাকগনসি" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Pharmakon" ও "Gnosis" এর সমন্বয়ে। জার্মান মেডিকেল ছাত্র সি. এ. সেইদলার (C. A. Seydler) ১৮১৫ সালে সর্বপ্রথম শব্দটি ব্যাবহার করেন। "Pharmakon" মানে বিষ অথবা ঔষধ এবং "Gnosis" অর্থ জ্ঞান, অর্থাৎ ফার্মাকগনসি বলতে বুঝায় ঔষধ বিষয়ক সকল জ্ঞান। মুলত ভেষজ ও প্রাণীজ উৎস হতে চিকিতসাগত গুনাগুণ সম্পন্ন দ্রব্যাদির আহরণ, বিশোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ এবং এসব উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ফার্মাকগনসির আলোচ্য বিষয়।

বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে এই শাস্ত্র তার ডালপালা মেলতে শুরু করে। ভেষজ রসায়ন হিসেবেও একে বলা যায়; তখনকার ঔষধি গাছের উপর বিশেষ জ্ঞানের ক্ষেত্র যেটিতে স্থান পায় গাছটিকে সনাক্তকরণ এবং তার থেকে আহরিত ঔষধি উপাদানকে পাউডার বা মিহিগুড়া দানা অবস্থায় সংরক্ষণের কৌশল। এখন পর্যন্ত এর প্রয়োগ অত্যন্ত সফল এবং উচ্চপ্রযুক্তির ছুঁয়ায় সম্প্রসারমান। ফার্মাকগনসি শিক্ষার প্রধান ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে-

  1. Medical Ethnobotany: চিকিৎসাক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত গাছপালার ব্যবহার;
  2. Ethnopharmacology: ঐতিহ্যগতভাবে প্রচলিত গাছপালার ফার্মাকোলজি শিক্ষা ;
  3. Phytotherapy: গাছপালা থেকে পাওয়া নির্যাসের চিকিৎসামূলক ব্যবহার
  4. Phytochemistry: বৃক্ষরাজি হতে প্রাপ্ত রাসায়নিকের উপর আলোচনা (নামকরণ, সনাক্তকরণ, বাছাইকরণ, নতুন সম্ভাব্য ঔষধি রাসায়নিকবিশিষ্ট গাছ তল্লাশিকরণ)
  5. Zoopharmacognosy: যে প্রক্রিয়ায় রোগগ্রস্থ জীবেরা নিজ রোগের নিরাময়কারি গাছ বেছে নেয় অথবা তার সাহায্যে রোগের প্রতিরোধ করে
  6. Marine pharmacognosy: সামুদ্রিক অণুজীব হতে প্রাপ্ত রাসায়নিকের ব্যবহার।