ফারিয়া লারা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
ফারিয়া লারা
জন্ম ১৬ই এপ্রিল, ১৯৭০
ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু পোস্তাগোলা, ঢাকা
২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮
জাতীয়তা বাংলাদেশী
যে জন্য পরিচিত বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক

ফারিয়া হোসেন লারা (ইংরেজি: Faria Hossain Lara) বাংলাদেশের একজন নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রশিক্ষক বৈমানিক। তিনি ১৯৯৮ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় নিহত হন। এয়ার পারাবতের একটি বিমানে আগুন লেগে তার বিমান বিধ্বস্ত হয়। ঢাকার পোস্তগোলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি নিহত হন। একই বিমান দুর্ঘটনাতে কো-পাইলট সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিহত হন। বিধ্বস্থ বিমানটি সেসনা-১৫০ প্রকৃতির ছিল।[১]

জন্ম ও পরিবার[সম্পাদনা]

ফারিয়া লারা জন্ম ঢাকায় ১৯৭০ সালের ১৬ই এপ্রিল। তার মা কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও বাবা বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন খান।[২]

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

ফারিয়া লারা ১৯৯২ সালে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক পাশ করেন।এর পরই তিনি বৈমানিক হওয়ার জন্য পাইলট প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। ১৯৯৪ সালে লারা ইংরেজি সাহিত্যে এম এ পাশ করেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ফারিয়া লারা ১৯৭৮ সালে কোরিয়ান চিলড্রেন সেন্টার পুরস্কার, ১৯৭৯ সালে ফিলিপস বাংলাদেশ পুরস্কার, ১৯৮০ সালে নিপ্পন টেলিভিশন নেটওর্য়াক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক, ১৯৮৪ সালে ভারতের শঙ্কর আন্তজার্তিক পুরস্কার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় উপস্থিত বক্তৃতায় পুরস্কার অর্জন করেন।[৩]

বৈমানিক জীবন[সম্পাদনা]

১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে লারা সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশের কাছ থেকে প্রাইভেট পাইলটের লাইসেন্স অর্জন করেন। ১৯৯৮ সালের ১৯শে মার্চ লারা বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স লাভ করেন। এরপরই তিনি পাইলটদের প্রশিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী পাইলট প্রশিক্ষক। পাইলট হতে ইচ্ছুক শিক্ষাথীদের ক্লাশ নেওয়ার পাশাপাশি উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। পঞ্চাশ ঘন্টার এই প্রশিক্ষণের শেষ দিনটি ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে বিমান দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন।[৪]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বিমান দুর্ঘটনায় ১৯৯৮সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পর পোস্তগোলা এলাকায় সেসনা-১৫০ বিমানের কো পাইলট সহ তিনি নিহত হন।

সর্বশেষ কথা[সম্পাদনা]

‘আমি আর কয়েক মিনিট বেঁচে আছি পৃথিবীতে। আমি হয়তো আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছি।’ বিমান থেকে পাঠানো জরুরি বার্তাকে বলা হয় ‘মে ডে কল’। বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ার কিছুক্ষণ আগে লারা সেই বার্তায় নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানিয়েছিল কথাগুলো।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]