প্রোজেরিয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রোজেরিয়া
Hutchinson-Gilford Progeria Syndrome.png
প্রোজেরিয়ায় আক্রান্ত অল্পবয়স্কা বালিকা। (বায়ে). একটি সুস্থ কোষ নিউক্লিয়াস। (ডান, উপরে) এবং একটি প্রোজেরিক কোষ নিউক্লিয়াস। (ডান , নিচে).
শ্রেণীবিভাগ এবং বহিঃস্থ সম্পদ
উচ্চারণ/prˈɪəriə/[১][২]
সমার্থকশব্দHutchinson–Gilford progeria syndrome (HGPS),[৩][৪] progeria syndrome[৪]
বিশিষ্টতামেডিকেল জেনেটিক্স
আইসিডি-১০E৩৪.৮ (ILDS E34.840)
আইসিডি-৯-সিএম২৫৯.৮
ওএমআইএম১৭৬৬৭০
ডিজিসেসডিবি১০৭০৪
মেডলাইনপ্লাস০০১৬৫৭
ইমেডিসিনderm/731
মেএসএইচD০১১৩৭১ (ইংরেজি)
জিন রিভিউজ
অরফানেট৭৪০

প্রোজেরিয়া (ইংরেজি: Progeria) একটি খুবই বিরল জেনেটিক রোগ যেখানে রোগী খুব অল্পবয়সে বুড়িয়ে যায়।[৫] প্রোজেরিয়া হলো কতকগুলো প্রোজেরয়েড সিন্ড্রোম এর মধ্যে অন্যতম একটি।[৬] Progeria (প্রোজেরিয়া) শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ "pro" (πρό), যার অর্থ পূর্বে বা অপরিপক্ক এবং "gēras" (γῆρας), থেকে যার অর্থ বৃদ্ধ বয়স[৭] রোগটি খুবই বিরল এবং খুব সংখ্যক শিশু এই রোগ নিয়ে জন্মায়।[৮] প্রজেরিয়ার রোগী সাধারণত তেরো-চৌদ্দ থেকে বিশ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকে।[৯][১০]

এটি একটি জেনেটিক রোগ যা সাধারণত নতুন মিউটেশনের ফলে হয়। খুব বিরলক্ষেত্রে এটি বংশীয় হয় কারণ এর বাহক সাধারণত সন্তান জন্মদান পর্যন্ত বেঁচে থাকে না। যদিও অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া সকল রোগকে প্রোজেরিয়া বলা হয় তবে প্রায়শই এই শব্দ দিয়ে নির্দিষ্টভাবে হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোজেরিয়া সিন্ড্রোম (HGPS) কে বুঝায়। বিজ্ঞানীগণ প্রোজেরিয়া নিয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী কারণ তাঁদের ধারণা এই রোগ নিয়ে গবেষণা করলে মানুষের স্বাভাবিক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে।[১১][১২][১৩]

বিজ্ঞানী জোনাথান হাচিনসন ১৮৮৬ সালে প্রথম প্রোজেরিয়া রোগের বর্ণনা দেন।[১৪] আরেক বিজ্ঞানী হ্যাস্টিংস গিলফোর্ড ১৮৯৭ সালে পৃথকভাবে এই রোগের বর্ণনা দেন।[১৫] তাই পরবর্তীতে এই রোগের নাম হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোজেরিয়া সিন্ড্রোম রাখা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ৪ মিলিয়ন জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে ১ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়।[১৬] বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় ১০০ জন প্রোজেরিয়া রোগী আছে বলে জায় যায়। মেডিকেল ইতিহাসে ১৪৩ জন প্রোজেরিয়া রোগীর কথা জানা যায়।[১৭]ভারতে একই পরিবারে পাঁচ জন প্রোজেরিয়ার রোগী আছে।[১৮] এই রোগের কার্যকর কোন চিকিৎসা নাই।[১৯] তাই এটি ভালো হওয়ার রোগ না। এই রোগীরা সাধারণত তেরো বছরের বেশি বাঁচে না।[২০] কমপক্ষে ৯০% রোগী অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের বিভিন্ন জটিলতা যেমন হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক প্রভৃতি কারণে মারা যায়। [২১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dictionary Reference: Progeria
  2. The Free Dictionary: Progeria
  3. James, William; Berger, Timothy; Elston, Dirk (২০০৫)। Andrews' Diseases of the Skin: Clinical Dermatology (10th সংস্করণ)। Saunders। পৃষ্ঠা 574। আইএসবিএন 0-7216-2921-0 
  4. Rapini, Ronald P.; Bolognia, Jean L.; Jorizzo, Joseph L. (২০০৭)। Dermatology: 2-Volume Set। St. Louis: Mosby। আইএসবিএন 1-4160-2999-0 
  5. Sinha, Jitendra Kumar; Ghosh, Shampa; Raghunath, Manchala (মে ২০১৪)। "Progeria: a rare genetic premature ageing disorder"Indian J Med Res.139 (5): 667–74। PMID 25027075পিএমসি 4140030অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  6. Ramírez CL, Cadiñanos J, Varela I, Freije JM, López-Otín C (২০০৭)। "Human progeroid syndromes, aging and cancer: new genetic and epigenetic insights into old questions"। Cell. Mol. Life Sci.64: 155–70। doi:10.1007/s00018-006-6349-3PMID 17131053 
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  8. Progeria ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে, Incidence of Progeria and HGPS.
  9. Ewell Steve Roach; Van S. Miller (২০০৪)। Neurocutaneous Disorders। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 150। আইএসবিএন 978-0-521-78153-4 
  10. Kwang-Jen Hsiao (১৯৯৮)। Advances in Clinical Chemistry:33। Academic Press। পৃষ্ঠা 10। আইএসবিএন 0-12-010333-8 
  11. McClintock D, Ratner D, Lokuge M; ও অন্যান্য (২০০৭)। Lewin, Alfred, সম্পাদক। "The Mutant Form of Lamin A that Causes Hutchinson–Gilford Progeria Is a Biomarker of Cellular Aging in Human Skin"PLoS ONE2 (12): e1269। doi:10.1371/journal.pone.0001269PMID 18060063পিএমসি 2092390অবাধে প্রবেশযোগ্যবিবকোড:2007PLoSO...2.1269M 
  12. Korf B (২০০৮)। "Hutchinson–Gilford progeria syndrome, aging, and the nuclear lamina"N. Engl. J. Med.358 (6): 552–5। doi:10.1056/NEJMp0800071PMID 18256390 
  13. Merideth MA, Gordon LB, Clauss S ও অন্যান্য (২০০৮)। "Phenotype and course of Hutchinson–Gilford progeria syndrome"N. Engl. J. Med.358 (6): 592–604। doi:10.1056/NEJMoa0706898PMID 18256394পিএমসি 2940940অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  14. Hutchinson J (১৮৮৬)। "Case of congenital absence of hair, with atrophic condition of the skin and its appendages, in a boy whose mother had been almost wholly bald from alopecia areata from the age of six"। LancetI (3272): 923। doi:10.1016/S0140-6736(02)06582-0 
  15. Gilford H; Shepherd, RC (১৯০৪)। "Ateleiosis and progeria: continuous youth and premature old age"Brit. Med. J.2 (5157): 914–8। PMID 14409225পিএমসি 1990667অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  16. Hennekam RC (২০০৬)। "Hutchinson–Gilford progeria syndrome: review of the phenotype"। Am. J. Med. Genet. A140 (23): 2603–24। doi:10.1002/ajmg.a.31346PMID 16838330 
  17. "Progeria Info"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-১১-২৮ 
  18. Grant, Matthew (22 February 2005). "Family tormented by ageing disease". BBC News. Retrieved on 3 May 2009.
  19. "Progeria: Treatment"। MayoClinic.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-১৭ 
  20. Steve Sternberg (এপ্রিল ১৬, ২০০৩)। "Gene found for rapid aging disease in children"USA Today। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-১২-১৩ 
  21. "Progeria"। MayoClinic.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৩-১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Endocrine pathology টেমপ্লেট:Progeroid syndromes