প্যালিনড্রোম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

প্যালিনড্রোম (ইংরাজী: Palindrom) হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দুদিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস(অর্থ: Running back again) থেকে ইংরাজী প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে ।বাংলা ভাষায় একে দ্বিমুখী শব্দ বা সংখ্যা বলা যায়। এধরণের দ্বিমুখী শব্দ বা বাক্য সাজাতে যারা দক্ষ তাঁদের ‘পেলিনড্রোমিস্ট’ বলা হয়।

উদাহরণ[সম্পাদনা]

  1. সরস
  2. জলজ
  3. কথক
  4. নবজীবন
  5. রমাকান্তকামার
  6. MADAM
  7. REFER
  8. NOON
  9. LEVEL
  10. ১১(11)
  11. ১০১(101)
  12. ১০২০১(10201)

বাংলায় নামের ক্ষেত্রেও প্যালিনড্রোম শব্দের দেখা পাওয়া যায় যেগুলো কিছুটা লম্বা। যেমন: সুবললাল বসু, রমাকান্ত কামার, সদানন দাস, রায়মণি ময়রা, নিধুরাম রাধুনি, হারান রাহা প্রভৃতি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অর্থবহ প্যালিনড্রোম শব্দ বা বাক্য রয়েছে। যেমন— মরম, মলম, দরদ, জলজ, বনমানব, নবজীবন, সহিস, কালিকা, সরেস, তফাত, বাহবা, সন্ন্যাস, সন্ত্রাস, নরুন, বই চাইব, নাম লেখালেম না, বিকল্প কবি, তুমি কি মিতু, ঘুরবে রঘু, মার কথা থাক রমা !

বাংলা প্যালিনড্রোমিস্ট[সম্পাদনা]

বাংলায় উভমুখীসম শব্দ তৈরির অগ্রদূত শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। শরৎচন্দ্র পণ্ডিতের জন্মসাল ১৮৮১৷ সোজা বা উল্টো, যে দিক থেকেই দেখা যাক না কেন, সেটা ১৮৮১ সালই থাকবে। শরৎচন্দ্র পণ্ডিত প্যালিনড্রোমের প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট ছিলেন। তাঁর ‘বিদুষক’ পত্রিকায় তিনি বহু প্যালিনড্রোম সৃষ্টি করে বাংলাভাষায় প্যালিনড্রোমকে সমৃদ্ধ করেছেন। কাক কাঁদে কাঁক কা, চেনা সে ছেলে বলেছে সে নাচে, তাল বনে নেব লতা -- এইসব তার সৃষ্ট অমর প্যালিনড্রোম। তাঁর সৃষ্ট ‘কীর্তন মঞ্চ পরে পঞ্চম নর্তকী’ বাংলাভাষায় সর্বাধিক জটিল ও সর্বাধিক শব্দ সমন্বিত প্যালিনড্রোম। [১]

তথ্যসূত্র:[সম্পাদনা]

  1. শান্তনু কৌশিক বরুয়া, সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং:১৮১