বিষয়বস্তুতে চলুন

পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা
แพทองธาร ชินวัตร
২০২৫ সালে পেতংটার্ন
৩১তম থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১৬ আগস্ট ২০২৪  ২৯ আগস্ট ২০২৫[]
সার্বভৌম শাসকবজিরালংকর্ণ
ডেপুটি
পূর্বসূরীস্রেত্থা থাভিসিন
ফুমথাম ভেচায়াচাই (ভারপ্রাপ্ত)
উত্তরসূরীসুরিয়া জুয়াংরুংরুংকিত (ভারপ্রাপ্ত)
অনুতিন চার্নভিরাকুল (মনোনীত)
সংস্কৃতি মন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
৩০ জুন ২০২৫  ২৯ আগস্ট ২০২৫
প্রধানমন্ত্রীনিজেই
সুরিয়া জুয়াংরুংরুংকিত (ভারপ্রাপ্ত)
ফুমথাম ভেচায়াচাই (ভারপ্রাপ্ত)
পূর্বসূরীসুদাওয়ান ওয়াংসুপহাকিজকোসল
উত্তরসূরীসুচার্ট তাঞ্চারোয়েন (ভারপ্রাপ্ত)
ফেউ থাই পার্টির নেতা
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
২৭ অক্টোবর ২০২৩
পূর্বসূরীচুসাক সিরিনিল (ভারপ্রাপ্ত)
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1986-08-21) ২১ আগস্ট ১৯৮৬ (বয়স ৩৯)
ব্যাংকক, থাইল্যান্ড[]
রাজনৈতিক দলফেউ থাই
দাম্পত্য সঙ্গীপিতাকা সুকসাওয়াত (বি. ২০১৯)
সন্তান
মাতাপত্জামান দামাপং
পিতাথাকসিন চিনাওয়াত
আত্মীয়স্বজনচিনাওয়াত পরিবার
শিক্ষা
পেশা
  • রাজনীতিবিদ
  • ব্যবসায়ী
স্বাক্ষরকারসিভ স্বাক্ষর
ডাকনামউং ইং (อุ๊งอิ๊ง)

পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা (থাই: แพทองธาร ชินวัตร; জন্ম ২১ আগস্ট ১৯৮৬) একজন থাই রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী নারী যিনি ২০২৪ সাল থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০২৩ সাল থেকে ফেউ থাই পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক পরিবারের একজন সদস্য, তিনি থাকসিন সিনাওয়াত্রার (২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী) কনিষ্ঠ কন্যা এবং ইংলাক সিনাওয়াত্রার (২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী) ভাইঝি।[][] তিনি থাই ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং দ্বিতীয় মহিলা যিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।[]

প্রাথমিক জীবন এবং শিক্ষা

[সম্পাদনা]

পেতংতার্ন ১৯৮৬ সালের ২১ আগস্ট [] ব্যাংককে জন্মগ্রহণ করেন। [] তিনি নিম্ন মাধ্যমিক সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে এবং উচ্চ মাধ্যমিক মেতার দেই স্কুলে। তিনি ২০০৮ সালে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান এবং নৃবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ডে তার পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতি হোটেল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। []

ব্যবসায়িক কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক ক্যারিয়ার

[সম্পাদনা]

সমালোচনা

[সম্পাদনা]

ফোন কল ফাঁস

[সম্পাদনা]

১৮ জুন ২০২৫ তারিখে, পেতংতার্ন সিনাওয়াত্র ও হুন সেনের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপের ৯ মিনিটের একটি অংশ ফাঁস হয়েছিল[] হুন সেন স্বীকার করেন যে, তিনি ১৫ জুনের ফোনালাপটি রেকর্ড করেছিলেন এবং এটি প্রায় ৮০ জন কাম্বোডীয় কর্মকর্তার কাছে বিতরণ করেছিলেন।[] পরে ১৮ জুনেই, হুন সেন পুরো ১৭ মিনিটের ফোনালাপটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন যাতে "কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল ব্যাখ্যা না হয়"।[] একই দিন, পেতংতার্ন স্বীকার করেন যে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে যিনি কথা বলছিলেন, তিনি-ই ছিলেন।[]

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, পেতংতার্ন হুন সেনকে "চাচা" সম্বোধন করছিলেন এবং নিজেকে তার "ভাতিজি" বলে উল্লেখ করছিলেন।[] তিনি হুন সেনকে বলেন, "আমাদের বিরোধীদের কথায় কান দেবেন না"। এ প্রসঙ্গে তিনি থাই সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় আর্মি রিজিয়নের কমান্ডার জেনারেল বুনসিন পদক্লাংকে বিরোধীপক্ষের একজন বলে উল্লেখ করেন। বলেন, এই ব্যক্তি "নিজেকে চালাক প্রমাণ করতে চাইছিলেন", এবং "দেশের উপকারে আসবে না এমন কথা বলেছিলেন"। (বুনসিন বলেছিলেন যে থাইল্যান্ড "যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত")। তবে পেতংতার্ন জানান, "আমরা চাই সীমান্তে সংঘর্ষ শুরুর আগের যে শান্তি ছিল, সেটাই ফিরে আসুক।"[]

পেতংতার্ন আরও বলেন, হুন সেন সীমান্ত নিয়ে ফেসবুকে কিছু আক্রমণাত্মক পোস্ট করলেও তিনি কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানাননি, কারণ তিনি "হুন সেনকে ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধা করেন"।[] তিনি আরও বলেন, "হুন সেন যদি কিছু চান, আমাকে শুধু জানালেই হবে। আমি সেটা দেখেশুনে নেব।"[]

তাঁর এসব মন্তব্য থাইল্যান্ডের জনগণ ও বিরোধীদের কাছে দুর্বলতা, অনভিজ্ঞতা ও জাতীয় মর্যাদা এবং সেনাবাহিনীর মনোবলে আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। পেতংতার্ন আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন, দেশের ভেতরের রাজনৈতিক চাপ ও সীমান্ত সংকট নিয়ে তাঁর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার কারণে। এর পরপরই, ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ভূমজাইথাই পার্টির কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং দলটি সরকার থেকে সরে যায়। এর ফলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে।[১০][১১][১২]

ফাঁসের ঘটনার পর পেতংতার্ন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান, তবে রাজনৈতিক সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। ১৮ জুনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রেকর্ডটির সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ব্যাখ্যা করেন যে, এটি ছিল "ব্যক্তিগত আলাপের অংশ" এবং তাঁর কৌশল ছিল এক ধরনের "অফ-দ্য-রেকর্ড আলোচনা", যার মাধ্যমে তিনি হুন সেনের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছিলেন। কারণ, থাই সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যে হুন সেন ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তিনি হুন সেনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, এই ফাঁসের উদ্দেশ্য ছিল হুন সেনের দেশের ভেতরে জনপ্রিয়তা বাড়ানো। তিনি ঘোষণা করেন, "বিশ্বাসের অভাব" থাকার কারণে ভবিষ্যতে তিনি আর এমন ব্যক্তিগত আলোচনা করবেন না।[১৩]

পেতংতার্ন এই অভিযোগও অস্বীকার করেন যে, তাঁর সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। অন্যদিকে, ভূমজাইথাই পার্টি এক বিবৃতিতে তাঁর আচরণকে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণকারী হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করে। তারা বলে, এতে "দেশ, জনগণ ও সেনাবাহিনীর মর্যাদা নষ্ট হয়েছে"। তাদের জোট থেকে সরে যাওয়ার ফলে ফেউ থাই নেতৃত্বাধীন সরকার সংসদে মাত্র অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়, যা সরকারের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।[১৪][১৫]

১ জুলাই ২০২৫ তারিখে, থাইল্যান্ডের সংবিধান আদালত ফোনালাপ সংক্রান্ত একটি নৈতিকতা-ভিত্তিক তদন্তের অংশ হিসেবে পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।[১৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "รัฐบาลไทย-เกี่ยวกับรัฐบาล"www.thaigov.go.th
  2. "New Shinawatra may lead the next quest for power as Pheu Thai aims for 14 million members"Thai Examiner (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২১ মার্চ ২০২২। ৩ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২২
  3. "Young Shinawatra appointed Pheu Thai chief adviser for innovation"Bangkok Post। ১৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২২
  4. "Paetongtarn Shinawatra becomes Thailand's youngest prime minister"CNBC (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ আগস্ট ২০২৪। ১৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৪
  5. 1 2 "เปิดประวัติ อุ๊งอิ๊ง-แพทองธาร ทายาทชินวัตร หัวหน้าครอบครัวเพื่อไทย"matichon (থাই ভাষায়)। ২২ মার্চ ২০২২। ১ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২২
  6. "Who is Thailand's youngest Prime Minister Paetongtarn Shinawatra?"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ১৬ আগস্ট ২০২৪। ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৪
  7. 1 2 3 4 5 6 "Paetongtarn on defensive after leak of call with Hun Sen"The Bangkok Post। ১৮ জুন ২০২৫। ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২৫
  8. Sharma, Shweta (১৯ জুন ২০২৫)। "How a leaked phone call led to the demand for Thai PM Paetongtarn Shinawatra's resignation"The Independent। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২৫
  9. Strangio, Sebastian (১৯ জুন ২০২৫)। "Thai PM Rocked By Withdrawal of Major Coalition Partner"The Diplomat। ১৯ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২৫
  10. "Leaked call between Thai PM and Cambodia 'strongman' stokes tensions"Arab News PK (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুন ২০২৫।
  11. "Bhumjaithai quits Thai coalition over phone-call furore"Bangkok Post (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ জুন ২০২৫। ১৮ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জুন ২০২৫
  12. www.channelnewsasia.com https://www.channelnewsasia.com/asia/thailand-pm-paetongtarn-bhumjaithai-party-leaves-coalition-5190076 {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  13. "Prime Minister explains after Hun Sen releases private conversation clip"nationthailand। ১৮ জুন ২০২৫।
  14. "Bhumjaithai party announces withdrawal from government coalition"nationthailand। ১৮ জুন ২০২৫।
  15. "Thai ruling coalition hanging by a thread with PM under mounting pressure"The Edge Malaysia। ১৯ জুন ২০২৫।
  16. "Court suspends Thailand's prime minister to investigate a leaked phone call"AP News (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১ জুলাই ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০২৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]
  1. ১ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত তিনি স্থগিত ছিলেন। পরে সংবিধানিক আদালত রেট্রোঅ্যাকটিভভাবে তাকে পদ থেকে অপসারণের রায় দেয়।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি