পূর্ণেন্দুকিশোর সেনগুপ্ত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

পূর্ণেন্দুকিশোর সেনগুপ্ত (১৮৯৫ - ১৭ নভেম্বর, ১৯৭৮) একজন বাঙালি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনকারী সমাজসেবী ও শ্রমিক কৃষক আন্দোলনের নেতা।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

তিনি বাংলাদেশেঢাকার বানারি'তে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা শ্যামকিশোর সেনগুপ্ত ছিলেন শ্রীহট্ট আদালতের উকিল। বারানসী ষড়যন্ত্র মামলার নেতা বিপ্লবী নগেন দত্ত সিলেটে অনুশীলন সমিতির শাখা গড়ে তুললে তাতে কিশোর বয়েসে যোগ দিয়েছিলেন পূর্ণেন্দু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এসসি পড়ার সময়ে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের সংস্পর্শে আসেন। এমএসসি পড়ার সময় অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন ও পরীক্ষা বর্জন করেন।[১]

স্বাধীনতা আন্দোলন[সম্পাদনা]

১৯২২ সালে ঢাকাঅভয় আশ্রম শাখায় যোগ দেন তিনি। বিক্রমপুরে বানারি গ্রামে ধীরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাশ্রমের সম্পাদক নিযুক্ত হন। স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়ে বহুবার কারারুদ্ধ হয়েছেন। ১৯৩০ সালে লবণ সত্যাগ্রহে যোগ দিয়ে জেলে যান। ১৯৩১ সালে সুরমা উপত্যাকা কর্মী সম্মেলন আহ্বান করেন ও ১৯৩২ সালে তার আবার জেল হয়। মুক্তি পেয়ে শ্রীহট্ট মহিলা সংঘ গঠন করেন। ভানুবিল পরগনার মনিপুরী কৃষকদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেন ও মহাত্মা গাঁধীর আশীর্বাদ নিয়ে ঐতিহাসিক সত্যাগ্রহ শুরু করেন যা সরকারকে বাধ্য করে প্রজাস্বত্ব আইন প্রনয়নে। এই আন্দোলনে তার পূনরায় আড়াই বছর কারাবাস হয়েছিল।[১]

সমাজসেবা[সম্পাদনা]

১৯২৫ সালে পদ্মা নদীর ভাঙনে বিদ্যাশ্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হলে সেটিকে শ্রীহট্টে স্থানান্তর করেন। সেটির নাম হয় রঙ্গীরকুল বিদ্যাশ্রম। জনকল্যানমূলক কাজ, দাঙ্গা প্রতিরোধ, ত্রাণ, ও সেবার কাজে, সর্বোপরি গান্ধীবাদী আন্দোলনে এই আশ্রম গুরুত্বপূর্ন স্থান অধিকার করে আছে। ১৯২৯ সালে সিলেট ও কাছাড়ের বন্যায় ত্রানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পূর্নেন্দু কিশোর। রঙ্গীরকুল বিদ্যাশ্রম বিভিন্ন গঠনমূলক কাজ করে তার পরিচালনায়। ১৯৩৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সুবর্ন জয়ন্তী উপলক্ষ্যে শিল্প প্রদর্শনী, ১৯৩৮ এ সুরমা উপত্যাকা কর্মী সম্মেলন হয় তারই উদ্যোগে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বর্মা হতে আগত উদ্বাস্তুদের সেবা করেন। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের শেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে আসাম ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য হন। আসাম সরকারের বুনিয়াদি শিক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে থেকে যান এবং চা শ্রমিকদের কল্যানসাধনে ব্রতী হন। ১৯৫৪ সালে মৌলভীবাজার থেকে আইন পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে কুলাউড়া-রাজনগর আসনে সাধারণ নির্বাচনে পূর্ণেন্দুকিশোর সেনগুপ্ত বিপুল ভোটে জয়ী হন।[২] আইয়ুব খান জমানায় তার চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নিষিদ্ধ হয়। ১৯৬৯ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকালীন শ্রীহট্ট জেলে বন্দী থাকেন তিনি।[১]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

রঙ্গীরকূল আশ্রমে ১৭ নভেম্বর, ১৯৭৮ সালে মারা যান জননেতা পূর্নেন্দুকিশোর সেনগুপ্ত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃ: ২৯০। 
  2. "গুনীজন"। আমার সিলেট। সংগৃহীত ১৮ জুন, ২০১৭