পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তারা

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মকাল অর্থাৎ ১৯৪৭ সালে থেকেই নারীরা যোগদান করতে পারেন তবে নারীরা শুধুমাত্র চিকিৎসা শাখায় যোগ দিতে পারতেন এবং তারা মেডিক্যাল এ্যাসিসট্যান্ট হতে পারতেননা। কখনোই পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নারীদেরকে যোদ্ধা হিসেবে নেওয়া হয়নি এর কারণ হচ্ছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শেকড় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারীরা শুধু চিকিৎসকই হতে পেরেছিলেন, ঠিক সেই নিয়মই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে রেখেছিলো। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখনো নারীদেরকে সাধারণ সৈনিক (সিপাহি) পদে নারীদেরকে নিয়োগ প্রদান করেনা (ব্রিটিশ ঐতিহ্য অনুযায়ী)। ১৯৪৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসের ৭০ বছরে মোট ৪,০০০ নারী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন যাদের ৯৫ শতাংশই ডাক্তার ছিলেন।[১] ২০২০ সালের ৩০শে জুন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন নিগার জোহর যিনি একজন ডাক্তার।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রা'না লিয়াকত আলি খান (পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পত্নী) পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে নারী নিয়োগের ব্যাপারে চেষ্টা করেছিলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একেবারে শুরুর দিকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব ব্রিটিশ হতেন এবং সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ইংরেজ সেনাপতি জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক মেসার্ভি নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন কারণ তার দেশের সেনাবাহিনী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীও তখন নারীদেরকে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করাতোনা। রা'না লিয়াকত আলি খান 'উইমেন্স ন্যাশনাল গার্ড' নামের একটি গণনবাহিনী (মিলিশিয়া) তৈরি করেছিলেন ১৯৪৭ সালে, এখানে নারীরা সৈনিক (স্বেচ্ছাসেবী) হিসেবে ঢুকতে পারলেও তারা নিয়মিত সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হতে পারতোনা এবং নিয়মিত সৈন্যবাহিনীর অংশ হিসেবেও তাদেরকে গণ্য করা হতোনা কারণ ব্রিটিশরা নারীদেরকে নিতে রাজী হতোনা।[২] ১৯৪৮ সালেই উইমেন্স ন্যাশনাল গার্ড সংস্থাটি ভেঙে দেওয়া হয়।[৩] ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভারতীয় শাখায় (অর্থাৎ ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী) যোগদানকারী মুসলিম নারী ডাক্তাররা নবগঠিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দান করেন ১৯৪৭ সালেই।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৬৫-তে পাকিস্তানি নারীরা যুদ্ধে অংশ নেননি; যেসব নারী সেনাবাহিনীতে ছিলেন তারা সামরিক হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ছিলেন ডাক্তার হিসেবে আর ছিলো অসামরিক নার্স। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১ এবং কার্গিল যুদ্ধতেও নারীদের অবস্থান ডাক্তার হিসেবেই ছিলো। নারীরা কখনোই পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে ঢোকার অনুমতি পেতেননা (এটাও ব্রিটিশ রীতি ছিলো এবং যারা ডাক্তার হিসেবে যোগদান করতেন তাদের প্রশিক্ষণ সেনা চিকিৎসা বিদ্যালয়ে হতো এবং এখনো হয়) তবে জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ২০০৬ সালে নারীদের জন্য মিলিটারি একাডেমিতে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন; ২০০৬ সালে 'লেডি ক্যাডেট কোর্স' নামের একটি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়, এখানে নারীদের ইঞ্জিনিয়ার্স, ইএমই, সেনা শিক্ষা শাখা, সিগনালস শাখা, অর্ডন্যান্স শাখা, সেনা সার্ভিসেস শাখা এবং সেনা আরভি অ্যান্ড এফসি কোরে নারীদের যোগদানের জন্য ৬ মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।[৪] প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ জেনারেল পারভেজ মুশাররফ (রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধান) ১৫ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে পরিদর্শন করেন।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. web desk (১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। "Women in Pak Military: A story of feminine valour in pictures"Pakistan Today 
  2. Press। "Women In Pakistan Army"। Story of Pakistan। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  3. Samra Amir (২৩ আগস্ট ২০১৪)। "Flashback: Pakistan Women's National Guard"tribune.com.pk 
  4. "PMA receives first batch of women cadets"dawn.com। ১২ নভেম্বর ২০০৬। 
  5. "First women cadets get commission in army"dawn.com। ১৫ এপ্রিল ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০২০