পরেশনাথ ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
পরেশনাথ ঘোষ
জন্ম১৮৫৬
মৃত্যু১৯২৩
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাবিখ্যাত মল্লবীর
পিতা-মাতাসীতানাথ ঘোষ

পরেশনাথ ঘোষ (১৮৫৬ - ১৯২৩) বা পার্শ্বনাথ একজন ভারতীয় মল্লবীর ছিলেন।[১]

জন্ম[সম্পাদনা]

ঢাকা শহরের অপর তীরে বুড়ীগঙ্গা নদীর দক্ষিণ পাড়ে শুভাঢ্যা গ্রামখানি অবস্থিত । এই গ্রামে ১২৬৩ সনের ফাল্গুন মাসে ( ইং ১৮৫৬ সালে) পূব-বাঙলার বিখ্যাত মল্লবীর স্বগীয় পরেশনাথ ঘোষ মহাশয় জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণের নিকট ইনি ‘পাশ্বনাথ’ নামেই সমাধিক প্রসিধ্য ছিলেন। পরেশনাথের বাবার নাম সীতানাথ ঘোষ এবং তাঁহার ঠাকুরদাদার নাম নীলমণি ঘোষ। ইহাঁরা সকলেই সুস্থ-সবল ও দীঘজীবী ছিলেন।

শৈশব[সম্পাদনা]

শুভাঢ্যা গ্রামে একটি মধ্য-বাঙ্গালা স্কুল ছিল। একানেই পরেশনাথের বাল্যশিক্ষার সূত্রপাত হয়। এই স্কুল হইতে চারি টাকা বৃত্তি পাইয়া তিনি ছাত্রবৃত্তি পাশ করেন এবং বাঙলা প্রবন্ধ্য রচনায় প্রথম স্থান লাভ করেন। ছোটকাল হইতেই ব্যায়াম- চচার দিকে তাঁহার খুব ঝোঁক ছিল। ১৫ বৎসর বয়সে তিনি গ্রামে একটি আখড়া স্থাপন করিয়া সেখানে গ্রামের ছেলেদের লইয়া মহোৎসাহে কুস্তি-কসরৎ সুরু করিয়াছিলেন।

যৌবন[সম্পাদনা]

১২৭৮ সনে শুভাঢ্যা গ্রামেরই অঁদ্বৈতচরণ দত্ত মহাশয়ের কন্যার সহিত তাঁহার বিবাহ হয়। তখন তাঁহার বয়স পনের কি ষোল বছর। গ্রামের স্কুলে পড়া শেষ করিয়া পরেশনাথ ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে আসিয়া ভত্তি হইলেন। এই সময়েই তাঁহার জীবনের গতি স্থির হইল এবং পরবতী কালে শক্তিমত্তার জন্য তিনি যে খ্যাতি অজন করিয়া গিয়েছেন তাহার ভিত্তি পত্তন হইল। লহ্মীবাজারের স্বগীয় অধর ঘোষ তখন নাম করা পালোয়ান। পরেশনাথ এই সময় তাঁহার নিকট পরিচিত হইলেন। শ্যামাকান্তের সহিত এই সময়েই তাঁহার বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়। পরেশনাথ আগ্রহ ও ঊৎসাহের সহিত শ্যামাকান্ত, প্রসন্নকুমার গুহ ঠাকুরতা প্রমুখ বন্ধু দিগকে লইয়া কুস্তি ও ব্যায়ামাদি আরম্ভ করিয়া দিলেন। অধর ঘোষ নিজেও একজন ভাল কুস্তিগীর ছিলেন। তাহার উপর এই সমস্ত যুবকদিগের তরুণ উৎসাহ তাঁহাকে আঁকড়াইয়া ধরিল। তিনি সযত্নে ও সস্নেহে তাহাদিগকে কুস্তি শিখাইতে লাগিলেন।

১২৮৩-৮৪ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল হইতে পরেশনাথ এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেন। এই সময় ইঁহাদের মনে সৈনিক হওয়ার সাধ জাগে। পরীক্ষা দিয়া তিনি শ্যামাকান্তকে সঞ্জে লইয়া আরা, গোয়ালিয়র প্রভৃতি স্থানে বেড়াইতে বাহির হইলেন। এই সময় অনেক স্থানে তাঁহারা ঐ দেশীয় পালোয়ানদের সাথে কুস্তি লড়েন এবং শারীরিক কসরৎ দেখান। গয়ালিয়রের মহারাজা পালোয়ানদের সহিত কুস্তিতে পরেশনাথ বিশেষ পারদশিতা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু যে উদ্দেশে গিয়াছিলেন তাহা সফল হইল না। সৈ্নিক হওয়ার আকাক্ষায় জলাজ্ঞলি দিয়ে বন্ধুদ্বয় দেশে ফিরিয়া আসিলেন।

পরেশনাথ কলিকাতায় আসিয়া সিটি কলেজে ভতি হইলেন। তখনকার দিনে আই,এ (এফ ,এ) তে অঙ্ক অবশ্য-পাঠ্য বিষয়ের মধ্যে পরিগণিত ছিল। প্রত্যেক ছাত্রকেই অঙ্ক লইতে হইত। কিন্তু পরেশনাথ ইংরাজীতে বেশ পাকা হইলেও অঙ্কে অত্যন্ত কাঁচা ছিলেন। আই,এ পরীক্ষায় অঙ্কে ফেল হইলেন। তারপর আরো দুই বার পরীক্ষা দিলেন, প্রত্যেক বারেই অঙ্কে ফেল হইলেন। তিন বার একই পরীক্ষায় ফেল হওয়াতে পরেশনাথের শ্বশুর মহাশয় পড়ার খরচ বন্ধ করে দিলেন। পরেশনাথ জমিদার লোক ছিলেন না। তাঁহার অসাধারণ অধ্যাবসায়-শক্তি ছিল। তিনি ছাত্র পড়াইয়া কলেজের পড়া চালাইতে লাগিলেন। এই সময়ে ব্রাহ্ম-সমাজের প্রভাব তরুণ দলে খুব বেশী। পরেশনাথও সে প্রভাব এড়াইতে পারেন নাই। ব্রাহ্ম-সমাজের সংস্পশে আসিয়া পরেশনাথ অনেক মহানুভাব ব্যাক্তির নিকট নানারূপে অথসাহায্য পাইয়াছিলেন। ইঁহাদের মধ্যে সিটি কলেজের প্রিন্সিপাল স্বগীয় উমেশ্চন্দ্র দত্ত এবং ডঃ পি, কে, রায় অন্যতম। ইঁহারা পরেশনাথকে খুব স্নেহ করিতেন ও উৎসাহ দিতেন এবং পরেশনাথও ইঁহাদিগকে অতিশয় ভক্তি করিতেন।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ঘোষ ১৯২৭, পৃ. ৯

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]